📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 সন্তান লালন-পালনের গুরুত্ব

📄 সন্তান লালন-পালনের গুরুত্ব


আল্লাহ তায়ালা যখনই মানুষকে সন্তানাদির নেয়ামত দেন, তখন থেকেই তাদের সুষ্ঠু-সুন্দর প্রতিপালন পিতা-মাতার দায়িত্বে এসে পড়ে। তারা শিশুটির বাহ্যিক এবং আত্মিক মুরুব্বি বা গুরু হয়ে যান। তাই একজন বাবা-মা যেমনিভাবে সন্তানের সুষ্ঠু সুন্দর ও সুঠাম দেহ গঠনের জন্য দিনরাত ফিকির করবেন; পাশাপাশি সন্তান যেন জ্ঞান-প্রজ্ঞা এবং সুন্দর শিষ্ঠাচার ও ভদ্র আচরণ শিখে; তার জন্য চেষ্টা করাও পিতা-মাতার দায়িত্ব।

যখন কোনো পিতা-মাতা তাদের সন্তানের লালন-পালন সঠিক সুন্দর ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে করেন তখন এর দ্বারা শিশুর সুন্দর দেহই গঠন হয় না বরং এর ফলে শিশুর উন্নত চিন্তা ও মানসিকতাও তৈরি হয়।

এই জন্য বিজ্ঞজনেরা বলেছেন, 'যে ব্যক্তি নিজের সন্তানকে আদব শেখায়, সে শত্রুকে অপদস্ত ও লাঞ্ছিত করে।'

কোনো কোনো মনীষী এভাবেও বলেছেন, 'যে ব্যক্তি নিজের সন্তানকে শিশুকাল থেকেই আদব শেখায়, বড় হয়ে সে তার চক্ষুকে শীতল করে।'

এজন্য সন্তানের সুন্দর তারবিয়াতের ব্যাপারে পিতা-মাতার উদাসীন থাকা উচিত নয়। কেননা, যে কৃষক তার ক্ষেতে ঠিকমত মেহনত করে না, ফসলের সঠিক পরিচর্চা করে না, তার জমিতে নানান ধরনের আগাছা জন্মায় এবং এক সময় তার ফসলই বিনষ্ট করে দেয়। ঠিক তেমনিভাবে

📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 প্রথম পাঠশালা মায়ের কোল

📄 প্রথম পাঠশালা মায়ের কোল


একটি শিশুর জন্য জীবনের প্রথম আবাস ও আশ্রয়স্থল হলো মায়ের কোমল ও মায়ামাখা কোল। মায়ের কোলের সময়গুলোতে শিশুর জন্য মা একজন কাণ্ডারী ও দরদি সেবক হিসেবে কাজ করে। মা যদি শিশু সন্তানের উপর মেহনত করেন তবে এই শিশু তার মায়ের কোল থেকেই ভালোবাসা ও দয়ার পরশে সুন্দর চরিত্র ও যোগ্যবান হয়ে গড়ে উঠতে পারে। এজন্য সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে একজন মায়ের দায়িত্ব ও দায়-ভার সবচেয়ে

📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 পিতার সজাগ দৃষ্টি

📄 পিতার সজাগ দৃষ্টি


বেশি এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ। তাই এখানে সন্তানের লালন-পালন ও পরিচর্যার কিছু কৌশল ও মৌলিক কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে :

যে পিতা ঘরের অবস্থা সম্পর্কে অসচেতন এবং সন্তানের শিক্ষা-দীক্ষার ব্যাপারেও অমনোযোগী; তার সন্তান লাইনচ্যুত এবং বিপথগামী হয়ে থাকে। যেমন, কেউ কেউ নিজের ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যস্ততার দরুন সংসারে ছেলে-মেয়ের খোঁজ-খবর রাখতে সময় পান না, ফলে তাদের সন্তানদের বেড়ে উঠা যথাযথ হয় না। উন্মুক্ত ও উচ্ছৃঙ্খল জীবন তাদের পেয়ে বসে। এজন্যই বলা হয়ে থাকে-

ليس اليتيم الذي قد مات والده
إن اليتيم يتيم العلم والأدب

'সে এতিম নয় যার মা-বাবা মৃত্যুবরণ করেছে, বরং এতিম তো সে, যে ইলম ও আদব শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।'

