📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 আবাসন সাম্রাজ্য

📄 আবাসন সাম্রাজ্য


রিয়েল এস্টেট কখনও হারিয়ে যাওয়ার নয়। মানুষের চিরকালই থাকার জন্য জায়গা লাগবে। সীরাহ থেকে আমরা রিয়েল এস্টেটের ব্যাপারে নবির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপদেশ জানতে পারি, 'বাড়ি বা জমি বিক্রির পর যারা ওই টাকা অনুরূপ কিছুতে খাটায় না, তারা বারাকাহ পাবে না।'

মদীনায় মানুষ যখন ঘর বিক্রি করছিল, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদেশ দিয়েছেন সেই টাকাকে ঘরের ওপরই পুনঃবিনিয়োগ করতে। অর্থাৎ, ১৪০০ বছর আগে থেকেই মানুষ জোগান ও চাহিদা সম্পর্কে জানত। আবাসন খুবই প্রাচীন এক ইন্ডাস্ট্রি। একে ব্যবহার করার উপায় কী? প্রথমত আপনাকে ভালো করে জানতে হবে এই খাত সম্পর্কে। এ নিয়ে নানারকম কানকথা আছে। সুদ আর উড়ো কথার খাদে পড়ে অনেক মানুষের সর্বনাশ হয়। এই জিনিসগুলোকে বাদ দিলে আবাসন ব্যবসা এক বরকতময় খাত।

আবারও মনে পড়ে জনাব রিজভির কথা। বিক্রিতব্য জমি সংক্রান্ত সব জ্ঞান থাকে তার নখদর্পণে। এমনকি মাটির প্রকৃতি সম্পর্কেও। ফলে সঠিক বিনিয়োগ চিনতে তাকে মোটেও বেগ পেতে হয় না। পারিবারিক অভিজ্ঞতা, পড়াশোনা এবং নিজস্ব আগ্রহ থেকে তিনি আবাসন ব্যবসায় পাকা হয়ে উঠেছেন। একটা সময় প্রতি দুই দিনে একটি করে বাড়ি বিক্রি করেছেন তিনি। পুরো এজেন্সি মিলেও এতটা সাফল্য পাওয়া সম্ভব হয় না সব সময়। বিশেষত যদি এজেন্টদের এ ব্যাপারে প্রশিক্ষণ না থাকে। ফান্ডিং, প্রশিক্ষণ আর পড়াশোনা ছাড়াই আবাসন ব্যবসায় আসাটা জনাব রিজভির কাছে রীতিমতো হাস্যকর মনে হয়। তাই এই ময়দানে আসতে চাইলে জেনেশুনে নিন ভালো করে। অভিজ্ঞ মানুষদের সাথে যোগাযোগ করুন। ব্যবসাটা কিন্তু খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অনেকেই মূলধন হারিয়ে বসে থাকে। কিন্তু যারা জেনেশুনে মাঠে নামে, তাদের সাফল্যও হয় দুর্দান্ত।

জনাব সালিম সিদ্দিকি কোটি টাকার বাড়ি নির্মাণ করতে পেরেছেন, কারণ আবাসিক এসকল এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করলে ট্যাক্স দিতে হয় না। কিন্তু ট্যাক্স থেকে পালানোই আসল কথা নয়। আসল কথা হলো যদি ঠিকঠাক জ্ঞান থাকে, তাহলে আবাসন ব্যবসা খুবই কাজের একটি পেশা।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 নেটওয়ার্ক মার্কেটিং

