📄 আনুগত্য ও অনুসরণ
একটি শিশু তার বয়সের এ স্তরে এসে মা-বাবার আনুগত্যের দিকে ঝুঁকে পড়ে সবচেয়ে বেশি। তবে প্রত্যেকেই তার লিঙ্গ ও জাতের আনুকূল্য বজায় রাখে। সুতরাং স্বভাবত ছেলেকে তার বাবার ও মেয়েকে তার মায়ের আনুগত্য করতে দেখা যায়। প্রকৃতপক্ষে এই বয়সে একটি শিশু-সন্তানের জন্যে তার মা- বাবার সঙ্গে গভীর সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এ বিষয়ে গভীর মনোযোগ প্রদান শিশুর প্রতিপালন ও তার নিরাপত্তা বিধানে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
ভালো কাজ- যার পেছনে কোন বিপদাশঙ্কা নেই তাতে আনুগত্য করায় শিশুর প্রতি কোন নিষেধাজ্ঞাও নেই। এমন কি শিশু নিজে সেটাকে ভালো মনে না করলেও। একটি অবুঝ শিশু যখন তার মাকে ঘরের মধ্যে নামাজ পড়তে দেখে, তখন সে তার অনুকরণ করেতে চেষ্টা করে। এ ক্ষেত্রে তাকে বারণ করা অনুচিত, যদিও এতে তার নামাজের একাগ্রতা বিঘ্নিত হয়ে থাকে অথবা সে এমন কিছু করে ফেলে যা উচিত নয়। বস্তুতঃ এসব করতে ছেড়ে দেয়াই তাকে নামাজে অভ্যস্ত করার অন্যতম উপায়। উপরন্তু সম্ভব হলে তার জন্য একটি ছোট্ট জায়নামাজের ব্যবস্থা করা উত্তম। যাতে নামাজের সময় হলে সে তার মায়ের সঙ্গে নামাজ পড়তে ও নামাজে তার অনুকরণ করতে প্রাণিত হয়।
এমনিভাবে মা-বাবা বা যে কোন একজনের পক্ষ থেকেও মন্দ কাজ অথবা নিন্দিত আচরণ শিশুর সম্মুখে প্রকাশ পাওয়া উচিত নয়। মা-বাবা যে কোন একজনের যদি এ জাতীয় কর্মের অভ্যাস থেকে থাকে। যেমন: ধূমপান করা, তাহলে তাৎক্ষণিক আল্লাহ তা'আলার নিকট তওবা করা এবং কোন অবস্থাতেই যেন শিশুটি তার এ কাজ দেখতে না পায় সে ব্যবস্থা করা কর্তব্য। যেমন: বিপদজনক কার্যসমূহ; যদিও তা কোন ত্রুটিযুক্ত বা নিষিদ্ধ কাজ নয়, তদুপরি তা একটি শিশুর সম্মুখে করা অনুচিত। কারণ মা-বাবা ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর নির্জনে সে তাদের অনুসরণ করার চেষ্টা করে থাকে। অথচ সে তো এই মুহূর্তেই তার নিরাপদ ব্যবহার-বিধি উত্তমরূপে জেনে নিতে সক্ষম হয়নি। যথা- চুলা ধরানো। পক্ষান্তরে নান্দনিক ও উত্তম আচরণসমূহ শিশুর সম্মুখে বেশি বেশি প্রকাশ করা দরকার। যথা- মা-বাবাকে সম্মান করা, মানবিক প্রয়োজনে যে স্থানটা অপরিচ্ছন্ন হয়ে যায় তা পরিষ্কার করা, গৃহস্থালীর মালামাল পরিষ্কার করা অথবা তার নির্দ্ধারিত স্থানে সেটা রেখে দেওয়া, খাবার গ্রহণের পূর্বে ময়লাযুক্ত হাত পরিষ্কার করা কিংবা খাবারের পূর্বে বিসমিল্লাহ এবং খাবারের শেষে আলহামদু লিল্লাহ পাঠ করা ইত্যাদি।
