📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 শিশুদের প্রতি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা

📄 শিশুদের প্রতি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা


এ ব্যাপারে ইমাম শাফেঈ রহ-এর একটি ঘটনা শুনেন: ইমাম শাফেঈ রহ.-এর তখন মাত্র তেরো বছর। এই ছোট বয়সেই তিনি দ্বীনের অনেক ইলম শিখে নিয়ে ছিলেন।

শুধু তাই নয়, এই অল্প বয়সেই এক জায়গায় মানুষদেরকে কুরআন শিক্ষার দরস দিতেন এবং তার সে দরসে তখন অনেক মানুষও হতো। এত অল্প বয়সে এত ছাত্রদের শিক্ষক। যদিও বিষয়টি আশ্চর্যের কিন্তু সত্য। আমাদের মনীষীগণ এবং ইসলামের আগের স্কলারগণ এরকমই ছোট বয়সে অনেক বড় বড় যোগ্যতা ও কৃতিত্বের সাক্ষর রেখেছেন। খাজা মাসুম রহ.-এর কথাই ধরুন না.. তিনি তার পিতা মুজাদ্দেদে আলফে সানী রহ. থেকে বারো বছর বয়সেই খেলাফত লাভ করেছিলেন। এরকমই আগেকার মনীষীরা ছোটকাল থেকেই নেককার হতেন। মায়ের কোল থেকে তারা নেক সোহবত অর্জন করতেন। এভাবে পরবর্তীতে দেখা যেত, বারো পনেরো বছর বয়সেই দ্বীনের অনেক জ্ঞান অর্জন করে ফেলতেন। এবং ওলীদের অনেক উঁচুস্তরে পৌঁছে যেতেন।

যাই হোক, ইমাম শাফেঈ রহ. তিনিও ছোটকাল থেকে কোরআনের দরস দিতে লাগলেন। তার দরসে অনেক বয়োবৃদ্ধ ও দাড়িপাকা লোকও এসে শিক্ষা নিত। তার ইলম ও মারেফতের নূর থেকে উপকৃত হতো। এমনই একদিন ইমাম শাফেঈ রহ. কোরআনের দরস দিচ্ছিলেন। কোরআনের তাফসীর তথা ব্যাখ্যা শোনাচ্ছিলেন। হঠাৎ দু'টি চড়ুই পাখি ঝগড়া করতে করতে তার সামনে উড়ে এসে বসল। পাখি দু'টি সামনে আসতেই ইমাম শাফেঈ রহ. নিজের মাথা থেকে পাগড়ি খুলে পাখি দু'টির উপর রেখে দিলেন। আর চড়ুই দু'টিও আটকে গেল।

এদিকে দরসে যারা বয়সে বড় ও বৃদ্ধ ছাত্র ছিলেন, তাদের এই বিষয়টি ভালো লাগল না। কোরআনের দরস চলছে, তার মাঝে এই চড়ুই নিয়ে খেলা, এটা তাদের মনে দুষ্টামি আচরণের মতো মনে হলো। তারা ইমাম সাহেবের দিকে অন্যরকম দৃষ্টিতে তাকাতে লাগল। ইমাম শাফেঈ রহ.-এর জ্ঞানের প্রাজ্ঞতা ছিল। যদিও অল্প বয়স, তাই তিনি তাদের চেহারা দেখে বুঝে ফেললেন। সেই মুহূর্তে ছাত্রদের মনের ভাবনাটা ঠিক ধরতে পারলেন। তাই তিনি পাগড়ি তুলে নিয়ে আবার নিজের মাথায় নিজেই বেঁধে নিলেন। তারপর সবাইকে লক্ষ করে বললেন, আপনারা একটি হাদীস শোনেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
الصبي صبي ولو كان ابن نبي
'শিশু তো শিশুই, যদিও সে কোনো নবীর সন্তান।'