📄 নেটওয়ার্ক মার্কেটিং


সঠিক ব্যবসা-বেঠিক ব্যবসা বলে কোনো কথা নেই। নিজের চারপাশে তাকান। প্রতিটি ক্ষেত্রে সফল মানুষদের দেখা পাবেন। দেখা পাবেন অসফলদেরও (এবং এরাই সংখ্যাগুরু)। তাই ক্ষেত্র এখানে মূল বিবেচ্য না। যে কাজ করছে, তার মানসিকতাই আসল। এ কারণেই আমি মুসলিম উদ্যোক্তার মানসিকতা নিয়ে এত কথা বলি। মুসলিম উদ্যোক্তারা সম্পদের ব্যাপারে কীভাবে চিন্তা করেন, তা জানার চেষ্টা করুন। তবে ওখানেই থেমে গেলে হবে না আবার। সাফল্যের ক্ষুধা রাখুন। মন-মানসিকতা নিয়ে কাজ করুন, বিশ্বাস রাখুন, সফল মানুষদের অভিজ্ঞতা পড়ুন, নিজের প্রতি আস্থা রাখুন, সবই করুন। কিন্তু এরপরও কাজ আছে। নিজের চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করতে হলে অন্যের কাছ থেকে হাতে-কলমে দেখে নিতে হয় অনেকসময়।

আমার দেখামতে এর একটা সেরা মাধ্যম হলো নেটওয়ার্ক মার্কেটিং। এটা হলো অন্যদের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি ও বণ্টন করার একটি পদ্ধতি। কোম্পানির ভেতর কোম্পানি গড়ে তোলার মতো। যে পরিমাণ বিক্রি করতে পারবেন, তার ভিত্তিতে কমিশনের একটা অংশ পাবেন আপনি। ধারণাটা সুন্দর, তবে এতে সুবিধা-অসুবিধা আছে। তবে ব্যবসায় প্রবেশের প্রথম ধাপ হিসেবে এটি বেশ সহজ। কিছু কোম্পানি নতুন ব্যবসায়ীদের থেকে মাত্র ৫০ থেকে ১০০০ ডলার চার্জ নেয়। নিজে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করে দেখেছি যে, এমনিতে নিজস্ব উদ্যোগে এর চেয়ে অনেক বেশি খরচ হয়ে থাকে।

তাই পা চালানো শুরু করতে এই পদ্ধতিটা ভালোই। কোটিপতিও হয়ে যেতে পারেন এভাবে। অনেকেই হয়। আবার ব্যর্থও হয় অনেকে। তবে সাফল্যের জন্য দরকারি ব্যবসায়িক শিক্ষাটুকু হয়ে যাবে এখান থেকে। এই পথেই লেগে থাকতে হবে না। কিন্তু আপনার যোগাযোগ দক্ষতাবৃদ্ধি ও ব্যক্তিগত উন্নয়ন হবে এতে। নেতৃত্বগুণও শিখতে পারবেন। অনেক কোম্পানিই এ সংক্রান্ত পড়াশোনার উপকরণ সরবরাহ করে। প্রতিযোগিতার ময়দানের দক্ষতা অর্জন করার এ এক দারুণ উপায়। এতে চ্যালেঞ্জ আছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে। যদি শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে কিছু সুবিধা বেশি পাওয়া যায়, তবে লুফে নিন তা। তবে অবশ্যই যে কাজে ঢুকছেন, জেনেশুনে ঢুকবেন। পণ্যটা পরীক্ষা করে নিন। বুঝে নিন, এর পেছনে আসলেই সময় দেওয়া যায় কি না। যদি মন সায় দেয়, এগিয়ে যান। এমন কারও খোঁজ করুন, যিনি ব্যবসায় আপনার প্রশিক্ষক বা পরামর্শদাতা হতে পারেন। অনেক উপকৃত হবেন এতে। মুসলিম উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। কারণ ভালো কাজে সাহায্য করলেও ওই কাজের সাওয়াব পাওয়া যায়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিংয়েও এমনটাই হয়। আপনি পণ্যের মার্কেটিং করলে অন্যরাও ধনী হবে, আপনিও করবেন কাঙ্ক্ষিত উন্নতি।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 আদিরূপ

