📄 প্রশিক্ষণযোগ্য হওয়ার উপায়
প্রথম ধাপ হলো শিক্ষা গ্রহণের জন্য তৈরি হওয়া। এখানেই চলে আসে বিনয়ের আলোচনা। সাহায্য চাইলে সবার আগে চাইবেন আল্লাহর কাছে। প্রশিক্ষিত হওয়া মানে নিজের অজ্ঞতা স্বীকার করা। অনেক সময় আমরা জানিও না যে, আমরা জানি না। শিখতে শুরু করলে বোঝা যায় যে, এতদিন কতকিছু অজানা ছিল। যেমন: আমি হয়তো আবাসন বিক্রয় করতে চাই। মনে হচ্ছে যেন নতুন করে কিছু জানার নেই। কিন্তু কাজ শুরু করলে আস্তে আস্তে অনেক বিষয় বেরিয়ে আসে, যেগুলো শেখা প্রয়োজন। এজন্যই সাফল্যের ধাপগুলো পার করাতে দরকার একজন প্রশিক্ষক। এ নিয়ে আগেও কথা হয়েছে।
জিজ্ঞেস করার মতো সাহস করতে পারাটাও বিনয়ের একটি রূপ। কুরআন আদেশ দিয়েছে জমিনে দম্ভভরে চলাফেরা না করতে। বিনয়ী হতে হবে। আমরা না পাহাড় সরাতে পারব, না পারব পৃথিবী ফেড়ে ফেলতে। নবির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্ম ও জীবন থেকে এ কথাই প্রতিভাত হয়। কোনোকিছু করার আগে সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করতেন তিনি। হোক তা যুদ্ধাভিযান অথবা সামাজিক কর্মকাণ্ড। এমনকি পারিবারিক বিষয়েও পরামর্শ চাইতে বাদ রাখেননি। জিজ্ঞেস করাটা চারিত্রিক দৃঢ়তা ও সুস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ। এতে লজ্জার কিছু নেই। আর নবির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনও গোপন কিছু নয়।
উদ্যোক্তা ও সামাজিক নেতা হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আপনাকে নিজের চেয়ে অভিজ্ঞ মানুষদের কাছ থেকে অনেককিছু জানা লাগবে। না জানলে জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করা আল্লাহর আদেশ। এই বই লেখার পেছনে এটিও উৎসাহ হিসেবে কাজ করেছে আমার জন্য। আমি নিজেও জানতাম না, কী করে মুসলিম উদ্যোক্তারা এত সফল হলেন। সোজা গিয়ে জিজ্ঞেস করতে শুরু করলাম, তারাও জবাব দিলেন। জন্ম হলো এই বইয়ের।
📄 তরবারিতে শান
উদ্যোক্তার জন্য অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই। তাই একজন পথপ্রদর্শক রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। প্রয়োজনে চাকরি করুন এমন কারও অধীনে। সাক্ষাৎকারদাতা উদ্যোক্তাদের অনেকেরই কর্মজীবন শুরু হয়েছে চাকরিজীবী হিসেবে। আপনার প্রতিযোগিতা আসলে অন্য কারও সাথেই নয়। শুধু নিজের সাথে। আপনার শ্রেষ্ঠতম সংস্করণের সাথে। নিয়্যাত সঠিক থাকলে দরকারি মানুষদের পেয়েই যাবেন। পাবেন এমন সঙ্গী, যারা আপনার প্রতি যত্নশীল এবং আপনার দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহযোগী।