এই হাদীস শোনানোর পর ইমাম শাফেঈ রহ.-এর প্রতি যাদের মনে একটু অভক্তি এসেছিল, তারাও এখন সন্তুষ্টি ও তৃপ্তির হাসি হাসতে লাগল এবং নিজেদের উস্তাদের প্রতি তাদের ভালোবাসা ও ভক্তি আরো বাড়িয়ে দিলো। মূলকথা হলো, শিশু নিষ্পাপ। আর তার আচরণ শিশুর মতোই কোমল ও নিষ্পাপ।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের খুব আদর করতেন। শিশুদের প্রতি তিনি ছিলেন দারুণ দুর্বল। হযরত আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহুর ঘটনা : হযরত আনাস রা. ছিলেন তখনও খুব ছোট। সেই ছোটকাল থেকেই তিনি নবীজির খেদমত করতেন। সব সময় নবীজির সাথেই থাকতেন।

হযরত আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু তার নিজের ঘটনা নিজেই বর্ণনা করেন, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কাজের হুকুম করে আমাকে বললেন, আনাস! কাজটা করে এসো তো। আমি নবীজির হুকুম পেয়ে কাজটি করার জন্য ঘর থেকে বের হলাম। কিছু দূর গিয়ে অন্য ছোট ছোট ছেলেদের খেলা দেখে আমার ভালো লাগল এবং আমি দাঁড়িয়ে তাদের খেলা দেখতে লাগলাম। এভাবে অনেকক্ষণ যাবৎ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের খেলাধুলা উপভোগ করলাম। এদিকে নবীজি আমার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু আমার বিলম্ব দেখে নবীজি নিজেই এই রাস্তা ধরে হেঁটে আসতে লাগলেন। তিনি এসে আমাকে দেখলেন, আমি এখানে দাঁড়িয়ে ছোটদের খেলা দেখছি। তিনি আমার নিকট আসলেন, আমার মাথায় মমতা মাখা কোমল হাত রাখলেন। তারপর আদর করে বললেন, আনাস! আমি তোমাকে যে কাজটি করতে বলেছিলাম, যাও তা দ্রুত সেরে ফেলো। আমি নবীজির গোলাপের মতো সুন্দর চেহারার দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম, হ্যাঁ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এখনই যাচ্ছি।

আল্লাহর নবী তখন আমার সাথে রাগও করেননি এবং আমাকে বকাঝকাও করেননি। আমার এই শিশুসুলভ আচরণ দেখে তিনি আরেকবার স্মরণ করিয়ে দিলেন, যাও আনাস! কাজটা সেরে ফেলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোটদের সাথে এভাবেই আচরণ করতেন। আরেকবাবের ঘটনা, আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একবার আমাকে আমার মা খেজুরের একটি বড় ঝোপা আমার হাতে দিয়ে বললেন, যাও, এটা নবীজিকে হাদিয়া দিয়ে এসো।

তিনি বলেন, আমি মার কথামতো খেজুরের ঝোপাটি নিয়ে নবীজির বাড়ির দিকে রওয়ানা হলাম। আমি তখন ছোট ছিলাম। বয়স অনেক কম ছিল। তাই ছোটদের মতো খেয়াল হলো, দেখি খেজুরগুলো মিষ্টি কি না? ঝোপা থেকে একটি খেজুর মুখে দিতেই দেখলাম, বাহ! অনেক মিষ্টি তো! খেজুরের এই অসাধারণ স্বাদ পেয়ে আমি আর লোভ সামলাতে পারলাম না। এক এক করে ছিঁড়ে খেতে লাগলাম, আর নবীজির বাড়ির দিকে হাঁটতে লাগলাম। অনেকক্ষণ পর নবীজির ঘর সামনে দেখে আমার এখানে আসার কারণ মনে হলো। আর ততক্ষণে হাতের দিকে তাকিয়ে দেখি খেজুরের গুচ্ছও খালি হয়ে গেছে। শুধু ডালগুলো আমার হাতে ঝুলছে। আমি দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগলাম, নবীজির কাছে গিয়ে আমি কি বলব? বিষয়টি নিয়ে আমি খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম।

এভাবে অনেক দিন যাওয়ার পর একবার রাসূল আমাদের বাড়ি এলেন। আমার মা পর্দার ওপার থেকে নবীজির সাথে কথা বলছিলেন। কথার এক ফাঁকে আমার মা নবীজিকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ওইদিন আনাসকে দিয়ে কিছু খেজুর পাঠিয়ে ছিলাম। খেজুরগুলো কেমন ছিল? নবীজি বললেন, না, কোনো খেজুর তো আমার কাছে পৌঁছেনি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝে ফেললেন, খেজুর সব আনাসের পেটে ডুকেছে।

