📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 মিথ্যা বলা

📄 মিথ্যা বলা


১- মিথ্যাবলা:
একটি শিশু শুধুমাত্র তার সঙ্গে সম্পৃক্ত উদ্দেশ্যই বাস্তবায়ন করতে চায় অথবা সে কতিপয় অবাঞ্চিত কাজ ও আচরণের প্রতিক্রিয়া গোপন করতে চায়। অথচ তার কাজকে ভালোরূপে উপস্থাপন করার সামর্থ্য তার নেই। এক্ষেত্রে তার জন্য সর্বাপেক্ষা সহায়ক ও সহজসাধ্য বিষয় হলো মিথ্যাবলা। অভিভাবকের এ ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকা উচিত যে, শিশুটি যেন মিথ্যা বলার প্রয়োজন অনুভব না করে। অবশ্য তার মিথ্যা বলাটা কখনো একজন বয়স্ক ব্যক্তির মিথ্যা বলার মত নয়।
যেমন কোন শিশু সন্তান তার বাবার নিকট একটি বিষয়ের বিবরণ দিল। পরে দেখা গেল আরেকজন বয়স্ক ব্যক্তি তার উল্টো বিবরণ দিল। তখন শিশুটির বাবা মনে করে তার বাচ্চাটির কথাই সত্য হবে। কেননা শিশুরা মিথ্যা বলে না ও মিথ্যা চেনে না।
কিন্তু এটা ঠিক নয়। বরং মিথ্যা বলা শিশুর নিকট একটা মামূলী ব্যাপার ও খুবই সহজ। কারণ এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সে অজ্ঞ, সে আদিষ্ট (মুকাল্লফ) নয় যে, শরিয়তের নিষেধাজ্ঞা বাধ্যতামূলকভাবে তার থেকে ছাড়াতে হবে। শিশু-সন্তানটি সত্য বলল, না মিথ্যা? প্রমাণ ও আলামতের সাহায্যে তা নিশ্চিত হওয়া অভিভাবকের কর্তব্য। যেহেতু সাধারত সুন্দরভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে শিশুর মিথ্যা বলার সামর্থটা খুবই দুর্বল। সেহেতু তার মনগড়া মিথ্যা চিহ্নিত ও সনাক্ত করা খুব সহজ। অভিভাবকের নিকট মিথ্যা প্রমাণিত হলে শিশুটিকে এর ভয়াবহতা ও পরিণতি সম্পর্কে পূর্ণ বিবরণ দেওয়া অভিভাবকের কর্তব্য। তাকে বলা যেতে পারে, মিথ্যা বলা কখনোই কোন ভদ্রশিশুর চরিত্র হতে পারে না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআ'লা মিথ্যাবাদীকে ভালবাসেন না। এমন কি খোদ আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মুরুব্বীগণও মিথ্যাবাদীকে ভালবাসেন না। মিথ্যার ক্ষতি ও অপকার সম্বলিত সংক্ষিপ্ত গল্প উল্লেখ করা যেতে পারে শিশুটির কাছে। কৃতকর্মের জন্য তাকে আল্লাহ তা'আলার কাছে ক্ষমা চাইতে উদাত্ত আহবান জানাবেন ও সতর্ক করে দিবেন পুনরায় যেন কখনো এরকম কাজ সে না করে। আবারো তাকে সত্যের দিকে আহ্বান করবেন এবং বলবেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআ'লা সত্যবাদীকে ভালোবাসেন। এমনিভাবে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম ও মুরুব্বীগণও সত্যবাদীকে ভালবাসেন। সত্যের প্রতি ভালোবাসার পুরস্কারও সে-ই ভোগ করবে। শিশুর পছন্দনীয় কোন জিনিস দেয়ার সময়ও তাকে সত্যের প্রতি অনুপ্রাণিত করবেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে কখনোই তার মিথ্যারত অবস্থায় তাকে কঠিন ভয় দেখানো যাবে না; অথবা তাকে এমন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেয়া যাবে না, যা তার বয়োঃস্তরের সঙ্গে সামাঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ বারবার শাস্তি তাকে মিথ্যাবলায় কালক্ষেপণ ও উক্ত শাস্তি থেকে পরিত্রাণের আশায় কথিত মিথ্যায় তাকে জেদী হতে উদ্যত করতে পারে। সবসময় তাকে লজ্জা দেয়া বা তিরস্কার করাও উচিত নয়। এতে তার মন ভেঙ্গে যাবে। ফলে কখনো বা উক্ত ধ্বংসাত্মক আচরণ তার মধ্যে বদ্ধমূল হয়ে যেতে পারে।
তবে এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত যে, কখনো কখনো শিশুর এ বয়সে মিথ্যা বলাটা 'ইচ্ছাকৃত অসত্য সংবাদ প্রদান' এর পর্যায় পড়ে না। বরং এটা তার অনিচ্ছাকৃত ভুল, অথবা তার নিকট বিভিন্ন বিষয়ের সংমিশ্রনে সৃষ্ট ত্রুটিও হতে পারে। বিশেষত এ বয়সে সংঘটিত ঘটনাপঞ্জি সে স্মৃতিতে উত্তমরূপে ধারণ করে রাখতে সক্ষম নয়। বিশদ ব্যাখ্যাসাপেক্ষ ঘটনাবলি এক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। যেমন: সময়ের ব্যবধান ও তার অনুধাবন শিশুদের এতোটা স্পষ্ট নয়, যতটা স্পষ্ট বড়দের কাছে। এখানেই প্যাঁচ লেগে যাবে বর্তমান ও অতীত কালের মধ্যে। ফলে এর বিবরণই সে এমনভাবে দিবে যা বাহ্যত মিথ্যা। জাগ্রত অবস্থায় ও স্বপ্ন জগতে যা দেখতে পায় তার সাথেও অনেক সময় গুলিয়ে ফেলে। স্বপ্নে যা দেখেছে তার গল্প করে এমনভাবে যেন সেটা একটা সংঘটিত বাস্তবতা। এ নিয়ে কখনো অভিভাবকরাও বিপাকে পড়ে যান। বিশেষ করে শিশুটি যখন এমন বিষয়ের বিবরণ দেয় যা ধর্মীয় ও চারিত্রিক কোন দিক থেকেই গ্রহণযোগ্য নয়।

