📄 সাফল্যের আষাঢ়ে গল্প
কিছু মানুষ মনে করে যে, প্রচণ্ড সফল মুসলিমরা কোনো বিশেষ ঝাড়ফুঁক জানে। হয়তো এটাই তাদের তাকদীর অথবা তারা জন্মেছেই এভাবে। আপনার চিন্তাও যদি এমন হয়ে থাকে, তাহলে এতক্ষণে তা ঝেড়ে ফেলেছেন নিশ্চয়ই। এ বইয়ে প্রমাণ পেয়েছেন যে, এসবের কোনোকিছুই তাদের ছিল না।
সফলতম মুসলিম উদ্যোক্তারা আপনার ও আমার চেয়ে ভিন্ন কিছু নন। যদি সততার সাথে কাজ করেন, ব্যবসার ইসলামী নীতিমালা মেনে চলেন, তাহলে এনাদের সাথে কার্যত আপনার আর কোনো পার্থক্যই থাকবে না।
উদ্যোক্তা হলেন এমন এক ব্যক্তি, যিনি মূলধন নিয়ে কাজ করেন। কারও জন্মই হয় সম্পদের মাঝে। যেমন: জনাব দাঙ্গোতের নানা ছিলেন নাইজেরিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তিনি এটাকে এক ধাপ সামনে নিয়ে পুরো আফ্রিকার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হন। পক্ষান্তরে কিছু মানুষ জন্ম থেকেই খুব একটা সম্পদশালী না। যেমন: ড. মির্জার মতো মানুষেরা। তিনি আমেরিকায় দেশান্তরী হয়ে কয়েক বছরের মধ্যে তিন বিলিয়ন ডলার মূল্যের কোম্পানি দাঁড় করিয়েছেন। করছেন মহতী কিছু কাজ। পাচ্ছেন তার প্রতিদানও।
আরও দেখেছি ড. মাইলস ডেভিসকে। তার বেশিরভাগ বন্ধু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে, আর নয়তো কারারুদ্ধ। আমেরিকার গলি-ঘুপচিতে মাদক আর অপরাধের মধ্যে কাটছিল তার অন্ধকার জীবন। সেখান থেকে ইসলামের হাত ধরে তার উদ্ধার পাওয়ার ঘটনা চোখ অশ্রুসিক্ত করে দেয়। আজ তিনি বড় বড় কর্পোরেশন নিয়ে গঠিত বোর্ডের সদস্য। সেইসাথে উদ্যোগকেন্দ্রিক একটি বিজনেস স্কুলের ডিন।
আছেন স্যার আনওয়ার পারভেজ। ইংল্যান্ডের রাস্তায় এককালের বাসচালক। অপ্রতুল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়ে এ দেশে আসার পর এখন কয়েক বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা 'বেস্টওয়ে কর্পোরেশন' এর পুরোধা। এর শুরুটা হয়েছিল একটিমাত্র মুদি দোকান থেকে। তার মানে কিছু মানুষ ধনী থেকে বিরাট ধনী হয়েছেন। পক্ষান্তরে কিছু মানুষ শূন্য থেকে শুরু করেও পেয়েছেন একইরকমের বিরাট সাফল্য। গাড়ি-ঘোড়া চড়তে হলে প্রচুর লেখাপড়া করা কোনো আবশ্যক শর্ত নয়। হাইস্কুল সম্পন্ন করতে না পারা স্যার আনওয়ার পারভেজের অধীনে এখন পিএইচডি ডিগ্রিধারীরা কাজ করেন।
বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছি, আল্লাহর একটি নাম আর-রায্যাক; রিযকদাতা। যাকে ইচ্ছে, তাকেই দেন তিনি। আপনাকে বুঝতে হবে যে, কেউই বিশেষ কিছু না। আমাদের যা কিছু রিযক দেওয়া হয়েছে, সেগুলো কল্যাণময় কাজ করার সুযোগ মাত্র। সমাজকে, জাতিকে, উম্মাহকে সেবা করতে হবে এগুলোর মাধ্যমে। এজন্যই আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা-সহ সারা বিশ্বে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর মাসজিদ স্থাপিত হচ্ছে মুসলিম উদ্যোক্তাগণের টাকায়। আল্লাহ তাআলা চিরধনাঢ্য। যাকে যত ইচ্ছে দিয়েও তাঁর ভাণ্ডার থেকে এতটুকু কমে না।
এজন্যই সফল মুসলিম উদ্যোক্তারা আপনার-আমার মতোই মানুষ। তারাও খান, ঘুমান, পরিবারকে সঙ্গ দেন। তাদের যা কিছু আছে, সব আল্লাহর দান। এর জন্য কোনো বিশেষ জেনেটিক বৈশিষ্ট্য থাকা লাগে না। পার্থক্য হলো, তাদের নিয়ামাতগুলো ইতোমধ্যে প্রকাশিত। আর আপনার মেধা হয়তো এখনও চাপা পড়ে আছে ছাইয়ের তলায়। তাই আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখুন যে, তিনি আপনার চাওয়াও পূরণ করবেন। সাহায্য করবেন আপনার লক্ষ্য পূরণ করে সফল হতে।
📄 পরাজয় ক্ষণস্থায়ী
দুনিয়ার জীবন যেমন ক্ষণস্থায়ী, এখানের পরাজয়ও তা-ই। পক্ষান্তরে নিজেকে জয়ী ভাবা অনেকেই হয়তো আখিরাতের বিচারে হেরে চলেছে। এ এক কঠিন বাস্তবতা।
আখিরাতে জয়ী হতে হলে নিয়্যাত ঠিক রাখুন। পরিবারকে সাহায্য করুন, সমাজকে সাহায্য করুন। মানুষের জীবন বদলে দিন, বদলে দিন সমাজ। এগুলো সবই মহান কিছু লক্ষ্য। এর মাঝেও মহত্তম হলো আপন পরিবারকে সাহায্য করা। যেমন: তাদেরকে বড় একটি বাসগৃহ কিনে দেওয়া। লক্ষ্য যা-ই হোক, শারিয়াহর সাথে সাংঘর্ষিক না হলে ছুটে চলুন তার পানে। ব্যর্থ হলেও সমস্যা নেই। ধরে নিন এটা সাময়িক ব্যর্থতা। লেগে থাকলে দেরিতে হলেও সাফল্য আসবে।
আন্তরিকভাবে কোন মূল্যবোধে বিশ্বাস করেন, সে আলোচনাই আবার ঘুরেফিরে আসে। নিজেকে টালমাটাল মনে হলে 'বিশ্বাস' অধ্যায়ে চলে যান আবারও। পুনরুজ্জীবিত করুন আপনার বিশ্বাসকে। প্রথমত আল্লাহর প্রতি, তারপর নিজের প্রতি, তারপর আপনার কোম্পানি ও পণ্যের প্রতি। শাইখ হামযা ইউসুফ আমাকে এ আয়াতটি স্মরণ করিয়ে দেন, 'মুমিনরা ইতোমধ্যে সফল হয়ে গেছে।' [১৭]
যদি ইতোমধ্যে সফল হয়ে থাকেন, ব্যর্থতা কোনো সম্ভাব্য বিকল্পই নয়। আব্দুর রহমান ইবনু আউফের ঘটনা মনে আছে নিশ্চয়ই? দ্বীনের জন্য সব সহায়-সম্পদ ছেড়ে হিজরত করেছেন মুসলিমরা। এখন তো এর উলটোটা করা হয়। যা-ই হোক। একেকজন মুহাজিরের সাথে আপন ভাইয়ের মতো জুড়ে দেওয়া হলো একেকজন আনসারকে। মুহাজিররা আনসার ভাইদের সম্পত্তির অংশীদার। ইবনু আউফের সঙ্গী সাদ বিন রাবিআ চেয়েছিলেন তার এক স্ত্রী ও অর্ধেক সম্পত্তি তাকে দিয়ে দিতে। ইবনু আউফ তা না নিয়ে মদীনার বাজার চিনে নেন। ব্যবসা শুরু করে এক দিনের মাঝে উপার্জন করে নেন নিজের খাবার।
এভাবে চলতে থাকে বেশ কিছু দিন। দ্বিতীয় দিনে দেখা গেল খাবার ছাড়াও অন্যান্য জিনিসপত্র কিনতে পারছেন তিনি। কিছুদিন পর কিনলেন বাহনও, একটি গাধা। এক কি দুই মাসের মধ্যে হয়ে গেলেন ভালো রকমের ধনী। অনেকদিন পর নবিজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে দেখা হলো তার। পরনে সুন্দর পোশাক। গা থেকে নারীদের সুগন্ধির সুবাস আসছে। নবিজি জানতে চাইলেন কী ব্যাপার। ইবনু আউফ জানালেন যে, তিনি বিয়ে করেছেন। দেনমোহর হিসেবে কী দিয়েছেন, এর জবাবে বলেন এক সা (পরিমাপের একটি একক) স্বর্ণ। এই পরিমাণ ধনী হয়েছেন তিনি হিজরতের কয়েক মাসের মধ্যে।