তারপর থেকে যখনই নবীজির সাথে আমার দেখা হতো, হাসি মুখে আমার দিকে তাকাতেন এবং আদর করে কানে ধরে বলতেন, এই আনাস! আমার খেজুরের গুচ্ছ কোথায়? এই কথা বলে তিনিও হাসতেন এবং আমিও হাসতাম। ব্যাস এরপর অন্য প্রসঙ্গ তুলতেন। তো এই ছিল ছোটদের প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা, এবং ছোটদের শিক্ষা দেয়ার এই ছিল স্নেহভরা শাসন।

হযরত আনাস (রাযি.) এই বিষয়ে নবীজির থেকে আরেকটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার একটা ছোট ভাই ছিল। সে একটি তোতা পাখি পালত। পাখিটিকে সে খুব আদর করে লালন-পালন করেছিল এবং পোষ মানিয়েছিল। একদিন হলো কি, সেই পাখিটি মারা গেল। আর এ খবর প্রিয় নবী জানতে পারলেন। তারপর থেকে তিনি যখনই আমাদের ঘরে আসতেন, আমার সেই ভাইকে খুশি করার জন্য এবং তাকে আনন্দ দেওয়ার জন্য কাছে ডাকতেন এবং আদর করে বলতেন,
يَا أَبَا عُمَيَرْ مَا فَعَلَ التَّغَيَ
'হে আবু ওমায়ের! তোমার পাখিটি তোমার সাথে এ কেমন আচরণ করল বলোতো? (সে তোমাকে ছেড়ে চলেই গেল।)'

নবীজি ছোটদের সাথে এরকমই আচরণ করতেন, যাতে তাদের সঙ্গে সহজে মেশা যায় এবং তাকে প্রফুল্ল ও উৎফুল্ল করে তোলা যায়। এভাবে নবীজি ছোটদের সাথে শিশুসুলভ ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের খুব আপন বন্ধু হয়ে যেতেন।

📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 শিশুকে গড়তে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষাকে অনুসরণ করা

📄 শিশুকে গড়তে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষাকে অনুসরণ করা


হযরত আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি অনেক দিন পর্যন্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমত করেছি, এই দীর্ঘ সময়ে তিনি আমাকে কখনো মারেননি, ধমকও দেননি এবং চোখ রাঙ্গিয়ে কথাও বলেননি। আমি নবীজির জবান মোবারক থেকে কখনো কষ্ট পাওয়ার মতো শব্দও বের হতে শুনিনি। নবীজি অনেক সুন্দর আখলাক ও উন্নত নিয়ম-পদ্ধতিতে আমাকে লালন-পালন করে মানুষ করেছেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই নিয়ম-পদ্ধতি আমাদের জন্য এবং আমাদের সন্তাদের জন্য আজ আলোর মিনার। সুন্দর জীবন গড়ার জন্য নবীজির এই ব্যবস্থাপত্র গোটা মানব জাতির জন্য বিশেষ নেয়ামত। তাই সকল মায়ের উচিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই নূরানী পদ্ধতিকে অনুসরণ করে নিজের সন্তানকে আদর ও ভালোবাসা দিয়ে লালন-পালন করা।

তবে সন্তানকে আদর ও ভালোবাসার মানে এই নয়, আদর দিতে দিতে তাকে মাথায় তুলে দেয়া। একথা অবশ্যই স্মরণ রাখবেন, শিশু যদি কোনো ভুল বা অন্যায় করে ফেলে, তবে তাকে সতর্ক করতে হবে। তার ভুল তাকে ধরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু শিশুর ভুল দেখেও চুপ থাকা তার মানে তার অন্যায়কে সমর্থন দেওয়া। এভাবে সে অন্যায়ে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।

