📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 তালীম ও তরবিয়ত এর অর্থ সম্পর্কে কিছু কথা

📄 তালীম ও তরবিয়ত এর অর্থ সম্পর্কে কিছু কথা


ভূমিকা
এখানে থাকছে তরবিয়ত ও তালীম শব্দ দুটির বিশ্লেষণ, অভিভাবকদের প্রকারভেদ, তরবিয়ত এর স্তরবিন্যাস এবং তার ক্ষেত্র ও পরিধি সম্পর্কে পর্যালোচনা।
তরবিয়ত সাংস্কৃতিক অর্থে একটি সামাজিক প্রক্রিয়া, যা সমাজের প্রতিটি ব্যক্তিকে তার আচার-ব্যবহার, বৈষয়িক জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত বিদ্যায় সমৃদ্ধ করে একটি সু-নির্দিষ্ট গণ্ডিতে পৌঁছাতে সক্ষম করে। তবে হ্যাঁ, তা এক সমাজের সঙ্গে অন্য সমাজের পার্থক্যের ভিত্তিতে হতে পারে। কারণ প্রতিটি সমাজের ভিন্নতর কিছু বৈশিষ্ট্যতো থাকতেই পারে।
আর তরবিয়ত এর কর্মক্ষেত্রে প্রদান এবং গ্রহণের একটা স্তর তো রয়েছেই। প্রদানটা হবে অভিভাবকের পক্ষ থেকে আর শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে হবে গ্রহণ ও প্রভাবান্বিত হওয়া।
বস্তুতঃ অভিভাবকের প্রদান শুধুমাত্র তখনই ফলপ্রসূ ও কার্যকর হবে যখন তা নির্ভুল পদ্ধতি ও সঠিক উপকরণ সহযোগে হবে। বলাই বাহুল্য যে, দীক্ষা ও প্রতিপালন যদি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর পরস্পর আদান-প্রদানের গভীর সম্পর্কের ভিত্তিতে সু-প্রতিষ্ঠিত না হয়, তা হবে অসাড় ও নিষ্প্রাণ তরবিয়ত- যা কখনোই ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির কারো জন্যই কোন কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।
সমাজের বস্তুনিষ্ঠ পরিবর্তন, সার্বজনীন ও শাশ্বত কল্যাণের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তির সঠিক পরিচর্যা ব্যতীত কখনো কল্পনা করা যায় না। এই তরবিয়তই হচ্ছে সমাজ সংস্কারের মূল চালিকাশক্তি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-
إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِم . (الرعد - 11)
'আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।'
সুতরাং ব্যক্তি বা সমাজের সুদূরপ্রসারী ও কার্যকর পরিবর্তন তরবিয়ত ব্যতিরেকে সুদূরপরাহত। ব্যক্তির সংস্কার হল সমাজ পরিবর্তনের মূখ্য ও প্রধান উপকরণ। অন্যান্য উপকরণের কার্যকারিতা এটার ওপর নির্ভরশীল।
তরবিয়ত এর আভিধানিক অর্থ:
আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে তরবিয়ত আরবী শব্দ, তা লিখিত রূপ হলো: التربية এ শব্দটি মৌলিকত্বের দিক দিয়ে তিন প্রকার:
এক. এর মূলধাতু ( ر ب ب ) থেকে আরবী ভাষাভাষীগণ বলে থাকেন-رببته আমি তাকে সু-গঠিত করেছি। ربيته আমি তাকে তৈল মর্দন ও পরিপক্ক করেছি। ربها সে তাকে প্রবৃদ্ধি, পরিপূর্ণ ও পরিপক্ক করেছে। ربه يربه সে তার ব্যাপারে দায়িত্ব নিয়েছে। رباه تربية সে তার শৈশব পার হওয়া পর্যন্ত সুচারুরুপে দায়িত্ব পালন করেছে এবং অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছে। أرب بالمكان সে তার গৃহ আঁকড়ে ধরে তার অভ্যন্তরে অবস্থান করছে ও সেখান থেকে বের হয় না।
দুই. এর মূলধাতু হতে পারে: (ر ب و) যেমন বলা হয়- ربي الشي يربو ربوا বৃদ্ধ পেয়েছে, বেড়ে গেছে।