কী বোঝা গেল? ইবনু আউফের চিন্তাচেতনা ছিল সফল মানুষদের মতো। হিজরত-পরবর্তী কপর্দকশূন্যতা তাকে চাকরিজীবীতে পরিণত করেনি। নিজের ব্যবসায়িক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছেন তিনি। আল্লাহও দিয়েছেন এর যথাযথ প্রতিদান। তাই টাকা খোয়ালেও অভিজ্ঞতা তো আর খোয়াতে পারবেন না। এজন্যই উদ্যোক্তাগণ হিসেবি ঝুঁকিগ্রহণে পারঙ্গম। কাজ যদি না-ও হয়, অন্তত শেখা তো হলো। তাতেই চলবে। আব্দুর রহমান ইবনু আউফের মতো একইরকম ঘটনা মুসলিমদের ইতিহাসে প্রচুর। মুজীবুর রহমান আর ইয়াইয়া এন্দিয়ানোরের ঘটনা তো নিজেরাই পড়লেন একটু আগে। অধ্যবসায়ই মূল চাবিকাঠি। যারা লেগে থাকতে জানে, দীর্ঘমেয়াদে তারাই জয়ী হয়।
টিকাঃ
[১৭] সূরা আল-মুমিনুন ২৩:১
📄 হেসে উড়িয়ে দিন
নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, মুমিন কখনও এক গর্তে দুবার দংশিত হয় না। একই ভুল দুইবার করে না বিশ্বাসীরা। অতিসরল না হওয়ার ব্যাপারে এ এক শক্তিশালী আদেশ। একই ভুল দুইবার না করা মানে শত্রুকে চিনে রাখা। আমাদের ভেতরের শত্রু শয়তান। সে আমাদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটিয়ে অলস করে দেয়।
তাই নিজের চরিত্রকে জানুন। যদি কাজ শুরু করে বারবার ব্যর্থ হওয়ার অভ্যাস থাকে, তাহলে সৎভাবে জিজ্ঞেস করুন নিজেকে, 'কেন ব্যর্থ হই? ভুলটা হচ্ছে কোথায়?' পরিশ্রমের অভাব? সম্পদের অভাব? না জ্ঞানের অভাব? সম্পদ তো এই মুহূর্তে আপনার হাতেই। প্রচণ্ডরকমের সফল মুসলিম উদ্যোক্তাদের থেকে পাওয়া পরামর্শ-উপদেশ। হয়তো এরকম কারও সাথে যোগাযোগের সুযোগও পেয়ে যাবেন ভবিষ্যতে। মনে রাখবেন, অতীতের ভুল বর্তমানের জন্য শিক্ষা।
ভুলকে মেনে নিলে নিজের ব্যাপারে অস্থিরতা কমে যাবে। কিছু একটা করেছেন, তা সফল হতেও পারে, না-ও পারে। আল্লাহর প্রতি ভরসা রেখে হাসতে-খেলতে কাজ করে যান। আপনার যে ফলাফল দরকার সেটাই দেবেন তিনি। ফলাফল আপনার হাতে না। প্রস্তুতি ঠিকঠাক নিয়েছেন কি না, সেটাই দেখার বিষয়। মুমিনদের প্রতি আল্লাহর চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি হলো, তারা শেষমেশ সফল হয়েই যাবে। দুনিয়ায় না হলেও আখিরাতে। বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়বেন না নিজের ব্যাপারে।
হাসতে-হাসতে কাজ করার আরেকটি উদাহরণ হলো প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখী হওয়ার সাহস সঞ্চয়। বাস্তব জীবনে ব্যর্থতার জন্য প্রস্তুত থাকা। পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে 'না' এর মুখোমুখী হোন। ক্রেতারা আপনাকে প্রত্যাখ্যান করছে না। তারা কিনতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে আপাতত। তাদের মন এখনও প্রস্তুত নয় এটার জন্য। ব্যস্ত হবেন না। পরবর্তী সম্ভাব্য ক্রেতার দরজায় কড়া নাড়ুন। প্রত্যাখ্যাত হওয়াকে অতিরিক্ত ভয় পায় বলেই ব্যবসা শুরু করতে পারে না অনেকে। সম্ভাবনার কত যে দুয়ার বন্ধ হয়ে যায় তাতে!
