📄 প্রতিপালনের দিকটাই অধিকাংশ সময় এককভাবে প্রতিপাদ্য
এখানে প্রতিপালন ও পরিচর্যা মৌলিকভাবে মা-বাবার ওপর নির্ভরশীল। যেহেতু একটি শিশুর বেড়ে উঠা, আহার্য যোগান, তার জ্ঞান ও অনুভূতির বিকাশ এবং বিভিন্ন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে তার আচার-আচরণ ও পদক্ষেপ সংরক্ষণে তারা উভয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকেন। এ সময় অন্যান্য বয়োঃস্তরের তুলনায় শিশুর প্রতিপালনের ক্ষেত্রে বহিরাগত মানুষের প্রভাব খুবই নগণ্য। কাজেই প্রতিটি মা-বাবার জন্য তাদের সন্তানকে এককভাবে পরিচর্যা ও প্রতিপালনের বিশাল ও পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে এ সময়ে। সুতরাং এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করা তাদের একান্ত কর্তব্য। কারণ সুযোগ বার বার আসে না। এ সময়টা মা- বাবার জন্য সবচেয়ে উপযোগী ও অনুকূল বয়স। কারণ, এখানে তারা নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী বহিরাগত কোন প্রকার ঝামেলা ও কু-প্রভাব অনুপ্রবেশ ব্যতিরেকে আপন সন্তানকে প্রতিপালন করতে পারে অনায়াসে। পক্ষান্তরে এতবড় সুযোগ পেয়েও যদি পিতা-মাতা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য প্রদর্শন করে ও নিজের শিশু-সন্তানের প্রতিপালনের দায়িত্বটা ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, গৃহপরিচারিকা, গাড়ির চালক অথবা চরিত্র বিধ্বংসী প্রচার মাধ্যমের ওপর ছেড়ে দেয়। তাহলে এর অবশ্যম্ভাবী ভয়াবহ পরিণতি সহজেই অনুমেয়।
এখানে প্রতিপালন ও পরিচর্যা মৌলিকভাবে মা-বাবার ওপর নির্ভরশীল। যেহেতু একটি শিশুর বেড়ে উঠা, আহার্য যোগান, তার জ্ঞান ও অনুভূতির বিকাশ এবং বিভিন্ন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে তার আচার-আচরণ ও পদক্ষেপ সংরক্ষণে তারা উভয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকেন। এ সময় অন্যান্য বয়োঃস্তরের তুলনায় শিশুর প্রতিপালনের ক্ষেত্রে বহিরাগত মানুষের প্রভাব খুবই নগণ্য। কাজেই প্রতিটি মা-বাবার জন্য তাদের সন্তানকে এককভাবে পরিচর্যা ও প্রতিপালনের বিশাল ও পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে এ সময়ে। সুতরাং এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করা তাদের একান্ত কর্তব্য। কারণ সুযোগ বার বার আসে না। এ সময়টা মা- বাবার জন্য সবচেয়ে উপযোগী ও অনুকূল বয়স। কারণ, এখানে তারা নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী বহিরাগত কোন প্রকার ঝামেলা ও কু-প্রভাব অনুপ্রবেশ ব্যতিরেকে আপন সন্তানকে প্রতিপালন করতে পারে অনায়াসে। পক্ষান্তরে এতবড় সুযোগ পেয়েও যদি পিতা-মাতা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য প্রদর্শন করে ও নিজের শিশু-সন্তানের প্রতিপালনের দায়িত্বটা ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, গৃহপরিচারিকা, গাড়ির চালক অথবা চরিত্র বিধ্বংসী প্রচার মাধ্যমের ওপর ছেড়ে দেয়। তাহলে এর অবশ্যম্ভাবী ভয়াবহ পরিণতি সহজেই অনুমেয়।
📄 মা-বাবার সঙ্গে শিশুর সম্পর্ক
মা-বাবার সঙ্গে একটি শিশুর নিবিড় সম্পর্ক থাকে। কারণ, তারা হলো সন্তানের নিকট নিরাপদ আশ্রয়, শক্তির উৎস এবং বিশুদ্ধতার প্রতীক। অতএব একটি শিশু কখনো কোন বিপদের আশঙ্কা করলে তার মা- বাবার নিকট আশ্রয় নেয়। সে বিশ্বাস করে, যে কোন কাজ সম্পাদন করার শক্তি ও সামর্থ্য তাদের রয়েছে। তাদের গৃহীত সিদ্ধান্ত, তাদের কথা ও কর্মসমূহ বিশুদ্ধতার মাপকাঠি। সুতরাং মা-বাবার, বিশেষ করে বাবার কখনোই কঠিন মুহূর্তে কোন ভয় কিংবা দুর্বলতা প্রকাশ করা উচিত নয়। যেমনিভাবে কোন পদক্ষেপ গ্রহণে তার বিস্ময় ও ইতস্ততা করা উচিত নয়। কারণ, এগুলো শিশুর ব্যক্তিত্বে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এ পর্যায়ে মা-বাবা তাদের ইচ্ছানুযায়ী একটি শিশুকে সুন্দর আচার-ব্যবহারে সুশোভিত করে গড়ে তুলতে প্রয়াস পাবেন। বাসস্থান, বস্ত্র ও পানাহরের প্রাচুর্য্য অথবা হৃদয়, আত্মা ও বুদ্ধিকে উপেক্ষা করে শুধু স্বাস্থ্য, শরীর ও পরিচ্ছন্নতার মধ্যে তাদের তৎপরতা সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। কারণ, পর্যাপ্ত পানীয় ও আহার্য যোগানের দায়িত্ব সংক্ষিপ্তভাবে সমস্ত সৃষ্টিই করে থাকে। সমগ্র সৃষ্টিকুলের ওপর মানবজাতির স্বাতন্ত্র ও অনন্য বৈশিষ্ট্য প্রতিষ্ঠিত।
টিকাঃ
১৯ উসুলুত-তারবিয়াহ-৬৫
মা-বাবার সঙ্গে একটি শিশুর নিবিড় সম্পর্ক থাকে। কারণ, তারা হলো সন্তানের নিকট নিরাপদ আশ্রয়, শক্তির উৎস এবং বিশুদ্ধতার প্রতীক। অতএব একটি শিশু কখনো কোন বিপদের আশঙ্কা করলে তার মা- বাবার নিকট আশ্রয় নেয়। সে বিশ্বাস করে, যে কোন কাজ সম্পাদন করার শক্তি ও সামর্থ্য তাদের রয়েছে। তাদের গৃহীত সিদ্ধান্ত, তাদের কথা ও কর্মসমূহ বিশুদ্ধতার মাপকাঠি। সুতরাং মা-বাবার, বিশেষ করে বাবার কখনোই কঠিন মুহূর্তে কোন ভয় কিংবা দুর্বলতা প্রকাশ করা উচিত নয়। যেমনিভাবে কোন পদক্ষেপ গ্রহণে তার বিস্ময় ও ইতস্ততা করা উচিত নয়। কারণ, এগুলো শিশুর ব্যক্তিত্বে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এ পর্যায়ে মা-বাবা তাদের