في بني ربوت আমি তাদের মধ্যে প্রতিপালিত ও বড় হয়েছি। ربيت فلانا أربيه تربية তাকে পানাহার করিয়েছি। আর তরবিয়ত শব্দের এসব অর্থ ব্যবহৃত হয় প্রতিটি ক্রমবর্ধনশীল বা বিকাশমান ব্যক্তি, প্রাণী বা বস্তুর ক্ষেত্রে। যেমন: সন্তান, ফসল প্রভৃতি।
তিন. এর মূল ধাতু হতে পারে: (ر ب ی) যেমন বলা হয় - ربيت ربيا رباء وربيا وربيت أربي ربا এর অর্থও আমি তাদের মধ্যে প্রতিপালিত হয়েছি।
মোদ্দাকথা তরবিয়ত এর আভিধানিক অর্থ ব্যক্তিকে প্রস্তুত করণ ও বিনির্মাণ এমনভাবে হতে হবে যা তাকে নিশ্চিত আত্মপ্রত্যয়ী ও অমুখাপেক্ষী হতে শেখায়। আর সমাজ তো ব্যক্তিরই অনুগামী।
ইসলামী তরবিয়ত এর পারিভাষিক অর্থ
উল্লেখিত আভিধানিক অর্থ তো থাকছেই। উপরন্তু মুসলিম তরবিয়ত বিশারদগণ এর ব্যাখ্যা এভাবে করেছেন; ব্যক্তিকে তার বিশ্বাস, আরাধনা, চরিত্র, বুদ্ধি ও স্বাস্থ্য এবং তার আচার ব্যবহার ও গতিবিধি তথা জীবনের প্রতিটি বাঁকে তাকে এমন একটি পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতির ওপর নিয়ে আসা যা ইসলাম অনুমোদন করে।
তরবিয়ত শব্দের ব্যাখ্যায় মনীষীদের কয়েকটি মূল্যবান মতামত:
আল্লামা ইসফাহানী রহ. বলেন, رب (রব) শব্দটির মূল হচ্ছে تربية (তারবিয়াহ) আর তা হল, কোন বস্তুকে পর্যায়ক্রমে পূর্নাঙ্গরূপ নিয়ে যাওয়া।
ইমাম বায়জাবী রহ.-ও অনুরূপ অর্থ করেছেন- 'কোন বস্তুকে ধীরে ধীরে পূর্ণতা দান করা।'
বিশিষ্ট হাদীস বিশারদ ইবনে হাজার রহ. বলেছেন, 'তরবিয়ত হচ্ছে কোন বস্তুর সংগঠন ও সংশোধনের দায়িত্বভার গ্রহণ।'
পবিত্র কুরআনে তরবিয়ত শব্দের ব্যবহার:
পবিত্র কুরআনের অসংখ্য স্থানে এই শব্দটির মূল পদবাচ্য ব্যবহৃত হয়েছে। নিম্নে তা হতে মাত্র কয়েকটি উল্লেখ করা হলো। মাতা-পিতা সম্পর্কে আল্লাহ তাআ'লার বাণীঃ
وَقُلْ رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا ( الأسراء -24)
'এবং বল, হে প্রতিপালক, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন- পালন করেছেন।'
ইবনে জরীর তাবারী রহ. এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, 'আমার শৈশবে যেমনিভাবে তারা স্নেহ ও মায়া- মমতা দিয়ে আমাকে লালন-পালন করেছেন, যতক্ষণ না আমি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও তাদের থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পেরেছি।'
ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন, আল্লাহ তাআ'লার উল্লেখিত বাণীতে বিশেষভাবে তরবিয়ত শব্দের উল্লেখ করার কারণ হল: তাকে লালন-পালন করতে মা-বাবাকে যে অসামান্য ক্লেש ও গভীর স্নেহ-মমতা প্রদর্শন করতে হয়েছে তা স্মরণ করে সন্তান যাতে তাদের প্রতি সর্বাধিক অনুগ্রহ, অনুকম্পা ও মমতা প্রদর্শনে যত্নবান হয়।
আল্লাহ তাআ'লার বাণী- মুসা আ. এর ঘটনা উল্লেখ করতে গিয়ে ফেরআউনের কথার উদ্ধৃতি দেন এভাবে -
قَالَ أَلَمْ نُرَبِّكَ فِينَا وَلِيدًا وَلَبِثْتَ فِينَا مِنْ عُمُرِكَ سِنِينَ. (الشعراء -18)
'আমি কি তোমাকে শৈশবে আমাদের মধ্যে লালন-পালন করিনি?'
ইবনে কাছির রহ. এ আয়াতাংশের ব্যাখ্যা এভাবে করেন- 'তুমি কি সেই ব্যক্তি নও? যে আমার বিছানায় আমার গৃহে থেকে আমাদের মধ্যে লালিত-পালিত হয়েছ? এবং তোমার জীবনের একটা উল্লেখযোগ্য বয়স সীমা পর্যন্ত আমি তোমার ওপর অনুগ্রহ করেছি?'
