📄 শিশু অলিখিত পরিষ্কার কাগজের মতো
হয়তো এজন্যই কেউ বলেছেন, যখন আমি অবিবাহিত ছিলাম তখন সন্তানের লালন-পালনের পাঁচটি নানামুখী পরিকল্পনা (planning) ছিল। আর এখন বিয়ের পর আমার পাঁচটি সন্তান, কিন্তু সন্তানদের লালন-পালনের পরিকল্পনা থেকে একটি পরিকল্পনাও আমার মাথায় নেই।
এমনই হয়, নিজে নিজেকে নানামুখী এতো কাজে ব্যস্ত রাখে যে, নিজের সন্তানের একটু দেখাশোনার সময় সুযোগও হয়ে ওঠে না। সন্তানের সুন্দর জীবনের জন্য অবশ্যই নিজেকে সময় বের করতে হবে। তাহলেই সন্তান হবে যোগ্য, আমরা হব গর্বিত। আর এই উম্মতের নতুন প্রজন্ম পাবে দ্বীন ও আখেরাতের জন্য একজন যোগ্য ও অভিজ্ঞ ধারক বাহক।
স্মরণ রাখবেন, শিশুর জীবন অলিখিত সাদা পরিষ্কার কাগজের মতো। এখন তার উপর সুন্দর ফুল আঁকা কিংবা এলোপাথাড়ি আঁকাবাঁকা দাগ টানা; সবকিছুই পিতা-মাতার কাজ। যদি পিতা-মাতা সন্তানের সুন্দর প্রতিপালন করে থাকেন, তবে সন্তান একটি সুন্দর ফুল হবে। সকলে তার থেকে মিষ্টি সৌরভ পাবে। আর যদি সন্তানের ব্যাপারে কোনো খোঁজ-খবরই না থাকে, এক্ষেত্রে সন্তানকে বিপদে ফেলা হবে। বরং সন্তানকে বিপথগামী করতে এক নিষ্ঠুর সাহায্যকারী হিসেবে গণ্য করা হবে। সন্তান প্রতিপালন দ্বারা এই উদ্দেশ্য নয় যে, শিশুকে রিষ্টপুষ্ট দেহের অধিকারী করে তোলা; বরং লালন-পালন দ্বারা এখানে উদ্দেশ্য হলো, যেমনিভাবে শিশুটি সুন্দর সুঠাম দেহের অধিকারী হবে, তেমনিভাবে মানসিকতা ও স্বভাব চরিত্রও উন্নত হবে এবং আগামীর জন্য তার সুন্দর (capebilities) চিন্তাশক্তি খুলে যাবে। সুতরাং যারা ভালো মা হন তারা শিশু সন্তানকে শুধু বড় করেন না, সাথে তার মনটাকেও বড় করে তোলেন। এবং তার ভেতরে এমন রুচি ও চিন্তাশক্তির অনুপ্রবেশ ঘটান, যার ফলে ছোটকাল থেকেই শিশুটির মাঝে নানামুখী যোগ্যতা ফুটে উঠে। শিশুর ভেতরের ভালো অভ্যাসগুলোর উন্মেষ ঘঠানো, উন্নত চিন্তা-চেতনার
📄 ওযুর সাথে খানা পাকাবেন
সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম যে জিনিসটি লক্ষণীয় তা হলো, যখনই খানা পাকানো হবে ওযুর সাথে যেন খানা পাকানো হয়। যদি ওযু রাখা কষ্টকর হয়, তো কমপক্ষে কোনো যিকির-আযকারের সাথে পাকাতে থাকা। মুখে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার পড়তে থাকা। অথবা লা ইলাহা ইলাল্লাহু পড়তে থাকা।
এই যিকিরগুলো নারীরা সব সময়ই করতে পারেন। শরীর পবিত্র অবস্থায়ও করতে পারেন। অপবিত্র অবস্থায় শুধুমাত্র কুরআন তেলাওয়াত এবং নামাজ পড়া থেকে নিষেধ করা হয়েছে। বাকি অন্য সকল যিকির-আযকার মুখে সব সময় জারি রাখা যায়। তাহলে খানা পাকানোর সময় যদি আপনি আল্লাহ পাকের যিকির করেন, তাহলে অবশ্যই এর বরকত দেখতে পাবেন। আর যখন পবিত্র অবস্থায় থাকেন এবং আপনার কিছু সূরাও মুখস্থ থাকে, তো সেগুলোও পড়তে থাকবেন, যাতে কুরআন পড়ার বরকত আপনার খানাতেও এসে যায়। আর মহিলা সাহাবীগণ (রাযি.) এভাবেই খানা পাকাতেন। এভাবেই তারা ঘরের কাজ করতেন।