শিশুর এ বয়োঃস্তরে ভাষাগত দিক থেকে শিশুর বিকাশ সাধনে অভিভাবকের যত্নবান হওয়া উচিত। যা আকর্ষণীয় ঘটনাবলী ও উদ্দীপক গল্পসম্ভার হলেও হতে পারে। যেগুলো একটি শিশু পরম আগ্রহভরে চুপ করে শুনতে থাকে। অতঃপর আশা করা যেতে পারে; অভিভাবক যে ভূমিকাটা পালন করলেন শিশু নিজেও সে দায়িত্বটা পালন করবে এবং তা মনোযোগ সহকারে শুনবে। এভাবে কথা বলার ধারাবাহিকতায় ক্রমান্বয়ে সে অগ্রসর হতে থাকবে।
এ সময় শিশুকে 'করো' এবং 'করিও না' কিংবা আদেশ-নিষেধের পদ্ধতির ওপর তৃপ্ত না থেকে বরং 'নিজেই আদর্শ' এই পদ্ধতিতে শিশু প্রতিপালন করা অধিকতর শ্রেয়। কারণ মডেল বা আদর্শ তার মননে দৃঢ়ভাবে বদ্ধমূল হয়ে থাকে। বাধ্য-বাধকতা ও বিধি-বিধান -যা একটু কষ্টসাধ্য মনে করলে ছেড়ে দেবে- আরোপের চেয়ে অনুকরণের ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর।
আমরা অনেক সময় লক্ষ করি, কন্যা শিশু মাকে দেখে তার অনুকরণ করতে অভ্যস্ত। মা খাবারের পর রান্নাঘরে থালা-বাসন পরিষ্কার করতে ব্যস্ত; তখন দেখি শিশুটিও অনাহুত ভাবেই রান্নাঘরে গিয়ে থালা-বাসন ধৌত করতে উদ্যত হয়।
উল্লেখ্য যে, শিশুর অনুসরণের একটি নেতিবাচক ও বিপদজনক দিকও আছে। বিশেষত শিশু টেলিভিশনের পর্দায় যা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে তার অনুশীলনের দিকে সে ঝুঁকে পড়ে।
শিশুদের জন্য নির্মিত বাজে ফিল্ম দেখলে তখন বিপদটা প্রকট হয়ে উঠে। যেখানে সে দেখতে পায় মানুষ বাতাসে উড়ছে। তখন এটার অনুশীলন করতে গিয়ে تو নিজেকে নির্ঘাত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে। এমনিভাবে কোন কোন দৃশ্যের ভয়াবহতা, নারী-পুরুষ সম্পর্কের কু-রুচিপূর্ণ ও অবাঞ্চিত আচরণ তো রয়েছেই। যা দেখে সে তার সমবয়সী বোনের সঙ্গে বা ভাইয়ের সাথে অনুরূপ আচরণ করতে প্রয়াস পাবে। অথচ এর ধ্বংসাত্মক পরিণতি সম্পর্কে সে কিছুই জানে না। সুতরাং এ ক্ষেত্রে একজন অভিভাবকের পূর্ব থেকেই খুব সতর্ক থাকতে হবে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য অবসর কিংবা কিছুটা সময় বিশ্রামের প্রতি তাকে উৎসাহিত করতে হবে। সাথে সাথে টিভির পর্দায় দৃশ্যমান অনুষ্ঠানমালা দেখার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণও গ্রহণ করতে হবে। এ আশায় যে, এক পর্যায় এর প্রতি নিরুৎসাহিত হয়ে টিভি দেখার প্রতি আকর্ষণ শেষ হয়ে যাবে।
একটি শিশু তার বয়সের এ স্তরে এসে মা-বাবার আনুগত্যের দিকে ঝুঁকে পড়ে সবচেয়ে বেশি। তবে প্রত্যেকেই তার লিঙ্গ ও জাতের আনুকূল্য বজায় রাখে। সুতরাং স্বভাবত ছেলেকে তার বাবার ও মেয়েকে তার মায়ের আনুগত্য করতে দেখা যায়। প্রকৃতপক্ষে এই বয়সে একটি শিশু-সন্তানের জন্যে তার মা- বাবার সঙ্গে গভীর সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এ বিষয়ে গভীর মনোযোগ প্রদান শিশুর প্রতিপালন ও তার নিরাপত্তা বিধানে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