তা'লিম ও তরবিয়ত শব্দদুটির বিশ্লেষণ:
ইলম বা জ্ঞান মূর্খতা ও অজ্ঞতার বিপরীত। আর তা'লিম বা জ্ঞান বিতরণ হলো জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধি অর্জন যা মূর্খতা দূরীভূত করে। প্রকাশ থাকে যে, শুধুমাত্র ইলম কিংবা তা'লিম মূখ্য উদ্দেশ্য নয়। বরং ইলম-জ্ঞানের ওপর যা আবর্তিত হয় সেটাই হলো চূড়ান্ত লক্ষ্য।
ইমাম শাতেবী রহ. বলেন, 'ইলম আহরণই করা হয় শুধুমাত্র আমলের জন্যে।'
আবুদ্দারদা রা. কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করলে উত্তরে তাকে বলেন, 'তুমি আমাকে যে বিষয়ে প্রশ্ন করলে তার ওপর নিজে আমল করো তো? তোমার বিরুদ্ধে আল্লাহ তাআ'লার প্রমাণ বৃদ্ধি করে তুমি এ কি করছ?'
হাসান রহ. বলেন, 'মানুষকে মূল্যায়ন করবে তার কথা নয়; কর্ম দিয়ে। অনন্তর আল্লাহ তাআ'লা এমন কোন কথা রাখেননি যার ওপর কাজকে প্রমাণ হিসেবে নির্ধারণ করে দেননি। যে কেউ ইচ্ছা করলেই তাকে সত্য অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে পারে। কোন সুন্দর কথা শ্রবণ করলে প্রথমেই তার বক্তার দিকে লক্ষ করবে। যদি তার কথার সঙ্গে কাজের মিল পাও তাহলে কতই না সুন্দর।'
ইবনে মাসউদ রা. বলেন, 'সুন্দর করে কথা তো সকল মানুষই বলে। হ্যাঁ, তবে যার কথার সঙ্গে কাজের মিল আছে সেই তার উদ্দেশ্যে সফলকাম। পক্ষান্তরে যার কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই সেতো নিজেকেই নিজে প্রতারিত করলো।'
শুধু ইলম অর্জন মূখ্য নয় এখানে এ বিষয়টা দিবালোকের ন্যায় প্রমাণিত হয়ে গেলো। শরিয়তের দৃষ্টিতে ইলম্ হলো আমলের বাহন। ইলমের ফজিলত ও তাৎপর্য সম্বলিত কুরআনের যত আয়াত ও হাদীস বিবৃত হয়েছে তা শুধু এই জন্য যে, বান্দা তদসংশ্লিষ্ট আমলে আদিষ্ট।
ইবনুল মুনকাদির রহ. বলেন, 'ইল্ম এসে আমলের দরজায় কড়া নাড়ে। সাড়া মিললে থাকে, না হয় চলে যায়।'
ইমাম বুখারী র. বলেন,
'ইলম হতে হবে কথা ও কর্মের পূর্বে।'
العلم قبل القول والعمل
যে তরবিয়ত ইলম্ নির্ভর নয় তা কখনোই বিশুদ্ধ ও সঠিক তরবিয়ত হতে পারে না। সে কারণে পরিভাষায় ব্যবহারিক অর্থে তরবিয়ত ও তা'লিম- এর মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা দুরূহ ও কঠিন কাজ।
সুতরাং তরবিয়ত ও তা'লিম যদি এক সঙ্গে বাক্যের মধ্যে একই রীতি-পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয়, তখন তরবিয়ত ইল্মের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত সংশ্লিষ্ট আমলের অর্থ নির্দেশ করবে। তখন তরবিয়ত এর অর্থ হবে জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধি অর্জন ও জ্ঞানলব্ধ বিষয়ের বাস্তবায়ন। তবে তরবিয়ত ও তা'লিম শব্দদ্বয়কে ভিন ভিন্ন ও স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করলে একে অন্যের অর্থ বহন করবে।
তরবিয়ত তার গ্রহিতার ওপর বিরাট প্রভাব বিস্তার করে থাকে, এমন কি সে শিক্ষার্থীকে এক রণাঙ্গন থেকে বিপরীতধর্মী রণাঙ্গনে নিয়ে যেতে পারে। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
ما من مولود إلا يولد على الفطرة فأباه يهودانه أو يمجسانه أو ينصران كما تنتج البهيمة بهيمة جمعاء هل تحسون فيها من جدعاء.
