📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 প্রতিপালনের সার্বজনীন উদ্দেশ্য

📄 প্রতিপালনের সার্বজনীন উদ্দেশ্য


প্রতিপালনের সার্বজনীন উদ্দেশ্য: গোত্র ও জাতিসমূহ থেকে কতিপয় মানব ইউনিট নিয়ে গঠিত হয় একটি সমাজ। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন -
وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا (الحجرات -13)
'এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হও!'
এই একতা বিনির্মাণের ক্ষুত্রতম ও সর্বপ্রথম শৃংখলাবদ্ধ ইউনিট হলো 'পরিবার'। যা মা-বাবা, ছেলে-মেয়ে তথা সন্তান-সন্ততি নিয়ে গঠিত। এটা এমন ব্যক্তিগোষ্টির সমষ্টি যাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় ও অটুট বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই ব্যক্তিসমূহের তথা একটি পরিবারের উৎকৃষ্ট ও উত্তম পরিচর্যার মাধ্যমে সমাজের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। সমাজের সভ্যতা-সংস্কৃতি অনুধাবন করতে সক্ষম ব্যক্তিকে সমাজের একটি যোগ্য অঙ্গ হিসেবে প্রস্তুত করতে হবে। এখান থেকে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে, সভ্যতা-সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হয়ে যে হবে সমাজের জন্য আদর্শ।
বাস্তব কর্ম, চিন্তা ও গবেষণায় ভারসাম্য আনয়নের মাধ্যমে সমাজ উন্নয়নে থাকবে সদা নিবেদিতপ্রাণ। এটাই হলো সার্বজনীন তরবিয়তের এর মূল লক্ষ্য।
ইসলামী সমাজের জন্য সার্বজনীন তরবিয়ত এর লক্ষ্য হল ব্যক্তিকে প্রস্তুত করতে হবে ইসলামী সুউচ্চ ইমারতের একটি ইট হিসেবে- যিনি ইসলামের হাকিকত সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ও তার বাস্তব অনুশীলন, সমাজ উন্নয়ন ও অগ্রগতি এবং বিশ্ববাসীর কাছে আল্লাহর দীন পৌঁছানোর ব্রতে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করবেন। যাতে আল্লাহ প্রদত্ত সকল যোগ্যতা ও সর্বশক্তি ব্যয় করে তাকে সৃষ্টির উদ্দেশ্য সে বাস্তবায়িত করতে পারে।

📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 বিশুদ্ধ প্রতিপালনের দাবী

📄 বিশুদ্ধ প্রতিপালনের দাবী


বিশুদ্ধ প্রতিপালনের দাবী:
তরবিয়ত একটি চারিত্রিক কর্মতৎপরতা, শিষ্টাচারগত বাধ্যকতা ও দায়িত্ব। যা আদায় করবেন শিশুর পিতা বা অভিভাবক। অথবা তাদের নিযুক্ত কোন প্রতিনিধি। প্রয়োজন হলে সকলে মিলে পালন করতে পারেন শিশু পরিচর্যার এ মহান দায়িত্ব।
বয়োঃপ্রাপ্তি পর্যন্ত সন্তানের লালন-পালন, তাদের যত্ন ও পরিচর্যা, শিষ্টাচার শিক্ষাদানের দায়িত্ব স্বাভবিকভাবে মা-বাবা ও অভিভাবকদের ওপর বর্তায়। এ মর্মে শরিয়তের সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا ( التحريم (6)
'তোমরা নিজেদের এবং আপন পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা কর!.
সাহাবী কাতাদাহ রা. বলেন, 'অভিভাবক তাদের রক্ষা করবে, তাদেরকে আল্লাহর আনুগত্যের নির্দেশ করবে, তার নাফরমানী থেকে নিবৃত করবে এবং আল্লাহর নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব নিবে, আল্লাহর আদেশ পালনের নির্দেশ প্রদান ও তাতে সহযোগিতা করবে। যখনই আল্লাহর কোন নাফরমানী গোচরে আসবে তাদেরকে তা হতে ফিরিয়ে রাখবে।
ইবনে কাসির রহ. বলেন, 'তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ কর, অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখ আর তাদেরকে অযথা কাজে ছেড়ে দিও না। তাহলে কিয়ামত দিবসে অগ্নি তাদেরকে গ্রাস করে ফেলবে।' অন্য এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন -
كلكم راع وكلكم مسئول عن رعيته
'তোমরা প্রত্যেকেই একজন দায়িত্বশীল অভিভাবক এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহী করতে হবে।'
এ হাদীসের দাবী মতে- 'একজন ব্যক্তি হবে তার পরিবারে দায়িত্বশীল কর্তা ও তাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এমনিভাবে একজন মহিলা তার স্বামীর গৃহে দায়িত্বশীলা গৃহিণী এবং তাঁকেও নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অতএব প্রত্যেকেই এক একজন দায়িত্বশীল এবং তোমাদের সকলকেই নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।'
অন্যত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
علمو الصبي الصلاة ابن سبع سنين واضربوا عليها ابن عشر
'সন্তানের বয়স সাত বছর হলে নামাজ শিক্ষা দাও! ও বয়স দশ বছর হলে নামাজের জন্য তাকে প্রহার কর।'
এখানে নির্দেশমূলক পদবাচ্যটি আবশ্যিক অর্থে ব্যবহৃত। এ প্রসঙ্গে কুরআন ও হাদীসের আরো অনেক উদ্ধৃতি রয়েছে। সংক্ষিপ্ত করার প্রয়োজনে এখানে তা পরিহার করা হল।
সারকথা হলো, তরবিয়ত একজন মানুষকে ধর্মীয় জ্ঞান ও তদানুযায়ী আমলে সমৃদ্ধ করত তাকে বেঁধে রাখে ধর্মের আদেশ-নিষেধের সঙ্গে। সাথে সাথে জাগতিক জীবনে নিজ কর্তব্য পালনে তাকে যোগ্য ও সচেতন করে তোলে। যাতে সে কারো মুখাপেক্ষী বা অন্যের ওপর বোঝা হয়ে না থাকতে পারে। আর একটি শিশুকে (সন্তান) এভাবে গড়ে তোলার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটা হলো অভিভাবকের।

