📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 প্রতিপালনের স্তরবিন্যাস

📄 প্রতিপালনের স্তরবিন্যাস


প্রতিপালনের স্তর বিন্যাস
পার্থিব জীবনে মানুষের বয়োঃস্তর দু'টো বিস্তৃত অধ্যায়ে বিভক্ত।
প্রথমত, অদৃশ্য ও স্বভাবজাত স্তর তা হচ্ছে- মাতৃগর্ভে অবস্থানকালীন স্তর- শুক্রবিন্দু থেকে জমাটবাঁধা রক্ত, সেখান থেকে মাংসপিণ্ড অতঃপর অস্থিমজ্জা এবং তা গোস্ত দ্বারা আবৃত করণ, অত:পর একটি পূর্ণাঙ্গ ভ্রুণ এবং তার জন্ম গ্রহণ।
দ্বিতীয়ত, দৃশ্যমান স্তর তা হলো জন্ম গ্রহণের পরের স্তর। এটাকেও আবার বড় দু'টি স্তরে বিভক্ত করা সম্ভব।
ক- শৈশব স্তর: জন্ম থেকে বয়োপ্রাপ্তির পূর্ব পর্যন্ত সময়।
খ- বয়োপ্রাপ্তি স্তর: যার সূচনা বয়সের পূর্ণতা প্রাপ্তি থেকে, এবং সমাপ্তি ঘটে মানব মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। যাতে সে পারলৌকিক জীবনের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে পারে, কবর যার প্রথম মনযিল।
শৈশব এবং বয়োপ্রাপ্তি এ দু'স্তরের মধ্যে আরো একটি প্রকরণ লক্ষ করা যায়। মূল কথা একজন মানুষের পরকালের দিকের এই দীর্ঘ ভ্রমণে তাকে এক স্তর থেকে অন্য স্তরে উপনীত হতে হয়। এবং প্রত্যেকটি স্ত রেই তাকে বিশেষ প্রস্তুতি ও পরিচর্যার মুখোমুখী হতে হয়। সে কারণেই মানব বয়সের অগ্রগতির ধারা প্রবাহের সঙ্গে প্রতিপালন ও পরিচর্যার স্তর বিন্যাস ওৎপ্রোতভাবে জড়িত।
শৈশব স্তরেরই অন্ত স্তরকে আরো সুস্পষ্টভাবে আলোচনা করা নেহায়েত প্রয়োজন। যেহেতু র্ভুক্ত এমন আরো দু'টি স্তর রয়েছে যার একটি অন্যটি থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত। যে দু'টি স্তরের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে শরিয়তের অসংখ্য বিধান। আর এ জন্যেই শিশু পরিচর্যার স্তর বিন্যাসের মূল আলোচনা তিন ভাগে বিভক্ত।
ক- ভালোমন্দ পার্থক্য নির্ণয়-অযোগ্য শৈশবকাল: এটা সাধারণত জন্মের পর থেকে সাত বছর পূর্ণ হওয়া বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত।
খ- ভালোমন্দ পার্থক্য নির্ণয়যোগ্য শৈশবকাল: এটা সাধারণত সাত বছর থেকে বয়োপ্রাপ্তি অথবা পনের বছরের পূর্ব পর্যন্ত। প্রকাশ থাকে যে, উল্লেখিত প্রথম এবং মধ্যম স্তরও এই স্তরেরই অন্তর্ভুক্ত।
গ- বয়সের পূর্ণতাপ্রাপ্তি কাল সেটা হল পুরুষ বা নারীত্বের চিহ্নসমূহ প্রকাশ ও শরিয়তের আদেশ ও নিষেধ বাধ্যতামূলক হওয়ার স্তর। এর সূচনা হয় বয়োপ্রাপ্তি হওয়ার জ্ঞাত নিদর্শনসমূহ প্রকাশ অথবা পনের বছরে উপনীত হওয়ার পর।
এ বয়স উচ্চ-মাধ্যমিক স্তরের বিপরীত। আলোচ্য প্রকারটি কুরআনে কারীমের আয়াত দ্বারা প্রমাণিত। যেখানে ভালোমন্দ নির্ণয় করতে পারে না এমন শৈশবকেই বুঝানো হয়েছে।
أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَى عَوْرَاتِ النِّسَاء . ( النور -31)
'সেই বালক, যারা নারীদের গোপনাঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ....।' আয়াতখানা অবতীর্ণ হয়েছে মহিলাদের সৌন্দর্য্য অবলোকন ও প্রবেশাধিকার যাদের জন্য স্বীকৃত তাদের সম্পর্কে।
ইবনে কাসির রহ. বলেন, 'তারা নেহায়েত ছোট বলে মহিলাদের অবস্থা, তাদের গোপনাঙ্গ, কোমল বাক্যালাপ, মৃদু পদচালনা এবং মেয়েলী আচার-আচরণ কিছুই বুঝতে পারে না। একটি শিশু খুব ছোট হওয়ার দরশ যেহেতু কিছুই অনুভব করতে পারে না তাই মহিলাদের নিকট প্রবেশ করতে তার কোন বাধা নেই। পক্ষান্তরে সে যখন সাবালক বা এর নিকটবর্তী বয়সে উপণীত হবে, মহিলাদের মেয়ে-সূলভ আচার-আচরণ বুঝতে ও অনুভব করতে এবং সুন্দরী ও অসুন্দরির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে শিখবে তখন কোন অবস্থাতেই মহিলাদের নিকট তার প্রবেশাধিকার গ্রহণযোগ্য নয়।
