📄 শিশুর যত্ন ও তারবিয়াতের সুবিধার্থে পরপর সন্তান না নেয়ার অনুমতি রয়েছে
অনেক সময় দেখা যায়, কারো অনেক সন্তান এবং সকেলই ছোট ছোট। একজন কোলে ঘুমিয়ে, দ্বিতীয়জন হাত ধরে দাঁড়িয়ে, তৃতীয়জন ফ্লোরে বসে কান্নাকাটি করছে, চতুর্থজন পাশের বাড়ির অন্য ছেলেদেরকে মেরে ঝগড়া বাঁধিয়ে দিয়েছে। আর এদিকে আরেকজন গর্ভে রয়েছে। এমতাবস্থায় মা বুঝেই উঠতে পারেন না, কি করবেন? কাকে ধরবেন, কাকে ছাড়বেন। আর কাকে কীভাবে যত্ন করবেন। মা কিছুতেই কিছু কুলিয়ে উঠতে না পেরে হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেন।
এ বিষয়ে ইসলামের বক্তব্য শুনে নেন, তা হলো, ফাতাওয়ায়ে শামী এবং ফাতাওয়ায়ে আলমগীরীতে এ বিষয়ে লেখা রয়েছে যে, শিশুর ভালো করে যত্ন নেয়ার জন্য এবং সন্তানের লালন-পালন ও সুন্দর তারবিয়াতের জন্য পরপর সন্তান না নিয়ে বরং দুই সন্তানের মাঝে কিছু বিরতি নেয়া এবং তার জন্য অভিজ্ঞ দ্বীনদার চিকিৎসকের পরামর্শে ঔষধ সেবনও জায়েয আছে।
সকল কাজের ভিত্তি হলো নিয়তের ওপর। যদি মনে এ নিয়ত থাকে বা এ চিন্তা করে, আমরা গরিব, আবার সন্তান নিলে তার খরচাদি চালাব কীভাবে? এত সন্তান নিয়ে কীভাবে চলব?
এরকম নিয়ত থাকলে এটা কুফুরী হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَلَاتَقْتُلُواأَوْلَادَكُمْخَشْيَةَإِمْلَاقٍ
(অর্থাৎ খরচাদির ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানকে হত্যা করো না।) -সূরা বনী ইসরাঈল: ৩১
এখানে خشية املاق শব্দ বলে শর্ত করে দেয়া হয়েছে। যদি মাথায় খেয়াল থাকে, তাকে খাওয়াব কি করে? সন্তান বেশি নিলে তাদের ভরণ-পোষণ কোথা থেকে করব? এরকম চিন্তা ও বিশ্বাস যদি থাকে আর এ ভয়ে সন্তান না নেয়, তবে এটা কুফুরী হবে এবং তা হারাম। আর যদি নিয়ত হয়, শিশুর শারীরিক কোনো সমস্যার দিকে লক্ষ করে বা কোনো দ্বীনদার অভিজ্ঞ ডাক্তার পরামর্শ দিল, এখন সন্তান নিলে আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে, বা সন্তানের জন্য ক্ষতি হবে। অথবা মা চান, তার সন্তান ভালো লালন-পালন ও সুন্দর তারবিয়াত পেয়ে বড় হোক। এরকম নেক নিয়তে যদি সন্তান নেয়া থেকে বিরতি নেয় এবং এর জন্য কিছু ঔষধও গ্রহণ করে, তবে এতে ইসলামের অনুমতি রয়েছে।
অনেক সময় দেখা যায়, কারো অনেক সন্তান এবং সকেলই ছোট ছোট। একজন কোলে ঘুমিয়ে, দ্বিতীয়জন হাত ধরে দাঁড়িয়ে, তৃতীয়জন ফ্লোরে বসে কান্নাকাটি করছে, চতুর্থজন পাশের বাড়ির অন্য ছেলেদেরকে মেরে ঝগড়া বাঁধিয়ে দিয়েছে। আর এদিকে আরেকজন গর্ভে রয়েছে। এমতাবস্থায় মা বুঝেই উঠতে পারেন না, কি করবেন? কাকে ধরবেন, কাকে ছাড়বেন। আর কাকে কীভাবে যত্ন করবেন। মা কিছুতেই কিছু কুলিয়ে উঠতে না পেরে হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেন।
এ বিষয়ে ইসলামের বক্তব্য শুনে নেন, তা হলো, ফাতাওয়ায়ে শামী এবং ফাতাওয়ায়ে আলমগীরীতে এ বিষয়ে লেখা রয়েছে যে, শিশুর ভালো করে যত্ন নেয়ার জন্য এবং সন্তানের লালন-পালন ও সুন্দর তারবিয়াতের জন্য পরপর সন্তান না নিয়ে বরং দুই সন্তানের মাঝে কিছু বিরতি নেয়া এবং তার জন্য অভিজ্ঞ দ্বীনদার চিকিৎসকের পরামর্শে ঔষধ সেবনও জায়েয আছে।
সকল কাজের ভিত্তি হলো নিয়তের ওপর। যদি মনে এ নিয়ত থাকে বা এ চিন্তা করে, আমরা গরিব, আবার সন্তান নিলে তার খরচাদি চালাব কীভাবে? এত সন্তান নিয়ে কীভাবে চলব?