১- মিথ্যাবলা:
একটি শিশু শুধুমাত্র তার সঙ্গে সম্পৃক্ত উদ্দেশ্যই বাস্তবায়ন করতে চায় অথবা সে কতিপয় অবাঞ্চিত কাজ ও আচরণের প্রতিক্রিয়া গোপন করতে চায়। অথচ তার কাজকে ভালোরূপে উপস্থাপন করার সামর্থ্য তার নেই। এক্ষেত্রে তার জন্য সর্বাপেক্ষা সহায়ক ও সহজসাধ্য বিষয় হলো মিথ্যাবলা। অভিভাবকের এ ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকা উচিত যে, শিশুটি যেন মিথ্যা বলার প্রয়োজন অনুভব না করে। অবশ্য তার মিথ্যা বলাটা কখনো একজন বয়স্ক ব্যক্তির মিথ্যা বলার মত নয়।
যেমন কোন শিশু সন্তান তার বাবার নিকট একটি বিষয়ের বিবরণ দিল। পরে দেখা গেল আরেকজন বয়স্ক ব্যক্তি তার উল্টো বিবরণ দিল। তখন শিশুটির বাবা মনে করে তার বাচ্চাটির কথাই সত্য হবে। কেননা শিশুরা মিথ্যা বলে না ও মিথ্যা চেনে না।
কিন্তু এটা ঠিক নয়। বরং মিথ্যা বলা শিশুর নিকট একটা মামূলী ব্যাপার ও খুবই সহজ। কারণ এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সে অজ্ঞ, সে আদিষ্ট (মুকাল্লফ) নয় যে, শরিয়তের নিষেধাজ্ঞা বাধ্যতামূলকভাবে তার থেকে ছাড়াতে হবে। শিশু-সন্তানটি সত্য বলল, না মিথ্যা? প্রমাণ ও আলামতের সাহায্যে তা নিশ্চিত হওয়া অভিভাবকের কর্তব্য। যেহেতু সাধারত সুন্দরভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে শিশুর মিথ্যা বলার সামর্থটা খুবই দুর্বল। সেহেতু তার মনগড়া মিথ্যা চিহ্নিত ও সনাক্ত করা খুব সহজ। অভিভাবকের নিকট মিথ্যা প্রমাণিত হলে শিশুটিকে এর ভয়াবহতা ও পরিণতি সম্পর্কে পূর্ণ বিবরণ দেওয়া অভিভাবকের কর্তব্য। তাকে বলা যেতে পারে, মিথ্যা বলা কখনোই কোন ভদ্রশিশুর চরিত্র হতে পারে না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআ'লা মিথ্যাবাদীকে ভালবাসেন না। এমন কি খোদ আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মুরুব্বীগণও মিথ্যাবাদীকে ভালবাসেন না। মিথ্যার ক্ষতি ও অপকার সম্বলিত সংক্ষিপ্ত গল্প উল্লেখ করা যেতে পারে শিশুটির কাছে। কৃতকর্মের জন্য তাকে আল্লাহ তা'আলার কাছে ক্ষমা চাইতে উদাত্ত আহবান জানাবেন ও সতর্ক করে দিবেন পুনরায় যেন কখনো এরকম কাজ সে না করে। আবারো তাকে সত্যের দিকে আহ্বান করবেন এবং বলবেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআ'লা সত্যবাদীকে ভালোবাসেন। এমনিভাবে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম ও মুরুব্বীগণও সত্যবাদীকে ভালবাসেন। সত্যের প্রতি ভালোবাসার পুরস্কারও সে-ই ভোগ করবে। শিশুর পছন্দনীয় কোন জিনিস দেয়ার সময়ও তাকে সত্যের প্রতি অনুপ্রাণিত করবেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে কখনোই তার মিথ্যারত অবস্থায় তাকে কঠিন ভয় দেখানো যাবে না; অথবা তাকে এমন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেয়া যাবে না, যা তার বয়োঃস্তরের সঙ্গে সামাঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ বারবার শাস্তি তাকে মিথ্যাবলায় কালক্ষেপণ ও উক্ত শাস্তি থেকে পরিত্রাণের আশায় কথিত মিথ্যায় তাকে জেদী হতে উদ্যত করতে পারে। সবসময় তাকে লজ্জা দেয়া বা তিরস্কার করাও উচিত নয়। এতে তার মন ভেঙ্গে যাবে। ফলে কখনো বা উক্ত ধ্বংসাত্মক আচরণ তার মধ্যে বদ্ধমূল হয়ে যেতে পারে।
তবে এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত যে, কখনো কখনো শিশুর এ বয়সে মিথ্যা বলাটা 'ইচ্ছাকৃত অসত্য সংবাদ প্রদান' এর পর্যায় পড়ে না। বরং এটা তার অনিচ্ছাকৃত ভুল, অথবা তার নিকট বিভিন্ন বিষয়ের সংমিশ্রনে সৃষ্ট ত্রুটিও হতে পারে। বিশেষত এ বয়সে সংঘটিত ঘটনাপঞ্জি সে স্মৃতিতে উত্তমরূপে ধারণ করে রাখতে সক্ষম নয়। বিশদ ব্যাখ্যাসাপেক্ষ ঘটনাবলি এক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। যেমন: সময়ের ব্যবধান ও তার অনুধাবন শিশুদের এতোটা স্পষ্ট নয়, যতটা স্পষ্ট বড়দের কাছে। এখানেই প্যাঁচ লেগে যাবে বর্তমান ও অতীত কালের মধ্যে। ফলে এর বিবরণই সে এমনভাবে দিবে যা বাহ্যত মিথ্যা। জাগ্রত অবস্থায় ও স্বপ্ন জগতে যা দেখতে পায় তার সাথেও অনেক সময় গুলিয়ে ফেলে। স্বপ্নে যা দেখেছে তার গল্প করে এমনভাবে যেন সেটা একটা সংঘটিত বাস্তবতা। এ নিয়ে কখনো অভিভাবকরাও বিপাকে পড়ে যান। বিশেষ করে শিশুটি যখন এমন বিষয়ের বিবরণ দেয় যা ধর্মীয় ও চারিত্রিক কোন দিক থেকেই গ্রহণযোগ্য নয়।

📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 পণ্যসামগ্রী নিয়ে খেলা করা

📄 পণ্যসামগ্রী নিয়ে খেলা করা


২- পণ্যসামগ্রী নিয়ে খেলা করা:
চতুর্পাশ্বস্থিত পরিবেশ পরিচিতির প্রতি টান, অপরিচিত বস্তুসম্ভারের রহস্য উদ্ঘাটনের আগ্রহ শিশুদের স্বভাবজাত প্রকৃতি। এটা তার পছন্দনীয় বিষয়। সুতরাং তাকে এদিকে অনুপ্রাণিত করা উচিত। কিন্তু সমস্যা তখন দেখা দেবে যখন উক্ত পণ্যসামগ্রী নষ্ট কিংবা ধ্বংস করার মধ্য দিয়ে এই সুন্দর আচরণটি উল্টো দিকে প্রবাহিত হবে। তবে এক্ষেত্রে অভিভাবকের আনুগত্য ও অনুসরণ থেকে তাকে বিরত রাখার মধ্য দিয়ে এর প্রতিকার করা যেতে পারে। কারণ এই পণ্যসামগ্রী শিশুর হাতে নষ্ট হয়ে যেতে পারে; এমনকি তার বড় ধরনের কোন বিপদ ঘটতে পারে বা ক্ষতিও হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে শিশুরাতো এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে না ও এর ক্ষতি সম্পর্কে ধারণা রাখে না। অতএব শিশুকে কখনোই একাকি এমন স্থানে ছেড়ে আসা উচিত নয়; যেখানে এ সকল জিনিস বিদ্যমান। কারণ শিশুর নির্জনতাই তাকে ঐ জিনিসপত্র নষ্ট করতে আহবান জানাবে। বিশষ করে ঘর যখন একেবারে খালী থাকে।
শিশুর সম্মুখে বিপদজনক পণ্যসামগ্রীর ব্যবহার অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করা কর্তব্য। যাতে অভিভাবকের অনুপস্থিতির সময় শিশুর পক্ষে তার নাগাল পাওয়া সম্ভব না হয়। সতর্কতার ব্যবস্থা প্রত্যেকেই তার অবস্থানুযায়ী করতে হবে। যথা: নিষেধবাক্য সম্বলিত কার্ড টানানো, তালাবদ্ধ করে রাখা ইত্যাদি- যা শিশু ও পণ্যসামগ্রীর মধ্যে অন্তরায় সৃষ্টি করবে। শুধু উপদেশ ও সতর্কবাণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। যেহেতু শিশু-সন্তানটি এখনো এর যথার্থ মূল্যায়ন করতে শিখে উঠতে পারেনি।
এক্ষেত্রে আর একটি পন্থা অবলম্বন করা যেতে পারে। শিশুকে ব্যস্ত রাখতে সক্ষম এমন বস্তু শিশুর সম্মুখে রেখে দেয়া। যার ব্যবহার শিশুর জন্য কোন কষ্ট বা বিপদ ডেকে আনবে না এবং ঘরও ময়লা হবে না। যেমন: প্লাস্টিকের চতুর্কোণ বিশিষ্ট খেলনা সামগ্রী যা তাৎক্ষণিকভাবে বিন্যস্তকরণ কর্ম প্রশিক্ষণে তাকে উপকৃত করতে পারে ও তার চিন্তা-ভাবনার উন্মেষ ঘটাতে সহায়ক হবে। তবে যে সকল পণ্য সহজে নষ্টযোগ্য বা ভেঙ্গে যেতে পারে সেগুলো এমন স্থানে রেখে দেয়া উচিত, যেখানে একটি শিশুর পক্ষে পৌঁছা সম্ভব নয়। সাথে সাথে ঐ উপকরণও দূরে সরিয়ে রাখতে হবে যা ব্যবহার করে সে দেয়ালের উপরে আরোহন করতে পারে এবং পণ্য সামগ্রীর কাছে পৌঁছতে পারে। কারণ এতে আরো বড় ধরনের বিপদাশঙ্কা রয়েছে।

