📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 'অন্যকে কষ্ট দেয়া' থেকে শিশুকে বিরত রাখা

📄 'অন্যকে কষ্ট দেয়া' থেকে শিশুকে বিরত রাখা


মোটকথা, আমাদের উচিৎ সন্তানকে ছোটকাল থেকেই অন্যের উপকারের শুকরিয়া আদায় করার এই গুণটি শিক্ষা দেয়া, এমনিভাবে সালাম করার অভ্যাসও তাকে শিক্ষা দেব। এতে করে এই অভ্যাসের উপরই সে গড়ে উঠবে। ছোটকালে মা যদি এই অভ্যাসগুলো শিখিয়ে দেন, তবে বড় হয়েও সে বাবা-মা ও অন্যদের শুকরিয়া আদায় করবে। পাশাপাশি আল্লাহ তাআলারও শুকরিয়া আদায় করবে। অনেকে তো এমন আছে, বড় হয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করাও শেখে না। এই জুলুম বাবা-মা ছোটকালে তার উপর করেছে। তাই এখন সে না-শোকর অহংকারী হয়ে গেছে। এই জন্য যখনই শিশুকে কোনো জিনিস দেবেন, শিশুকে কোনো জিনিস খাওয়াবেন, তাকে যখন কাপড় পড়াবেন, কাপড় পরিবর্তন করাবেন মোটকথা শিশুর যে কোনো কাজই আপনি করে দেবেন; তখন তাকে বলবেন, আব্বু! আমাকে 'জাযাকাল্লা' বলো। এভাবে সে বুঝে নেবে, আমাকে এই এই ক্ষেত্রে 'জাযাকাল্লাহ' বলতে হবে। এই সুন্দর গুণটি আজীবনের জন্য তার জীবনে চলে আসবে; যা তার জীবনকে আরো সুন্দর করে তুলবে।

আরেকটি বিষয় শিশুকে শিখিয়ে দিবেন, আব্বু! সকল ভালো কাজের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম কাজ হলো, কাউকে কষ্ট না দেওয়া। তাই কখনো কাউকে কষ্ট দেবে না। শিশুরা স্বাধীন প্রকৃতির হয়। তাই খুব দ্রুত বন্ধু বানিয়ে ফেলতে পারে।

কিন্তু আপনি যখন তাকে ছোটবেলা থেকেই শেখাবেন, কাউকে কোনো দিন কষ্ট দেবে না, কারো সাথে ঝগড়া করবে না। এতে করে তার ভেতরে সুন্দর মানসিকতা সৃষ্টি হবে। এক সময় নিজ থেকেই এই ভাবনা সৃষ্টি হবে, আমি কারো মনে দুঃখ দিব না। এতে আল্লাহ আমার উপর নারাজ হবেন। মনে রাখবেন, 'দিলই সবকিছুর মূল'। মনে আল্লাহর ভয় এবং ভালো কিছুর বীজ গজাতে পারলে জীবন সার্থক ও সুন্দর হয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ।

অন্যের মনে আঘাত দেয়া এটাতো বর্তমান সময়ে সবচেয়ে সাধারণ বিষয় মনে করা হয়। অথচ আল্লাহর নিকট মারাত্মক অন্যায় এবং বড় গুনাহ হলো, কোনো মানুষের মনে আঘাত দেয়া। তাই কোনো উর্দু কবি বলেন,
'তুমি মন্দির ভেঙ্গে ফেলো, মসজিদ ভেঙ্গে ফেলো, তোমার মনে যা আসে সব ভেঙ্গে ফেলো।
কিন্তু মানুষের মন ভেঙ্গো না। কারণ, এই দিল দিল-বানানে-ওয়ালার স্থান।'

সুতরাং আপনি যখন শিশুকে এই কথা বুঝাবেন, দিল আল্লাহর ঘর। এতে করে ওই শিশু তার নিজের চরিত্রকে সুন্দর করতে সচেষ্ট হবে, এবং কাউকে কষ্ট দেবে না।

📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 শিশুকে ভুলের উপর অনুতপ্ত হওয়ার শিক্ষা দেওয়া

📄 শিশুকে ভুলের উপর অনুতপ্ত হওয়ার শিক্ষা দেওয়া


যদি কখনো আপনার শিশু সন্তান কারো সাথে ঝগড়া করে বসে, এমতাবস্থায় আপনি দেখবেন, মূলত অন্যায় কার? যদি কখনো দেখেন, আপনার শিশুটিই অন্যায় করেছে। তখন তাকে কাছে টেনে খুব আদর সোহাগ করে বুঝান, আব্বু! ভুলের জন্য এখন ক্ষমা চেয়ে নাও। তাহলে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার সামনে তোমার এই ভুল আর তোলা হবে না। তাকে ক্ষমা চাওয়ার পদ্ধতিও বলে দেবেন। ক্ষমা চাইতে লজ্জা হয়, এ বিষয়টিও তার থেকে মুছে দেবেন। যাতে নিঃসংকোচে নিজের ভুলের জন্য মাফ চেয়ে নেয়ার ব্যাপারে অভ্যস্ত হয়ে যায়।

ভুল ছোটরাও করতে পারে, আবার বড়দের থেকেও হতে পারে। ছোটদেরকে বুঝাবেন, আব্বু! যদি কখনো এমন অন্যায় হয়ে যায়। যা কোনো বান্দা হিসেবে করা ঠিক নয়। তখন তৎক্ষণাৎ ওই ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেবে। এমনিভাবে কোনো মানুষের কাছে অন্যায় করে ফেললে, তার থেকেও মাফ চেয়ে নিতে হবে। নিজের ভাই বোনদের সাথেও যদি খারাপ আচরণ করে ফেলে, অথবা ঝগড়া করে বা তাদের মনে কোনো কষ্ট দেয়, তবুও তাদের থেকে মাফ চেয়ে নেবে। অতঃপর শিশুকে বলতে হবে, এখন আল্লাহর কাছেও মাফ চেয়ে নাও। যাতে আল্লাহ তোমার উপর নারাজ না থাকেন। সর্বদা আল্লাহর অসন্তুষ্টির বিষয়টি তার মনে জাগিয়ে দিতে হবে, ভালো কাজ করলে আল্লাহ খুশি হন আর অন্যায় কাজে তিনি নারাজ হন। অবস্থা যেন এমন হয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির বিষয়টি তার জীবনের মূল (লক্ষ-উদ্দেশ্য) হয়ে থাকে। এটা শিশুর লালন-পালনের জন্য খুবই জরুরি বিষয়।

📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 শিশুর কাছে বড়দের থেকে পাওয়ার মতো কিছু আশা না করা

📄 শিশুর কাছে বড়দের থেকে পাওয়ার মতো কিছু আশা না করা


তবে তার অর্থ কিন্তু কখনোই এই নয় যে, শিশুকে প্রথম থেকেই বন্দিশালায় আবদ্ধ করে রাখবেন। যাতে করে সে আর খেলা-ধুলা ও আনন্দ-উল্লাসের অবকাশও না পায়। শিশুর খেলার বয়সই তো এখন। সুতরাং বৈধ যতো রকমের খেলা-ধুলা হতে পারে, আনন্দ ও বিনোদনের যত জায়েজ পদ্ধতি আছে, তাকে করতে দেবেন। দৌড়া-দৌড়ি ও লাফা-লাফি করতে যথেষ্ট ব্যবস্থা করে দেবেন। এতে তার শারিরীক গঠনও বৃদ্ধি পাবে, এবং জ্ঞান-বুদ্ধিও প্রখর হবে।