এরকম নিয়ত থাকলে এটা কুফুরী হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَلَاتَقْتُلُواأَوْلَادَكُمْخَشْيَةَإِمْلَاقٍ
(অর্থাৎ খরচাদির ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানকে হত্যা করো না।) -সূরা বনী ইসরাঈল: ৩১
এখানে خشية املاق শব্দ বলে শর্ত করে দেয়া হয়েছে। যদি মাথায় খেয়াল থাকে, তাকে খাওয়াব কি করে? সন্তান বেশি নিলে তাদের ভরণ-পোষণ কোথা থেকে করব? এরকম চিন্তা ও বিশ্বাস যদি থাকে আর এ ভয়ে সন্তান না নেয়, তবে এটা কুফুরী হবে এবং তা হারাম। আর যদি নিয়ত হয়, শিশুর শারীরিক কোনো সমস্যার দিকে লক্ষ করে বা কোনো দ্বীনদার অভিজ্ঞ ডাক্তার পরামর্শ দিল, এখন সন্তান নিলে আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে, বা সন্তানের জন্য ক্ষতি হবে। অথবা মা চান, তার সন্তান ভালো লালন-পালন ও সুন্দর তারবিয়াত পেয়ে বড় হোক। এরকম নেক নিয়তে যদি সন্তান নেয়া থেকে বিরতি নেয় এবং এর জন্য কিছু ঔষধও গ্রহণ করে, তবে এতে ইসলামের অনুমতি রয়েছে।
📄 শিশুকে আদব শিক্ষা দেওয়া
আরেকটি বিষয় যা অতি জরুরি এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, শিশুকে আদব শিক্ষা দিবেন। ভদ্র ও সুন্দর আচরণ করতে জানে এরকম শিশুকে সকলেই পছন্দ করে। আর আল্লাহর কাছেও তার মর্যাদা বেশি থাকে। তাই শিশুকে ছোটকালেই আদব শিক্ষা দিবেন। এবং আচার-ব্যবহারে তার যেন সুন্দর চরিত্র ফুটে ওঠে, সে জন্য ভালো তারবিয়াত করবেন।
যেমন, তাকে বড়দের সম্মান করা শেখাবেন। বাড়িতে তার বড় কেউ এলে যেমন, ভাই-বোন, দাদা-দাদী, নানা-নানী অথবা কোনো বুযুর্গ লোক ঘরে এলে শিশুকে শেখাবেন, প্রত্যেকের সাথে আদব ও বিনয়ের সাথে সাক্ষাৎ করো। আপনি শিশুকে শিখিয়ে দিবেন, আব্বু! যাও, আগে সালাম করো। তাদের জুতা সুন্দর করে রাখো। তাদের বসার জন্য জায়গা ছেড়ে দাও, তাদের জন্য পানি নিয়ে আসো ইত্যাদি। এভাবে শিশুর মনে বড়কে মানার ও তাদের খেদমত করার আগ্রহ সৃষ্টি করে দিতে হবে।
আজকাল সাধারণত দেখা যায়, বাচ্চাদেরকে এত আদর-সোহাগ করা হয়, সর্বদা শিশুর আবদার আর অনুরোধই পুরা করতে থাকতে হয়। তাকে দিয়ে বড়দের খেদমতের সময় আর হয় না। অথচ এটা একেবারেই ভুল সিদ্ধান্ত। বরং শিশুর সুন্দর তারবিয়াতের জন্য এরকম কিছু খেদমত তার দ্বারা করানো চাই। এতে শিশুর মনে মান্য করার যোগ্যতা পয়দা হবে এবং আদব ও শিষ্টাচারও অর্জন হবে। তাছাড়াও তাকে জীবনের অন্য সব আদব-শিষ্টাচার শিক্ষা দিতে হবে।
আল্লাহ যেন সকলের সন্তানকে বা-নসীব (ভাগ্যবান) বানিয়ে দেন।