২- পণ্যসামগ্রী নিয়ে খেলা করা:
চতুর্পাশ্বস্থিত পরিবেশ পরিচিতির প্রতি টান, অপরিচিত বস্তুসম্ভারের রহস্য উদ্ঘাটনের আগ্রহ শিশুদের স্বভাবজাত প্রকৃতি। এটা তার পছন্দনীয় বিষয়। সুতরাং তাকে এদিকে অনুপ্রাণিত করা উচিত। কিন্তু সমস্যা তখন দেখা দেবে যখন উক্ত পণ্যসামগ্রী নষ্ট কিংবা ধ্বংস করার মধ্য দিয়ে এই সুন্দর আচরণটি উল্টো দিকে প্রবাহিত হবে। তবে এক্ষেত্রে অভিভাবকের আনুগত্য ও অনুসরণ থেকে তাকে বিরত রাখার মধ্য দিয়ে এর প্রতিকার করা যেতে পারে। কারণ এই পণ্যসামগ্রী শিশুর হাতে নষ্ট হয়ে যেতে পারে; এমনকি তার বড় ধরনের কোন বিপদ ঘটতে পারে বা ক্ষতিও হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে শিশুরাতো এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে না ও এর ক্ষতি সম্পর্কে ধারণা রাখে না। অতএব শিশুকে কখনোই একাকি এমন স্থানে ছেড়ে আসা উচিত নয়; যেখানে এ সকল জিনিস বিদ্যমান। কারণ শিশুর নির্জনতাই তাকে ঐ জিনিসপত্র নষ্ট করতে আহবান জানাবে। বিশষ করে ঘর যখন একেবারে খালী থাকে।
শিশুর সম্মুখে বিপদজনক পণ্যসামগ্রীর ব্যবহার অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করা কর্তব্য। যাতে অভিভাবকের অনুপস্থিতির সময় শিশুর পক্ষে তার নাগাল পাওয়া সম্ভব না হয়। সতর্কতার ব্যবস্থা প্রত্যেকেই তার অবস্থানুযায়ী করতে হবে। যথা: নিষেধবাক্য সম্বলিত কার্ড টানানো, তালাবদ্ধ করে রাখা ইত্যাদি- যা শিশু ও পণ্যসামগ্রীর মধ্যে অন্তরায় সৃষ্টি করবে। শুধু উপদেশ ও সতর্কবাণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। যেহেতু শিশু-সন্তানটি এখনো এর যথার্থ মূল্যায়ন করতে শিখে উঠতে পারেনি।
এক্ষেত্রে আর একটি পন্থা অবলম্বন করা যেতে পারে। শিশুকে ব্যস্ত রাখতে সক্ষম এমন বস্তু শিশুর সম্মুখে রেখে দেয়া। যার ব্যবহার শিশুর জন্য কোন কষ্ট বা বিপদ ডেকে আনবে না এবং ঘরও ময়লা হবে না। যেমন: প্লাস্টিকের চতুর্কোণ বিশিষ্ট খেলনা সামগ্রী যা তাৎক্ষণিকভাবে বিন্যস্তকরণ কর্ম প্রশিক্ষণে তাকে উপকৃত করতে পারে ও তার চিন্তা-ভাবনার উন্মেষ ঘটাতে সহায়ক হবে। তবে যে সকল পণ্য সহজে নষ্টযোগ্য বা ভেঙ্গে যেতে পারে সেগুলো এমন স্থানে রেখে দেয়া উচিত, যেখানে একটি শিশুর পক্ষে পৌঁছা সম্ভব নয়। সাথে সাথে ঐ উপকরণও দূরে সরিয়ে রাখতে হবে যা ব্যবহার করে সে দেয়ালের উপরে আরোহন করতে পারে এবং পণ্য সামগ্রীর কাছে পৌঁছতে পারে। কারণ এতে আরো বড় ধরনের বিপদাশঙ্কা রয়েছে।

📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 অবাধ্যতা