'প্রতিটি নবজাতক তার স্বভাবজাত ধর্ম ইসলামের ওপর জন্ম গ্রহণ করে। অতঃপর তার মা-বাবা তাকে ইহুদী, খৃষ্টান অথবা অগ্নিপূজক হিসাবে গড়ে তোলে। যেমন কোন চতুষ্পদ জন্তু পরিপূর্ণ সন্তান জন্ম দেয়। তখন কি তোমরা তার কান-কাটা অবস্থায় দেখতে পাও।'
এ হাদীস থেকে অভিভাবকদের মন্দ ভূমিকার কুফল সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। সাথে সাথে তার চাল- চলন, চরিত্র ও সমাজের বিশ্বাসের অনুকূল দায়িত্ব পালনে যত্নবান হওয়ার গুরুত্বও প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং একজন অভিভাবককে সঠিক ভিত্তির ওপর তৈরী করার কাজটা সর্বোচ্চ এবং সর্বাধিক গুরুত্বের দাবী রাখে। বস্তুত আল্লাহর মেহেরবাণীতে প্রকৃত অভিভাবক তো সমাজের মেরুদণ্ড। যে ব্যক্তিকে সংগঠন ও বিনির্মাণে কার্যকর ও সফল ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

টিকাঃ
'-সুরা আর-রা'দ: ১১
১- লিসানুল আরব ৩. সুরা বনী ইসরাঈল: ২৪
৪. সুরা আশ্-শুআ'রা: ১৮
৫. বুখারী: ১২৭০, মুসলিম: ৪৮০৩

📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 কাংক্ষিত অভিভাবক

📄 কাংক্ষিত অভিভাবক


আমি এই সংক্ষিপ্ত বইটিতে সঠিক ও কাঙ্খিত পদ্ধতিতে শিশুর যত্ন ও পরিচর্যার সূমহান দায়িত্বকে পালন করবেন সে আলোচনার প্রয়াস পাবো।
গৃহে মা-বাবা, বিদ্যালয়ে শিক্ষকবৃন্দ এবং মসজিদের ইমাম প্রমূখ, এরা সকলেই কাংক্ষিত অভিভাবকদের অন্তর্ভুক্ত। তবে কতিপয় এমন অভিভাবক আছেন যাদেরকে হিসাব করা হয় না তারাও কিন্তু অভিভাবকের বাইরে নন। যেহেতু জাতিগঠন ও সমাজ বিনির্মাণে কখনো কখনো অনাকাংক্ষিত অভিভাবকদের থেকেও বাস্তবে এমন বিরাট ও প্রত্যক্ষ ভূমিকা এবং গভীর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়- যা অনেক সময় কাংক্ষিত অভিভাবকদের ভূমিকাকেও ছাড়িয়ে যায়।
শিশু-সন্তানের বয়সভেদে অভিভাবক বিন্যাস
শিশুর বয়স স্তরের তারতম্যের কারণে অভিভাবকের ভূমিকার বিভিন্নতা সর্বজন স্বীকৃত। এক্ষেত্রে কিছু বিকল্প কর্মপন্থা শিশুর মননে প্রভাব বিস্তারে কার্যকর ও ফলপ্রসূ হতে পারে।
ক- বাহিরের সমাজ-সংশ্রব ও বিদ্যালয় ভর্তি হওয়াপূর্ব বয়োঃস্তর বা নিরেট শৈশব: তখন শিশুর প্রধান অভিভাবক হলো তার মা-বাবা। তাদের সহকারী হিসেবে থাকতে পারে ভাই-বোন এবং নিকট আত্মীয়- যাদের সঙ্গে তার নিয়মিত সাক্ষাত হয়।
খ- ভালোমন্দ নির্ণয় করার বয়োঃস্তর যখন সে বিদ্যালয় ভর্তি হবে: তখন বিদ্যালয়ের শিক্ষক যেভাবে তার কাংক্ষিত অভিভাবক হিসেবে পরিগণিত হবে, বিদ্যালয়ের বন্ধুমহল, সহপাঠীবৃন্দ এবং তাকে পরিবেষ্টিত সমাজও গণ্য হবে সহকারী অভিভাবক হিসেবে। যেমন: প্রতিবেশী। যেহেতু একটি শিশু এই বয়সে তার প্রতিবেশী এবং বিদ্যালয়ের আসা যাওয়ার পথে যে সকল ছেলে-মেয়ের সঙ্গে দেখা হয় তাদের সঙ্গে মেলামেশা করতে ও সংশ্রব থেকে শিখতে আরম্ভ করে।
গ- মাধ্যমিক স্তর বা যখন সে ভালোমন্দ সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারে: এ সময় তার প্রধান অভিভাবক হিসেবে পরিগণিত হবে মসজিদের ইমাম। যেভাবে তার চতুর্পাশ বেষ্টিত সমাজের সক্রিয় ভূমিকা সহকারী অভিভাবক হিসাবে শিক্ষার্থীর মনে প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি স্বীকৃত। এ ক্ষেত্রে আরো সহকারীর ভূমিকা পালন করে থাকে প্রচার মাধ্যম, বন্ধুমহল, সভা-সেমিনার এবং বিবিধ জ্ঞানের মাধ্যম। যথা: বই, ক্যাসেট, গোলকধাঁধাঁ ও ইন্টারনেট ইত্যাদি।