ইমাম বগভী রহ. মুজাহিদ রহ. এর উদ্ধৃতি দিয়ে এ আয়াতের ব্যাখ্যা এভাবে করেন- 'ছোট হওয়ার দরুণ অন্যের গোপনীয় অঙ্গ সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল নয়।'
আবু বকর আল-জাস্সাস রহ. বলেন, 'মুজাহিদ রহ. এর বক্তব্য একেবারে সুস্পষ্ট। যেহেতু আয়াতের অর্থই হচ্ছে- তারা অতিশয় ছোট্ট হওয়া ও জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে মেয়েলী আচরণ ও নারী-পুরুষের গোপনাঙ্গের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে না। তবে যে সব শিশু মেয়েদের গোপনাঙ্গ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল তাদেরকে মহিলাদের নিকট প্রবেশের ক্ষেত্রে তিন সময় অনুমতি গ্রহণ আল্লাহ তাআলা বিধি- বদ্ধ করে দিয়েছেন।
ইরশাদ হচ্ছে-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِيَسْتَأْذِنْكُمُ الَّذِينَ مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ وَالَّذِينَ لَمْ يَبْلُغُوا الْحُلُمَ مِنْكُمْ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ مِنْ قَبْلِ صَلَاةِ الْفَجْرِ وَحِينَ تَضَعُونَ ثِيَابَكُمْ مِنَ الظَّهِيرَةِ وَمِنْ بَعْدِ صَلَاةِ الْعِشَاءِ ثَلَاثُ عَوْرَاتٍ لَكُم ( النور- 58)
'হে মুমিনগণ, তোমাদের দাস দাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে অনুমতি গ্রহণ করে। ফজরের নামাজের পূর্বে, দুপুরে যখন তোমরা পোশাক খুলে রাখ এবং এশার নামাজের পর।'
অন্য স্থানে আল্লাহ পাক প্রাপ্তবয়স্কদের অনুমতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন-
وَإِذَا بَلَغَ الْأَطْفَالُ مِنْكُمُ الْحُلُمَ فَلْيَسْتَأْذِنُوا كَمَا اسْتَأْذَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ. ( النور- 59)
'তোমাদের সন্তান-সন্ততিরা যখন বয়োঃপ্রাপ্ত হয়, তারা যেন তাদের পূর্ববর্তীদের ন্যায় অনুমতি চায়।'
উপরোক্ত বয়োঃস্তরের বিন্যাস বাস্তবসম্মত ও সুপ্রমাণিত। অবিকল এই প্রকরণের কথাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
عَلِّمُوا الصَّبِيَّ الصَّلَاةَ ابْنَ سَبْعِ سِنِينَ وَاضْرِبُوهُ عَلَيْهَا ابْنَ عَشْرِ
'সাত বছর হলে সন্তানকে তোমরা নামাজের প্রশিক্ষণ দাও। এবং নামাজের জন্য প্রহার কর, যখন তার বয়স দশ বছরে উপনীত হয়!'
এই হাদীস থেকেও আমরা বুঝতে পারলাম যে, সাত বছরের নীচের বয়োঃস্তর ভালো-মন্দ নির্ণয়ের বয়স নয়। তবে পূর্ণ সাত বছর বা তার পরবর্তী বয়োঃস্তর অবশ্যই ভালোমন্দ নির্ণায়ক বয়স। এখানে উল্লেখিত স্তরসমূহে বর্ণিত বয়সসীমাই একান্ত এবং চূড়ান্ত সীমা নয়। কারণ ব্যক্তি ও পরিবেশের বিভিন্নতা ভেদে এটা ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তবে হাদীসের দিক-নির্দেশনা সাধারণভাবে ও অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সেটা সাধারণত ভালো-মন্দ অনির্ণায়ক বয়োঃস্তর তথা সাত বছরের নীচের বয়স। সাত বছর ও তার উপরের বয়স ভালো-মন্দ নির্ণায়ক বয়োঃস্তর। যখন একটি শিশুর বয়স এর চেয়েও বেশি হবে তখন সে আরো বেশী ভালোমন্দ নির্ণয় করতে পারবে। এমন কি তাকে নির্দেশ প্রদান ও নিষেধ করা হবে। তিরস্কার কিংবা শান্তি পর্যন্ত দেয়া হবে যদি এর বিরুদ্ধাচরণ করে। এভাবে তার বয়োঃপ্রপ্তি পর্যন্ত চলতে থাকবে। বয়োঃপ্রাপ্ত হয়ে গেলে তো দস্তুরমত তার আমলনামা লিপিবদ্ধ হতে থাকবে।

