📄 হেসে উড়িয়ে দিন
নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, মুমিন কখনও এক গর্তে দুবার দংশিত হয় না। একই ভুল দুইবার করে না বিশ্বাসীরা। অতিসরল না হওয়ার ব্যাপারে এ এক শক্তিশালী আদেশ। একই ভুল দুইবার না করা মানে শত্রুকে চিনে রাখা। আমাদের ভেতরের শত্রু শয়তান। সে আমাদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটিয়ে অলস করে দেয়।
তাই নিজের চরিত্রকে জানুন। যদি কাজ শুরু করে বারবার ব্যর্থ হওয়ার অভ্যাস থাকে, তাহলে সৎভাবে জিজ্ঞেস করুন নিজেকে, 'কেন ব্যর্থ হই? ভুলটা হচ্ছে কোথায়?' পরিশ্রমের অভাব? সম্পদের অভাব? না জ্ঞানের অভাব? সম্পদ তো এই মুহূর্তে আপনার হাতেই। প্রচণ্ডরকমের সফল মুসলিম উদ্যোক্তাদের থেকে পাওয়া পরামর্শ-উপদেশ। হয়তো এরকম কারও সাথে যোগাযোগের সুযোগও পেয়ে যাবেন ভবিষ্যতে। মনে রাখবেন, অতীতের ভুল বর্তমানের জন্য শিক্ষা।
ভুলকে মেনে নিলে নিজের ব্যাপারে অস্থিরতা কমে যাবে। কিছু একটা করেছেন, তা সফল হতেও পারে, না-ও পারে। আল্লাহর প্রতি ভরসা রেখে হাসতে-খেলতে কাজ করে যান। আপনার যে ফলাফল দরকার সেটাই দেবেন তিনি। ফলাফল আপনার হাতে না। প্রস্তুতি ঠিকঠাক নিয়েছেন কি না, সেটাই দেখার বিষয়। মুমিনদের প্রতি আল্লাহর চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি হলো, তারা শেষমেশ সফল হয়েই যাবে। দুনিয়ায় না হলেও আখিরাতে। বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়বেন না নিজের ব্যাপারে।
হাসতে-হাসতে কাজ করার আরেকটি উদাহরণ হলো প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখী হওয়ার সাহস সঞ্চয়। বাস্তব জীবনে ব্যর্থতার জন্য প্রস্তুত থাকা। পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে 'না' এর মুখোমুখী হোন। ক্রেতারা আপনাকে প্রত্যাখ্যান করছে না। তারা কিনতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে আপাতত। তাদের মন এখনও প্রস্তুত নয় এটার জন্য। ব্যস্ত হবেন না। পরবর্তী সম্ভাব্য ক্রেতার দরজায় কড়া নাড়ুন। প্রত্যাখ্যাত হওয়াকে অতিরিক্ত ভয় পায় বলেই ব্যবসা শুরু করতে পারে না অনেকে। সম্ভাবনার কত যে দুয়ার বন্ধ হয়ে যায় তাতে!