পিতা-মাতার কর্তব্য হলো, যেন নিজেরাও সুন্নাত তরিকায় সকল কাজ করেন এবং সন্তানকেও সুন্নাত মোতাবেক জীবন পরিচালনার শিক্ষা দেন।
আরেকটি বিষয় যা অতি জরুরি এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, শিশুকে আদব শিক্ষা দিবেন। ভদ্র ও সুন্দর আচরণ করতে জানে এরকম শিশুকে সকলেই পছন্দ করে। আর আল্লাহর কাছেও তার মর্যাদা বেশি থাকে। তাই শিশুকে ছোটকালেই আদব শিক্ষা দিবেন। এবং আচার-ব্যবহারে তার যেন সুন্দর চরিত্র ফুটে ওঠে, সে জন্য ভালো তারবিয়াত করবেন।
যেমন, তাকে বড়দের সম্মান করা শেখাবেন। বাড়িতে তার বড় কেউ এলে যেমন, ভাই-বোন, দাদা-দাদী, নানা-নানী অথবা কোনো বুযুর্গ লোক ঘরে এলে শিশুকে শেখাবেন, প্রত্যেকের সাথে আদব ও বিনয়ের সাথে সাক্ষাৎ করো। আপনি শিশুকে শিখিয়ে দিবেন, আব্বু! যাও, আগে সালাম করো। তাদের জুতা সুন্দর করে রাখো। তাদের বসার জন্য জায়গা ছেড়ে দাও, তাদের জন্য পানি নিয়ে আসো ইত্যাদি। এভাবে শিশুর মনে বড়কে মানার ও তাদের খেদমত করার আগ্রহ সৃষ্টি করে দিতে হবে।
আজকাল সাধারণত দেখা যায়, বাচ্চাদেরকে এত আদর-সোহাগ করা হয়, সর্বদা শিশুর আবদার আর অনুরোধই পুরা করতে থাকতে হয়। তাকে দিয়ে বড়দের খেদমতের সময় আর হয় না। অথচ এটা একেবারেই ভুল সিদ্ধান্ত। বরং শিশুর সুন্দর তারবিয়াতের জন্য এরকম কিছু খেদমত তার দ্বারা করানো চাই। এতে শিশুর মনে মান্য করার যোগ্যতা পয়দা হবে এবং আদব ও শিষ্টাচারও অর্জন হবে। তাছাড়াও তাকে জীবনের অন্য সব আদব-শিষ্টাচার শিক্ষা দিতে হবে।
আল্লাহ যেন সকলের সন্তানকে বা-নসীব (ভাগ্যবান) বানিয়ে দেন।
পিতা-মাতার কর্তব্য হলো, যেন নিজেরাও সুন্নাত তরিকায় সকল কাজ করেন এবং সন্তানকেও সুন্নাত মোতাবেক জীবন পরিচালনার শিক্ষা দেন।
📄 সন্তানকে ওলামায়ে কেরামের প্রতি সম্মানবোধ ও ভালোবাসা সৃষ্টি করানো
ওলামায়ে কেরামের সাথে সন্তানের সম্পর্ক বেশি হোক, সে চেষ্টা করবেন। এটা এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, হযরত লুকমান হাকীম (রহ.) নিজের ছেলেকে নছীহত করতে গিয়ে বলেছেন: হে বেটা! উম্মতের ওলামায়ে কেরামের সঙ্গ লাভ করো। তাঁদের কাছে বেশি বেশি আসা-যাওয়া করো। তাঁদের সামনে আদবের সাথে দু'যানু হয়ে ছাত্রের মতো বসবে। এতে আল্লাহ তায়ালা দিলকে এত পরিমাণ ইলম ও হেকমত দিয়ে সজিব করে দেন। যেমন, শুষ্ক জমিনকে বৃষ্টির পানি দিয়ে জীবন্ত করে তোলেন।
এ জন্য এটা জরুরি, শিশুর মন ও মানসিকতায় ওলামায়ে কেরামের সম্মান ও মর্যাদার বিশেষ স্থান সৃষ্টি করতে হবে। তাদের সামনে ওলামায়ে দ্বীনের নাম খুব সম্মানের সাথে নিতে হবে।