এখানে একটা বিষয় নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত যে, শিশু পরিচর্যার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ নয়, পরোক্ষ-এমন সহকারী অভিভাবকদের একটা ধ্বংসাত্মক ও বিপদজনক ভূমিকা রয়েছে, যার দায়ভার কিন্তু আসল অভিভাবকদের ঘাড়ে গিয়ে পড়বে। শিশু প্রতিপালনের এ সকল সহায়ক উপকরণের ব্যবহার-পদ্ধতি ও তার সঠিক ব্যবহার, তা হতে শিক্ষা গ্রহণের সুন্দর ও সঠিক দিক-নির্দেশনা প্রদান করতে পারে। যাতে সে আহরিত জ্ঞান দ্বারা সার্বিক কল্যাণ ও মঙ্গল লাভে সফল হতে পারে এবং অকল্যাণ ও ধ্বংসের দিকে ধাবিত করে এমন বস্তু থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে।

📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 প্রতিপালনের ক্ষেত্রসমূহ

📄 প্রতিপালনের ক্ষেত্রসমূহ


প্রতিপালনের ক্ষেত্রসমূহ: শুধুমাত্র দেহের নাম মানুষ নয়। বরং মানুষ আত্মা, হৃদপিণ্ড, বুদ্ধি ও দেহ এ সবের সমন্বয়ে গঠিত একটা সত্তার নাম। যার ওপর ভর করে আবর্তিত হয় আবেগ, অনুভূতি, দৃষ্টিভঙ্গি, পরিকল্পনা, বিশ্বাস ও পারস্পারিক সম্পর্ক। আচার-ব্যবহার ও চরিত্রের নিয়ন্ত্রণ, মানুষের উদ্দেশ্য সাধনের প্রচেষ্টা ও অন্যের সংঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ধরন- এ সবই তার অন্তর্ভুক্ত।
নিচে সন্তান পরিচর্যার ক্ষেত্র বিন্যাস করা হলো:
দেহ পরিচর্যা: অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের সংস্থান হতে হবে হালাল উপার্জন দ্বারা। সাথে সাথে যত্নবান হতে হবে সন্তানের স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও বিনোদনের প্রতি। এ ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে মা-বাবাকে।
ফকিহ্ সিরাজী রহ. শিশুর এই পরিচর্যার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, 'পশুর দুধে শিশুর পরিচর্যা তার স্বভাবকে ধ্বংস করে দেয়।'
ইমাম গাজ্জালী রহ. বিষয়টির প্রতি সবিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, 'ধর্মানুরাগী এবং হালাল ভক্ষণকারী নয় এমন কোন মহিলাকে যেন শিশুর লালন-পালন ও দুগ্ধপানের জন্যে নিয়োগ দেওয়া না হয়। কারণ হারাম থেকে লব্ধদুধের মধ্যে কোন বরকত থাকে না। সুতরাং এর থেকে শিশুর যে শারীরিক বিকাশ-সেটা হবে দুষ্টমূল থেকে তার গঠন। তখন তার স্বভাব দুষ্টুমি ও অপবিত্র বিষয়ের দিকে ঝুঁকে পড়বে।' তিনি আরো বলেন, 'এবং দিনের কোন এক ভাগে তাকে হাঁটানো, নড়া-চড়া ও শরীর চর্চায় অভ্যস্ত করতে হবে, যাতে অলসতা কখনো তার ওপর বেঁকে বসতে না পারে।'
খ- হৃদপিণ্ড বা অন্তরের পরিচর্যা: বিশুদ্ধ বিশ্বাস এবং সুদৃঢ় ঈমানের আলোকে অন্তরকে উদ্ভাসিত করা। ইমাম গাজ্জালী রহ. তার বক্তব্যে এই দিকেই ঈঙ্গিত করেন-শিশুদেরকে 'কুরআন ও হাদীসের জ্ঞান আহরণ করাবেন। অধ্যয়ন করাবেন আউলিয়ায়ে কেরামের জীবনী ও আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের ঘটনাবলী। যাতে নেককারদের প্রতি ভালোবাসা তার অন্তরে অংকুরিত হয়ে থাকে।'