একথা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, যে সন্তান তার মায়ের শাসন মানে না, আর অপরদিকে বাবার পক্ষেও সম্ভব হয় না ঘরে সময় দেয়ার; তো সেই শিশু জীবন নিয়ে বেঁচে থাকে ঠিক, কিন্তু তার জীবিত থাকাটা কোনো এতিম শিশুর জীবিত থাকার মতোই।

সুতরাং একথা শুনে রাখা উচিত, যে মায়ের এ বিষয় জানা নেই, সন্তানকে কিভাবে শাসন করতে হয়। অন্যদিকে বাবারও এ নিয়ে ভাবনার সময় হয় না। তবে নিশ্চিত জেনে নিন, সেই শিশুটি এতিম সমতুল্য, তার সুষ্ঠু লালন-পালন হওয়া কখনোই সম্ভব নয়। অতএব জন্মদাতা পিতা-মাতার জন্য একান্ত আবশ্যক, তারা যেন ঘরের সকল কাজের ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানের লালন-পালনের বিষয়টি খুব গুরুত্ব সহকারে দেখেন। এবং নির্দিষ্ট একটি সময় তাদের পেছনে ব্যয় করেন।

📘 সন্তান আল্লাহর ওলী হয় কীভাবে > 📄 শিশু অলিখিত পরিষ্কার কাগজের মতো

📄 শিশু অলিখিত পরিষ্কার কাগজের মতো


হয়তো এজন্যই কেউ বলেছেন, যখন আমি অবিবাহিত ছিলাম তখন সন্তানের লালন-পালনের পাঁচটি নানামুখী পরিকল্পনা (planning) ছিল। আর এখন বিয়ের পর আমার পাঁচটি সন্তান, কিন্তু সন্তানদের লালন-পালনের পরিকল্পনা থেকে একটি পরিকল্পনাও আমার মাথায় নেই।

এমনই হয়, নিজে নিজেকে নানামুখী এতো কাজে ব্যস্ত রাখে যে, নিজের সন্তানের একটু দেখাশোনার সময় সুযোগও হয়ে ওঠে না। সন্তানের সুন্দর জীবনের জন্য অবশ্যই নিজেকে সময় বের করতে হবে। তাহলেই সন্তান হবে যোগ্য, আমরা হব গর্বিত। আর এই উম্মতের নতুন প্রজন্ম পাবে দ্বীন ও আখেরাতের জন্য একজন যোগ্য ও অভিজ্ঞ ধারক বাহক।

স্মরণ রাখবেন, শিশুর জীবন অলিখিত সাদা পরিষ্কার কাগজের মতো। এখন তার উপর সুন্দর ফুল আঁকা কিংবা এলোপাথাড়ি আঁকাবাঁকা দাগ টানা; সবকিছুই পিতা-মাতার কাজ। যদি পিতা-মাতা সন্তানের সুন্দর প্রতিপালন করে থাকেন, তবে সন্তান একটি সুন্দর ফুল হবে। সকলে তার থেকে মিষ্টি সৌরভ পাবে। আর যদি সন্তানের ব্যাপারে কোনো খোঁজ-খবরই না থাকে, এক্ষেত্রে সন্তানকে বিপদে ফেলা হবে। বরং সন্তানকে বিপথগামী করতে এক নিষ্ঠুর সাহায্যকারী হিসেবে গণ্য করা হবে। সন্তান প্রতিপালন দ্বারা এই উদ্দেশ্য নয় যে, শিশুকে রিষ্টপুষ্ট দেহের অধিকারী করে তোলা; বরং লালন-পালন দ্বারা এখানে উদ্দেশ্য হলো, যেমনিভাবে শিশুটি সুন্দর সুঠাম দেহের অধিকারী হবে, তেমনিভাবে মানসিকতা ও স্বভাব চরিত্রও উন্নত হবে এবং আগামীর জন্য তার সুন্দর (capebilities) চিন্তাশক্তি খুলে যাবে। সুতরাং যারা ভালো মা হন তারা শিশু সন্তানকে শুধু বড় করেন না, সাথে তার মনটাকেও বড় করে তোলেন। এবং তার ভেতরে এমন রুচি ও চিন্তাশক্তির অনুপ্রবেশ ঘটান, যার ফলে ছোটকাল থেকেই শিশুটির মাঝে নানামুখী যোগ্যতা ফুটে উঠে। শিশুর ভেতরের ভালো অভ্যাসগুলোর উন্মেষ ঘঠানো, উন্নত চিন্তা-চেতনার

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00