📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 এই জমানার গোল্ড-রাশ

📄 এই জমানার গোল্ড-রাশ


ইন্টারনেট এক ব্যাপক জিনিস। এর ফলে ব্যবসা হয়ে গিয়েছে খুবই সহজ ও দ্রুত। তথ্য আদান-প্রদান সহজ হয়ে যাওয়ায় যেকোনো ধরনের জ্ঞান লাভ করা এখন সম্ভব। এমনকি ধর্মীয় জ্ঞানও। যদিও আদব-আখলাকের মতো বিষয়গুলো ইউটিউব দেখে রপ্ত করা যাবে না, তারপরও একটা ভালো পরিমাণ জ্ঞান ঠিকই অর্জিত হয়। ইন্টারনেটের এমনই ক্ষমতা। এখন আপনার ব্যবসার ক্ষেত্রে এটি কীভাবে প্রাসঙ্গিক? ইন্টারনেট আসার আগে সেলসম্যানকে সশরীরে সম্ভাব্য ক্রেতার দ্বারে দ্বারে যেতে হতো। অন্য উপায় ছিলই না। আর এখন ঘরে বসেই নিজের ব্যবসা গড়ে তোলা সম্ভব। লেনদেন করা যায় ভার্চুয়ালি। হাতে চলে আসে নিজের কমিশন। এরকম অনেক মডেল আছে। মোটকথা, ইন্টারনেটের ফলে বিশ্বজোড়া পণ্য বিক্রয় অনেক দ্রুত হয়ে গেছে।

আপনি কীভাবে উপকৃত হবেন এ থেকে? প্রযুক্তি ব্যবহার শিখে গেলে এই দক্ষতা কাজে লাগাতে পারবেন আপনি। বিশেষজ্ঞ হয়ে যেতে হবে না। কিন্তু কাজের কঠিন অংশটুকু করার জন্য কীভাবে লোক নিয়োগ দিতে হয়, এতটুকু শিখে নিন অন্তত। কেউ ওয়েবসাইট বানাতে জানে, কেউ আপনার ব্যবসার প্রোগ্রাম নির্মাণ করতে জানে। এদের কাজে লাগান। কঠিন কিছু না। ইন্টারনেটের সর্বশেষ সুবিধা হলো বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে ব্যবসা করতে পারার সুবিধা। একসময় বহু বছর ধরে মানুষকে উচ্চ আয়ের এলাকায় স্থানান্তরিত হয়ে প্রায় চল্লিশ বছর পরিশ্রম করতে হয়েছে একটা ভালো অবস্থানে যেতে। আর এখন ইন্টারনেটের যুগে পৃথিবীর অনেক জায়গার উদ্যোক্তা আরও সহজেই পেয়ে যাচ্ছে সেরকম জীবন। নিজের পরিবারের সাথে থেকে-ঘুমিয়েও আয় করছে কোটি কোটি টাকা! পরিশ্রম অবশ্যই করে, তবে ইন্টারনেটের ফলে সমুদ্রসৈকতে বসে বসেও সে পরিশ্রম করা সম্ভব এখন। অনলাইনে আপনার দোকান ২৪ ঘণ্টা খোলা। ক্রেতা আসছে-যাচ্ছে প্রতি মুহূর্তে।

তবে নির্ভরযোগ্য প্রশিক্ষকের ব্যাপারটা ভুলবেন না যেন। আমি নিজেও ইন্টারনেটের মাধ্যমে মেন্টরিং সার্ভিস দিয়ে থাকি। মানুষকে ঠিকভাবে ব্যবসা গড়ে তোলার পদ্ধতি শেখানো এর উদ্দেশ্য। তাই আপনাদের প্রতিও পরামর্শ রইল যথাযথ অনুসন্ধান করে ভালো পরামর্শদাতা খুঁজে নেওয়ার। মনে রাখবেন, ইন্টারনেট পুরো মাঠকে সমান করে দিচ্ছে। হয়তো বাস করেন আফ্রিকায়, খুবই সাদামাটা জীবন। সেই আপনিও ভালোরকমের বড়লোক হয়ে উঠতে পারেন ইন্টারনেটের বদৌলতে। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই হলো। অনেকেই এভাবে ভাগ্য গড়ে নিচ্ছে। দিন দিন বাড়ছে প্রতিযোগিতাও। তবে এখনও পর্যন্ত এটি উদ্যোগ শুরু করার এক স্বর্ণখনি।