তাই অন্যায় দেখে চুপ থাকাও বড় অন্যায়। আদর দিয়ে তাকে বুঝাতে হবে। রাগ-বাগ নয় বা হিংস্রের মতো অন্যায়ভাবে ধর-পাকড় করেও নয়, বরং হাত বুলিয়ে বুঝাতে হবে, আব্বু! এটা এভাবে নয়; বরং এভাবে করলে সবাই তোমাকে ভালোবাসবে।

হযরত আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি অনেক দিন পর্যন্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমত করেছি, এই দীর্ঘ সময়ে তিনি আমাকে কখনো মারেননি, ধমকও দেননি এবং চোখ রাঙ্গিয়ে কথাও বলেননি। আমি নবীজির জবান মোবারক থেকে কখনো কষ্ট পাওয়ার মতো শব্দও বের হতে শুনিনি। নবীজি অনেক সুন্দর আখলাক ও উন্নত নিয়ম-পদ্ধতিতে আমাকে লালন-পালন করে মানুষ করেছেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই নিয়ম-পদ্ধতি আমাদের জন্য এবং আমাদের সন্তাদের জন্য আজ আলোর মিনার। সুন্দর জীবন গড়ার জন্য নবীজির এই ব্যবস্থাপত্র গোটা মানব জাতির জন্য বিশেষ নেয়ামত। তাই সকল মায়ের উচিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই নূরানী পদ্ধতিকে অনুসরণ করে নিজের সন্তানকে আদর ও ভালোবাসা দিয়ে লালন-পালন করা।

তবে সন্তানকে আদর ও ভালোবাসার মানে এই নয়, আদর দিতে দিতে তাকে মাথায় তুলে দেয়া। একথা অবশ্যই স্মরণ রাখবেন, শিশু যদি কোনো ভুল বা অন্যায় করে ফেলে, তবে তাকে সতর্ক করতে হবে। তার ভুল তাকে ধরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু শিশুর ভুল দেখেও চুপ থাকা তার মানে তার অন্যায়কে সমর্থন দেওয়া। এভাবে সে অন্যায়ে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।

তাই অন্যায় দেখে চুপ থাকাও বড় অন্যায়। আদর দিয়ে তাকে বুঝাতে হবে। রাগ-বাগ নয় বা হিংস্রের মতো অন্যায়ভাবে ধর-পাকড় করেও নয়, বরং হাত বুলিয়ে বুঝাতে হবে, আব্বু! এটা এভাবে নয়; বরং এভাবে করলে সবাই তোমাকে ভালোবাসবে।

📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 শিশুর জন্য লাইব্রেরি গড়ে তুলুন

📄 শিশুর জন্য লাইব্রেরি গড়ে তুলুন


শিশুদের জন্য আপনার ঘরে একটি 'সুন্দর লাইব্রেরি' অবশ্যই বানাবেন। সেখানে শিশুরা তাদের পড়ার মতো বিভিন্ন বই পাবে। এতে করে একটি শিশু অহেতুক খেলাধুলায় না গিয়ে, সে একটি বই নিয়ে পড়ায় লেগে থাকবে। এতে তার জ্ঞানের পরিধি দিন দিন আরো বৃদ্ধি পাবে। সে আগামির জন্য একটি আদর্শ-মডেল হয়ে গড়ে উঠবে। কারণ, একটি আদর্শ বই একটি আদর্শ জীবনের জন্ম দেয়।

ছোটদের উপযোগী গল্পের বই। আল্লাহর ওলীদের সুন্দর সুন্দর ঘটনার বই। সাহাবায়ে কেরামের বিভিন্ন গল্পের বই তার জন্য রাখবেন। হ্যাঁ, বাজারের মিথ্যা গল্প-কাহিনি, ভূত-দৈত্যের মিথ্যা বানানো বই দিয়ে শিশুর সুন্দর জীবনটা নষ্ট করবেন না। এ ব্যাপারে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন।

শিশুদের জন্য আপনার ঘরে একটি 'সুন্দর লাইব্রেরি' অবশ্যই বানাবেন। সেখানে শিশুরা তাদের পড়ার মতো বিভিন্ন বই পাবে। এতে করে একটি শিশু অহেতুক খেলাধুলায় না গিয়ে, সে একটি বই নিয়ে পড়ায় লেগে থাকবে। এতে তার জ্ঞানের পরিধি দিন দিন আরো বৃদ্ধি পাবে। সে আগামির জন্য একটি আদর্শ-মডেল হয়ে গড়ে উঠবে। কারণ, একটি আদর্শ বই একটি আদর্শ জীবনের জন্ম দেয়।

