📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 দান মানে বিনিয়োগ

📄 দান মানে বিনিয়োগ


সফলতম মুসলিম উদ্যোক্তাগণ মহত্তম দাতাও। কোটিপতি হওয়ার উদ্দেশ্য শুধু নিজের অট্টালিকা, নিজের গাড়িই হওয়া উচিত না। এগুলোও থাকতে হবে। জীবনের মজা লুটতে হবে। কিন্তু মুসলিম কোটিপতি হওয়ার আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত অনেক অনেক দান করতে পারা। আপনার ধনী হওয়ার ইচ্ছেকে বাঁকা চোখে দেখার অধিকার কারও নেই। যদি কেউ করেও, তাকে চ্যালেঞ্জ করলাম এই পরিমাণ সদকা করতে, যতটা আপনি ধনী হওয়ার পর করবেন।

কতটা দান করা উচিত? ইমাম আশরাফের পরামর্শের পুনরাবৃত্তি করছি। পরামর্শটি সুন্নাহভিত্তিকও বটে। যদি ১০% দান করেন, আপনার ব্যবসায় জীবনে মন্দা হবে না। আর ৩৩% দান করলে ব্যবসা হবে লালে লাল। যে পরিমাণ মুনাফা ঘরে আনছেন, তার ৩৩%। অনেকের কাছে মনে হতে পারে এতে উলটো লাল বাতি জ্বলবে ব্যবসায়। কিন্তু খেয়াল করে দেখবেন যে, অনেক পশ্চিমা দেশের নাগরিকরা সরকারকে ট্যাক্সই দেয় উপার্জনের এই পরিমাণ। কিছু ক্ষেত্রে আরও বেশি! তাই পরিমাণটা যথেষ্ট যৌক্তিক। নিজে কত টাকার মালিক হতে চান, তার ওপরই নির্ভর করবে সব।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 অর্থ ব্যবস্থাপনা

📄 অর্থ ব্যবস্থাপনা


অর্থ ব্যবস্থাপনা শুনে মনে হচ্ছে যেন এটা কোনো কোটি ডলার কোম্পানির কাজ! না। অর্থ ব্যবস্থাপনা করতে অত বড়ও হওয়া লাগবে না আপনাকে। যা আছে, তা-ই দিয়ে শুরু করুন। আমার মনে আছে, সেনেগালে থাকতে আমি পয়সার হিসেবে সঞ্চয় শুরু করেছিলাম। যথেষ্ট লম্বা সময় সঞ্চয় চালিয়ে গেলে ভালোই ধনী হয়ে উঠবেন একসময়। একসময় এমনকি মানুষকে ধার দেওয়ার সামর্থ্যও হয়ে যায় আমার; প্রতিদিন কয়েক পয়সা জমানোর মাধ্যমেই।

টাকার ব্যবস্থাপনা আসলে একটা মানসিকতা। কত আয় করছেন, সেটা বিষয় না। আসল হলো কতটুকু জমাচ্ছেন। তাই 'বিশাল খরচ' থেকে 'বিশাল সঞ্চয়' এর দিকে ঘুরিয়ে দিন নিজের মনকে। ব্যবসায় কতটুকু খাটাবেন, সেটাও আপনার অর্থ ব্যবস্থাপনার অংশ। আমাকে সাক্ষাৎকারদাতা বেশিরভাগ ব্যক্তিই বলেছেন যে, ব্যবসা চালাতে গিয়ে ঋণে পড়ে যাওয়ার দরকার নেই। মোটকথা, সতর্ক থাকা চাই। বিশেষত এই ব্যাংক আর সুদের কারবারের যুগে। ঋণে পতিত হওয়া খুবই ঝামেলার ব্যাপার। কেউ কেউ সামলে উঠতে পারে, বেশিরভাগই পারে না। বেশিরভাগ সফল মুসলিম উদ্যোক্তা নিজের টাকায় ব্যবসা করেছেন। অন্তত শুরুর দিকে। ফান্ড গড়ে তুলেছেন পরে।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 ট্যাক্স অথবা মৃত্যু

📄 ট্যাক্স অথবা মৃত্যু


ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে ট্যাক্স একেবারেই অপছন্দনীয় জিনিস। বেশিরভাগ আলিমের মতে এটি ইসলামবিরোধী। তারপরও যে রাষ্ট্রে বাস করেন, সেখানকার আইন মানাই লাগে। আর তেমনটা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আমার ব্যবসার প্রথম বছরে ট্যাক্সের ৭০০০ ডলার ফেরত পেয়েছিলাম। কারণ ব্যবসা খুব একটা ভালো করছিল না তখন। লাভজনক হচ্ছিল না। কিন্তু এও বুঝতে পারছেন যে, ট্যাক্স ব্যবস্থার সাথে সৎ হলে সুবিধা আছে বটে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে উত্তর আমেরিকায় ট্যাক্স ফেরত পাওয়া যায়। তবে শত-সহস্র করে একসময় কোটি টাকা আয় করতে শুরু করলে আরাম করে বড় অঙ্কের ট্যাক্স দিতে পারবেন।

আনন্দের সংবাদ হলো, চাকরির আয়ের তুলনায় ব্যবসায়িক আয়ের ওপর ট্যাক্সের হার কম। এই ট্যাক্সের কারণে চাকরি করাটা খুবই খরুচে হয়ে দাঁড়ায়। ধরুন, আপনার ছয় অঙ্কের বার্ষিক উপার্জনের প্রায় ৪০% চলে যাবে কর দিতে গিয়ে। তাই প্রতি বছর টাকা হারাচ্ছেন বিশাল পরিমাণে। তাই ট্যাক্স আপনার বৃহত্তম ব্যয়ের খাত।

তারপরও অভিজ্ঞ অ্যাকাউন্ট্যান্ট জনাব সালিম সিদ্দিকির মতে, ব্যবসাকে কর বাঁচানোর কৌশল বানিয়ে ফেলা ঠিক না। আপনার লক্ষ্য হতে হবে শুধুই ব্যবসা। কারণ কখনও কখনও বিশ পয়সা ট্যাক্স বাঁচাতে এক টাকা বেশি খরচ করতে হয়। তাই খরচ বাড়িয়ে ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া কোনো কাজের কথা না। ব্যবসা করছেন, করুন। ট্যাক্স যা আসার, আসবেই। অবশ্যই আমরা চাই এই পদ্ধতিটি বিলুপ্ত হয়ে যাক, যাতে আরও ধনী হতে পারি। আশার কথা এই যে, সৌদি আরব, কাতার, ওমান-সহ বেশ কিছু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে কোনো ট্যাক্সই কাটা হয় না। ওখানে চলে গেলে আরও ধনী হবেন, হয়তো! চিন্তার খোরাক বটে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00