ইচ্ছানুযায়ী একটি শিশুকে সুন্দর আচার-ব্যবহারে সুশোভিত করে গড়ে তুলতে প্রয়াস পাবেন। বাসস্থান, বস্ত্র ও পানাহরের প্রাচুর্য্য অথবা হৃদয়, আত্মা ও বুদ্ধিকে উপেক্ষা করে শুধু স্বাস্থ্য, শরীর ও পরিচ্ছন্নতার মধ্যে তাদের তৎপরতা সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। কারণ, পর্যাপ্ত পানীয় ও আহার্য যোগানের দায়িত্ব সংক্ষিপ্তভাবে সমস্ত সৃষ্টিই করে থাকে। সমগ্র সৃষ্টিকুলের ওপর মানবজাতির স্বাতন্ত্র ও অনন্য বৈশিষ্ট্য প্রতিষ্ঠিত।
টিকাঃ
১৯ উসুলুত-তারবিয়াহ-৬৫
📄 আনুগত্য ও অনুসরণ
একটি শিশু তার বয়সের এ স্তরে এসে মা-বাবার আনুগত্যের দিকে ঝুঁকে পড়ে সবচেয়ে বেশি। তবে প্রত্যেকেই তার লিঙ্গ ও জাতের আনুকূল্য বজায় রাখে। সুতরাং স্বভাবত ছেলেকে তার বাবার ও মেয়েকে তার মায়ের আনুগত্য করতে দেখা যায়। প্রকৃতপক্ষে এই বয়সে একটি শিশু-সন্তানের জন্যে তার মা- বাবার সঙ্গে গভীর সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এ বিষয়ে গভীর মনোযোগ প্রদান শিশুর প্রতিপালন ও তার নিরাপত্তা বিধানে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
ভালো কাজ- যার পেছনে কোন বিপদাশঙ্কা নেই তাতে আনুগত্য করায় শিশুর প্রতি কোন নিষেধাজ্ঞাও নেই। এমন কি শিশু নিজে সেটাকে ভালো মনে না করলেও। একটি অবুঝ শিশু যখন তার মাকে ঘরের মধ্যে নামাজ পড়তে দেখে, তখন সে তার অনুকরণ করেতে চেষ্টা করে। এ ক্ষেত্রে তাকে বারণ করা অনুচিত, যদিও এতে তার নামাজের একাগ্রতা বিঘ্নিত হয়ে থাকে অথবা সে এমন কিছু করে ফেলে যা উচিত নয়। বস্তুতঃ এসব করতে ছেড়ে দেয়াই তাকে নামাজে অভ্যস্ত করার অন্যতম উপায়। উপরন্তু সম্ভব হলে তার জন্য একটি ছোট্ট জায়নামাজের ব্যবস্থা করা উত্তম। যাতে নামাজের সময় হলে সে তার মায়ের সঙ্গে নামাজ পড়তে ও নামাজে তার অনুকরণ করতে প্রাণিত হয়।
এমনিভাবে মা-বাবা বা যে কোন একজনের পক্ষ থেকেও মন্দ কাজ অথবা নিন্দিত আচরণ শিশুর সম্মুখে প্রকাশ পাওয়া উচিত নয়। মা-বাবা যে কোন একজনের যদি এ জাতীয় কর্মের অভ্যাস থেকে থাকে। যেমন: ধূমপান করা, তাহলে তাৎক্ষণিক আল্লাহ তা'আলার নিকট তওবা করা এবং কোন অবস্থাতেই যেন শিশুটি তার এ কাজ দেখতে না পায় সে ব্যবস্থা করা কর্তব্য। যেমন: বিপদজনক কার্যসমূহ; যদিও তা কোন ত্রুটিযুক্ত বা নিষিদ্ধ কাজ নয়, তদুপরি তা একটি শিশুর সম্মুখে করা অনুচিত। কারণ মা-বাবা ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর নির্জনে সে তাদের অনুসরণ করার চেষ্টা করে থাকে। অথচ সে তো এই মুহূর্তেই তার নিরাপদ ব্যবহার-বিধি