ড. মির্জা শুরু করেছিলেন শিক্ষকতা ও বিভিন্ন রকমের কাজ দিয়ে। মুজীবুর রহমান শুরুতে ছিলেন তার বাবার কর্মচারী। অনেকের পরিবার ব্যবসায়ী হওয়ায় সরাসরি ব্যবসায় ঢুকতে পেরেছেন। এমনকি বাপ-দাদার জন্য কাজ করলেও তো সেটাকে অন্যের জন্য কাজ করাই বলে। তাই বিক্রয় শিখতে চাইলে এমন কারও শরণাপন্ন হোন, যিনি বর্তমানে এ কাজে জড়িত। দক্ষতা এভাবেই শিখতে হয়। যেমন: আফ্রিকার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি আলিকো দাঙ্গোতে প্রচুর ব্যবসায়িক দক্ষতা শিখেছেন নানার কাছ থেকে, যিনি আবার ছিলেন নাইজেরিয়ার সেরা ধনী। এই সব উদাহরণ থেকে বোঝা যায় যে, ব্যবসাদক্ষতা নিয়ে কেউই জন্মায় না। কোনো না কোনোভাবে শেখে সবাই। তাই আপনাকে হতে হবে চৌকস কর্মচারী। চাকরি করবেন নিজের ব্যবসা শুরু করার মূলধনের জন্য। তবে কারণ যা-ই হোক, খুঁজে নিন এমন কোনো চাকরিদাতা, যিনি আপনার ব্যবসায়িক দক্ষতার পরিচর্যা করবেন। এমনকি ছোট ফার্মে চাকরি করলেও শিখতে পারবেন বিনিয়োগের অআকখ।
📄 অস্ত্রাগার ক্রয়
সুদানীজ বংশোদ্ভূত ড. আব্দুল্লাহ ইদরিস আলি এক ঝানু ব্যবসায়ী। অনেকগুলো যৌথ ব্যবসা চালানোর পাশাপাশি একটি বিদ্যালয়েরও পরিচালক। এত ব্যস্ততার পরও মুখে লেগে থাকে হাসি। তিনি কানাডার বৃহত্তম মুসলিম সংস্থা ইসনা'র প্রেসিডেন্ট। ইসনা'র মাধ্যমে মুসলিম সমাজের সাধারণ জনগণ, কর্তাব্যক্তি ও বিনিয়োগকারীদের সাথে যোগাযোগ করেন তিনি। নিজের সুমহান মর্যাদা ও কঠিন দায়িত্ব সত্ত্বেও নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন ছেলে-বুড়ো নির্বিশেষে সবার কাছের মানুষ। নবিজির এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আব্দুল্লাহ ইদরিসের অনুপ্রেরণা। মানুষের সাথে আচার-আচরণের এই দক্ষতা শিখতে হবে আপনাকেও। কারণ দিনশেষে ব্যবসার মানেই হলো মানুষদের সাথে নিয়ে কাজ করা।
ক্রেতাদের পণ্য কিনতে উৎসাহিত করার আরেকটি পদ্ধতি হলো নিজের কোম্পানিকে বড় একটি ব্র্যান্ডের মতো করে তোলা। জনাব দাঙ্গোতের এক বিশেষ দক্ষতার জায়গা এটি। বিশ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের বদৌলতে তিনি নিজের একটি ব্র্যান্ড দাঁড়া করিয়ে নিয়েছেন। দাঙ্গোতে নামটিই পুরো আফ্রিকায় সম্পদ, সাফল্য ও ব্যবসার সমার্থক। তার সব কাজই ব্র্যান্ড তৈরি করাকে কেন্দ্র করে। তাদের সব সিদ্ধান্ত এতটা দৃঢ়, যার ওপর ভোক্তারা নির্ভর করতে পারে নিশ্চিন্তে। এমনকি ইংলিশ ফুটবল ক্লাব আরসেনাল এফসি-কে কিনে নেওয়ার পথে তিনি। এটি বিশ্বব্যাপী নাইজেরিয়ার অর্থনৈতিক সাফল্যের মাইলফলক।
মনে রাখবেন: ভোক্তা, সরকার, বিনিয়োগকারী-সবাই খ্যাতির পাগল। নাম-ডাকবিহীন ব্যক্তির প্রতি তারা ভরসা পায় না। ব্র্যান্ডিং-এর ফলে এই ব্যাপক পরিচিতি তৈরি হয়। সুনাম না থাকলে ক্রেতা তো কমবেই, পরিচিতজনদের আপনার দোকান থেকে কিনতেও বলবে না কেউ। কিন্তু নামের জোর বাড়লে দলে দলে আসতে থাকবে ক্রেতারা। সফল ডিজাইনার ব্র্যান্ডগুলোর ক্ষেত্রে এটা অহরহ দেখা যায়। ভালো ব্র্যান্ডের জন্য মানুষের টাকা খরচ করতে আপত্তি নেই। বিএমডব্লিও'র ক্রেতা বিএমডব্লিও কেনে, কারণ কোম্পানিটি ভালো গাড়ি তৈরির জন্য সুপরিচিত। মানুষকে উৎসাহিত করার একটি মূল চাবিকাঠি ব্র্যান্ডিং।