📄 আদিরূপ


উৎপাদন এখনও সারা বিশ্বে প্রধান কর্মকাণ্ড। আফ্রিকা বলুন, পাকিস্তান বলুন অথবা লন্ডন; প্রচুর মানুষ এখনও পণ্য উৎপাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট। দৃশ্যমান কোনো বিক্রয়যোগ্য জিনিস তৈরি করা, একেই বলে উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং। শখ থেকে উদ্যোগ দাঁড় করানো জহুর কুরেশির কথা মনে পড়ল। হাতে ছাপানো শুভেচ্ছা ও বিয়ের কার্ড বণ্টন করেন সারা বিশ্বে। এখানেও উৎপাদন। পণ্যের পরিমাণ নয়, গুণগত মানই আসল কথা।

অন্যান্য উদ্যোগের চেয়ে এখানে বিনিয়োগ বেশি লাগে। কিন্তু একটা প্রোটোটাইপ দিয়ে শুরু করতে পারেন আপনি। ভালো কিছু উদ্ভাবন করলে আগে তার একটা প্রোটোটাইপ বানান। জনাব আশরাফ জগলুল ও তার সহকর্মীরা WiLAN ওয়্যারলেস টেকনোলজির প্রধান বিনিয়োগকারী। কোম্পানিটি তিনি শুরু করেন ১৯০০ সালে। বিশ্বসেরা ছিল তখন এটি। আজও পর্যন্ত অ্যাপল এবং মটোরোলার মতো কোম্পানি তাদের প্যাটেন্ট ব্যবহার করেই ব্যবসা করছে। একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে সত্যিকার অর্থেই এটি হয়ে ওঠে ওয়্যারলেস প্রযুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানি। এর জন্য প্রথমে তাকে যা করতে হয়েছে, তা হলো ফান্ড নিশ্চিত করা এবং ব্যবসার একটি প্রোটোটাইপ নির্মাণ। অল্প কিছুকাল পরেই এর ফলাফল আসতে থাকে। তাই উৎপাদন এ যুগেও প্রাসঙ্গিক। কী করছেন, সে সম্পর্কে ঠিকঠাক জেনে নিতে হবে, ব্যস। প্রথমে প্রোটোটাইপ বানান। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাজারে ছাড়ুন। ঋণ দিয়ে বিনিয়োগ করার আর দরকার হবে না তাহলে।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 এই জমানার গোল্ড-রাশ

📄 এই জমানার গোল্ড-রাশ


ইন্টারনেট এক ব্যাপক জিনিস। এর ফলে ব্যবসা হয়ে গিয়েছে খুবই সহজ ও দ্রুত। তথ্য আদান-প্রদান সহজ হয়ে যাওয়ায় যেকোনো ধরনের জ্ঞান লাভ করা এখন সম্ভব। এমনকি ধর্মীয় জ্ঞানও। যদিও আদব-আখলাকের মতো বিষয়গুলো ইউটিউব দেখে রপ্ত করা যাবে না, তারপরও একটা ভালো পরিমাণ জ্ঞান ঠিকই অর্জিত হয়। ইন্টারনেটের এমনই ক্ষমতা। এখন আপনার ব্যবসার ক্ষেত্রে এটি কীভাবে প্রাসঙ্গিক? ইন্টারনেট আসার আগে সেলসম্যানকে সশরীরে সম্ভাব্য ক্রেতার দ্বারে দ্বারে যেতে হতো। অন্য উপায় ছিলই না। আর এখন ঘরে বসেই নিজের ব্যবসা গড়ে তোলা সম্ভব। লেনদেন করা যায় ভার্চুয়ালি। হাতে চলে আসে নিজের কমিশন। এরকম অনেক মডেল আছে। মোটকথা, ইন্টারনেটের ফলে বিশ্বজোড়া পণ্য বিক্রয় অনেক দ্রুত হয়ে গেছে।