টিকাঃ
১২-আত্-তাহরীম-৬
১৩ তাফসীরে ইবনে যারীর-১৫৩/১২
১৪ তাফসীরে ইবনে কাছির-১৬৯/৩
১৫ মুত্তাফাক্ব আলাইহ্, বুখারী-৮৪৪, মুসলিম-৩৪০৮
১৬ মুত্তাফকু আলাইহি
১৭ সহিহ ইবনে খুজাইমাহ ১ মুসরিম শিশু সংস্কৃতি-৫৭-৬৩

📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 প্রতিপালন বিষয়ক সহায়ক গ্রন্থসমূহ

📄 প্রতিপালন বিষয়ক সহায়ক গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থপঞ্জি

১- আহমামূল কোরআন- আবু বকর আল-জাস্সাস
২- আত্ তাহরীর ওয়াত্ তানভীর- তাহের বিন আশুর
৩- তাফসীরে ইবনে কাছীর- হাফেজ ইবনে কাছীর
৪- তাফসীরে ইবনে সাউ'দ- ইবনে সাউ'দ
৫- তাফসীরে বাগভী- বাগভী
৬- তাফসীরে বায়দাভী- বায়দাভী
৭- তাফসীরে কুরতুবী- ইমাম কুরতুবী
৮- জামেউ'ল বয়ান- ইমাম তাবারী
৯- সহিহ আল-বুখারী- ইমাম মুহম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী
১০- সহিহ মুসলিম- ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জায আন্-নিশাপুরী
১১- ফাতহুল বারী- ইবনে হাজার
১২- উমদাতুল কারী- বদরুদ্দীন আইনী
১৩- সুনানে আবি দাউদ- আবু দাউদ
১৪- সুনানে তিরমিযি- ইমাম তিরমিযি
১৫- আল-মুসনাদ- ইমাম আহমদ
১৬- সহিহ ইবনে খুযাইমা- ইবনে খুযাইমা
১৭- সহিহ ইবনে হিব্বান- ইবনে হিব্বান
১৮- সুনানে বায়হাক্বী- বায়হাক্বী
১৯- আল-মুস্তাদরেক- আল-হাকেম
২০- আল-মু'জামূল কবীর- তাবরানী
২১- আল-মুসান্নাফ- আব্দুর রাজ্জাক সানআনী
২২- মুসনাদুশ্ শামিয়‍্যীন- আবুল কাসেম তাবারানী
২৩- মুসনাদে আবি ইয়া'লা- আবু ইয়া'লা
২৪- মুসান্নাফে আবি শাইবা- আবু শাইবা
২৫- শারহে মাআ'নিল আছার- ইমাম তাহাবী
২৬- তাহজিবুল কামাল- হাফেজ মুযাই
২৭- আউনুল মা'বুদ শারহে সুনানে আবি দাউদ- শামসুল হক আজীমাবাদী
২৮- আল-মুহায্যাআব-শিরাজী
২৯- তুহফাতুল মাওদুদ ফি আহকামিল মাওলুদ- ইবনে কাইয়াম যাওজিয়া
৩০- আত্ তাম্হীদ- ইবনে আব্দুল বার
৩১- এহয়ায়ে উলুমুদ্দীন- আবু হামেদ গাযালী
৩২- লিসানুল আরব- ইবনে মানযুর
৩৩- ইলমু নাফসিল মারাহিলিল উমরিয়‍্যাহ- আ. ড. উমার বিন আঃ রহমান মুফদা
৩৪- ইলমু নাফসিন নামুব্বি আত-তাফুলাতি ওয়াল মুরাহিক্বাহ- ড. হিশাম মুহম্মদ মুখাইমার
৩৫- আল-মুরাহিকুন দিরাসা নাফসিয়্যা ইসলামিয়া- ড. আব্দুল আযীয বিন মুহম্মদ নুগাইমিশী

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00