আমার অভিজ্ঞতা কী হয়েছিল, শুনুন। গ্র্যাজুয়েশন শেষেও খুব একটা আয়-রোজগার হচ্ছিল না আমার। কারাতে প্রশিক্ষণের এক বন্ধু জানাল যে, একটা কোম্পানি দ্বারে দ্বারে গিয়ে জিনিস বেচে। গিয়ে কাজ নিলাম সেখানে। সেনেগালে বড় হওয়ায় এবং ফ্রেঞ্চভাষী হওয়ায় আমার ইংরেজিতে কথা বলার অভ্যাস তখনও নেই। কিন্তু বিক্রির আশায় দরজায় দরজায় কড়া নাড়ার অভিজ্ঞতা একেবারেই দূর করে দিলো সেই জড়তা। বাস্তবে করতে শুরু করলেই বোঝা যায় যে, এতদিন নিজের ব্যাপারে শুধু শুধু দুশ্চিন্তা করেছি। আসলে কোনো ব্যাপারই না। তাই কিছু কিছু 'না' শোনার জন্য এগিয়ে যান। কতবার 'না' বলবে মানুষ? একটা সময় গিয়ে 'হ্যাঁ' শুনবেন, শুরু হবে উন্নতি। কিছু ‘হ্যাঁ’ আর কিছু ‘না’-এর সমন্বয় একদিন আপনাকে কল্পনাতীত সফল করে তুলবে।
📄 ১% এর কোটিপতি
পণ্য বা সেবা কী দিচ্ছেন, সেটা আসল কথা না। দিনশেষে গোনায় ধরা হবে বিক্রির সংখ্যা। কয়টা কল করলেন, কয়টা দরজায় কড়া নাড়লেন, কতজন মানুষের সাথে কথা বললেন—এগুলো হলো আসল ধর্তব্য। এই প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনার ঘাড়ে ঝুলবে প্রত্যাখ্যানের ছুরি। কিন্তু একটা সময় উপলব্ধি করবেন যে, সবার কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার দরকারও নেই আপনার। তখনই মন থেকে চলে যাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়। এত এত 'না' শোনার পরও হতে পারেন আশাতীত রকমের ধনবান।
ধরা যাক, আপনি আছেন পাকিস্তানে। সেখানকার জনসংখ্যা ১৮০ মিলিয়ন। আল্লাহ ওই দেশটিকে রহম করুন। এ বইয়ের অনেক সাক্ষাৎকারদাতা ওখানকার মানুষ। এখন মনে করুন, ওই ১৮০ মিলিয়নের মাঝে মাত্র ১% আপনার পণ্যটি কিনেছে। তারপরও তো ১.৮ মিলিয়ন মানুষ আপনার ব্র্যান্ডের ভোক্তা! চুইংগামই নাহয় বেচলেন। প্রতিটার দাম ১ টাকা করে হলেও আপনি এখন মিলিয়নেয়ার। আরও মার্কেট শেয়ার পেলে হয়ে যাবেন মাল্টি-মিলিয়নেয়ার। দেখলেন টাকা কত দ্রুত বাড়ে? তাই ১০০% জনতার কাছে সাড়া পাওয়ার প্রয়োজন নেই। কদাচিৎ কেউ কেউ সাড়া দিলেই হলো। আবার এই অল্প কিছু মানুষ যে সারাক্ষণ কিনতেই থাকবে, তাও জরুরি নয়। যথেষ্ট মানুষের সাথে যদি কথা বলে থাকেন, কেউ না কেউ 'হ্যাঁ' বলবে। ওতেই হয়ে যাবেন ধনী।
তাই আজ থেকে আরও বেশি কল করুন, আরও আরও 'না' শুনুন এবং লেগে থাকার মানসিকতা গড়ে তুলুন। যান, এগুলো আজকের বাড়ির কাজ।
মুজীবুর রহমানের অধ্যবসায় গড়ে তোলার আরেকটি কাহিনি শুনুন। যুবক বয়সে ভাইয়ের সাথে কাজ করা শুরু করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে নির্মাণব্যবসা চালাতেন তখন। শুরুতে তারা সারা শহরে গাড়ি নিয়ে ঘুরতেন। বিল্ডিং সাইট চোখে পড়লে ঢুকে পড়তেন ঠিকাদারের অফিসে। জিজ্ঞেস করতেন, 'কী লাগবে আপনাদের?' ঠিকাদার হয়তো বললেন এত বস্তা সিমেন্ট, এই সময়ের মধ্যে। দুই ভাই এরপর নিজেদের লক্ষ্য বানিয়ে ফেলতেন ওই পরিমাণ মানসম্মত সিমেন্ট ওই সময়ের মাঝে সেরা দামে সরবরাহ করাকে।