মুহাম্মাদ ফাত্তাল একজন ২২ বছর বয়সি উদ্যোক্তা। কোনো পুঁজি ছাড়াই শুরু করেন একটি টেক কোম্পানি। সিরিয়াতে জন্ম, তারপর সৌদি আরব হয়ে কানাডাতে স্থানান্তর। তিনি খেয়াল করলেন যে, উত্তর আমেরিকার চেয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার খুবই কম। তার বাবা সৌদি আরবের এক শিল্পীকে চিনতেন। একদিন ফোন করে তাকে নিজের সার্ভিস পেশ করলেন ফাত্তাল। তাকে সাহায্য করবেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের প্রচারণা চালাতে। শিল্পীও রাজি। মুহাম্মাদ ফাত্তালের প্রথম ক্রেতা! মাত্র তিন বছরের মাঝে তার কোম্পানির পরিচালিত চ্যানেলগুলোতে বিলিয়নের অধিক ভিউ।

'ফোন করতে বা ধরতে ভয় পাবেন না।' —মুহাম্মাদ ফাত্তাল, প্রতিষ্ঠাতা, আলফান গ্রুপ

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 ব্যাংকিং

📄 ব্যাংকিং


কেউ কেউ নিজের উদ্যোগের জন্য টাকা জোগাড় করতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার দ্বারস্থ হন। এটার সুবিধা-অসুবিধা দুই-ই আছে। বেশিরভাগ আলিমের মতে এটি হারাম, কারণ সুদের সংশ্লিষ্টতা আছে এতে। সেটা এই বইয়ের আলোচ্য পরিধির বাইরে। সারকথা হলো, জেনেশুনে কাজ করতে হবে আপনাকে। ব্যাংকের অস্তিত্ব থাকলে শুধুমাত্র ওইসব উদ্যোগের অর্থায়নের জন্য থাকা উচিত, যেগুলোর আপাতত ফান্ড নেই কিন্তু ভবিষ্যতে অর্থযোগের আশা আছে।

ইসলামী ব্যাংকিংও বর্তমানে সহজলভ্য। আমার বিশ্বাস, অর্থনীতির জন্য ব্যাংক খুবই উপকারী। সরাসরি ধার নেওয়ার চেয়ে পুঁজি তৈরি করা অনেক ব্যয়বহুল। সো হোয়াট এ লট অফ কোম্পানিজ ডু ইজ দে ব্যালেন্স অফারিং স্টক ফর দ্য ইনিশিয়াল ইনভেস্টমেন্ট হোয়াইল ডুইং এ পাবলিক অফারিং। ব্যবসা উদ্যোগ হিসেবেও ব্যাংকিং যথেষ্ট লাভজনক হতে পারে।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 উদ্যোগের মূলধন

📄 উদ্যোগের মূলধন


এ বিষয়ে আমার দেখা সবচেয়ে দক্ষ ব্যক্তি জনাব আশরাফ জগলুল। দশ বছরের মাথায় তিনি ছয়টিরও বেশি ব্যবসাকে পাবলিক করেছেন। খুবই সফল এক ব্যবসায়ী তিনি। এখন মিশরে নির্মাণ করছেন প্রযুক্তিভিত্তিক কোম্পানি। সব সময়ই গঠনমূলক জিনিসে ব্যস্ত থাকেন। পুঁজি ও অর্থবাজার নিয়ে কথা বলার জন্য এমনই একজন মানুষ প্রয়োজন আপনার। তিনি ময়দানের আগা-পাশ-তলা জানেন; জানেন কার্যোদ্ধারের সঠিক নিয়ম।