ভালো কাজ- যার পেছনে কোন বিপদাশঙ্কা নেই তাতে আনুগত্য করায় শিশুর প্রতি কোন নিষেধাজ্ঞাও নেই। এমন কি শিশু নিজে সেটাকে ভালো মনে না করলেও। একটি অবুঝ শিশু যখন তার মাকে ঘরের মধ্যে নামাজ পড়তে দেখে, তখন সে তার অনুকরণ করেতে চেষ্টা করে। এ ক্ষেত্রে তাকে বারণ করা অনুচিত, যদিও এতে তার নামাজের একাগ্রতা বিঘ্নিত হয়ে থাকে অথবা সে এমন কিছু করে ফেলে যা উচিত নয়। বস্তুতঃ এসব করতে ছেড়ে দেয়াই তাকে নামাজে অভ্যস্ত করার অন্যতম উপায়। উপরন্তু সম্ভব হলে তার জন্য একটি ছোট্ট জায়নামাজের ব্যবস্থা করা উত্তম। যাতে নামাজের সময় হলে সে তার মায়ের সঙ্গে নামাজ পড়তে ও নামাজে তার অনুকরণ করতে প্রাণিত হয়।
এমনিভাবে মা-বাবা বা যে কোন একজনের পক্ষ থেকেও মন্দ কাজ অথবা নিন্দিত আচরণ শিশুর সম্মুখে প্রকাশ পাওয়া উচিত নয়। মা-বাবা যে কোন একজনের যদি এ জাতীয় কর্মের অভ্যাস থেকে থাকে। যেমন: ধূমপান করা, তাহলে তাৎক্ষণিক আল্লাহ তা'আলার নিকট তওবা করা এবং কোন অবস্থাতেই যেন শিশুটি তার এ কাজ দেখতে না পায় সে ব্যবস্থা করা কর্তব্য। যেমন: বিপদজনক কার্যসমূহ; যদিও তা কোন ত্রুটিযুক্ত বা নিষিদ্ধ কাজ নয়, তদুপরি তা একটি শিশুর সম্মুখে করা অনুচিত। কারণ মা-বাবা ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর নির্জনে সে তাদের অনুসরণ করার চেষ্টা করে থাকে। অথচ সে তো এই মুহূর্তেই তার নিরাপদ ব্যবহার-বিধি উত্তমরূপে জেনে নিতে সক্ষম হয়নি। যথা- চুলা ধরানো। পক্ষান্তরে নান্দনিক ও উত্তম আচরণসমূহ শিশুর সম্মুখে বেশি বেশি প্রকাশ করা দরকার। যথা- মা-বাবাকে সম্মান করা, মানবিক প্রয়োজনে যে স্থানটা অপরিচ্ছন্ন হয়ে যায় তা পরিষ্কার করা, গৃহস্থালীর মালামাল পরিষ্কার করা অথবা তার নির্দ্ধারিত স্থানে সেটা রেখে দেওয়া, খাবার গ্রহণের পূর্বে ময়লাযুক্ত হাত পরিষ্কার করা কিংবা খাবারের পূর্বে বিসমিল্লাহ এবং খাবারের শেষে আলহামদু লিল্লাহ পাঠ করা ইত্যাদি।
শিশুর এ বয়োঃস্তরে ভাষাগত দিক থেকে শিশুর বিকাশ সাধনে অভিভাবকের যত্নবান হওয়া উচিত। যা আকর্ষণীয় ঘটনাবলী ও উদ্দীপক গল্পসম্ভার হলেও হতে পারে। যেগুলো একটি শিশু পরম আগ্রহভরে চুপ করে শুনতে থাকে। অতঃপর আশা করা যেতে পারে; অভিভাবক যে ভূমিকাটা পালন করলেন শিশু নিজেও সে দায়িত্বটা পালন করবে এবং তা মনোযোগ সহকারে শুনবে। এভাবে কথা বলার ধারাবাহিকতায় ক্রমান্বয়ে সে অগ্রসর হতে থাকবে।