সন্তানদেরকে বড় আল্লাহওয়ালা, ওলামায়ে কেরাম এবং ইলমে দ্বীনের জন্য তাদের অবদান, তাদের তাকওয়া, পরহেজগারির বিভিন্ন ঘটনা শোনাবেন। কখনো কখনো তাদেরকে যুগের বড় বড় আল্লাহওয়ালা ও আলেমদের মজলিসে নিয়ে যাবেন এবং শিশুকে আলেমদের দ্বীনি মজলিসে বসার উপকারিতা বুঝাবেন।
এভাবে যখন আপনি একটি শিশুকে তার মন ও মানসিকতা ওলামায়ে কেরামের প্রতি নিবিষ্ট করে রাখবেন। এতে আল্লাহর মেহেরবানিতে এবং ওলামায়ে কেরামের দুআর বরকতে আশা করা যায়, শিশুর আকীদা ও বিশ্বাস এবং তার আখলাক চরিত্র সংশোধন হতে থাকবে। ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তায়ালা তাকে যুগের বিভিন্ন ফেত্না ও খারাবি থেকেও হেফাজত রাখবেন। ইনশাআল্লাহ।
وصلى الله تعالى على سيدنا محمد وعلى اله وصحبه وسلم،
وآخر دعوانا ان الحمد لله رب العالمين
ওলামায়ে কেরামের সাথে সন্তানের সম্পর্ক বেশি হোক, সে চেষ্টা করবেন। এটা এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, হযরত লুকমান হাকীম (রহ.) নিজের ছেলেকে নছীহত করতে গিয়ে বলেছেন: হে বেটা! উম্মতের ওলামায়ে কেরামের সঙ্গ লাভ করো। তাঁদের কাছে বেশি বেশি আসা-যাওয়া করো। তাঁদের সামনে আদবের সাথে দু'যানু হয়ে ছাত্রের মতো বসবে। এতে আল্লাহ তায়ালা দিলকে এত পরিমাণ ইলম ও হেকমত দিয়ে সজিব করে দেন। যেমন, শুষ্ক জমিনকে বৃষ্টির পানি দিয়ে জীবন্ত করে তোলেন।
এ জন্য এটা জরুরি, শিশুর মন ও মানসিকতায় ওলামায়ে কেরামের সম্মান ও মর্যাদার বিশেষ স্থান সৃষ্টি করতে হবে। তাদের সামনে ওলামায়ে দ্বীনের নাম খুব সম্মানের সাথে নিতে হবে।
সন্তানদেরকে বড় আল্লাহওয়ালা, ওলামায়ে কেরাম এবং ইলমে দ্বীনের জন্য তাদের অবদান, তাদের তাকওয়া, পরহেজগারির বিভিন্ন ঘটনা শোনাবেন। কখনো কখনো তাদেরকে যুগের বড় বড় আল্লাহওয়ালা ও আলেমদের মজলিসে নিয়ে যাবেন এবং শিশুকে আলেমদের দ্বীনি মজলিসে বসার উপকারিতা বুঝাবেন।
এভাবে যখন আপনি একটি শিশুকে তার মন ও মানসিকতা ওলামায়ে কেরামের প্রতি নিবিষ্ট করে রাখবেন। এতে আল্লাহর মেহেরবানিতে এবং ওলামায়ে কেরামের দুআর বরকতে আশা করা যায়, শিশুর আকীদা ও বিশ্বাস এবং তার আখলাক চরিত্র সংশোধন হতে থাকবে। ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তায়ালা তাকে যুগের বিভিন্ন ফেত্না ও খারাবি থেকেও হেফাজত রাখবেন। ইনশাআল্লাহ।
وصلى الله تعالى على سيدنا محمد وعلى اله وصحبه وسلم،
وآخر دعوانا ان الحمد لله رب العالمين