শিশু তো শিশুই। খেলাধুলা যদি না করে, তাহলে তার শারীরিক গঠন বৃদ্ধি ও মানবিক স্বভাব উন্নত হবে কী ভাবে? তাই তার মতো করে তাকে বেড়ে উঠতে দিতে হবে।

আরেকটি ব্যাপার হলো। শিশুর থেকে অতটুকুই পাওয়ার আশা রাখবেন; যতটুকু একটি শিশু থেকে পাওয়া সম্ভব। তাদের থেকে বড়দের মতো বড় কিছু আশা করবেন না। বাচ্চারা কাঁচা হয় (যেমন কাঁচা আম), অপরিপক্ক হয়। তাই এখনকার কথা তারা এখনই ভুলে যায়। এই তার শিশুসুলভ কাঁচা আচরণ। নিষ্পাপ কথা কখনো কখনো ক্ষমাও করে দিতে হবে। কিছু সময়ে দেখেও না দেখার ভান করতে হবে। কেমন যেন তার এই ভুলটি আপনি দেখেন-ই-নি। এরকম লালন-পালন তার বেড়ে উঠার জন্য ও তার প্রতিভা বিকাশের জন্য খুবই সহায়ক হবে।

📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 শিশুদের প্রতি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা

📄 শিশুদের প্রতি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা


এ ব্যাপারে ইমাম শাফেঈ রহ-এর একটি ঘটনা শুনেন: ইমাম শাফেঈ রহ.-এর তখন মাত্র তেরো বছর। এই ছোট বয়সেই তিনি দ্বীনের অনেক ইলম শিখে নিয়ে ছিলেন।

শুধু তাই নয়, এই অল্প বয়সেই এক জায়গায় মানুষদেরকে কুরআন শিক্ষার দরস দিতেন এবং তার সে দরসে তখন অনেক মানুষও হতো। এত অল্প বয়সে এত ছাত্রদের শিক্ষক। যদিও বিষয়টি আশ্চর্যের কিন্তু সত্য। আমাদের মনীষীগণ এবং ইসলামের আগের স্কলারগণ এরকমই ছোট বয়সে অনেক বড় বড় যোগ্যতা ও কৃতিত্বের সাক্ষর রেখেছেন। খাজা মাসুম রহ.-এর কথাই ধরুন না.. তিনি তার পিতা মুজাদ্দেদে আলফে সানী রহ. থেকে বারো বছর বয়সেই খেলাফত লাভ করেছিলেন। এরকমই আগেকার মনীষীরা ছোটকাল থেকেই নেককার হতেন। মায়ের কোল থেকে তারা নেক সোহবত অর্জন করতেন। এভাবে পরবর্তীতে দেখা যেত, বারো পনেরো বছর বয়সেই দ্বীনের অনেক জ্ঞান অর্জন করে ফেলতেন। এবং ওলীদের অনেক উঁচুস্তরে পৌঁছে যেতেন।

যাই হোক, ইমাম শাফেঈ রহ. তিনিও ছোটকাল থেকে কোরআনের দরস দিতে লাগলেন। তার দরসে অনেক বয়োবৃদ্ধ ও দাড়িপাকা লোকও এসে শিক্ষা নিত। তার ইলম ও মারেফতের নূর থেকে উপকৃত হতো। এমনই একদিন ইমাম শাফেঈ রহ. কোরআনের দরস দিচ্ছিলেন। কোরআনের তাফসীর তথা ব্যাখ্যা শোনাচ্ছিলেন। হঠাৎ দু'টি চড়ুই পাখি ঝগড়া করতে করতে তার সামনে উড়ে এসে বসল। পাখি দু'টি সামনে আসতেই ইমাম শাফেঈ রহ. নিজের মাথা থেকে পাগড়ি খুলে পাখি দু'টির উপর রেখে দিলেন। আর চড়ুই দু'টিও আটকে গেল।