টিকাঃ
৭- সুরা আন-নুর: ৩১
৮-সুরা অন-নুর-৫৮
৯-আন-নুর-৫৯
১০-সহিহ ইবনে খুযাইমাহ-২/১০২
১১-আর-হুজরাত-১৩

📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 প্রতিপালনের সার্বজনীন উদ্দেশ্য

📄 প্রতিপালনের সার্বজনীন উদ্দেশ্য


প্রতিপালনের সার্বজনীন উদ্দেশ্য: গোত্র ও জাতিসমূহ থেকে কতিপয় মানব ইউনিট নিয়ে গঠিত হয় একটি সমাজ। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন -
وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا (الحجرات -13)
'এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হও!'
এই একতা বিনির্মাণের ক্ষুত্রতম ও সর্বপ্রথম শৃংখলাবদ্ধ ইউনিট হলো 'পরিবার'। যা মা-বাবা, ছেলে-মেয়ে তথা সন্তান-সন্ততি নিয়ে গঠিত। এটা এমন ব্যক্তিগোষ্টির সমষ্টি যাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় ও অটুট বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই ব্যক্তিসমূহের তথা একটি পরিবারের উৎকৃষ্ট ও উত্তম পরিচর্যার মাধ্যমে সমাজের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। সমাজের সভ্যতা-সংস্কৃতি অনুধাবন করতে সক্ষম ব্যক্তিকে সমাজের একটি যোগ্য অঙ্গ হিসেবে প্রস্তুত করতে হবে। এখান থেকে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে, সভ্যতা-সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হয়ে যে হবে সমাজের জন্য আদর্শ।
বাস্তব কর্ম, চিন্তা ও গবেষণায় ভারসাম্য আনয়নের মাধ্যমে সমাজ উন্নয়নে থাকবে সদা নিবেদিতপ্রাণ। এটাই হলো সার্বজনীন তরবিয়তের এর মূল লক্ষ্য।
ইসলামী সমাজের জন্য সার্বজনীন তরবিয়ত এর লক্ষ্য হল ব্যক্তিকে প্রস্তুত করতে হবে ইসলামী সুউচ্চ ইমারতের একটি ইট হিসেবে- যিনি ইসলামের হাকিকত সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ও তার বাস্তব অনুশীলন, সমাজ উন্নয়ন ও অগ্রগতি এবং বিশ্ববাসীর কাছে আল্লাহর দীন পৌঁছানোর ব্রতে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করবেন। যাতে আল্লাহ প্রদত্ত সকল যোগ্যতা ও সর্বশক্তি ব্যয় করে তাকে সৃষ্টির উদ্দেশ্য সে বাস্তবায়িত করতে পারে।

📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 বিশুদ্ধ প্রতিপালনের দাবী

📄 বিশুদ্ধ প্রতিপালনের দাবী


বিশুদ্ধ প্রতিপালনের দাবী:
তরবিয়ত একটি চারিত্রিক কর্মতৎপরতা, শিষ্টাচারগত বাধ্যকতা ও দায়িত্ব। যা আদায় করবেন শিশুর পিতা বা অভিভাবক। অথবা তাদের নিযুক্ত কোন প্রতিনিধি। প্রয়োজন হলে সকলে মিলে পালন করতে পারেন শিশু পরিচর্যার এ মহান দায়িত্ব।
বয়োঃপ্রাপ্তি পর্যন্ত সন্তানের লালন-পালন, তাদের যত্ন ও পরিচর্যা, শিষ্টাচার শিক্ষাদানের দায়িত্ব স্বাভবিকভাবে মা-বাবা ও অভিভাবকদের ওপর বর্তায়। এ মর্মে শরিয়তের সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا ( التحريم (6)
'তোমরা নিজেদের এবং আপন পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা কর!.
সাহাবী কাতাদাহ রা. বলেন, 'অভিভাবক তাদের রক্ষা করবে, তাদেরকে আল্লাহর আনুগত্যের নির্দেশ করবে, তার নাফরমানী থেকে নিবৃত করবে এবং আল্লাহর নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব নিবে, আল্লাহর আদেশ পালনের নির্দেশ প্রদান ও তাতে সহযোগিতা করবে। যখনই আল্লাহর কোন নাফরমানী গোচরে আসবে তাদেরকে তা হতে ফিরিয়ে রাখবে।
ইবনে কাসির রহ. বলেন, 'তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ কর, অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখ আর তাদেরকে অযথা কাজে ছেড়ে দিও না। তাহলে কিয়ামত দিবসে অগ্নি তাদেরকে গ্রাস করে ফেলবে।' অন্য এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন -
كلكم راع وكلكم مسئول عن رعيته
'তোমরা প্রত্যেকেই একজন দায়িত্বশীল অভিভাবক এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জবাবদিহী করতে হবে।'
এ হাদীসের দাবী মতে- 'একজন ব্যক্তি হবে তার পরিবারে দায়িত্বশীল কর্তা ও তাকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এমনিভাবে একজন মহিলা তার স্বামীর গৃহে দায়িত্বশীলা গৃহিণী এবং তাঁকেও নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অতএব প্রত্যেকেই এক একজন দায়িত্বশীল এবং তোমাদের সকলকেই নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।'
অন্যত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
علمو الصبي الصلاة ابن سبع سنين واضربوا عليها ابن عشر
'সন্তানের বয়স সাত বছর হলে নামাজ শিক্ষা দাও! ও বয়স দশ বছর হলে নামাজের জন্য তাকে প্রহার কর।'
এখানে নির্দেশমূলক পদবাচ্যটি আবশ্যিক অর্থে ব্যবহৃত। এ প্রসঙ্গে কুরআন ও হাদীসের আরো অনেক উদ্ধৃতি রয়েছে। সংক্ষিপ্ত করার প্রয়োজনে এখানে তা পরিহার করা হল।
সারকথা হলো, তরবিয়ত একজন মানুষকে ধর্মীয় জ্ঞান ও তদানুযায়ী আমলে সমৃদ্ধ করত তাকে বেঁধে রাখে ধর্মের আদেশ-নিষেধের সঙ্গে। সাথে সাথে জাগতিক জীবনে নিজ কর্তব্য পালনে তাকে যোগ্য ও সচেতন করে তোলে। যাতে সে কারো মুখাপেক্ষী বা অন্যের ওপর বোঝা হয়ে না থাকতে পারে। আর একটি শিশুকে (সন্তান) এভাবে গড়ে তোলার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটা হলো অভিভাবকের।

