📄 ১% এর কোটিপতি
পণ্য বা সেবা কী দিচ্ছেন, সেটা আসল কথা না। দিনশেষে গোনায় ধরা হবে বিক্রির সংখ্যা। কয়টা কল করলেন, কয়টা দরজায় কড়া নাড়লেন, কতজন মানুষের সাথে কথা বললেন—এগুলো হলো আসল ধর্তব্য। এই প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনার ঘাড়ে ঝুলবে প্রত্যাখ্যানের ছুরি। কিন্তু একটা সময় উপলব্ধি করবেন যে, সবার কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার দরকারও নেই আপনার। তখনই মন থেকে চলে যাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়। এত এত 'না' শোনার পরও হতে পারেন আশাতীত রকমের ধনবান।
ধরা যাক, আপনি আছেন পাকিস্তানে। সেখানকার জনসংখ্যা ১৮০ মিলিয়ন। আল্লাহ ওই দেশটিকে রহম করুন। এ বইয়ের অনেক সাক্ষাৎকারদাতা ওখানকার মানুষ। এখন মনে করুন, ওই ১৮০ মিলিয়নের মাঝে মাত্র ১% আপনার পণ্যটি কিনেছে। তারপরও তো ১.৮ মিলিয়ন মানুষ আপনার ব্র্যান্ডের ভোক্তা! চুইংগামই নাহয় বেচলেন। প্রতিটার দাম ১ টাকা করে হলেও আপনি এখন মিলিয়নেয়ার। আরও মার্কেট শেয়ার পেলে হয়ে যাবেন মাল্টি-মিলিয়নেয়ার। দেখলেন টাকা কত দ্রুত বাড়ে? তাই ১০০% জনতার কাছে সাড়া পাওয়ার প্রয়োজন নেই। কদাচিৎ কেউ কেউ সাড়া দিলেই হলো। আবার এই অল্প কিছু মানুষ যে সারাক্ষণ কিনতেই থাকবে, তাও জরুরি নয়। যথেষ্ট মানুষের সাথে যদি কথা বলে থাকেন, কেউ না কেউ 'হ্যাঁ' বলবে। ওতেই হয়ে যাবেন ধনী।
তাই আজ থেকে আরও বেশি কল করুন, আরও আরও 'না' শুনুন এবং লেগে থাকার মানসিকতা গড়ে তুলুন। যান, এগুলো আজকের বাড়ির কাজ।
মুজীবুর রহমানের অধ্যবসায় গড়ে তোলার আরেকটি কাহিনি শুনুন। যুবক বয়সে ভাইয়ের সাথে কাজ করা শুরু করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে নির্মাণব্যবসা চালাতেন তখন। শুরুতে তারা সারা শহরে গাড়ি নিয়ে ঘুরতেন। বিল্ডিং সাইট চোখে পড়লে ঢুকে পড়তেন ঠিকাদারের অফিসে। জিজ্ঞেস করতেন, 'কী লাগবে আপনাদের?' ঠিকাদার হয়তো বললেন এত বস্তা সিমেন্ট, এই সময়ের মধ্যে। দুই ভাই এরপর নিজেদের লক্ষ্য বানিয়ে ফেলতেন ওই পরিমাণ মানসম্মত সিমেন্ট ওই সময়ের মাঝে সেরা দামে সরবরাহ করাকে।