📄 কথার এপিঠ-ওপিঠ
অসার কথা পরিত্যাগ করতে হবে। এমনকি নিজের ব্যাপারেও। নিজেকে নিজে নেতিবাচক কথা শুনিয়ে নিরুৎসাহিত করা চলবে না। এমন কথা আদৌ বলছেন কি না, খেয়াল করে দেখুন। অন্যরা যারা অসার কথা বলে, তাদের থেকে দূরে সরে যান। এটি স্বয়ং কুরআনের নির্দেশ। টিভি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার যা কিছু উপকারী নয়, সেগুলোও ত্যাগ করুন একই কারণে। অদরকারি জিনিস জানারও প্রয়োজন নেই।
দ্বিতীয়ত, কথার ব্যাপারে কৃপণ হবেন না। যা বলতে চান, তা বলুন স্পষ্ট করে। লক্ষ্য, স্বপ্ন ও বর্তমান বাস্তবতার মাঝে যেন কোনো সংঘাত না থাকে। মনে রাখবেন, আল্লাহ একজনের মাধ্যমে আরেকজনের রিযকের ব্যবস্থা করেন। তাই স্পষ্ট কথা বলুন ক্রেতা বা চুক্তির অপর পক্ষের সাথে। কীভাবে? ভালো জিনিস শোনার মাধ্যমে। বাগ্মী ও বাচনদক্ষ মানুষের অডিও শুনুন। শিখুন কীভাবে কথা বলতে হয়। এই বইয়ে উল্লিখিত ব্যক্তিদের অডিও-ভিডিও থেকেও উপকৃত হতে পারেন আপনি। নিজের বাচনভঙ্গি সুন্দর করার এ এক মোক্ষম উপায়।
তাই সম্পদশালী মুসলিমদের চিন্তাচেতনার ভাষা বুঝতে হলে তাদের সাথে সময় যেমন কাটাতে হবে, তেমনি শুনতে হবে তাদের কথাও। সরাসরি হোক বা প্রযুক্তির মাধ্যমে।
📄 যিকরের শক্তি
ইসলামে যিকরের বিশেষ স্থান রয়েছে। ঠোঁটকে আল্লাহর স্মরণে ক্রমাগত নাড়াতে থাকা। এ কাজ প্রায় সব সময় করা যায়। গাড়িতে উঠতে, কাজ করতে করতে, ঘুমাতে যেতে, পানাহারের আগে-পরে, সালাম দিতে গিয়ে, সালাতের সময়। এভাবে প্রতিটা কাজে আল্লাহকে স্মরণ করুন। যিকরের শক্তি এখানেই। ভয়, সংশয় ও কঠিন পরিস্থিতিতেও তাহলে ভুলতে পারবেন না যে, আল্লাহই রিযকদাতা। লক্ষ্যের পানে কাজ করতে করতে একটা সময় চাপ অনুভূত হবেই। যিকরের মাধ্যমে লাঘব করুন সেই চাপ।
যিকর এবং দুআর এমনই ক্ষমতা। ক্ষমতার যিনি উৎস, তাঁর সাথে সর্বদা যোগাযোগের মধ্যে থাকা। আরিফ মির্জা আমাকে বলেছেন, 'অমুসলিমদের সাথে আমাদের একটা পার্থক্য হলো যে, তারা নিজেকেই নিজেদের সাফল্যের কারণ মনে করে।' কিন্তু মুসলিম উদ্যোক্তা জানে যে, এ কথা সত্য নয়। সর্বোপরি এ সাফল্য আল্লাহর পক্ষ থেকে। আল্লাহর ইচ্ছার অধীনে বাবা-মা, পরিবার-সহ অনেকের অবদান থাকতেও পারে। এজন্যই পরিবারের সাথেও মুসলিম উদ্যোক্তাদের সম্পর্ক গভীর।
জনাব সিদ্দিকির একটা নজরকাড়া ব্যাপার হলো তার পিতৃবাৎসল্য। তাহাজ্জুদগুজার বাবার স্মৃতি তার জন্য আদর্শ ব্যবসায়ীর রোল মডেল হিসেবে কাজ করে। সৌম্য, একাগ্র, বুদ্ধিমান বাবার কথা বলতে গিয়ে তার কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে সমীহের চিহ্ন। বোঝা গেল যে, সাফল্য আমাদের নিজেদের পক্ষ থেকে নয়। এতে অন্য মানুষদেরও অবদান আছে। বিশেষত বাবা-মায়ের। যে ভালোবাসা, শিক্ষা ও দ্বীন তারা আমাদের দিয়েছেন, সেগুলোর। মুসলিম উদ্যোক্তাদের এই ভারসাম্যপূর্ণ চিন্তা আমি অন্যদের মাঝে পাইনি।