📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 ওযুর সাথে খানা পাকাবেন

📄 ওযুর সাথে খানা পাকাবেন


সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম যে জিনিসটি লক্ষণীয় তা হলো, যখনই খানা পাকানো হবে ওযুর সাথে যেন খানা পাকানো হয়। যদি ওযু রাখা কষ্টকর হয়, তো কমপক্ষে কোনো যিকির-আযকারের সাথে পাকাতে থাকা। মুখে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার পড়তে থাকা। অথবা লা ইলাহা ইলাল্লাহু পড়তে থাকা।

এই যিকিরগুলো নারীরা সব সময়ই করতে পারেন। শরীর পবিত্র অবস্থায়ও করতে পারেন। অপবিত্র অবস্থায় শুধুমাত্র কুরআন তেলাওয়াত এবং নামাজ পড়া থেকে নিষেধ করা হয়েছে। বাকি অন্য সকল যিকির-আযকার মুখে সব সময় জারি রাখা যায়। তাহলে খানা পাকানোর সময় যদি আপনি আল্লাহ পাকের যিকির করেন, তাহলে অবশ্যই এর বরকত দেখতে পাবেন। আর যখন পবিত্র অবস্থায় থাকেন এবং আপনার কিছু সূরাও মুখস্থ থাকে, তো সেগুলোও পড়তে থাকবেন, যাতে কুরআন পড়ার বরকত আপনার খানাতেও এসে যায়। আর মহিলা সাহাবীগণ (রাযি.) এভাবেই খানা পাকাতেন। এভাবেই তারা ঘরের কাজ করতেন।

📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 ওযুর সাথে খানা পাকানো সাহাবীয়াদের (রাযি.) আমল

📄 ওযুর সাথে খানা পাকানো সাহাবীয়াদের (রাযি.) আমল


একজন মহিলা সাহাবী (রাযি.) নিজ পরিবারের জন্য রুটি তৈরি করছেন, গরম তাওয়ায় রুটি দিচ্ছেন, রুটি হয়ে গেলে নামিয়ে নিচ্ছেন, আরেকটা দিচ্ছেন। এভাবে যখন সব রুটি ছেঁকা শেষ হলো, তখন সাথের সহযোগীকে বললেন, বোন! আমার রুটিও পাকানো শেষ হলো আর ওদিকে কুরআন থেকে তিন পারা তেলাওয়াতও করে নিলাম, আলহামদুলিল্লাহ।

বুঝা গেল ঐ সাহাবীয়া (রাযি.) যতক্ষণ রুটি ছেঁক ছিলেন, ততক্ষণ মুখে আল্লাহ পাকের কালামও পড়ছিলেন। এটাই ছিল সাহাবীয়াদের পদ্ধতি বা সুন্নাত, আপনিও এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন। বেশ কিছুদিন আগের ঘটনা; করাচিতে আমার এক দোস্তের ঘরে মেহমান হয়েছিলাম। এক পর্যায়ে সে দোস্ত বললেন, হযরত! আপনার আপ্যায়নের এই সকল খানা ঘরেই পাকানো হয়েছে। আর আমার আহলিয়া (বিবি সাহেবা) এসব ব্যবস্থা করতে ২১ বার সূরা ইয়াসিন খতম করেছেন।

খুবই খুশি হয়ে ছিলাম এ ভেবে যে, এখনো আল্লাহর নেককার বান্দিরা এমন আছেন, যারা ওযুর সাথে খানা পাকান আর মুখে কুরআনের তেলাওয়াত করতে থাকেন। ছোট ছোট সূরাগুলো মুখস্থ থাকলে সেগুলোও পড়তে থাকবেন। সূরা ইখলাস তো প্রত্যেক মুসলমানেরই মুখস্থ থাকে। শুধু এটা পড়তে থাকলেও চলবে। তবে অপবিত্র অবস্থায় কোনো সূরা পড়া যাবে না; এমতাবস্থায় সুবাহান্নাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার এই কালিমাগুলো যিকির করা যাবে। হাদীস শরীফে এসেছে :
كَلِمَتَانِ خَفِيفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ ثَقِيْلَتَانِ فِي الْمِيزَانِ حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمَنِ سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللهِ العَظِيم.

