📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 সরাসরি আদেশ না করে কৌশলে কাজ করানো

📄 সরাসরি আদেশ না করে কৌশলে কাজ করানো


আরেকটি সূক্ষ্ম বিষয় মাথায় রাখবেন, শিশুকে আদেশ মানানোর জন্য ঘাড় বেঁকে বা আঙ্গুল উঁচিয়ে সরাসরি কোনো Order (হুকুম) দেবেন না, আমি তোমাকে অর্ডার দিচ্ছি, তোমাকে এটা করতেই হবে। না-এভাবে নয়। আল্লাহ হেফাজত করুন! যদি শিশু আপনার এই হুকুমটি না মানে তাহলে এক্ষেত্রে আপনার জন্যই সে গুনাহগার হলো। আমাদের বুযুর্গদের অভ্যাস ছিল, তারা শিশুদেরকে আদেশ করতেন কিন্তু খুব আদর-সোহাগ করে। বাবা! যদি তুমি এটা করে দাও তো আমার বড় উপকার হবে। আব্বু! যদি তুমি আমায় এটা করে দাও তাহলে আমি তোমায় অনেক দুআ দেব। যখন আপনি এমন ভাষায় কথা বলবেন, আর শিশুটিও হুকুম মতো কাজ করে দেবে, তবে সত্বরই সে দুআ পেয়ে যাবে। আর যদি না মানে তাহলে কমপক্ষে গুনাহগার হওয়া থেকে বেঁচে যাবে। তখন সে অবাধ্যতার অভিশাপ থেকেও বেঁচে যাবে। শৈশবের জীবন নিষ্পাপ জীবন। একথা তার পুরো জানা নেই যে, বড়দের হুকুম অমান্য করার কি অশুভ পরিণতি ঘটতে পারে। তাই এ কারণে শিশুকে অভিশাপ থেকে বাঁচানোর জন্য কখনো Diract order pass করবেন না। তার সহযোগী হয়ে পরামর্শদাতার মতো হয়ে বলবেন, আব্বু! পুরো গ্লাস ভরে পানি আনলে ভালো হবে। এভাবে পরামর্শদাতা হিসেবে কথা বলবেন। যাতে শিশু কাজটা করে ফেলে এবং তার বিনিময়ে সওয়াবের ভাগি হয়ে যায়। আল্লাহ না করেন, যদি সে নাও মানে; এক্ষেত্রে না-মানার বেয়াদবী-ও অবাধ্যতার দাগ তার কোমল অন্তরে লাগতে পারবে না।

মা তো হয় অনেক দয়া ও মায়ার অধিকারিনী। যার ফলে সন্তানের মনের ব্যথার অবস্থাও সহ্য করতে পারেন না। যে মা নিজের সন্তানের জুতার তলাকেও চকচকে দেখতে পছন্দ করেন, যদি ব্রাশ নাও পায় তবে নিজের কাপড়ের আঁচল দিয়ে হলেও পরিষ্কার করে দেন। সে মা কিভাবে নিজের সন্তানের দিলে খারাপ-কুস্বভাব নিয়ে বড় হোক; তা পছন্দ করবেন? কিন্তু তিনি নিজেও জানেন না, সন্তান লালন-পালন কীভাবে করতে হবে। তাই এ সকল ব্যাপারে খুব সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 শিশুকে গোলাম বানানো যাবে না

📄 শিশুকে গোলাম বানানো যাবে না


শিশুকে গোলাম বানানো যাবে না, আবার শেঠও বানানো যাবে না। কোনো মা এমন আছেন, যারা শিশুকে এতই কন্ট্রোল ও শাসনে রাখেন, যার ফলে শিশুর ব্যক্তিত্ব ও যোগ্যতায় কোনো কিছুই বিকাশ হয় না।

📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 শেঠও বানানো যাবে না

📄 শেঠও বানানো যাবে না


আবার কেউ তো শিশুকে ছোট থেকেই জমিদারী শেখায়, যার ফলে এক সময় তার নিকট জমিন আর জমিন মনে হয় না বরং সে শুধু হাওয়ায় উড়তে থাকে। তাই শিশুকে এরকম Ex-theorems (বিস্তীর্ণ) উঁচুতে উঠিয়ে, লাইন বিচ্যুতি করার চেষ্টা করবেন না।

স্মরণ রাখবেন, শিশু হলো তরল ও নরম পদার্থের মতো। তাকে যে রকম ডাইশে দেওয়া হবে, সে ওই রকম আকৃতিই ধারণ করবে। মোটকথা শিশুকে বুঝানো এবং সুন্দর মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব প্রথমে মাকেই নিতে হবে।

📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 শিশুর পরিচর্যা কীভাবে করবেন? অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু উদাহরণ

📄 শিশুর পরিচর্যা কীভাবে করবেন? অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু উদাহরণ