এ সময় শিশুকে 'করো' এবং 'করিও না' কিংবা আদেশ-নিষেধের পদ্ধতির ওপর তৃপ্ত না থেকে বরং 'নিজেই আদর্শ' এই পদ্ধতিতে শিশু প্রতিপালন করা অধিকতর শ্রেয়। কারণ মডেল বা আদর্শ তার মননে দৃঢ়ভাবে বদ্ধমূল হয়ে থাকে। বাধ্য-বাধকতা ও বিধি-বিধান -যা একটু কষ্টসাধ্য মনে করলে ছেড়ে দেবে- আরোপের চেয়ে অনুকরণের ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর।
আমরা অনেক সময় লক্ষ করি, কন্যা শিশু মাকে দেখে তার অনুকরণ করতে অভ্যস্ত। মা খাবারের পর রান্নাঘরে থালা-বাসন পরিষ্কার করতে ব্যস্ত; তখন দেখি শিশুটিও অনাহুত ভাবেই রান্নাঘরে গিয়ে থালা-বাসন ধৌত করতে উদ্যত হয়।
উল্লেখ্য যে, শিশুর অনুসরণের একটি নেতিবাচক ও বিপদজনক দিকও আছে। বিশেষত শিশু টেলিভিশনের পর্দায় যা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে তার অনুশীলনের দিকে সে ঝুঁকে পড়ে।
শিশুদের জন্য নির্মিত বাজে ফিল্ম দেখলে তখন বিপদটা প্রকট হয়ে উঠে। যেখানে সে দেখতে পায় মানুষ বাতাসে উড়ছে। তখন এটার অনুশীলন করতে গিয়ে تو নিজেকে নির্ঘাত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে। এমনিভাবে কোন কোন দৃশ্যের ভয়াবহতা, নারী-পুরুষ সম্পর্কের কু-রুচিপূর্ণ ও অবাঞ্চিত আচরণ তো রয়েছেই। যা দেখে সে তার সমবয়সী বোনের সঙ্গে বা ভাইয়ের সাথে অনুরূপ আচরণ করতে প্রয়াস পাবে। অথচ এর ধ্বংসাত্মক পরিণতি সম্পর্কে সে কিছুই জানে না। সুতরাং এ ক্ষেত্রে একজন অভিভাবকের পূর্ব থেকেই খুব সতর্ক থাকতে হবে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য অবসর কিংবা কিছুটা সময় বিশ্রামের প্রতি তাকে উৎসাহিত করতে হবে। সাথে সাথে টিভির পর্দায় দৃশ্যমান অনুষ্ঠানমালা দেখার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণও গ্রহণ করতে হবে। এ আশায় যে, এক পর্যায় এর প্রতি নিরুৎসাহিত হয়ে টিভি দেখার প্রতি আকর্ষণ শেষ হয়ে যাবে।
📄 অনুধাবনযোগ্য বিষয়ের ওপর নির্ভরশীলতা
একটি শিশু এ বয়সে শুধুমাত্র বাস্তব এবং উপলব্ধিযোগ্য বস্তুর ওপর বেশি নির্ভর করে থাকে। নিছক কথামালা এবং পরোক্ষ ও অদৃশ্য বিষয়ে কোন আগ্রহ সে দেখাতে চায় না। যেহেতু পরোক্ষ বিষয়ে ইতিপূর্বে তার স্মৃতিতে কোন বাস্তব নমুনা অথবা তদসংশ্লিষ্ট কোন কার্যকর অভিজ্ঞতা তার নেই। সুতরাং একটি শিশুর এই বয়োঃস্তরে যদি তার অভিভাবক বলে, 'আমি তোমাকে ভালোবাসি' তাহলে এটা তার কাছে কোন অর্থবহ বিষয় হবে না। যতক্ষণ না সে তাকে নিজের বুকে টানবে, কোলে নিবে, চুমো খাবে ও তার পছন্দসই কোন কিছু তাকে দিবে অথবা কোন আবদার করলে সেটা পূরণ করবে। তখন সে পূর্বাপেক্ষা অধিক তীব্রভাবে অনুভব করবে যে, সত্যিকার অর্থেই তার অভিভাবক তাকে ভালোবাসে।