বিখ্যাত হাদীস গ্রন্থ বুখারী শরীফের সর্বশেষ হাদীসে এরূপই এসেছে। দু'টি কালিমা এমন আছে যা পড়তে খুবই সহজ, কিন্তু মিজানের পাল্লায় খুবই ভারী আর আল্লাহর নিকটও খুবই প্রিয়। তা হলো, 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী, সুবহানাল্লাহিল আযিম।'

📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 ওযুর সহিত খানা পাকানোর সুফল

📄 ওযুর সহিত খানা পাকানোর সুফল


আপনি যখন কুরআন পড়ে, যিকির-আযকার করে খানা পাকাবেন। আর এ খানা ঘরের কর্তা যখন খাবে, তো তার দিলে নেকী এবং ভালো তাআলার যিকিরের সাথে পাকানো হয় তবে সু-নিশ্চিত ভাবে বলা যায়, ওই খানার ফলে শরীরের শিরা-উপশিরায় আল্লাহ তাআলার মুহাব্বতের তৃষ্ণা পয়দা হবে।

পক্ষান্তরে যদি হারাম খানা অথবা দুআ ও যিকির-আযকারহীন (গাফলতের সাথে) পাকানো খাদ্য খায়, তবে এর দ্বারা শরীরে যে শক্তি সংগ্রহ হয়, মানুষ তা অন্যায় কাজে ব্যয় করে থাকে। যে মা তার আদরের সন্তানটিকে পবিত্র ও হালাল খাদ্যের মাধ্যমে বড় করেন, তিনি যেন তার সন্তানকে অর্ধেকের চেয়েও বেশি গড়ে দিলেন, মানুষ করে দিলেন। সন্তানকে নেককার ও ভালো মানুষরূপে গড়তে এটা এমনই বিরাট প্রভাব রাখে।

সুতরাং সন্তানকে যিকিরওয়ালা খানা খাওয়ানো, ওযুর সাথে খানা খাওয়ানো, আল্লাহ তাআলা এর সুফল শিশুর জীবনে অবশ্যই দান করবেন।

📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 শিশুকে প্রথম থেকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় অভ্যস্ত করা

📄 শিশুকে প্রথম থেকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় অভ্যস্ত করা


শিশুর জন্য আরেকটি জরুরি কাজ হলো, শিশুকে ছোটকাল থেকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় অভ্যস্ত করা। এটা মা-বাবার দায়িত্ব। তাকে একথা বুঝানো, 'আল্লাহ তাআলা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকাকে পছন্দ করেন والله يحب المتطهرين। অন্য জায়গায় বর্ণিত হয়েছে, الطهور نصف الايمان 'পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক', এখন একথা কেউ মনে করতেই পারে, আল্লাহ তাআলা তো সন্তানের পরিচ্ছন্নতাকে পছন্দ করেছেন, সুতরাং সে নিজে নিজেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা শিখে নেবে। বিষয়টা এমন নয় বরং ভালো সন্তান এমনিতেই সৃষ্টি হয় না। ভালো সন্তান তো শিক্ষা দিয়ে তারবিয়াতের মাধ্যমে গড়ে তুলতে হয়। আদর্শ মা তার স্নেহময়ী কোল থেকেই ভালো করে গড়ে দেন। গরমের মৌসুমে সন্তানকে প্রত্যেক দিন গোসল করানো। জামা কাপড় ময়লা দেখলে সাথে সাথে পালটিয়ে দেওয়া। বিছানা কখনো অপবিত্র অবস্থায় রেখে না দেওয়া; সাথে সাথে পরিষ্কার করে নেওয়া। মোটকথা, সন্তানের জন্য নিয়মতান্ত্রিক এই সকল কাজ আঞ্জাম দেওয়া এটাও 'দ্বীন-ইসলাম' মানার শামিল। এর জন্য মা বিনিময়ে অবশ্যই অনেক সওয়াব ও পুরস্কারের অধিকারিনী হবেন। তাই প্রথম থেকেই শিশুর লালন-পালনের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা অবশ্য কর্তব্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00