আপনাকে একটি সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে দিচ্ছি, যা নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে পেয়েছি এবং যার অনেক ফায়দাও এ জীবনে দেখেছি। আপনি নিজেও পরীক্ষা করে দেখবেন, ইনশাআল্লাহ ফল দেখতে পাবেন। যখন আপনার সন্তানের মাদরাসায় বা স্কুলে যাওয়ার মতো বয়স হয়ে যাবে। ছোট হোক বা বড়, যখনই সে বাসায় ফিরবে এবং দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। ওই সময়টা বড়ই precious moment (বড় মূল্যবান) সময়। তখন বিশেষ একটি মুহূর্তের অবতারণ হয়।

মা কখনো শিশুকে unattended (উদাস মনে) বেপরোওয়া ভাব নিয়ে ঘরে প্রবেশ করতে দেবেন না। বরং যখনই সন্তান ঘরে আসবে তখনই তাকে স্বরণ করিয়ে দেবেন যে, বেটা! যখনই ঘরে ঢুকবে আমি যেখানেই থাকি তুমি এসে প্রথমে সালাম করবে। যদি শিশু সালাম না করে তবে নিজে সালামের অভ্যাস করিয়ে দেবেন। শিখিয়ে দেবেন। আর যদি শিশু ভুলে যায়, এমতাবস্থায় শিশুকে পুনরায় বাইরে পাঠিয়ে বলবেন, আব্বু! দরজার বাইরে যাও এবং আম্মুকে সালাম দিয়ে আবার প্রবেশ করো। এটা আমাদের নবীজির সুন্নাত, তোমার অনেক সওয়াব হবে। যাও আবার সালাম দিয়ে প্রবেশ করো। শিশু যখন বারবার এভাবে সালাম করবে, এতে করে তার মাঝে ওই সুন্নাতটার আমল চলে আসবে। যখন শিশু মাদরাসা বা স্কুল থেকে এসে আপনাকে সালাম করবে। তখন আপনিও সব সময় তার সালামের উত্তর দেবেন। জবাব দেওয়ার পর তাকে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করবেন, আব্বু! আজকে মাদরাসায় কেমন কেটেছে? এভাবে তিন-চার মিনিট সন্তানের সাথে কাটিয়ে দেন। আদর করে তাকে ছোট ছোট কিছু প্রশ্ন করেন। বেটা! আজ মাদরাসায় কেমন কাটল? দেখবেন একটু হাফ ছেড়ে একে একে আপনাকে সব কিছু বলে দেবে। এক্ষেত্রে যত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই সে আপনাকে বলুক, আপনি silent (চুপ) হয়ে শুনবেন। যতক্ষণ না তার সব কথা শেষ হবে। আপনি শুধুই শুনেন। আজ উস্তাদজী এটা বলেছেন। আজ আমি পুরস্কার পেয়েছি। আজকে আমার উপর মার পড়েছে। ওই বন্ধু এটা বলেছে। এরকমভাবে যখন শিশুটি সব বলতে থাকবে। তখন ভালো কাজের উপর তাকে শাবাশ দেবেন। আর খারাপ বিষয়গুলোর উপর সতর্ক করে দেবেন যে, বেটা! তোমার বন্ধু তোমাকে এটা ঠিক বলেনি, এটা এরকম নয় বরং ওরকম হবে। মোটকথা, শিশু আট ঘণ্টার মাঝে যা কিছু শিখেছে, তার মধ্যে ভালো বিষয়গুলো আপনি তার মনে মজবুত করে বসিয়ে দিলেন। আর অন্যায় কাজগুলো আপনি তার থেকে নিখোঁজ করে দিলেন। এভাবে আপনার আট মিনিটের মেহনত আট ঘণ্টার শিক্ষাকে মজবুত ও পরিশুদ্ধ করে দিল।

আর যদি আপনি শিশুটি বাড়ি ফেরার পর কিছুই জিজ্ঞাসা না করেন। তাহলে সে ক্লাসে যা শুনেছে, আর বন্ধুর থেকে যা শিখেছে, এখন ওইসব ভালো হোক বা মন্দ; সকল বিষয়ের একটি প্রতিচ্ছবি তার মনে গেঁথে যাবে। বন্ধুর কথা মাথায় নিয়ে নেবে। এই জন্য এই কয়েক মিনিট সময় আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যখনই শিশু বাইরে থেকে আসবে, প্রথমে সালাম করবে, তারপর আপনার ঘরে প্রবেশ করবে। সালামের উত্তর দিয়ে আপনি অবশ্যই জিজ্ঞাসা করবেন, আব্বু! আজ মাদরাসায় সারা দিন কিভাবে কাটল? মেয়েকে জিজ্ঞাসা করবেন, আম্মু! মাদরাসায় আজ সারা দিন কি কি শিখেছ? সেও আপনাকে অল্প কথায় বলে দেবে, আম্মু! আজ এই হয়েছে, ওই হয়েছে। আপনি খেয়াল করে শুনবেন এবং ভালো কথায় বাহ্ বাহ্ দিবেন। আর খারাপ বিষয়ে তাকে সাবধান করে দিবেন, এটা ভালো নয়। তোমার বন্ধুর এ কথা ঠিক নয়। এমন কথা ভালো নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00