উত্তমরূপে জেনে নিতে সক্ষম হয়নি। যথা- চুলা ধরানো। পক্ষান্তরে নান্দনিক ও উত্তম আচরণসমূহ শিশুর সম্মুখে বেশি বেশি প্রকাশ করা দরকার। যথা- মা-বাবাকে সম্মান করা, মানবিক প্রয়োজনে যে স্থানটা অপরিচ্ছন্ন হয়ে যায় তা পরিষ্কার করা, গৃহস্থালীর মালামাল পরিষ্কার করা অথবা তার নির্দ্ধারিত স্থানে সেটা রেখে দেওয়া, খাবার গ্রহণের পূর্বে ময়লাযুক্ত হাত পরিষ্কার করা কিংবা খাবারের পূর্বে বিসমিল্লাহ এবং খাবারের শেষে আলহামদু লিল্লাহ পাঠ করা ইত্যাদি।
শিশুর এ বয়োঃস্তরে ভাষাগত দিক থেকে শিশুর বিকাশ সাধনে অভিভাবকের যত্নবান হওয়া উচিত। যা আকর্ষণীয় ঘটনাবলী ও উদ্দীপক গল্পসম্ভার হলেও হতে পারে। যেগুলো একটি শিশু পরম আগ্রহভরে চুপ করে শুনতে থাকে। অতঃপর আশা করা যেতে পারে; অভিভাবক যে ভূমিকাটা পালন করলেন শিশু নিজেও সে দায়িত্বটা পালন করবে এবং তা মনোযোগ সহকারে শুনবে। এভাবে কথা বলার ধারাবাহিকতায় ক্রমান্বয়ে সে অগ্রসর হতে থাকবে।
এ সময় শিশুকে 'করো' এবং 'করিও না' কিংবা আদেশ-নিষেধের পদ্ধতির ওপর তৃপ্ত না থেকে বরং 'নিজেই আদর্শ' এই পদ্ধতিতে শিশু প্রতিপালন করা অধিকতর শ্রেয়। কারণ মডেল বা আদর্শ তার মননে দৃঢ়ভাবে বদ্ধমূল হয়ে থাকে। বাধ্য-বাধকতা ও বিধি-বিধান -যা একটু কষ্টসাধ্য মনে করলে ছেড়ে দেবে- আরোপের চেয়ে অনুকরণের ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর।
আমরা অনেক সময় লক্ষ করি, কন্যা শিশু মাকে দেখে তার অনুকরণ করতে অভ্যস্ত। মা খাবারের পর রান্নাঘরে থালা-বাসন পরিষ্কার করতে ব্যস্ত; তখন দেখি শিশুটিও অনাহুত ভাবেই রান্নাঘরে গিয়ে থালা-বাসন ধৌত করতে উদ্যত হয়।
উল্লেখ্য যে, শিশুর অনুসরণের একটি নেতিবাচক ও বিপদজনক দিকও আছে। বিশেষত শিশু টেলিভিশনের পর্দায় যা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে তার অনুশীলনের দিকে সে ঝুঁকে পড়ে।
শিশুদের জন্য নির্মিত বাজে ফিল্ম দেখলে তখন বিপদটা প্রকট হয়ে উঠে। যেখানে সে দেখতে পায় মানুষ বাতাসে উড়ছে। তখন এটার অনুশীলন করতে গিয়ে تو নিজেকে নির্ঘাত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে। এমনিভাবে কোন কোন দৃশ্যের ভয়াবহতা, নারী-পুরুষ সম্পর্কের কু-রুচিপূর্ণ ও অবাঞ্চিত আচরণ তো রয়েছেই। যা দেখে সে তার সমবয়সী বোনের সঙ্গে বা ভাইয়ের সাথে অনুরূপ আচরণ করতে প্রয়াস পাবে। অথচ এর ধ্বংসাত্মক পরিণতি সম্পর্কে সে কিছুই জানে না। সুতরাং এ ক্ষেত্রে একজন অভিভাবকের পূর্ব থেকেই খুব সতর্ক থাকতে হবে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য অবসর কিংবা কিছুটা সময় বিশ্রামের প্রতি তাকে উৎসাহিত করতে হবে। সাথে সাথে টিভির পর্দায় দৃশ্যমান অনুষ্ঠানমালা দেখার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণও গ্রহণ করতে হবে। এ আশায় যে, এক পর্যায় এর প্রতি নিরুৎসাহিত হয়ে টিভি দেখার প্রতি আকর্ষণ শেষ হয়ে যাবে।