📄 অবাধ্যতা


৩- অবাধ্যতা: কোন কোন শিশু-সন্তান মা-বাবার পক্ষ থেকে স্বভাবগত পরিমাণের চেয়ে একটু অতিরিক্ত গুরুত্ব পেয়ে থাকে। যেমন: সে অবিবাহিত ছেলে অথবা সে একমাত্র সন্তান অথবা সকল ভাই-বোনের মধ্যে সে একমাত্র ছেলে সন্তান। সুতরাং এটা তার মনে সকলের অপেক্ষা অনন্য মর্যাদাবোধ ও গুরুত্বানুভূতির জন্ম দেয় যা অনেক সময় তাকে মা-বাবার শিক্ষার বিরুদ্ধাচরণ ও তাদের অবাধ্য হতে উদ্বুদ্ধ করে। ফলশ্রুতিতে তার দাবী পূরণের জন্য জিদ ধরে ও তার দাবী বাস্তবায়নের জন্য যে কোন পথের আশ্রয় নিয়ে থাকে। যথা: দীর্ঘক্ষণ কান্নাকাটি করা, সজোরে চিৎকার করা, দরোজায় পিটানো, মেঝেতে পদাঘাত করা অথবা গৃহস্থালীর মালামাল ভাংচুর করা। বিশেষ করে অতিথি অথবা অপরিচিত লোকদের উপস্থিতিতে। যাতে তার অভিভাবক একটা অসুবিধায় পড়ে তার দাবী পূরণ করে দেয়। এ অবস্থায় শিশুটি তার বাবা অথবা মা উভয়ের মধ্যে তার দাবী পূরণে অপেক্ষাকৃত যে বেশি দুর্বল তার আশ্রয় নেয়। এ প্রেক্ষাপটে মা-বাবার ঐকমত্য নেহায়েত প্রয়োজন। কখনো বা তার স্বার্থসিদ্ধির জন্য সে দাদা-দাদীর কোন একজনের অথবা অন্য কোন আত্মীয়-স্বজনের আশ্রয় নেয়। এরকম নাজুক পরিস্থিতিতে অভিভাবককে হতে হবে একজন প্রাজ্ঞ শাসক। তার চিকিৎসা বা প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্বেই অবাধ্যতার কারণগুলো চিহ্নিত করতে হবে।
অতএব তাকে তুচ্ছ কিংবা প্রাধান্য দেয়ার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা যাবে না। অথবা তার সকল আবদার পূরণেও অভ্যস্ত করা উচিৎ হবে না। যেমন: তার প্রতি এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না, যা অনুচিত। সকল নিষিদ্ধ বিষয়ে এক মাপকাঠিতে আচরণ করা যাবে না। কারণ কিছু নিষিদ্ধ বিষয় আছে যা শুধুমাত্র সদাচার ও চরিত্রের পূর্ণতা বিনষ্ট করে। আর কিছু নিষিদ্ধ বিষয় আছে যা চরিত্র ও সদাচার সমূলে ধ্বংস করে দেয়। সুতরাং সকল নিষিদ্ধ বিষয়কে একভাবে মূল্যায়ন করলে চলবে না।
যখন এই মূলনীতিকে শক্তভাবে অবলম্বন করে কোন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবেন, তখন আপনি সফল ও আপনার নিষেধাজ্ঞা হবে অব্যর্থ। শিশু কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা প্রভাবান্বিতকারী উপকরণ অবলম্বনের সামনে পরাস্ত হলে চলবে না। কারণ প্রতিটি নিষেজ্ঞার সময় তাকে সাড়া দেয়া তদসংশ্লিষ্ট কাজ করতে তাকে প্ররোচিত করবে এবং এই আচরণটা তার অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে থাকবে একেবারে বৃদ্ধকাল পর্যন্ত।

