📄 ছোট ছোট বিন্দুজল
আরেকটা আষাঢ়ে গল্প আছে এরকম, 'হ্যাঁ, ওই মানুষগুলো পরিশ্রম-অধ্যবসায় করেছে বটে। কিন্তু এরপর হঠাৎ করেই বড়লোক হয়ে গেছে একদিন।'
না, এভাবে হয় না। জগতে আল্লাহর তৈরি করে দেওয়া কিছু নিয়ম আছে। এগুলোর বাইরে কেউই যেতে পারে না। যেমন: বীজ রোপণ করার সাথে সাথে গাছ বের হয়ে আসে না। নিয়্যাত সংক্রান্ত অধ্যায়ে এ ব্যাপারেই আলোচনা করেছি আমরা। বীজ বপন করে ফসলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে, ঠিক কৃষকের মতো।
আপনার ক্ষেত্রে তা কীভাবে প্রযোজ্য? রাতারাতি সফল হওয়ার দিবাস্বপ্ন পরিত্যাগ করার মাধ্যমে। এতে বছরের পর বছর লেগে যাওয়াও সম্ভব। এজন্যই অধ্যবসায় ও সবরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলাপ করেছি কয়েক পৃষ্ঠা আগে।
পশ্চিমে আরবি ভাষা ও কুরআন শিক্ষার চর্চা প্রসারে কতটা পরিশ্রম করতে হয়েছে, সে সম্পর্কে বলছিলেন উস্তাদ নুমান আলি খান। এখন তার প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেটের মাধ্যমে বৈশ্বিক পরিচিতির অধিকারী। এ উদ্যোগ যখন শুরু করেন, তার কয়েক বছর আগ থেকেই তিনি আরবি ভাষা শিক্ষকতার সাথে জড়িত। সেই কোর্স যথেষ্ট জনপ্রিয় পাওয়ার পরেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন পূর্ণকালীন কাজ শুরু করার। তাই রাতারাতি সব ঘটে যায়নি। এককালের শখ পরিণত হয় তার আজীবনের লক্ষ্যে—আরবি ভাষা শিক্ষা ও শিক্ষণ। বর্তমানে ইন্টারনেট মার্কেটিং ব্যবহার করে ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন। তার চ্যানেল বাইয়্যিনাহ ডট টিভির গ্রাহকসংখ্যা এখন মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। এখন হয়তো তিনি প্রচণ্ড বিখ্যাত। কিন্তু এ সবই এসেছে দৃশ্যমান কোনো ফলাফল না দেখে অনেক বছর সাধনা করার পর।
তাই মানুষ এক লাফে চাঁদে চলে গেছে, এসব আষাঢ়ে গল্প কখনও বিশ্বাস করবেন না। এভাবে দুনিয়া চলে না। সবাই পার হয় ধাপে ধাপে। তাই আমার পরামর্শ হলো ছোট থেকে শুরু করুন, উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাজটুকু করুন, তারপর বেড়ে উঠুন প্রকাণ্ড আকারে।
ছোট থেকে শুরু করে বিশাল হয়ে যাওয়া আরেকটি উদ্যোগ ড. মির্জার কোম্পানি আমানাহ মিউচ্যূয়াল ফান্ডস। ড. মির্জা তার বিনিয়োগ ব্যবসা চালাচ্ছেন আজ ত্রিশ বছর যাবৎ। আপনার কি মনে হয় না যে, এই ত্রিশ বছরে তিনি এ কাজের নাড়ী-নক্ষত্র চিনে ফেলেছেন? অবশ্যই! তার অধ্যবসায়ের ফলাফল আসছে এখন।
WiLan Inc.-এর প্রতিষ্ঠাতা হাতিম জগলুল সাত বছর যাবৎ অফিসে এসেছেন ভোর ৬টায়, সব কর্মচারীর চেয়ে আগে। প্রতিটা দিন। সাত বছর ধরে এই রুটিন অনুসরণের পর অবশেষে সাফল্যের দরজা খোলে। মানুষ কী দেখে? শুধু ফলাফলটা: বিলিয়ন ডলার কোম্পানি। কিন্তু এর জন্য যে কত বছরের শ্রম দিতে হয়েছে, তা থেকে যায় আড়ালেই।
তাই ধনী লোকে ধনী হয় একঘেয়ে কাজ করে। দিনের পর দিন একই রুটিন অনুসরণ করে। দেখবেন যে, তারা একটা কোম্পানির সাথেই লেগে থেকে বড় করেন সেটাকে। এমনকি বিনিয়োগকারী হলেও দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখেন একটি জায়গায়। হয়তো বিনিয়োগ করেন অনেক ব্যবসায়। কিন্তু মূলত তাদের পরিচিতি একটি বিশেষ ক্ষেত্রে। বাজার আসলে এত প্রতিযোগিতামূলক, এখানে একটা কাজ উদ্ধার করার মতো সুযোগই থাকে শুধু।