📄 ওযুর সাথে খানা পাকানো সাহাবীয়াদের (রাযি.) আমল
একজন মহিলা সাহাবী (রাযি.) নিজ পরিবারের জন্য রুটি তৈরি করছেন, গরম তাওয়ায় রুটি দিচ্ছেন, রুটি হয়ে গেলে নামিয়ে নিচ্ছেন, আরেকটা দিচ্ছেন। এভাবে যখন সব রুটি ছেঁকা শেষ হলো, তখন সাথের সহযোগীকে বললেন, বোন! আমার রুটিও পাকানো শেষ হলো আর ওদিকে কুরআন থেকে তিন পারা তেলাওয়াতও করে নিলাম, আলহামদুলিল্লাহ।
বুঝা গেল ঐ সাহাবীয়া (রাযি.) যতক্ষণ রুটি ছেঁক ছিলেন, ততক্ষণ মুখে আল্লাহ পাকের কালামও পড়ছিলেন। এটাই ছিল সাহাবীয়াদের পদ্ধতি বা সুন্নাত, আপনিও এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন। বেশ কিছুদিন আগের ঘটনা; করাচিতে আমার এক দোস্তের ঘরে মেহমান হয়েছিলাম। এক পর্যায়ে সে দোস্ত বললেন, হযরত! আপনার আপ্যায়নের এই সকল খানা ঘরেই পাকানো হয়েছে। আর আমার আহলিয়া (বিবি সাহেবা) এসব ব্যবস্থা করতে ২১ বার সূরা ইয়াসিন খতম করেছেন।
খুবই খুশি হয়ে ছিলাম এ ভেবে যে, এখনো আল্লাহর নেককার বান্দিরা এমন আছেন, যারা ওযুর সাথে খানা পাকান আর মুখে কুরআনের তেলাওয়াত করতে থাকেন। ছোট ছোট সূরাগুলো মুখস্থ থাকলে সেগুলোও পড়তে থাকবেন। সূরা ইখলাস তো প্রত্যেক মুসলমানেরই মুখস্থ থাকে। শুধু এটা পড়তে থাকলেও চলবে। তবে অপবিত্র অবস্থায় কোনো সূরা পড়া যাবে না; এমতাবস্থায় সুবাহান্নাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার এই কালিমাগুলো যিকির করা যাবে। হাদীস শরীফে এসেছে :
كَلِمَتَانِ خَفِيفَتَانِ عَلَى اللِّسَانِ ثَقِيْلَتَانِ فِي الْمِيزَانِ حَبِيبَتَانِ إِلَى الرَّحْمَنِ سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللهِ العَظِيم.
বিখ্যাত হাদীস গ্রন্থ বুখারী শরীফের সর্বশেষ হাদীসে এরূপই এসেছে। দু'টি কালিমা এমন আছে যা পড়তে খুবই সহজ, কিন্তু মিজানের পাল্লায় খুবই ভারী আর আল্লাহর নিকটও খুবই প্রিয়। তা হলো, 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী, সুবহানাল্লাহিল আযিম।'
📄 ওযুর সহিত খানা পাকানোর সুফল
আপনি যখন কুরআন পড়ে, যিকির-আযকার করে খানা পাকাবেন। আর এ খানা ঘরের কর্তা যখন খাবে, তো তার দিলে নেকী এবং ভালো তাআলার যিকিরের সাথে পাকানো হয় তবে সু-নিশ্চিত ভাবে বলা যায়, ওই খানার ফলে শরীরের শিরা-উপশিরায় আল্লাহ তাআলার মুহাব্বতের তৃষ্ণা পয়দা হবে।
পক্ষান্তরে যদি হারাম খানা অথবা দুআ ও যিকির-আযকারহীন (গাফলতের সাথে) পাকানো খাদ্য খায়, তবে এর দ্বারা শরীরে যে শক্তি সংগ্রহ হয়, মানুষ তা অন্যায় কাজে ব্যয় করে থাকে। যে মা তার আদরের সন্তানটিকে পবিত্র ও হালাল খাদ্যের মাধ্যমে বড় করেন, তিনি যেন তার সন্তানকে অর্ধেকের চেয়েও বেশি গড়ে দিলেন, মানুষ করে দিলেন। সন্তানকে নেককার ও ভালো মানুষরূপে গড়তে এটা এমনই বিরাট প্রভাব রাখে।
সুতরাং সন্তানকে যিকিরওয়ালা খানা খাওয়ানো, ওযুর সাথে খানা খাওয়ানো, আল্লাহ তাআলা এর সুফল শিশুর জীবনে অবশ্যই দান করবেন।