কখনোবা একটি শিশু আগুনের লেলিহান শিখা অবলোকন করে আগুনের রং ও প্রজ্জ্বলন ক্ষমতা দেখে বিস্মিত হয়ে যায়। আগুন স্পর্শ করার ভয়াবহ পরিণাম ও ক্ষতির ব্যপারে আলোচনা করলে সে কথায় সে কর্ণপাত করে না অথবা তার বোধগম্য হয় না। যতক্ষণ না সে নিজের হাতে তা স্পর্শ করে নেয় ও আগুনের তাপ আস্বাদন করে। অতঃপর তার এমন অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়ে যাবে যা বলে দিবে এরপর আগুনের সঙ্গে তার কিরূপ আচরণ করতে হবে।
একটি শিশু এ বয়সে শুধুমাত্র বাস্তব এবং উপলব্ধিযোগ্য বস্তুর ওপর বেশি নির্ভর করে থাকে। নিছক কথামালা এবং পরোক্ষ ও অদৃশ্য বিষয়ে কোন আগ্রহ সে দেখাতে চায় না। যেহেতু পরোক্ষ বিষয়ে ইতিপূর্বে তার স্মৃতিতে কোন বাস্তব নমুনা অথবা তদসংশ্লিষ্ট কোন কার্যকর অভিজ্ঞতা তার নেই। সুতরাং একটি শিশুর এই বয়োঃস্তরে যদি তার অভিভাবক বলে, 'আমি তোমাকে ভালোবাসি' তাহলে এটা তার কাছে কোন অর্থবহ বিষয় হবে না। যতক্ষণ না সে তাকে নিজের বুকে টানবে, কোলে নিবে, চুমো খাবে ও তার পছন্দসই কোন কিছু তাকে দিবে অথবা কোন আবদার করলে সেটা পূরণ করবে। তখন সে পূর্বাপেক্ষা অধিক তীব্রভাবে অনুভব করবে যে, সত্যিকার অর্থেই তার অভিভাবক তাকে ভালোবাসে।
কখনোবা একটি শিশু আগুনের লেলিহান শিখা অবলোকন করে আগুনের রং ও প্রজ্জ্বলন ক্ষমতা দেখে বিস্মিত হয়ে যায়। আগুন স্পর্শ করার ভয়াবহ পরিণাম ও ক্ষতির ব্যপারে আলোচনা করলে সে কথায় সে কর্ণপাত করে না অথবা তার বোধগম্য হয় না। যতক্ষণ না সে নিজের হাতে তা স্পর্শ করে নেয় ও আগুনের তাপ আস্বাদন করে। অতঃপর তার এমন অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়ে যাবে যা বলে দিবে এরপর আগুনের সঙ্গে তার কিরূপ আচরণ করতে হবে।
📄 পরিবেশ পরিচিতি ও কৌতূহল প্রবণতা
একটি শিশুর এ বয়োঃস্তরে এক দিকে গবেষণা ও শব্দভাণ্ডার অন্যদিকে বাস্তব অভিজ্ঞতা- এ দু'য়ের যোগসূত্র আবিষ্কারে অসামর্থতা ও দুর্বলতার দরশ তার চতুর্পার্শে অবস্থিত মৌলিক বস্তুসমূহ সম্পর্কে সে বেশ প্রশ্ন করে থাকে। কারণ তার কাছে এটাই একটা অপরিচিত পৃথিবী। তার এ কৌতূহল ও প্রশ্ন করার আগ্রহটা প্রকৃতপক্ষে তার প্রচ্ছন্ন বুদ্ধিমত্তা ও বেঁচে থাকার পরিচায়ক। এ ক্ষেত্রে একজন অভিভাবকের অবশ্য কর্তব্য হলো, এটাকে একটা সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে তাকে পর্যাপ্ত তথ্য সম্পর্কে জ্ঞাত করে তোলা। তবে প্রশ্নাধিক্যের কারণে তাকে মন্দ বলা বা কোন প্রকার বিরক্তি প্রকাশ করা যাবে না। বরং প্রতিটি প্রশ্নের স্পষ্ট অথচ সংক্ষিপ্ত ও স্মৃতিসহজ উত্তর দানে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। শিশুর পরিবেশ থেকে তথ্যসমৃদ্ধ হওয়া, গবেষণা ও শব্দের সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় সাধনের এটা এক পরিক্ষিত উপায়। এতে এক দিকে যেমন তার ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে অন্য দিকে বিশুদ্ধ অর্থবোধক বাক্য গঠনেও সে সক্ষম হয়ে উঠবে। সুতরাং একজন অভিভাবকের যথাসাধ্য সঠিক উত্তর দানে সচেষ্ট হওয়া উচিত। শিশুর প্রশ্নের যেনতেন উত্তর দিয়ে দায়সাড়া কর্তব্য সম্পাদন ঠিক নয়।
শিশুর এ বয়োঃস্তরে একজন অভিভাবকের উচিত শিশুকে পৃথকী ও বিন্যস্ত করণ উপযোগী খেলারসামগ্রী কিনে দিবে যাতে সে তা পৃথক করার পর পুনর্বিন্যাস করে তা পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। ফলে তাতে সে মনের আনন্দ পাবে ও হাতের মাংস পেশীর অনুশীলন বা ব্যায়াম হবে। সাথে সাথে একটি খেলার সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও পরিচিতি লাভ হবে।
একটি শিশুর এ বয়োঃস্তরে এক দিকে গবেষণা ও শব্দভাণ্ডার অন্যদিকে বাস্তব অভিজ্ঞতা- এ দু'য়ের যোগসূত্র আবিষ্কারে অসামর্থতা ও দুর্বলতার দরশ তার চতুর্পার্শে অবস্থিত মৌলিক বস্তুসমূহ সম্পর্কে সে বেশ প্রশ্ন করে থাকে। কারণ তার কাছে এটাই একটা অপরিচিত পৃথিবী। তার এ কৌতূহল ও প্রশ্ন করার আগ্রহটা প্রকৃতপক্ষে তার প্রচ্ছন্ন বুদ্ধিমত্তা ও বেঁচে থাকার পরিচায়ক। এ ক্ষেত্রে একজন অভিভাবকের অবশ্য কর্তব্য হলো, এটাকে একটা সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে তাকে পর্যাপ্ত তথ্য সম্পর্কে জ্ঞাত করে তোলা। তবে প্রশ্নাধিক্যের কারণে তাকে মন্দ বলা বা কোন প্রকার বিরক্তি প্রকাশ করা যাবে না। বরং প্রতিটি প্রশ্নের স্পষ্ট অথচ সংক্ষিপ্ত ও স্মৃতিসহজ উত্তর দানে সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। শিশুর পরিবেশ থেকে তথ্যসমৃদ্ধ হওয়া, গবেষণা ও শব্দের সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় সাধনের এটা এক পরিক্ষিত উপায়। এতে এক দিকে যেমন তার ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে অন্য দিকে বিশুদ্ধ অর্থবোধক বাক্য গঠনেও সে সক্ষম হয়ে উঠবে। সুতরাং একজন অভিভাবকের যথাসাধ্য সঠিক উত্তর দানে সচেষ্ট হওয়া উচিত। শিশুর প্রশ্নের যেনতেন উত্তর দিয়ে দায়সাড়া কর্তব্য সম্পাদন ঠিক নয়।
শিশুর এ বয়োঃস্তরে একজন অভিভাবকের উচিত শিশুকে পৃথকী ও বিন্যস্ত করণ উপযোগী খেলারসামগ্রী কিনে দিবে যাতে সে তা পৃথক করার পর পুনর্বিন্যাস করে তা পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। ফলে তাতে সে মনের আনন্দ পাবে ও হাতের মাংস পেশীর অনুশীলন বা ব্যায়াম হবে। সাথে সাথে একটি খেলার সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও পরিচিতি লাভ হবে।
