📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 শিশুকে প্রথম থেকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় অভ্যস্ত করা

📄 শিশুকে প্রথম থেকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় অভ্যস্ত করা


শিশুর জন্য আরেকটি জরুরি কাজ হলো, শিশুকে ছোটকাল থেকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় অভ্যস্ত করা। এটা মা-বাবার দায়িত্ব। তাকে একথা বুঝানো, 'আল্লাহ তাআলা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকাকে পছন্দ করেন والله يحب المتطهرين। অন্য জায়গায় বর্ণিত হয়েছে, الطهور نصف الايمان 'পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক', এখন একথা কেউ মনে করতেই পারে, আল্লাহ তাআলা তো সন্তানের পরিচ্ছন্নতাকে পছন্দ করেছেন, সুতরাং সে নিজে নিজেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা শিখে নেবে। বিষয়টা এমন নয় বরং ভালো সন্তান এমনিতেই সৃষ্টি হয় না। ভালো সন্তান তো শিক্ষা দিয়ে তারবিয়াতের মাধ্যমে গড়ে তুলতে হয়। আদর্শ মা তার স্নেহময়ী কোল থেকেই ভালো করে গড়ে দেন। গরমের মৌসুমে সন্তানকে প্রত্যেক দিন গোসল করানো। জামা কাপড় ময়লা দেখলে সাথে সাথে পালটিয়ে দেওয়া। বিছানা কখনো অপবিত্র অবস্থায় রেখে না দেওয়া; সাথে সাথে পরিষ্কার করে নেওয়া। মোটকথা, সন্তানের জন্য নিয়মতান্ত্রিক এই সকল কাজ আঞ্জাম দেওয়া এটাও 'দ্বীন-ইসলাম' মানার শামিল। এর জন্য মা বিনিময়ে অবশ্যই অনেক সওয়াব ও পুরস্কারের অধিকারিনী হবেন। তাই প্রথম থেকেই শিশুর লালন-পালনের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা অবশ্য কর্তব্য।

📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 শিশুকে কথা বলার আদব শেখানো

📄 শিশুকে কথা বলার আদব শেখানো


শিশুকে সুন্দর ভাষায়, আদবের সাথে কথা বলা শিক্ষা দেওয়া উচিত। কোনো কোনো শিশু 'তুমি, তোমরা' বলে সম্বোধন করে। তাদেরকে বুঝানো যে, বেটা! 'আপনি' বলার দ্বারা মুহাব্বত বাড়ে। তাই ছোটদেরকেও আপনি বলে ডাকো, এবং বড়দেরকেও আপনি বলে সম্বোধন করো। শিশু যদি শুধু 'হ্যাঁ' বলে, তবুও তাকে শেখানো, বেটা, 'জী হ্যাঁ' বলার দ্বারা মুহাব্বত বৃদ্ধি পায়। এভাবে ছোট ছোট কথাগুলো শিশু তার মায়ের কোলেই শিখে নেবে। পরবর্তীতে এগুলো তার স্মরণে গেঁথে যাবে, অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে। স্মরণ রাখতে হবে, মানুষ তার ছোটবেলার কথা, শৈশবের স্মৃতি বার্ধক্যেও ভুলে না। সারাজীবন তা স্মরণে রাখে। এজন্য শিশু সন্তান লালন-পালন যেন সুন্দর থেকে সুন্দর হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এটা শত সিদ্ধ কথা, যে ঘাস বন-জঙ্গলে ডালে-খালে জন্মায় তা বাগানের চাষ করা ঘাসের মতো হয় না। জঙ্গলে জন্মানো ঘাসের মাঝে কোনো সৌন্দর্য থাকে না। কারণ, এর পরিচর্যা হয় না। আর নার্সারী বা বাগানের ঘাস খুব সুন্দর ও আকর্ষণীয় এবং মনমাতানো হয়।

ঠিক তেমনি ভাবে, যে মায়ের মধ্যে দ্বীন-ধর্মের কোনো ভালাই নেই, শিক্ষা-দিক্ষার কোনো আলো নেই। এমন মায়ের লালিত-পালিত সন্তান জঙ্গলের ঘাসের মতো হয়। আর যে মা নেককার হয়, ইসলামী শিক্ষা-দীক্ষায় আদর্শবান মা হয়, এমন মায়ের লালিত-পালিত সন্তান নার্সারী বা বাগানের সু-সজ্জিত, মন জুরানো ফুলের মতো হয়। তাই সকল মা যেন তার নিজ কলিজার টুকরা সন্তানের সুন্দর প্রতিপালনের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখেন।

📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 শিশু রাগী কেনো হয়?

📄 শিশু রাগী কেনো হয়?