এদিকে দরসে যারা বয়সে বড় ও বৃদ্ধ ছাত্র ছিলেন, তাদের এই বিষয়টি ভালো লাগল না। কোরআনের দরস চলছে, তার মাঝে এই চড়ুই নিয়ে খেলা, এটা তাদের মনে দুষ্টামি আচরণের মতো মনে হলো। তারা ইমাম সাহেবের দিকে অন্যরকম দৃষ্টিতে তাকাতে লাগল। ইমাম শাফেঈ রহ.-এর জ্ঞানের প্রাজ্ঞতা ছিল। যদিও অল্প বয়স, তাই তিনি তাদের চেহারা দেখে বুঝে ফেললেন। সেই মুহূর্তে ছাত্রদের মনের ভাবনাটা ঠিক ধরতে পারলেন। তাই তিনি পাগড়ি তুলে নিয়ে আবার নিজের মাথায় নিজেই বেঁধে নিলেন। তারপর সবাইকে লক্ষ করে বললেন, আপনারা একটি হাদীস শোনেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
الصبي صبي ولو كان ابن نبي
'শিশু তো শিশুই, যদিও সে কোনো নবীর সন্তান।'

এই হাদীস শোনানোর পর ইমাম শাফেঈ রহ.-এর প্রতি যাদের মনে একটু অভক্তি এসেছিল, তারাও এখন সন্তুষ্টি ও তৃপ্তির হাসি হাসতে লাগল এবং নিজেদের উস্তাদের প্রতি তাদের ভালোবাসা ও ভক্তি আরো বাড়িয়ে দিলো। মূলকথা হলো, শিশু নিষ্পাপ। আর তার আচরণ শিশুর মতোই কোমল ও নিষ্পাপ।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের খুব আদর করতেন। শিশুদের প্রতি তিনি ছিলেন দারুণ দুর্বল। হযরত আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহুর ঘটনা : হযরত আনাস রা. ছিলেন তখনও খুব ছোট। সেই ছোটকাল থেকেই তিনি নবীজির খেদমত করতেন। সব সময় নবীজির সাথেই থাকতেন।

হযরত আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু তার নিজের ঘটনা নিজেই বর্ণনা করেন, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কাজের হুকুম করে আমাকে বললেন, আনাস! কাজটা করে এসো তো। আমি নবীজির হুকুম পেয়ে কাজটি করার জন্য ঘর থেকে বের হলাম। কিছু দূর গিয়ে অন্য ছোট ছোট ছেলেদের খেলা দেখে আমার ভালো লাগল এবং আমি দাঁড়িয়ে তাদের খেলা দেখতে লাগলাম। এভাবে অনেকক্ষণ যাবৎ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের খেলাধুলা উপভোগ করলাম। এদিকে নবীজি আমার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু আমার বিলম্ব দেখে নবীজি নিজেই এই রাস্তা ধরে হেঁটে আসতে লাগলেন। তিনি এসে আমাকে দেখলেন, আমি এখানে দাঁড়িয়ে ছোটদের খেলা দেখছি। তিনি আমার নিকট আসলেন, আমার মাথায় মমতা মাখা কোমল হাত রাখলেন। তারপর আদর করে বললেন, আনাস! আমি তোমাকে যে কাজটি করতে বলেছিলাম, যাও তা দ্রুত সেরে ফেলো। আমি নবীজির গোলাপের মতো সুন্দর চেহারার দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম, হ্যাঁ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এখনই যাচ্ছি।

আল্লাহর নবী তখন আমার সাথে রাগও করেননি এবং আমাকে বকাঝকাও করেননি। আমার এই শিশুসুলভ আচরণ দেখে তিনি আরেকবার স্মরণ করিয়ে দিলেন, যাও আনাস! কাজটা সেরে ফেলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোটদের সাথে এভাবেই আচরণ করতেন। আরেকবাবের ঘটনা, আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একবার আমাকে আমার মা খেজুরের একটি বড় ঝোপা আমার হাতে দিয়ে বললেন, যাও, এটা নবীজিকে হাদিয়া দিয়ে এসো।