আমার অভিজ্ঞতা কী হয়েছিল, শুনুন। গ্র্যাজুয়েশন শেষেও খুব একটা আয়-রোজগার হচ্ছিল না আমার। কারাতে প্রশিক্ষণের এক বন্ধু জানাল যে, একটা কোম্পানি দ্বারে দ্বারে গিয়ে জিনিস বেচে। গিয়ে কাজ নিলাম সেখানে। সেনেগালে বড় হওয়ায় এবং ফ্রেঞ্চভাষী হওয়ায় আমার ইংরেজিতে কথা বলার অভ্যাস তখনও নেই। কিন্তু বিক্রির আশায় দরজায় দরজায় কড়া নাড়ার অভিজ্ঞতা একেবারেই দূর করে দিলো সেই জড়তা। বাস্তবে করতে শুরু করলেই বোঝা যায় যে, এতদিন নিজের ব্যাপারে শুধু শুধু দুশ্চিন্তা করেছি। আসলে কোনো ব্যাপারই না। তাই কিছু কিছু 'না' শোনার জন্য এগিয়ে যান। কতবার 'না' বলবে মানুষ? একটা সময় গিয়ে 'হ্যাঁ' শুনবেন, শুরু হবে উন্নতি। কিছু ‘হ্যাঁ’ আর কিছু ‘না’-এর সমন্বয় একদিন আপনাকে কল্পনাতীত সফল করে তুলবে।
📄 ১% এর কোটিপতি
পণ্য বা সেবা কী দিচ্ছেন, সেটা আসল কথা না। দিনশেষে গোনায় ধরা হবে বিক্রির সংখ্যা। কয়টা কল করলেন, কয়টা দরজায় কড়া নাড়লেন, কতজন মানুষের সাথে কথা বললেন—এগুলো হলো আসল ধর্তব্য। এই প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনার ঘাড়ে ঝুলবে প্রত্যাখ্যানের ছুরি। কিন্তু একটা সময় উপলব্ধি করবেন যে, সবার কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার দরকারও নেই আপনার। তখনই মন থেকে চলে যাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়। এত এত 'না' শোনার পরও হতে পারেন আশাতীত রকমের ধনবান।
ধরা যাক, আপনি আছেন পাকিস্তানে। সেখানকার জনসংখ্যা ১৮০ মিলিয়ন। আল্লাহ ওই দেশটিকে রহম করুন। এ বইয়ের অনেক সাক্ষাৎকারদাতা ওখানকার মানুষ। এখন মনে করুন, ওই ১৮০ মিলিয়নের মাঝে মাত্র ১% আপনার পণ্যটি কিনেছে। তারপরও তো ১.৮ মিলিয়ন মানুষ আপনার ব্র্যান্ডের ভোক্তা! চুইংগামই নাহয় বেচলেন। প্রতিটার দাম ১ টাকা করে হলেও আপনি এখন মিলিয়নেয়ার। আরও মার্কেট শেয়ার পেলে হয়ে যাবেন মাল্টি-মিলিয়নেয়ার। দেখলেন টাকা কত দ্রুত বাড়ে? তাই ১০০% জনতার কাছে সাড়া পাওয়ার প্রয়োজন নেই। কদাচিৎ কেউ কেউ সাড়া দিলেই হলো। আবার এই অল্প কিছু মানুষ যে সারাক্ষণ কিনতেই থাকবে, তাও জরুরি নয়। যথেষ্ট মানুষের সাথে যদি কথা বলে থাকেন, কেউ না কেউ 'হ্যাঁ' বলবে। ওতেই হয়ে যাবেন ধনী।
তাই আজ থেকে আরও বেশি কল করুন, আরও আরও 'না' শুনুন এবং লেগে থাকার মানসিকতা গড়ে তুলুন। যান, এগুলো আজকের বাড়ির কাজ।
মুজীবুর রহমানের অধ্যবসায় গড়ে তোলার আরেকটি কাহিনি শুনুন। যুবক বয়সে ভাইয়ের সাথে কাজ করা শুরু করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে নির্মাণব্যবসা চালাতেন তখন। শুরুতে তারা সারা শহরে গাড়ি নিয়ে ঘুরতেন। বিল্ডিং সাইট চোখে পড়লে ঢুকে পড়তেন ঠিকাদারের অফিসে। জিজ্ঞেস করতেন, 'কী লাগবে আপনাদের?' ঠিকাদার হয়তো বললেন এত বস্তা সিমেন্ট, এই সময়ের মধ্যে। দুই ভাই এরপর নিজেদের লক্ষ্য বানিয়ে ফেলতেন ওই পরিমাণ মানসম্মত সিমেন্ট ওই সময়ের মাঝে সেরা দামে সরবরাহ করাকে।