এ কথাও স্মরণ রাখতে হবে, যখন শিশু তার চাহিদা মোতাবেক কোনো জিনিসই পাবে না। তার ব্যাপারে কোনো গুরুত্ব কারো মাঝে সে দেখবে না, তখন শিশু জিদ ধরে কেঁদে কেঁদে তার কথা ও দাবির গুরুত্বকে তুলে ধরার চেষ্টা করবে। এভাবে শিশুর মাঝে স্বভাবগত একটি চাহিদা সৃষ্টি হয়। আর তা হলো, 'সে তার গুরুত্ব চায়।' যদি শিশুকে অবজ্ঞা করা শুরু হয়, তবে শিশুটি হয়তো কান্না করাকেই সর্বশেষ উপায় হিসেবে বেছে নেবে। না হয় জিদ ধরবে অথবা হুকুমটি অমান্য করে বসবে। আর বাস্তবে যে করেই হোক সে আপনার থেকে তার গুরুত্বের দাবি করে যাবে। মাকে এ ব্যাপারটি বুঝার চেষ্টা করতে হবে। যদি শিশুকে আপনি গুরুত্ব দেন তাহলে শিশু রাগ করবে না, বরং দ্রুত হুকুম পালন করে দেখাবে। শিশুর কাজে বা ইচ্ছা পূরণে যখন কোনো বাধা আসে এবং কঠিন ধর-পাকড়ের মাঝে পড়ে, তখনই শিশুর রাগ উঠে। প্রতিটি মায়ের কর্তব্য হলো, তিনি যেন শিশুর ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করেন।

স্মরণ রাখবেন, প্রতিটি শিশু ভিন্ন ভিন্ন মন-মানসিকতা নিয়ে দুনিয়াতে আসে। জরুরি নয় যে, একই মা-বাবার থেকে যত সন্তানাদি জন্মগ্রহণ করবে তারা সকলেই সমান যোগ্যতা সম্পন্ন হবে। বরং কোনো শিশুর মধ্যে অযোগ্যতা ও মুর্খতা প্রবল থাকে, কারো মধ্যে লজ্জাশীলতা বেশি, আবার কারো মধ্যে বীরত্ব ও সাহসিকতা বেশি থাকে, তেমনই কারো মধ্যে জিদ এবং অভিমান বেশি থাকে। একেক শিশু একেক স্বভাবজাতে তৈরি হয়।

📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 শিশুর ব্যক্তিত্ব বুঝার উপায়

📄 শিশুর ব্যক্তিত্ব বুঝার উপায়


মায়ের জন্য উচিত, তিনি শিশুর ব্যক্তিত্ব বুঝার চেষ্টা করবেন। শিশুর ব্যক্তিত্ব বুঝার তিনটি উপায় :

প্রথমত, মাকে এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে যে, যখন আমি শিশুকে কোনো কাজ করতে বলি, তখন তার মানসিক অবস্থা এবং চেহারার অবস্থা কিরূপ হয়। কখনো দেখা যাবে 'হুকুম' সাথে সাথেই মেনে নেয়। আবার কখনো দেখা যাবে, আদেশ মানছে না। অমান্য করছে। বিষয়টি মাকে সর্বদা খেয়াল রাখতে হবে। সুতরাং যখন এরকম খেয়াল রাখা হবে, তো এক সময় তিনি বুঝে যাবেন যে, আমি আমার কোন বাচ্চাকে কি ভাবে মানুষ করব। এভাবে একটু সজাগ দৃষ্টির মাধ্যমে শিশুর ব্যক্তিত্ব বুঝার উপায় বের করা যাবে।

দ্বিতীয়ত, যদি কোনো শিশু খারাপ কথা বা আচরণ করে ফেলে, তো পরবর্তীতে যখন ভালোবাসা বা আদর সোহাগের সময় উপস্থিত হয়, তখন সে বাচ্চাটি যে নাকি এক সময় রাগ করেছিল, হুকুম অমান্য করেছিল এবং স্নেহময়ী মায়ের হাতে চরও খেয়েছিল; অল্প কিছু সময় পরই খানা খাওয়ার সময় আম্মুর সাথে সুন্দর ব্যবহার করে। মিষ্টি মধুর আলাপ করে। আপনি যখন এরকম দেখবেন, সে সময় আপনি তাকে কিছু প্রশ্ন করবেন, বেটা! তুমি এমনটা তখন কেন করেছিলে? তোমার মনে কি চিন্তা ছিল? এভাবে মা শিশুটিকে কিছু প্রশ্ন করবেন। এরূপ জিজ্ঞাসার ফলে শিশুর মানসিক অবস্থাটা সামনে আসবে। এটা শিশুর মানসিক রুচিবোধ বুঝার দ্বিতীয় আরেকটি প্রদ্ধতি।

তৃতীয়ত, শিশুর সাথে আচরণ করা হবে, সে যেরূপ ব্যবহারের উপযুক্ত। শিশুর কাছ থেকে জেনে নিবেন, বেটা! একটা কথা বলো, যখন আমি তোমাকে কোনো কথা বলি এবং তুমি তা মাথা পেতে মেনে নাও এতে আমি খুবই খুশি হই, কিন্তু কখনো কখনো কিছু হুকুম যা তুমি মানো না। এর কারণ কি? এতে কি তুমি কোনো কষ্টবোধ করো? এভাবে সন্তানের কাছ থেকে মাশওয়ারাহ চাইবেন। তখন দেখবেন, সন্তান জবাব দিবে যে, এই এই কারণে আমি আপনার কথা মান্য করতে পারিনি। এবং নিজে নিজেই তখন অনুতপ্ত হবে।

মোটকথা তিন জিনিসের মাধ্যমে শিশুর ব্যক্তিত্ব ও মানসিকতা বুঝে আসে।
(১) সজাগ ও সচেতন তত্বাবধান,
(২) বিভিন্ন বিষয় জিজ্ঞাসার মাধ্যমে,
(৩) এবং শিশুর সাথে পরামর্শের মাধ্যমে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00