৩- অবাধ্যতা: কোন কোন শিশু-সন্তান মা-বাবার পক্ষ থেকে স্বভাবগত পরিমাণের চেয়ে একটু অতিরিক্ত গুরুত্ব পেয়ে থাকে। যেমন: সে অবিবাহিত ছেলে অথবা সে একমাত্র সন্তান অথবা সকল ভাই-বোনের মধ্যে সে একমাত্র ছেলে সন্তান। সুতরাং এটা তার মনে সকলের অপেক্ষা অনন্য মর্যাদাবোধ ও গুরুত্বানুভূতির জন্ম দেয় যা অনেক সময় তাকে মা-বাবার শিক্ষার বিরুদ্ধাচরণ ও তাদের অবাধ্য হতে উদ্বুদ্ধ করে। ফলশ্রুতিতে তার দাবী পূরণের জন্য জিদ ধরে ও তার দাবী বাস্তবায়নের জন্য যে কোন পথের আশ্রয় নিয়ে থাকে। যথা: দীর্ঘক্ষণ কান্নাকাটি করা, সজোরে চিৎকার করা, দরোজায় পিটানো, মেঝেতে পদাঘাত করা অথবা গৃহস্থালীর মালামাল ভাংচুর করা। বিশেষ করে অতিথি অথবা অপরিচিত লোকদের উপস্থিতিতে। যাতে তার অভিভাবক একটা অসুবিধায় পড়ে তার দাবী পূরণ করে দেয়। এ অবস্থায় শিশুটি তার বাবা অথবা মা উভয়ের মধ্যে তার দাবী পূরণে অপেক্ষাকৃত যে বেশি দুর্বল তার আশ্রয় নেয়। এ প্রেক্ষাপটে মা-বাবার ঐকমত্য নেহায়েত প্রয়োজন। কখনো বা তার স্বার্থসিদ্ধির জন্য সে দাদা-দাদীর কোন একজনের অথবা অন্য কোন আত্মীয়-স্বজনের আশ্রয় নেয়। এরকম নাজুক পরিস্থিতিতে অভিভাবককে হতে হবে একজন প্রাজ্ঞ শাসক। তার চিকিৎসা বা প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্বেই অবাধ্যতার কারণগুলো চিহ্নিত করতে হবে।
অতএব তাকে তুচ্ছ কিংবা প্রাধান্য দেয়ার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা যাবে না। অথবা তার সকল আবদার পূরণেও অভ্যস্ত করা উচিৎ হবে না। যেমন: তার প্রতি এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না, যা অনুচিত। সকল নিষিদ্ধ বিষয়ে এক মাপকাঠিতে আচরণ করা যাবে না। কারণ কিছু নিষিদ্ধ বিষয় আছে যা শুধুমাত্র সদাচার ও চরিত্রের পূর্ণতা বিনষ্ট করে। আর কিছু নিষিদ্ধ বিষয় আছে যা চরিত্র ও সদাচার সমূলে ধ্বংস করে দেয়। সুতরাং সকল নিষিদ্ধ বিষয়কে একভাবে মূল্যায়ন করলে চলবে না।
যখন এই মূলনীতিকে শক্তভাবে অবলম্বন করে কোন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবেন, তখন আপনি সফল ও আপনার নিষেধাজ্ঞা হবে অব্যর্থ। শিশু কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা প্রভাবান্বিতকারী উপকরণ অবলম্বনের সামনে পরাস্ত হলে চলবে না। কারণ প্রতিটি নিষেজ্ঞার সময় তাকে সাড়া দেয়া তদসংশ্লিষ্ট কাজ করতে তাকে প্ররোচিত করবে এবং এই আচরণটা তার অন্তরে বদ্ধমূল হয়ে থাকবে একেবারে বৃদ্ধকাল পর্যন্ত।

📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 কোন বিষয়কে যথার্থ মূল্যায়ন না করা

📄 কোন বিষয়কে যথার্থ মূল্যায়ন না করা


৪- কোন বিষয়কে যথার্থ মূল্যায়ন না করা:
এ বিষয়ে শিশুর গবেষণার ক্ষমতা খুবই সীমিত। উত্তমরূপে শুধুমাত্র অর্থ অনুধাবন করার সামর্থ্যও সে রাখে না। অথচ এটা এমন একটি বিষয় যার প্রাচুর্য্য তাকে এমন তথ্যসমৃদ্ধ হতে সাহায্য করবে, যার মাধ্যমে একজন অভিভাবক চিন্তা ও বুদ্ধির খোরাক যোগাতে চায়। সুতরাং অভিভাবকের কর্তব্য এ বয়সে তিনি শিশু ও উক্ত বিষয়ের মধ্যে এই পরিমাণ দূরত্ব সৃষ্টি করবেন যে, শিশুটি ঐ অর্থ থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী হয়ে যায়। তবে নেহায়েত প্রয়োজনের সময় কাছাকাছি অর্থের সহায়তা এবং শিশুর চতুপার্শ্বস্থ বাস্তব পরিবেশ থেকে উদাহরণ প্রদানের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। যেমন: দূরত্ব ও সীমানার ক্ষেত্রে শিশুর আচরণ- তার সন্দেহের কারণে- তার বস্তুনিষ্ট মূল্যায়ন স্পষ্ট নয়। যেমন: সে কখনো বা পথে অথবা পথে আবর্তিত আন্দোলন বা স্পন্দন সম্পর্কে পরিচিত হতে চায়। তখন সে তার ঘরের জানালায় উঠে থাকে যা অনেক সময় ভূমি থেকে অনেক উঁচুতে হয়ে থাকে ও সেখান থেকে পথের দিকে ঘাড় ফিরিয়ে থাকে। অথচ এক্ষেত্রে আসন্ন বিপদাশঙ্কাও সে পরিমাপ করতে পারে না।
এহেন পরিস্থিতিতে একজন অভিভাবকের সবচেয়ে বড় যে ভুলটি সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তা হলো তাকে ধমক দিতে বা চিৎকার করতে উদ্যত হওয়া; যা তাকে শাস্তির ভয়ে ঘর থেকে বের হতে বাধ্য করবে। অথচ সে এর সাক্ষাত বিপদের ভয়াবহ পরিণতির কথা পরিমাপ করতে পারবে না। ফলে এমন অনাহুত ঘটনা সংঘটিত হয়ে যেতে পারে যার আশঙ্কাই অভিভাবক করছিল। তবে এ পর্যায়ে একজন অভিভাবকের একান্ত কর্তব্য হলো-সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পথ চলা যাতে সে তাকে দেখতে ও অনুভব করতেও না পারে-তাকে উক্ত অভ্যাস থেকে ফিরিয়ে আনা ও নিরস্ত্র করা। তবে হ্যাঁ যদি এরূপ সতর্কতা অবলম্বন সম্ভব না হয় বরং শিশুটি তাকে দেখে ফেলে এবং বুঝতে পারে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকের পক্ষ থেকে কোন আপত্তি বা বিরক্তি প্রকাশ উচিত হবে না। বরং নীরব সমর্থন প্রকাশ করে যাবে। যাতে সে আস্বস্ত ও পরিতৃপ্ত হয়ে সেটা ছেড়ে দেয়।
এরপর তাকে শিক্ষাদানে মনোনিবেশ করবে অথবা পরিস্থিতির অনুকূল কোন শাস্তির ব্যবস্থা করবে। যেমন: একটি শিশুর এ বয়সে গৃহস্থালী সামগ্রী ঘরের বাইরে নিক্ষেপ করার প্রবণতা থাকে, যা পথচারীর বড় রকমের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জিনিসগুলো ভেঙ্গে কিংবা হারিয়ে যায়। এ প্রেক্ষিতে সম্ভব হলে জানালার ওপর লোহার গ্রীল দেয়া যেতে পারে। যেখান থেকে জিনিষপত্র বা শিশু যেন বের হতে না পারে। এটা শুধুমাত্র একটা সহজ উদাহরণ। অভিভাবক যার ওপর নির্ভর করে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। তবে কখনো এটাই একমাত্র উদ্দেশ্য নয়।

