📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 কোনো জুয়া নয়

📄 কোনো জুয়া নয়


জুয়া খেলবেন না, ঠিক আছে? একদমই না! এখানে জুয়া খেলা মানে অজানা বিষয়ে বিনিয়োগ। এই জিনিসটা ড. ইয়াকুব মির্জার কাছে শিখেছি। তিনি যে বিষয়ে জানেন না, সেখানে বিনিয়োগও করেন না। মূলধনকে অন্ধভাবে ঝুঁকিতে ফেলেন না তিনি। যে ব্যবসায় বিনিয়োগ করছেন, তা সম্পর্কে যথেষ্ট মৌলিক পড়াশোনা করে তিনি কার্যকর বিনিয়োগ কৌশল প্রয়োগ করেন। বিনিয়োগকর্তাদের টাকা সংগ্রহ করে এ থেকে কমিশন নির্ধারণ করেন আগে। দুর্দান্ত এক কৌশল এটি। গত দশকে এভাবে তার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩%। যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে অনেক বেশি। ব্যবসা ক্রয় করার ক্ষেত্রেও তিনি বেশ পটু। সশরীরে গিয়ে ব্যবসা মালিকের সাথে দর কষাকষি করেন কেনার আগে।

ড. মির্জা এসব দক্ষতা শিখেছেন কাজের মাধ্যমে, স্রেফ তত্ত্ব থেকে না। অথচ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের এই তত্ত্বই শেখায় শুধু। উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছে যাদের ছিল, তাদের অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে ফেলে এভাবে। যে জায়গায় শেখানোর কথা ছিল সুযোগ ও উদারতা, সেখানে পড়ানো হচ্ছে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে হুজুর হুজুর করার বিদ্যে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আমাদের হিসেবি ঝুঁকি নিতে শেখায় না, শেখায় গা বাঁচাতে।

জনাব রিজভির মতে, 'বিক্রি হয়ে যাবেন না।' এর অর্থ হলো চাকরি। এর অর্থ ঘুষ নেওয়ার মাধ্যমে অন্যের কাজ করে দেওয়া, যাতে ওই ব্যক্তি আর্থিকভাবে লাভবান হয়। অথচ আপনার স্থায়ী সম্পদ তৈরি হয় না ওই ঘুষের মাধ্যমে। অনেক মানুষ সঞ্চয় বাড়াতে ব্যাংককে ব্যবহার করে। অথচ টাকা সবচেয়ে দ্রুত বাড়ানোর পদ্ধতি হলো নিজস্ব উদ্যোগ। ঘুষের শিকার হওয়া থেকে বাঁচতে হিসেবি ঝুঁকিগ্রহণ শিখুন, গড়ে তুলুন নিজের প্রতিষ্ঠান। আর সাহায্যের জন্য প্রযুক্তি তো আছেই। ইন্টারনেট আসলেই পৃথিবীকে সমতল বানিয়ে দিয়েছে। বলতে গেলে যেকোনো জায়গায় ব্যবসা দাঁড় করিয়ে ফেলা সম্ভব। শিক্ষাব্যবস্থার দিকেও তাকান। হার্ভার্ডের মতো প্রতিষ্ঠান এখন ব্যবসায়ী নেতা উৎপন্ন করছে। সামরিক থেকে শিল্প হয়ে সাংবাদিকতা পর্যন্ত, প্রতিষ্ঠান-নির্মাতা সমাজনেতারা তৈরি হচ্ছে সবখান থেকে। চারপাশে যত প্রতিষ্ঠান দেখছেন, সবই কারও না কারও প্রতিষ্ঠা করা। চাইলে আমরাও করতে পারি একই কাজ। কেবল লক্ষ্য, কর্ম-নৈতিকতা ও সুযোগ খুঁজে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। এতেই তৈরি হবে নিজ নিজ ক্ষেত্র ও সমাজের মাঝে বিপ্লব।

মনে রাখবেন, সুদ হারাম করার একটা কারণ হলো এটি শোষণের হাতিয়ার। নিজের পুঁজি ও অংশ বিক্রি থেকে মূলধন তৈরি করা প্রায়ই বেশ খরুচে। সেই তুলনায় ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া যেন হাতের মোয়া। আর এ কারণেই অধিকাংশ ব্যবসা মালিক লোন নেয়। এতে ব্যাংক সুযোগ পেয়ে যায় মানুষের বাসাবাড়ি ও উপার্জনকে জিম্মি করে রাখার। ব্যাংকের এ এক শোষণমূলক নিরাপত্তাজাল। একইভাবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠান অনুদানের নামে বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা নেয়। নিয়ে কী করে? ব্যাংকে রেখে দেয় নিরাপত্তার জন্য। ইসলাম মোটেও একে উৎসাহিত করে না। ইসলাম উৎসাহ দেয় ঝুঁকি নিতে, হিসেবি ঝুঁকি। যেখানে আপনি জানবেন আপনি কী করছেন। এর অর্থ ধনীর সম্পদ কিছুটা কমে যেতে পারে, আবার গরিব হয়ে যেতে পারে ধনী। কিন্তু অন্তত সুযোগ সবার জন্য সমানভাবে খোলা থাকে। এভাবেই ইসলাম মানুষের সম্পদবৃদ্ধির জন্য উত্তম একটি পদ্ধতি দান করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00