গ- আত্মার পরিচর্যা: এটা অর্জিত হবে নান্দনিক চরিত্র ও ভালো আচরণের দিকে আহবান, শরিয়ত কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব ও ইবাদতের প্রতি যত্নবান হওয়া এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে।
এ প্রসঙ্গে ইমাম গাজ্জালী রহ. বলেন, 'শিশু হচ্ছে মা-বাবার নিকট আল্লাহ প্রদত্ত একটি আমানত। তার পবিত্র আত্মা যে কোন ছবি ও অংকন থেকে মুক্ত, নির্মল ও উৎকৃষ্ট একটি রত্ন। সেখানে যা অংকিত হবে তাই সে গ্রহণ করতে সক্ষম। যে দিকে তাকে আকৃষ্ট করা হবে সে দিকেই সে ধাবমান হবে। সুতরাং যদি কল্যাণকর বিষয় বা শিষ্টাচার শিক্ষা ও এর ওপর তাকে অভ্যস্ত করা হয়; তাহলে এভাবেই সে গড়ে উঠবে। সৌভাগ্য তার পদচুম্বন করবে ইহ ও পরলোকে। সে সফলতা ও পুরুস্কারে অংশীদার তার মা-বাবা এমনকি শিক্ষকবৃন্দও। পক্ষান্তরে যদি তাকে-আল্লাহ না করুন- চতুস্পদ জন্তুর মত ছেড়ে দিয়ে অকল্যাণ ও মন্দের ওপর অভ্যস্ত করা হয়, তাহলে সে হবে ব্যর্থমনোরথ ও হতভাগ্য। তখন এর দায়ভার সন্তানের লালন-পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অভিভাবকদের কাঁধে গিয়ে পড়বে।
আল্লাহ তাআ'লা ইরশাদ করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا. ( التحريم (6)
'হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের এবং পরিবার পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর....।'
একজন পিতা যখন তার সন্তানকে জাগতিক অগ্নি থেকে রক্ষা করতে সদা তৎপর থাকে, তখন পরকালের অগ্নি হতে তাকে রক্ষা করতে আরো বেশি সচেষ্ট ও তৎপর হওয়া দরকার। সচ্চরিত্র, শিষ্টাচার ও ভদ্রতা শিক্ষাদান এবং দুষ্ট সঙ্গ হতে নিবৃত করা- এসবের মাধ্যমেই প্রকৃত পক্ষে সন্তানকে অগ্নি হতে রক্ষার প্রতিফলন ঘটবে। সন্তান পরিচর্যার উল্লেখিত ক্ষেত্রদ্বয়ে কর্তব্য পালনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, মসজিদের ইমাম ও মা-বাবা সকলে সমভাবে জড়িত।
গ- বুদ্ধির পরিচর্যা:
সঠিক স্বপ্ন, নির্ভুল পরিকল্পনা, চিন্তা-গবেষণা, প্রমাণ উপস্থাপনের পদ্ধতি, কোন নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রাথমিক ভূমিকা থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চূড়ান্ত ফলাফল বের করার পদ্ধতি, জ্ঞানগত দৃষ্টিভঙ্গি বর্ণনা, গবেষণাধর্মী তৎপরতায় অংশগ্রহণ এবং পার্থিব উপকারী তত্ত্ব প্রভৃতি বিষয় শিক্ষা দানের ক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ।

টিকাঃ
৬. সূরা আত-তাহরীম: ০৬

📘 সন্তান লালন পালন ও তালীম তরবিয়ত > 📄 প্রতিপালনের স্তরবিন্যাস

📄 প্রতিপালনের স্তরবিন্যাস


প্রতিপালনের স্তর বিন্যাস
পার্থিব জীবনে মানুষের বয়োঃস্তর দু'টো বিস্তৃত অধ্যায়ে বিভক্ত।
প্রথমত, অদৃশ্য ও স্বভাবজাত স্তর তা হচ্ছে- মাতৃগর্ভে অবস্থানকালীন স্তর- শুক্রবিন্দু থেকে জমাটবাঁধা রক্ত, সেখান থেকে মাংসপিণ্ড অতঃপর অস্থিমজ্জা এবং তা গোস্ত দ্বারা আবৃত করণ, অত:পর একটি পূর্ণাঙ্গ ভ্রুণ এবং তার জন্ম গ্রহণ।
দ্বিতীয়ত, দৃশ্যমান স্তর তা হলো জন্ম গ্রহণের পরের স্তর। এটাকেও আবার বড় দু'টি স্তরে বিভক্ত করা সম্ভব।
ক- শৈশব স্তর: জন্ম থেকে বয়োপ্রাপ্তির পূর্ব পর্যন্ত সময়।