আপনি কীভাবে উপকৃত হবেন এ থেকে? প্রযুক্তি ব্যবহার শিখে গেলে এই দক্ষতা কাজে লাগাতে পারবেন আপনি। বিশেষজ্ঞ হয়ে যেতে হবে না। কিন্তু কাজের কঠিন অংশটুকু করার জন্য কীভাবে লোক নিয়োগ দিতে হয়, এতটুকু শিখে নিন অন্তত। কেউ ওয়েবসাইট বানাতে জানে, কেউ আপনার ব্যবসার প্রোগ্রাম নির্মাণ করতে জানে। এদের কাজে লাগান। কঠিন কিছু না। ইন্টারনেটের সর্বশেষ সুবিধা হলো বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে ব্যবসা করতে পারার সুবিধা। একসময় বহু বছর ধরে মানুষকে উচ্চ আয়ের এলাকায় স্থানান্তরিত হয়ে প্রায় চল্লিশ বছর পরিশ্রম করতে হয়েছে একটা ভালো অবস্থানে যেতে। আর এখন ইন্টারনেটের যুগে পৃথিবীর অনেক জায়গার উদ্যোক্তা আরও সহজেই পেয়ে যাচ্ছে সেরকম জীবন। নিজের পরিবারের সাথে থেকে-ঘুমিয়েও আয় করছে কোটি কোটি টাকা! পরিশ্রম অবশ্যই করে, তবে ইন্টারনেটের ফলে সমুদ্রসৈকতে বসে বসেও সে পরিশ্রম করা সম্ভব এখন। অনলাইনে আপনার দোকান ২৪ ঘণ্টা খোলা। ক্রেতা আসছে-যাচ্ছে প্রতি মুহূর্তে।

তবে নির্ভরযোগ্য প্রশিক্ষকের ব্যাপারটা ভুলবেন না যেন। আমি নিজেও ইন্টারনেটের মাধ্যমে মেন্টরিং সার্ভিস দিয়ে থাকি। মানুষকে ঠিকভাবে ব্যবসা গড়ে তোলার পদ্ধতি শেখানো এর উদ্দেশ্য। তাই আপনাদের প্রতিও পরামর্শ রইল যথাযথ অনুসন্ধান করে ভালো পরামর্শদাতা খুঁজে নেওয়ার। মনে রাখবেন, ইন্টারনেট পুরো মাঠকে সমান করে দিচ্ছে। হয়তো বাস করেন আফ্রিকায়, খুবই সাদামাটা জীবন। সেই আপনিও ভালোরকমের বড়লোক হয়ে উঠতে পারেন ইন্টারনেটের বদৌলতে। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই হলো। অনেকেই এভাবে ভাগ্য গড়ে নিচ্ছে। দিন দিন বাড়ছে প্রতিযোগিতাও। তবে এখনও পর্যন্ত এটি উদ্যোগ শুরু করার এক স্বর্ণখনি।

মুহাম্মাদ ফাত্তাল একজন ২২ বছর বয়সি উদ্যোক্তা। কোনো পুঁজি ছাড়াই শুরু করেন একটি টেক কোম্পানি। সিরিয়াতে জন্ম, তারপর সৌদি আরব হয়ে কানাডাতে স্থানান্তর। তিনি খেয়াল করলেন যে, উত্তর আমেরিকার চেয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার খুবই কম। তার বাবা সৌদি আরবের এক শিল্পীকে চিনতেন। একদিন ফোন করে তাকে নিজের সার্ভিস পেশ করলেন ফাত্তাল। তাকে সাহায্য করবেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের প্রচারণা চালাতে। শিল্পীও রাজি। মুহাম্মাদ ফাত্তালের প্রথম ক্রেতা! মাত্র তিন বছরের মাঝে তার কোম্পানির পরিচালিত চ্যানেলগুলোতে বিলিয়নের অধিক ভিউ।

'ফোন করতে বা ধরতে ভয় পাবেন না।' —মুহাম্মাদ ফাত্তাল, প্রতিষ্ঠাতা, আলফান গ্রুপ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00