একটি শিশু তার বয়সের এ স্তরে এসে মা-বাবার আনুগত্যের দিকে ঝুঁকে পড়ে সবচেয়ে বেশি। তবে প্রত্যেকেই তার লিঙ্গ ও জাতের আনুকূল্য বজায় রাখে। সুতরাং স্বভাবত ছেলেকে তার বাবার ও মেয়েকে তার মায়ের আনুগত্য করতে দেখা যায়। প্রকৃতপক্ষে এই বয়সে একটি শিশু-সন্তানের জন্যে তার মা- বাবার সঙ্গে গভীর সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এ বিষয়ে গভীর মনোযোগ প্রদান শিশুর প্রতিপালন ও তার নিরাপত্তা বিধানে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
ভালো কাজ- যার পেছনে কোন বিপদাশঙ্কা নেই তাতে আনুগত্য করায় শিশুর প্রতি কোন নিষেধাজ্ঞাও নেই। এমন কি শিশু নিজে সেটাকে ভালো মনে না করলেও। একটি অবুঝ শিশু যখন তার মাকে ঘরের মধ্যে নামাজ পড়তে দেখে, তখন সে তার অনুকরণ করেতে চেষ্টা করে। এ ক্ষেত্রে তাকে বারণ করা অনুচিত, যদিও এতে তার নামাজের একাগ্রতা বিঘ্নিত হয়ে থাকে অথবা সে এমন কিছু করে ফেলে যা উচিত নয়। বস্তুতঃ এসব করতে ছেড়ে দেয়াই তাকে নামাজে অভ্যস্ত করার অন্যতম উপায়। উপরন্তু সম্ভব হলে তার জন্য একটি ছোট্ট জায়নামাজের ব্যবস্থা করা উত্তম। যাতে নামাজের সময় হলে সে তার মায়ের সঙ্গে নামাজ পড়তে ও নামাজে তার অনুকরণ করতে প্রাণিত হয়।
এমনিভাবে মা-বাবা বা যে কোন একজনের পক্ষ থেকেও মন্দ কাজ অথবা নিন্দিত আচরণ শিশুর সম্মুখে প্রকাশ পাওয়া উচিত নয়। মা-বাবা যে কোন একজনের যদি এ জাতীয় কর্মের অভ্যাস থেকে থাকে। যেমন: ধূমপান করা, তাহলে তাৎক্ষণিক আল্লাহ তা'আলার নিকট তওবা করা এবং কোন অবস্থাতেই যেন শিশুটি তার এ কাজ দেখতে না পায় সে ব্যবস্থা করা কর্তব্য। যেমন: বিপদজনক কার্যসমূহ; যদিও তা কোন ত্রুটিযুক্ত বা নিষিদ্ধ কাজ নয়, তদুপরি তা একটি শিশুর সম্মুখে করা অনুচিত। কারণ মা-বাবা ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর নির্জনে সে তাদের অনুসরণ করার চেষ্টা করে থাকে। অথচ সে তো এই মুহূর্তেই তার নিরাপদ ব্যবহার-বিধি উত্তমরূপে জেনে নিতে সক্ষম হয়নি। যথা- চুলা ধরানো। পক্ষান্তরে নান্দনিক ও উত্তম আচরণসমূহ শিশুর সম্মুখে বেশি বেশি প্রকাশ করা দরকার। যথা- মা-বাবাকে সম্মান করা, মানবিক প্রয়োজনে যে স্থানটা অপরিচ্ছন্ন হয়ে যায় তা পরিষ্কার করা, গৃহস্থালীর মালামাল পরিষ্কার করা অথবা তার নির্দ্ধারিত স্থানে সেটা রেখে দেওয়া, খাবার গ্রহণের পূর্বে ময়লাযুক্ত হাত পরিষ্কার করা কিংবা খাবারের পূর্বে বিসমিল্লাহ এবং খাবারের শেষে আলহামদু লিল্লাহ পাঠ করা ইত্যাদি।