📄 تلقين বা দীক্ষা
একটি শিশুকে তার এ বয়োঃস্তরে মৌলিক জ্ঞান শিখানো সহজ। কারণ তাকে যা শিক্ষা দেয়া হবে তা-ই সে স্মরণ রাখতে পারবে। আর যখন কোন বিদ্যা উত্তমরূপে শিখানো হবে সেটা তার মনে দৃঢ়ভাবে অঙ্কিত হয়ে থাকবে। বহুকাল অতিক্রম হলেও তা আর সে ভুলতে পারবে না। বিশেষত সে বিষয়টি অন্যটার সঙ্গে পুনরাবৃত্তির সময়। অতএব এ সময় শিশুকে কুরআনুল কারীম পাঠ দানের প্রতি বিশেষভাবে যত্নবান হওয়া উচিত। ছোট সূরাগুলো হেজ করার মাধ্যমে সূচনা করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আধুনিক উপকরণের সাহায্য নেয়া যায়। যেমন: ক্যাসেট ও কম্পিউটার ইত্যাদি ব্যবহারের মাধ্যমে। এ সময় শিশুকে আকীদা-বিশ্বাস, দোয়া ও আদাব বিষয়ক অনতিদীর্ঘ হাদীসগুলোও শিক্ষা দিতে হবে।
সমাজে এমন অনেক পরিবার দেখা যায়, যারা লেখা পড়া অথবা অন্য কোন বিদ্যা শিক্ষা দেওয়ার জন্য শিশুকে একেবারে ছোট্টবয়সে তথাকথিত কিন্ডারগার্টেনে নিয়ে যায়। যদিও এক্ষেত্রে দু-একটা উপকারিতা যে কখনো পরিলক্ষিত হয় না; তা নয়। তবে এখানে ক্ষতির পরিমাণটা এত বড় যে, উপকারিতার সাথে তার কোন তুলনা চলে না। কারণ এতে একটি শিশুকে তার ভিত্তিমূল প্রতিপালন আলয় থেকে টেনে আনা হয়। ফলশ্রুতিতে শিশু একেবারে অল্প বয়সে সাধারত ৩ বছর বয়সে তার স্বভাবজাত প্রকৃতি, মা ও তার স্নে structurally ুলভ পরিচর্যা থেকে দূরে সরে যায়। তখন শিশুর পরিচর্যা নিজ গৃহে পূর্ণ হওয়ার পূর্বে বহিরাগত প্রভাব তার পরিচর্যার ক্ষেত্রে ত্বরান্বিত হয়। ফলশ্রুতিতে কিন্ডারগার্টেনের পরিবেশ এবং গৃহে শিশুর প্রতিপালনের মধ্যে একটা সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি হয়। বিশেষত পাশ্চাত্য শিক্ষার দূষিত বায়ু প্রবাহের পর। যদ্বারা এমন অপসংস্কৃতির সয়লাব ও সামাজিক অবক্ষয়ের প্রসার ঘটে- যা অনেক দিক থেকে বিশেষ করে শিক্ষা কারিকুলামের দিক থেকে আমাদের ইসলামী সমাজের বিরোধী। তবে কখনো বা নেহায়েত প্রয়োজনে পরিস্থিতির শিকার হয়ে একটি পরিবার বাধ্য হয়ে এমনটি করে থাকে। যেমন: মা ঘরের বাইরে চাকুরী করেন। সাংসারিক প্রয়োজন মেটাতে হলে তার এছাড়া অন্য কোন উপায়ও নেই। এহেন পরিস্থিতে অভিভাবকের কর্তব্য হবে, এমন একটি কিন্ডারগার্টেন খুঁজে নেওয়া যেখানে থাকবে সন্ত ান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে তার আশা-আকাংক্ষার বাস্তব প্রতিফলন। যদিও সে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাগত মান সর্বোচ্চ পর্যায়ের বা উঁচু মানের না-ও হয়। এ অবস্থায়ও শিক্ষাগত দিকটাকে প্রতিপালনের বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেয়া উচিত হবে না।