খ- বয়োপ্রাপ্তি স্তর: যার সূচনা বয়সের পূর্ণতা প্রাপ্তি থেকে, এবং সমাপ্তি ঘটে মানব মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। যাতে সে পারলৌকিক জীবনের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে পারে, কবর যার প্রথম মনযিল।
শৈশব এবং বয়োপ্রাপ্তি এ দু'স্তরের মধ্যে আরো একটি প্রকরণ লক্ষ করা যায়। মূল কথা একজন মানুষের পরকালের দিকের এই দীর্ঘ ভ্রমণে তাকে এক স্তর থেকে অন্য স্তরে উপনীত হতে হয়। এবং প্রত্যেকটি স্ত রেই তাকে বিশেষ প্রস্তুতি ও পরিচর্যার মুখোমুখী হতে হয়। সে কারণেই মানব বয়সের অগ্রগতির ধারা প্রবাহের সঙ্গে প্রতিপালন ও পরিচর্যার স্তর বিন্যাস ওৎপ্রোতভাবে জড়িত।
শৈশব স্তরেরই অন্ত স্তরকে আরো সুস্পষ্টভাবে আলোচনা করা নেহায়েত প্রয়োজন। যেহেতু র্ভুক্ত এমন আরো দু'টি স্তর রয়েছে যার একটি অন্যটি থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত। যে দু'টি স্তরের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে শরিয়তের অসংখ্য বিধান। আর এ জন্যেই শিশু পরিচর্যার স্তর বিন্যাসের মূল আলোচনা তিন ভাগে বিভক্ত।
ক- ভালোমন্দ পার্থক্য নির্ণয়-অযোগ্য শৈশবকাল: এটা সাধারণত জন্মের পর থেকে সাত বছর পূর্ণ হওয়া বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত।
খ- ভালোমন্দ পার্থক্য নির্ণয়যোগ্য শৈশবকাল: এটা সাধারণত সাত বছর থেকে বয়োপ্রাপ্তি অথবা পনের বছরের পূর্ব পর্যন্ত। প্রকাশ থাকে যে, উল্লেখিত প্রথম এবং মধ্যম স্তরও এই স্তরেরই অন্তর্ভুক্ত।
গ- বয়সের পূর্ণতাপ্রাপ্তি কাল সেটা হল পুরুষ বা নারীত্বের চিহ্নসমূহ প্রকাশ ও শরিয়তের আদেশ ও নিষেধ বাধ্যতামূলক হওয়ার স্তর। এর সূচনা হয় বয়োপ্রাপ্তি হওয়ার জ্ঞাত নিদর্শনসমূহ প্রকাশ অথবা পনের বছরে উপনীত হওয়ার পর।
এ বয়স উচ্চ-মাধ্যমিক স্তরের বিপরীত। আলোচ্য প্রকারটি কুরআনে কারীমের আয়াত দ্বারা প্রমাণিত। যেখানে ভালোমন্দ নির্ণয় করতে পারে না এমন শৈশবকেই বুঝানো হয়েছে।
أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَى عَوْرَاتِ النِّسَاء . ( النور -31)
'সেই বালক, যারা নারীদের গোপনাঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ....।' আয়াতখানা অবতীর্ণ হয়েছে মহিলাদের সৌন্দর্য্য অবলোকন ও প্রবেশাধিকার যাদের জন্য স্বীকৃত তাদের সম্পর্কে।
ইবনে কাসির রহ. বলেন, 'তারা নেহায়েত ছোট বলে মহিলাদের অবস্থা, তাদের গোপনাঙ্গ, কোমল বাক্যালাপ, মৃদু পদচালনা এবং মেয়েলী আচার-আচরণ কিছুই বুঝতে পারে না। একটি শিশু খুব ছোট হওয়ার দরশ যেহেতু কিছুই অনুভব করতে পারে না তাই মহিলাদের নিকট প্রবেশ করতে তার কোন বাধা নেই। পক্ষান্তরে সে যখন সাবালক বা এর নিকটবর্তী বয়সে উপণীত হবে, মহিলাদের মেয়ে-সূলভ আচার-আচরণ বুঝতে ও অনুভব করতে এবং সুন্দরী ও অসুন্দরির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে শিখবে তখন কোন অবস্থাতেই মহিলাদের নিকট তার প্রবেশাধিকার গ্রহণযোগ্য নয়।
ইমাম বগভী রহ. মুজাহিদ রহ. এর উদ্ধৃতি দিয়ে এ আয়াতের ব্যাখ্যা এভাবে করেন- 'ছোট হওয়ার দরুণ অন্যের গোপনীয় অঙ্গ সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল নয়।'