শিশুর এ বয়োঃস্তরে ভাষাগত দিক থেকে শিশুর বিকাশ সাধনে অভিভাবকের যত্নবান হওয়া উচিত। যা আকর্ষণীয় ঘটনাবলী ও উদ্দীপক গল্পসম্ভার হলেও হতে পারে। যেগুলো একটি শিশু পরম আগ্রহভরে চুপ করে শুনতে থাকে। অতঃপর আশা করা যেতে পারে; অভিভাবক যে ভূমিকাটা পালন করলেন শিশু নিজেও সে দায়িত্বটা পালন করবে এবং তা মনোযোগ সহকারে শুনবে। এভাবে কথা বলার ধারাবাহিকতায় ক্রমান্বয়ে সে অগ্রসর হতে থাকবে।
এ সময় শিশুকে 'করো' এবং 'করিও না' কিংবা আদেশ-নিষেধের পদ্ধতির ওপর তৃপ্ত না থেকে বরং 'নিজেই আদর্শ' এই পদ্ধতিতে শিশু প্রতিপালন করা অধিকতর শ্রেয়। কারণ মডেল বা আদর্শ তার মননে দৃঢ়ভাবে বদ্ধমূল হয়ে থাকে। বাধ্য-বাধকতা ও বিধি-বিধান -যা একটু কষ্টসাধ্য মনে করলে ছেড়ে দেবে- আরোপের চেয়ে অনুকরণের ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর।
আমরা অনেক সময় লক্ষ করি, কন্যা শিশু মাকে দেখে তার অনুকরণ করতে অভ্যস্ত। মা খাবারের পর রান্নাঘরে থালা-বাসন পরিষ্কার করতে ব্যস্ত; তখন দেখি শিশুটিও অনাহুত ভাবেই রান্নাঘরে গিয়ে থালা-বাসন ধৌত করতে উদ্যত হয়।
উল্লেখ্য যে, শিশুর অনুসরণের একটি নেতিবাচক ও বিপদজনক দিকও আছে। বিশেষত শিশু টেলিভিশনের পর্দায় যা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে তার অনুশীলনের দিকে সে ঝুঁকে পড়ে।
শিশুদের জন্য নির্মিত বাজে ফিল্ম দেখলে তখন বিপদটা প্রকট হয়ে উঠে। যেখানে সে দেখতে পায় মানুষ বাতাসে উড়ছে। তখন এটার অনুশীলন করতে গিয়ে تو নিজেকে নির্ঘাত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে। এমনিভাবে কোন কোন দৃশ্যের ভয়াবহতা, নারী-পুরুষ সম্পর্কের কু-রুচিপূর্ণ ও অবাঞ্চিত আচরণ তো রয়েছেই। যা দেখে সে তার সমবয়সী বোনের সঙ্গে বা ভাইয়ের সাথে অনুরূপ আচরণ করতে প্রয়াস পাবে। অথচ এর ধ্বংসাত্মক পরিণতি সম্পর্কে সে কিছুই জানে না। সুতরাং এ ক্ষেত্রে একজন অভিভাবকের পূর্ব থেকেই খুব সতর্ক থাকতে হবে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য অবসর কিংবা কিছুটা সময় বিশ্রামের প্রতি তাকে উৎসাহিত করতে হবে। সাথে সাথে টিভির পর্দায় দৃশ্যমান অনুষ্ঠানমালা দেখার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণও গ্রহণ করতে হবে। এ আশায় যে, এক পর্যায় এর প্রতি নিরুৎসাহিত হয়ে টিভি দেখার প্রতি আকর্ষণ শেষ হয়ে যাবে।