একটি শিশুকে তার এ বয়োঃস্তরে মৌলিক জ্ঞান শিখানো সহজ। কারণ তাকে যা শিক্ষা দেয়া হবে তা-ই সে স্মরণ রাখতে পারবে। আর যখন কোন বিদ্যা উত্তমরূপে শিখানো হবে সেটা তার মনে দৃঢ়ভাবে অঙ্কিত হয়ে থাকবে। বহুকাল অতিক্রম হলেও তা আর সে ভুলতে পারবে না। বিশেষত সে বিষয়টি অন্যটার সঙ্গে পুনরাবৃত্তির সময়। অতএব এ সময় শিশুকে কুরআনুল কারীম পাঠ দানের প্রতি বিশেষভাবে যত্নবান হওয়া উচিত। ছোট সূরাগুলো হেজ করার মাধ্যমে সূচনা করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আধুনিক উপকরণের সাহায্য নেয়া যায়। যেমন: ক্যাসেট ও কম্পিউটার ইত্যাদি ব্যবহারের মাধ্যমে। এ সময় শিশুকে আকীদা-বিশ্বাস, দোয়া ও আদাব বিষয়ক অনতিদীর্ঘ হাদীসগুলোও শিক্ষা দিতে হবে।
সমাজে এমন অনেক পরিবার দেখা যায়, যারা লেখা পড়া অথবা অন্য কোন বিদ্যা শিক্ষা দেওয়ার জন্য শিশুকে একেবারে ছোট্টবয়সে তথাকথিত কিন্ডারগার্টেনে নিয়ে যায়। যদিও এক্ষেত্রে দু-একটা উপকারিতা যে কখনো পরিলক্ষিত হয় না; তা নয়। তবে এখানে ক্ষতির পরিমাণটা এত বড় যে, উপকারিতার সাথে তার কোন তুলনা চলে না। কারণ এতে একটি শিশুকে তার ভিত্তিমূল প্রতিপালন আলয় থেকে টেনে আনা হয়। ফলশ্রুতিতে শিশু একেবারে অল্প বয়সে সাধারত ৩ বছর বয়সে তার স্বভাবজাত প্রকৃতি, মা ও তার স্নে structurally ুলভ পরিচর্যা থেকে দূরে সরে যায়। তখন শিশুর পরিচর্যা নিজ গৃহে পূর্ণ হওয়ার পূর্বে বহিরাগত প্রভাব তার পরিচর্যার ক্ষেত্রে ত্বরান্বিত হয়। ফলশ্রুতিতে কিন্ডারগার্টেনের পরিবেশ এবং গৃহে শিশুর প্রতিপালনের মধ্যে একটা সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি হয়। বিশেষত পাশ্চাত্য শিক্ষার দূষিত বায়ু প্রবাহের পর। যদ্বারা এমন অপসংস্কৃতির সয়লাব ও সামাজিক অবক্ষয়ের প্রসার ঘটে- যা অনেক দিক থেকে বিশেষ করে শিক্ষা কারিকুলামের দিক থেকে আমাদের ইসলামী সমাজের বিরোধী। তবে কখনো বা নেহায়েত প্রয়োজনে পরিস্থিতির শিকার হয়ে একটি পরিবার বাধ্য হয়ে এমনটি করে থাকে। যেমন: মা ঘরের বাইরে চাকুরী করেন। সাংসারিক প্রয়োজন মেটাতে হলে তার এছাড়া অন্য কোন উপায়ও নেই। এহেন পরিস্থিতে অভিভাবকের কর্তব্য হবে, এমন একটি কিন্ডারগার্টেন খুঁজে নেওয়া যেখানে থাকবে সন্ত ান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে তার আশা-আকাংক্ষার বাস্তব প্রতিফলন। যদিও সে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাগত মান সর্বোচ্চ পর্যায়ের বা উঁচু মানের না-ও হয়। এ অবস্থায়ও শিক্ষাগত দিকটাকে প্রতিপালনের বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেয়া উচিত হবে না।