আবু বকর আল-জাস্সাস রহ. বলেন, 'মুজাহিদ রহ. এর বক্তব্য একেবারে সুস্পষ্ট। যেহেতু আয়াতের অর্থই হচ্ছে- তারা অতিশয় ছোট্ট হওয়া ও জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে মেয়েলী আচরণ ও নারী-পুরুষের গোপনাঙ্গের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে না। তবে যে সব শিশু মেয়েদের গোপনাঙ্গ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল তাদেরকে মহিলাদের নিকট প্রবেশের ক্ষেত্রে তিন সময় অনুমতি গ্রহণ আল্লাহ তাআলা বিধি- বদ্ধ করে দিয়েছেন।
ইরশাদ হচ্ছে-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِيَسْتَأْذِنْكُمُ الَّذِينَ مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ وَالَّذِينَ لَمْ يَبْلُغُوا الْحُلُمَ مِنْكُمْ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ مِنْ قَبْلِ صَلَاةِ الْفَجْرِ وَحِينَ تَضَعُونَ ثِيَابَكُمْ مِنَ الظَّهِيرَةِ وَمِنْ بَعْدِ صَلَاةِ الْعِشَاءِ ثَلَاثُ عَوْرَاتٍ لَكُم ( النور- 58)
'হে মুমিনগণ, তোমাদের দাস দাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে অনুমতি গ্রহণ করে। ফজরের নামাজের পূর্বে, দুপুরে যখন তোমরা পোশাক খুলে রাখ এবং এশার নামাজের পর।'
অন্য স্থানে আল্লাহ পাক প্রাপ্তবয়স্কদের অনুমতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন-
وَإِذَا بَلَغَ الْأَطْفَالُ مِنْكُمُ الْحُلُمَ فَلْيَسْتَأْذِنُوا كَمَا اسْتَأْذَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ. ( النور- 59)
'তোমাদের সন্তান-সন্ততিরা যখন বয়োঃপ্রাপ্ত হয়, তারা যেন তাদের পূর্ববর্তীদের ন্যায় অনুমতি চায়।'
উপরোক্ত বয়োঃস্তরের বিন্যাস বাস্তবসম্মত ও সুপ্রমাণিত। অবিকল এই প্রকরণের কথাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
عَلِّمُوا الصَّبِيَّ الصَّلَاةَ ابْنَ سَبْعِ سِنِينَ وَاضْرِبُوهُ عَلَيْهَا ابْنَ عَشْرِ
'সাত বছর হলে সন্তানকে তোমরা নামাজের প্রশিক্ষণ দাও। এবং নামাজের জন্য প্রহার কর, যখন তার বয়স দশ বছরে উপনীত হয়!'
এই হাদীস থেকেও আমরা বুঝতে পারলাম যে, সাত বছরের নীচের বয়োঃস্তর ভালো-মন্দ নির্ণয়ের বয়স নয়। তবে পূর্ণ সাত বছর বা তার পরবর্তী বয়োঃস্তর অবশ্যই ভালোমন্দ নির্ণায়ক বয়স। এখানে উল্লেখিত স্তরসমূহে বর্ণিত বয়সসীমাই একান্ত এবং চূড়ান্ত সীমা নয়। কারণ ব্যক্তি ও পরিবেশের বিভিন্নতা ভেদে এটা ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তবে হাদীসের দিক-নির্দেশনা সাধারণভাবে ও অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সেটা সাধারণত ভালো-মন্দ অনির্ণায়ক বয়োঃস্তর তথা সাত বছরের নীচের বয়স। সাত বছর ও তার উপরের বয়স ভালো-মন্দ নির্ণায়ক বয়োঃস্তর। যখন একটি শিশুর বয়স এর চেয়েও বেশি হবে তখন সে আরো বেশী ভালোমন্দ নির্ণয় করতে পারবে। এমন কি তাকে নির্দেশ প্রদান ও নিষেধ করা হবে। তিরস্কার কিংবা শান্তি পর্যন্ত দেয়া হবে যদি এর বিরুদ্ধাচরণ করে। এভাবে তার বয়োঃপ্রপ্তি পর্যন্ত চলতে থাকবে। বয়োঃপ্রাপ্ত হয়ে গেলে তো দস্তুরমত তার আমলনামা লিপিবদ্ধ হতে থাকবে।

টিকাঃ
৭- সুরা আন-নুর: ৩১
৮-সুরা অন-নুর-৫৮
৯-আন-নুর-৫৯
১০-সহিহ ইবনে খুযাইমাহ-২/১০২
১১-আর-হুজরাত-১৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00