📄 অনুধাবনযোগ্য বিষয়ের ওপর নির্ভরশীলতা
একটি শিশু এ বয়সে শুধুমাত্র বাস্তব এবং উপলব্ধিযোগ্য বস্তুর ওপর বেশি নির্ভর করে থাকে। নিছক কথামালা এবং পরোক্ষ ও অদৃশ্য বিষয়ে কোন আগ্রহ সে দেখাতে চায় না। যেহেতু পরোক্ষ বিষয়ে ইতিপূর্বে তার স্মৃতিতে কোন বাস্তব নমুনা অথবা তদসংশ্লিষ্ট কোন কার্যকর অভিজ্ঞতা তার নেই। সুতরাং একটি শিশুর এই বয়োঃস্তরে যদি তার অভিভাবক বলে, 'আমি তোমাকে ভালোবাসি' তাহলে এটা তার কাছে কোন অর্থবহ বিষয় হবে না। যতক্ষণ না সে তাকে নিজের বুকে টানবে, কোলে নিবে, চুমো খাবে ও তার পছন্দসই কোন কিছু তাকে দিবে অথবা কোন আবদার করলে সেটা পূরণ করবে। তখন সে পূর্বাপেক্ষা অধিক তীব্রভাবে অনুভব করবে যে, সত্যিকার অর্থেই তার অভিভাবক তাকে ভালোবাসে।
কখনোবা একটি শিশু আগুনের লেলিহান শিখা অবলোকন করে আগুনের রং ও প্রজ্জ্বলন ক্ষমতা দেখে বিস্মিত হয়ে যায়। আগুন স্পর্শ করার ভয়াবহ পরিণাম ও ক্ষতির ব্যপারে আলোচনা করলে সে কথায় সে কর্ণপাত করে না অথবা তার বোধগম্য হয় না। যতক্ষণ না সে নিজের হাতে তা স্পর্শ করে নেয় ও আগুনের তাপ আস্বাদন করে। অতঃপর তার এমন অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়ে যাবে যা বলে দিবে এরপর আগুনের সঙ্গে তার কিরূপ আচরণ করতে হবে।
একটি শিশু এ বয়সে শুধুমাত্র বাস্তব এবং উপলব্ধিযোগ্য বস্তুর ওপর বেশি নির্ভর করে থাকে। নিছক কথামালা এবং পরোক্ষ ও অদৃশ্য বিষয়ে কোন আগ্রহ সে দেখাতে চায় না। যেহেতু পরোক্ষ বিষয়ে ইতিপূর্বে তার স্মৃতিতে কোন বাস্তব নমুনা অথবা তদসংশ্লিষ্ট কোন কার্যকর অভিজ্ঞতা তার নেই। সুতরাং একটি শিশুর এই বয়োঃস্তরে যদি তার অভিভাবক বলে, 'আমি তোমাকে ভালোবাসি' তাহলে এটা তার কাছে কোন অর্থবহ বিষয় হবে না। যতক্ষণ না সে তাকে নিজের বুকে টানবে, কোলে নিবে, চুমো খাবে ও তার পছন্দসই কোন কিছু তাকে দিবে অথবা কোন আবদার করলে সেটা পূরণ করবে। তখন সে পূর্বাপেক্ষা অধিক তীব্রভাবে অনুভব করবে যে, সত্যিকার অর্থেই তার অভিভাবক তাকে ভালোবাসে।
কখনোবা একটি শিশু আগুনের লেলিহান শিখা অবলোকন করে আগুনের রং ও প্রজ্জ্বলন ক্ষমতা দেখে বিস্মিত হয়ে যায়। আগুন স্পর্শ করার ভয়াবহ পরিণাম ও ক্ষতির ব্যপারে আলোচনা করলে সে কথায় সে কর্ণপাত করে না অথবা তার বোধগম্য হয় না। যতক্ষণ না সে নিজের হাতে তা স্পর্শ করে নেয় ও আগুনের তাপ আস্বাদন করে। অতঃপর তার এমন অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়ে যাবে যা বলে দিবে এরপর আগুনের সঙ্গে তার কিরূপ আচরণ করতে হবে।