জনাব জগলুলের মতে কোম্পানিতে পড়ে থাকা ৫০০,০০০ ডলারের সম্পদকে মূলধন বানাতে পারলেই কোনো ব্যবসাকে পাবলিক করা সম্ভব। এটা অসাধ্য নয়। অনেকেই এই পদক্ষেপের কথায় ভয় পাবে, জানি। কিন্তু সঠিক কাঠামো আর যথাযথ ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থাকলে এটা খুবই সম্ভব। এখন কথা হলো, মানুষ আর্থিক বাজারে অত বেশি যায় না কেন? কেন এর তুলনায় ব্যাংকিং এত বেশি জনপ্রিয়? এর বড় একটি কারণ অজ্ঞতা। ইসলাম আসলেই আর্থিক বাজারকে উৎসাহিত করে। ব্যবসা শুরু করার জন্য ফান্ড তৈরি করারও পরামর্শ দেয়। উৎসাহিত করে অংশীদারি। পুঁজিবাজার এটারই একটু দীর্ঘ ও জটিলতর রূপ। অনেক মানুষ একসাথে একটা কোম্পানি কিনে লাভ-লোকসান দুটোই ভাগাভাগি করে, যাদের মাঝে ব্যক্তিগত পরিচয় না-ও থাকতে পারে। তাই এটি যথেষ্ট ইসলামী একটি ধারণা। তাই অর্থবাজার নিয়ে ভাবনা মাথায় রাখুন। যেমন: আপনার যদি কোনো টেকনোলজি কোম্পানি থাকে, এর অতিরিক্ত ফান্ডিং-এর জন্য এই ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 অনিঃশেষ ফসল

📄 অনিঃশেষ ফসল


মুসলিমরা চিরকালই প্রচুর বইয়ের জন্ম দিয়েছে। মালি সাম্রাজ্যের সফলতম যুগে স্বর্ণের চেয়ে বই বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছিল। সিরিয়াতে জন্ম হয়েছে ইবনু কাইয়্যিমের মতো আলিমের, যিনি জীবদ্দশায় লিখেছেন শতাধিক গ্রন্থ। তারা দুই-চারশ বই লিখে ফেলতেন, কিন্তু কোনোটাই গড়পড়তা সাধারণ মানের না। আজকের দিনেও শিল্প ও প্রকাশনার জগৎ যথেষ্ট প্রাণময়। অথচ মূলধারার গণমাধ্যমে এর কথা তেমন শোনা যায় না। কিন্তু উচ্চমানের কাজ জন্ম দেওয়া মানুষ এখনও আছে। লন্ডনের খাইয়াল থিয়েটারের কথা ধরুন। তাদের মতো অনেক মুসলিমই উচ্চমানের শিল্পকর্ম উৎপাদন করছে। শিল্প, দর্শন, গল্প, ভিডিও গেমস-সহ অনেককিছু নির্মাণ করছে অনেকে। পেশাদার আলোকচিত্রের জগতে জনাব পিটার স্যান্ডার্সের সাথে কথা বলার সুযোগ হয়েছে আমার। আলোকচিত্রের ওপর বই লিখে সরকারিভাবে বা সরাসরি জনগণের কাছ থেকে কমিশন পাচ্ছেন তিনি। এই হলো সত্যিকারের রেসিড্যুয়াল আয়। যতবার কেউ আলোকচিত্র ব্যবহার করে, ততবার টাকা পায় মূল আলোকচিত্রী। কিন্তু রেসিড্যুয়াল আয়ের জগৎ নিয়ে যাদের ধারণা নেই, তাদের কাছে প্রকাশনা বা শিল্প অতটা আগ্রহোদ্দীপক মনে হয় না। তাদের কাছে লোভনীয় মনে হয় ডাক্তার, আইনজীবী বা প্রকৌশলীর মতো পেশাগুলো। হ্যাঁ, শিল্পী বা লেখকের কিছু বছর কষ্টেসৃষ্টে কাটে। হ্যাঁ, শুরুতে বিষয়টা কঠিন হতে পারে। হ্যাঁ, একদম শুরু থেকেই হয়তো মানুষের বাহবা পাবেন না সেভাবে। কিন্তু যথেষ্ট শ্রম দিলে একসময় এখান থেকে আসতে থাকবে কাঙ্ক্ষিত রেসিড্যুয়াল উপার্জন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00