টিকাঃ
১২-আত্-তাহরীম-৬
১৩ তাফসীরে ইবনে যারীর-১৫৩/১২
১৪ তাফসীরে ইবনে কাছির-১৬৯/৩
১৫ মুত্তাফাক্ব আলাইহ্, বুখারী-৮৪৪, মুসলিম-৩৪০৮
১৬ মুত্তাফকু আলাইহি
১৭ সহিহ ইবনে খুজাইমাহ ১ মুসরিম শিশু সংস্কৃতি-৫৭-৬৩

📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 প্রতিপালন বিষয়ক সহায়ক গ্রন্থসমূহ

📄 প্রতিপালন বিষয়ক সহায়ক গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থপঞ্জি

১- আহমামূল কোরআন- আবু বকর আল-জাস্সাস
২- আত্ তাহরীর ওয়াত্ তানভীর- তাহের বিন আশুর
৩- তাফসীরে ইবনে কাছীর- হাফেজ ইবনে কাছীর
৪- তাফসীরে ইবনে সাউ'দ- ইবনে সাউ'দ
৫- তাফসীরে বাগভী- বাগভী
৬- তাফসীরে বায়দাভী- বায়দাভী
৭- তাফসীরে কুরতুবী- ইমাম কুরতুবী
৮- জামেউ'ল বয়ান- ইমাম তাবারী
৯- সহিহ আল-বুখারী- ইমাম মুহম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী
১০- সহিহ মুসলিম- ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জায আন্-নিশাপুরী
১১- ফাতহুল বারী- ইবনে হাজার
১২- উমদাতুল কারী- বদরুদ্দীন আইনী
১৩- সুনানে আবি দাউদ- আবু দাউদ
১৪- সুনানে তিরমিযি- ইমাম তিরমিযি
১৫- আল-মুসনাদ- ইমাম আহমদ
১৬- সহিহ ইবনে খুযাইমা- ইবনে খুযাইমা
১৭- সহিহ ইবনে হিব্বান- ইবনে হিব্বান
১৮- সুনানে বায়হাক্বী- বায়হাক্বী
১৯- আল-মুস্তাদরেক- আল-হাকেম
২০- আল-মু'জামূল কবীর- তাবরানী
২১- আল-মুসান্নাফ- আব্দুর রাজ্জাক সানআনী
২২- মুসনাদুশ্ শামিয়‍্যীন- আবুল কাসেম তাবারানী
২৩- মুসনাদে আবি ইয়া'লা- আবু ইয়া'লা
২৪- মুসান্নাফে আবি শাইবা- আবু শাইবা
২৫- শারহে মাআ'নিল আছার- ইমাম তাহাবী
২৬- তাহজিবুল কামাল- হাফেজ মুযাই
২৭- আউনুল মা'বুদ শারহে সুনানে আবি দাউদ- শামসুল হক আজীমাবাদী
২৮- আল-মুহায্যাআব-শিরাজী
২৯- তুহফাতুল মাওদুদ ফি আহকামিল মাওলুদ- ইবনে কাইয়াম যাওজিয়া
৩০- আত্ তাম্হীদ- ইবনে আব্দুল বার
৩১- এহয়ায়ে উলুমুদ্দীন- আবু হামেদ গাযালী
৩২- লিসানুল আরব- ইবনে মানযুর
৩৩- ইলমু নাফসিল মারাহিলিল উমরিয়‍্যাহ- আ. ড. উমার বিন আঃ রহমান মুফদা
৩৪- ইলমু নাফসিন নামুব্বি আত-তাফুলাতি ওয়াল মুরাহিক্বাহ- ড. হিশাম মুহম্মদ মুখাইমার
৩৫- আল-মুরাহিকুন দিরাসা নাফসিয়্যা ইসলামিয়া- ড. আব্দুল আযীয বিন মুহম্মদ নুগাইমিশী

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00