৪- কোন বিষয়কে যথার্থ মূল্যায়ন না করা:
এ বিষয়ে শিশুর গবেষণার ক্ষমতা খুবই সীমিত। উত্তমরূপে শুধুমাত্র অর্থ অনুধাবন করার সামর্থ্যও সে রাখে না। অথচ এটা এমন একটি বিষয় যার প্রাচুর্য্য তাকে এমন তথ্যসমৃদ্ধ হতে সাহায্য করবে, যার মাধ্যমে একজন অভিভাবক চিন্তা ও বুদ্ধির খোরাক যোগাতে চায়। সুতরাং অভিভাবকের কর্তব্য এ বয়সে তিনি শিশু ও উক্ত বিষয়ের মধ্যে এই পরিমাণ দূরত্ব সৃষ্টি করবেন যে, শিশুটি ঐ অর্থ থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী হয়ে যায়। তবে নেহায়েত প্রয়োজনের সময় কাছাকাছি অর্থের সহায়তা এবং শিশুর চতুপার্শ্বস্থ বাস্তব পরিবেশ থেকে উদাহরণ প্রদানের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। যেমন: দূরত্ব ও সীমানার ক্ষেত্রে শিশুর আচরণ- তার সন্দেহের কারণে- তার বস্তুনিষ্ট মূল্যায়ন স্পষ্ট নয়। যেমন: সে কখনো বা পথে অথবা পথে আবর্তিত আন্দোলন বা স্পন্দন সম্পর্কে পরিচিত হতে চায়। তখন সে তার ঘরের জানালায় উঠে থাকে যা অনেক সময় ভূমি থেকে অনেক উঁচুতে হয়ে থাকে ও সেখান থেকে পথের দিকে ঘাড় ফিরিয়ে থাকে। অথচ এক্ষেত্রে আসন্ন বিপদাশঙ্কাও সে পরিমাপ করতে পারে না।
এহেন পরিস্থিতিতে একজন অভিভাবকের সবচেয়ে বড় যে ভুলটি সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তা হলো তাকে ধমক দিতে বা চিৎকার করতে উদ্যত হওয়া; যা তাকে শাস্তির ভয়ে ঘর থেকে বের হতে বাধ্য করবে। অথচ সে এর সাক্ষাত বিপদের ভয়াবহ পরিণতির কথা পরিমাপ করতে পারবে না। ফলে এমন অনাহুত ঘটনা সংঘটিত হয়ে যেতে পারে যার আশঙ্কাই অভিভাবক করছিল। তবে এ পর্যায়ে একজন অভিভাবকের একান্ত কর্তব্য হলো-সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পথ চলা যাতে সে তাকে দেখতে ও অনুভব করতেও না পারে-তাকে উক্ত অভ্যাস থেকে ফিরিয়ে আনা ও নিরস্ত্র করা। তবে হ্যাঁ যদি এরূপ সতর্কতা অবলম্বন সম্ভব না হয় বরং শিশুটি তাকে দেখে ফেলে এবং বুঝতে পারে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকের পক্ষ থেকে কোন আপত্তি বা বিরক্তি প্রকাশ উচিত হবে না। বরং নীরব সমর্থন প্রকাশ করে যাবে। যাতে সে আস্বস্ত ও পরিতৃপ্ত হয়ে সেটা ছেড়ে দেয়।
এরপর তাকে শিক্ষাদানে মনোনিবেশ করবে অথবা পরিস্থিতির অনুকূল কোন শাস্তির ব্যবস্থা করবে। যেমন: একটি শিশুর এ বয়সে গৃহস্থালী সামগ্রী ঘরের বাইরে নিক্ষেপ করার প্রবণতা থাকে, যা পথচারীর বড় রকমের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জিনিসগুলো ভেঙ্গে কিংবা হারিয়ে যায়। এ প্রেক্ষিতে সম্ভব হলে জানালার ওপর লোহার গ্রীল দেয়া যেতে পারে। যেখান থেকে জিনিষপত্র বা শিশু যেন বের হতে না পারে। এটা শুধুমাত্র একটা সহজ উদাহরণ। অভিভাবক যার ওপর নির্ভর করে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। তবে কখনো এটাই একমাত্র উদ্দেশ্য নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00