ছোটদের উপযোগী গল্পের বই। আল্লাহর ওলীদের সুন্দর সুন্দর ঘটনার বই। সাহাবায়ে কেরামের বিভিন্ন গল্পের বই তার জন্য রাখবেন। হ্যাঁ, বাজারের মিথ্যা গল্প-কাহিনি, ভূত-দৈত্যের মিথ্যা বানানো বই দিয়ে শিশুর সুন্দর জীবনটা নষ্ট করবেন না। এ ব্যাপারে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন।

📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 শিশুকে সময়ের গুরুত্ব শিক্ষা দেওয়া

📄 শিশুকে সময়ের গুরুত্ব শিক্ষা দেওয়া


মানুষের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত খুবই দামি। তাই আল্লাহর নেক বান্দা ও জ্ঞানীরা কখনো সময়কে নষ্ট হতে দেন না। 'সময়ের অনেক মূল্য' এ (Concept) ধারণাটি ছোট থেকেই শিশুর যেহেনে শক্ত করে বসিয়ে দেবেন।

শিশুর প্রতিটি মুহূর্তের প্রতি লক্ষ রাখবেন। এবং তাকে সর্বদা ইতিবাচক কোনো না কোনো কাজে লিপ্ত রাখবেন। অবসর বা অলস সময় কাটানোর কোনো মানসিকতা তার ভেতরে আসতে দিবেন না। এ ব্যাপারে সকল জ্ঞানীদের মত হলো, অবসর-অলসতার দ্বারা জীবন বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়। পরে এরকম শিশুকে কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়ে।

আর কখনো যদি ভাগ্যবশত কোনো কাজ জুটেও যায়, তবু এরকম শিশুর কাজের প্রতি আত্মনিবিষ্ট হওয়া বা মন দিয়ে কাজ করার মানসিকতা আর থাকে না। ফলে এক সময় কাজের প্রতি তার অনিহা ভাব সৃষ্টি হয়। এবং কাজ থেকে ছিটকে যায়।

এটা বাস্তব ও শতসিদ্ধ বিষয়, অলস ও অবকাশ জীবন-যাপনের দ্বারা উৎফুল্লতা ও বিচক্ষণতার পরিবর্তে জীবনে অক্ষমতা ও ব্যর্থতাই বেশি আসে।

মানুষের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত খুবই দামি। তাই আল্লাহর নেক বান্দা ও জ্ঞানীরা কখনো সময়কে নষ্ট হতে দেন না। 'সময়ের অনেক মূল্য' এ (Concept) ধারণাটি ছোট থেকেই শিশুর যেহেনে শক্ত করে বসিয়ে দেবেন।

শিশুর প্রতিটি মুহূর্তের প্রতি লক্ষ রাখবেন। এবং তাকে সর্বদা ইতিবাচক কোনো না কোনো কাজে লিপ্ত রাখবেন। অবসর বা অলস সময় কাটানোর কোনো মানসিকতা তার ভেতরে আসতে দিবেন না। এ ব্যাপারে সকল জ্ঞানীদের মত হলো, অবসর-অলসতার দ্বারা জীবন বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়। পরে এরকম শিশুকে কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়ে।

আর কখনো যদি ভাগ্যবশত কোনো কাজ জুটেও যায়, তবু এরকম শিশুর কাজের প্রতি আত্মনিবিষ্ট হওয়া বা মন দিয়ে কাজ করার মানসিকতা আর থাকে না। ফলে এক সময় কাজের প্রতি তার অনিহা ভাব সৃষ্টি হয়। এবং কাজ থেকে ছিটকে যায়।

এটা বাস্তব ও শতসিদ্ধ বিষয়, অলস ও অবকাশ জীবন-যাপনের দ্বারা উৎফুল্লতা ও বিচক্ষণতার পরিবর্তে জীবনে অক্ষমতা ও ব্যর্থতাই বেশি আসে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00