তিনি বলেন, আমি মার কথামতো খেজুরের ঝোপাটি নিয়ে নবীজির বাড়ির দিকে রওয়ানা হলাম। আমি তখন ছোট ছিলাম। বয়স অনেক কম ছিল। তাই ছোটদের মতো খেয়াল হলো, দেখি খেজুরগুলো মিষ্টি কি না? ঝোপা থেকে একটি খেজুর মুখে দিতেই দেখলাম, বাহ! অনেক মিষ্টি তো! খেজুরের এই অসাধারণ স্বাদ পেয়ে আমি আর লোভ সামলাতে পারলাম না। এক এক করে ছিঁড়ে খেতে লাগলাম, আর নবীজির বাড়ির দিকে হাঁটতে লাগলাম। অনেকক্ষণ পর নবীজির ঘর সামনে দেখে আমার এখানে আসার কারণ মনে হলো। আর ততক্ষণে হাতের দিকে তাকিয়ে দেখি খেজুরের গুচ্ছও খালি হয়ে গেছে। শুধু ডালগুলো আমার হাতে ঝুলছে। আমি দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগলাম, নবীজির কাছে গিয়ে আমি কি বলব? বিষয়টি নিয়ে আমি খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম।

এভাবে অনেক দিন যাওয়ার পর একবার রাসূল আমাদের বাড়ি এলেন। আমার মা পর্দার ওপার থেকে নবীজির সাথে কথা বলছিলেন। কথার এক ফাঁকে আমার মা নবীজিকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ওইদিন আনাসকে দিয়ে কিছু খেজুর পাঠিয়ে ছিলাম। খেজুরগুলো কেমন ছিল? নবীজি বললেন, না, কোনো খেজুর তো আমার কাছে পৌঁছেনি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝে ফেললেন, খেজুর সব আনাসের পেটে ডুকেছে।

তারপর থেকে যখনই নবীজির সাথে আমার দেখা হতো, হাসি মুখে আমার দিকে তাকাতেন এবং আদর করে কানে ধরে বলতেন, এই আনাস! আমার খেজুরের গুচ্ছ কোথায়? এই কথা বলে তিনিও হাসতেন এবং আমিও হাসতাম। ব্যাস এরপর অন্য প্রসঙ্গ তুলতেন। তো এই ছিল ছোটদের প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা, এবং ছোটদের শিক্ষা দেয়ার এই ছিল স্নেহভরা শাসন।

হযরত আনাস (রাযি.) এই বিষয়ে নবীজির থেকে আরেকটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার একটা ছোট ভাই ছিল। সে একটি তোতা পাখি পালত। পাখিটিকে সে খুব আদর করে লালন-পালন করেছিল এবং পোষ মানিয়েছিল। একদিন হলো কি, সেই পাখিটি মারা গেল। আর এ খবর প্রিয় নবী জানতে পারলেন। তারপর থেকে তিনি যখনই আমাদের ঘরে আসতেন, আমার সেই ভাইকে খুশি করার জন্য এবং তাকে আনন্দ দেওয়ার জন্য কাছে ডাকতেন এবং আদর করে বলতেন,
يَا أَبَا عُمَيَرْ مَا فَعَلَ التَّغَيَ
'হে আবু ওমায়ের! তোমার পাখিটি তোমার সাথে এ কেমন আচরণ করল বলোতো? (সে তোমাকে ছেড়ে চলেই গেল।)'

নবীজি ছোটদের সাথে এরকমই আচরণ করতেন, যাতে তাদের সঙ্গে সহজে মেশা যায় এবং তাকে প্রফুল্ল ও উৎফুল্ল করে তোলা যায়। এভাবে নবীজি ছোটদের সাথে শিশুসুলভ ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের খুব আপন বন্ধু হয়ে যেতেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00