📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 সোজাসাপটা কথা

📄 সোজাসাপটা কথা


সঠিক তথ্য খুব গুরুত্ববহ জিনিস। এটি আপনার দিকনির্ণয়ের প্রক্রিয়া। ভুল তথ্য ব্যবসার বিরাট ক্ষতি করে বসতে পারে। ব্যর্থ উদ্যোক্তাদের একটি বৈশিষ্ট্য হলো যার-তার কথায় কান দেওয়া। এসব যদু-মধু নিজেরা না ধনী, না সফল। তাদের দেওয়া তথ্যও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অসত্য।

বিনিয়োগের জগত নিয়ে পড়াশোনা করলে দেখবেন যে, কোনো একটা ক্ষেত্র জনপ্রিয় বলেই সেখানে বিনিয়োগ করে বসে না সচেতন মানুষেরা। ক্রয় করার আগে ব্যবসার মৌলিক জ্ঞান অর্জন করে নেয় বিনিয়োগকারী। কেউ আপনাকে ভালোবাসে বলেই তার সব কথা মানতে হবে না। তাদের উদ্দেশ্য সৎ, কিন্তু নির্দিষ্ট বিষয়ে তথ্য দেওয়ার যোগ্যতা তাদের না-ও থাকতে পারে। টরন্টো অঞ্চলের একজন স্বনামধন্য উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী খালিদ উসমান। নিজের সাফল্যের কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন প্রত্যেকটি বিনিয়োগের ব্যাপারে পূর্ণ সচেতনতা ও সজাগ দৃষ্টিকে।

কিছু মানুষকে দেখবেন বিনামূল্যে উপদেশ বিলায়। এমনকি না চাইলেও। কিন্তু ভুল উপদেশের জন্য পরে বিরাট মূল্য ঢুকাতে হয় ভুক্তভোগীকে। ব্যবসা, বাড়ি, গাড়ি সবকিছুর লোকসান হতে পারে। ভুল মানুষের কথা শুনলে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে ব্যবসা। ইসলামের একটি মূলনীতি হলো নিজে না জানলে এমন কাউকে জিজ্ঞেস করা, যিনি জানেন। যে জীবনে ব্যবসাও করেনি, সফলও হয়নি, তার কথা শুনতে যাবেন কেন? দরকার নেই।

এখন পর্যন্ত আমরা আবেগ, বিশ্বাস ও মন-মানসিকতা নিয়ে আলাপ করেছি। এখন হবে কাজের কথা, তবে সঠিক ধরনের কাজ। সেজন্য আপনাকে জানতে হবে যে, কী করতে হবে। সেই জ্ঞান আসবে সঠিক তথ্য থেকে। লাখপতি বা কোটিপতি যা-ই হতে চান না কেন, এমন কারোর কথা শুনুন যিনি আপনার কাঙ্ক্ষিত ময়দানে ইতোমধ্যে সফল। মানুষের সাথে তাদের কথাবার্তা ও আচার-আচরণের খেয়াল করুন। তাদের মূল্যবোধ কী রকম, কী ধরনের কাজ করেন তারা, তাদের বাচ্চারা কোথায় পড়াশোনা করে? সম্পদশালীদের যাচাই করুন। পরামর্শ চান তাদের কাছে।

sঠিক তথ্য পাওয়ার আরেকটি পদ্ধতি পড়াশোনা। অন্যদের লেখা অভিজ্ঞতার বর্ণনা। হাজার বছর বাঁচতে হবে না সঠিক অভিজ্ঞতা লাভের জন্য। অভিজ্ঞদের লেখা পড়ুন। দেখুন সঠিক মানুষেরা কী করেছেন। সময়ও বাঁচবে, প্রজ্ঞাও বাড়বে।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 উদ্যোক্তা বনাম কর্মচারী

📄 উদ্যোক্তা বনাম কর্মচারী


চাকরিজীবী মাস শেষে নিশ্চিত বেতনের অপেক্ষা করে। উদ্যোক্তার সেরকম কোনো নিশ্চয়তা নেই। এর বদলে আছে বিশ্বাস। উদ্যোক্তা বিশ্বাস করে যে, কাজ করার মাধ্যমে তার রিযক আসবে। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের কর্মচারী হতে শেখায়। আর এর মাধ্যমে ভালোভাবে বেঁচে থাকা সম্ভবও বটে। কিন্তু সম্পদশালী হতে চাইলে (আশা করি সেটা হতে চান বলেই বইটি পড়ছেন) বেতনের দ্বারস্থ হবেন না। লক্ষ্য উঁচু করুন। এটি ইসলামের আরেকটি বৈশিষ্ট্য। সেরাটার দিকে নিশানা করা।

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, আল্লাহ ব্যবসায় বারাকাহ রেখেছেন। কুরআনেও উৎসাহিত করা হয়েছে ব্যবসাকে। প্রশংসা করা হয়েছে একে পেশা হিসেবে। উদ্যোক্তার আয়ের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। ধরা যাক, আপনি আবাসন ব্যবসা করেন। যতদিন মানবজাতি আছে, ততদিন তাদের থাকার ঘর লাগবে। এ এক ক্রমবর্ধমান বাজার। অথবা হয়তো সাবান বিক্রি করেন। প্রতিদিন প্রায় প্রতিটা মানুষের সাবান দরকার হয়। এ এক অনিঃশেষ চাহিদা ও জোগান। মানুষ যতদিন আছে, ততদিন সুযোগ আছে। বিশেষ কোনো দেশে জন্ম নেওয়ার বা দেশান্তরি হওয়ার কোনো দরকার নেই। দরকার শুধু মানুষ। তাদের কোনো একটা চাহিদা পূরণ করুন, আয়ের আর সীমা থাকবে না। মানুষ আছে যতদিন, মুনাফা আসবে ততদিন। কেউ বলতে পারবে না, 'এই মাসে আপনার ২০,০০০ টাকা রোজগার হবে।' না! বিলিয়ন টাকাও হতে পারে, যদি সেটাই হয় আপনার লক্ষ্য।

এর ভালো একটি উদাহরণ যুক্তরাজ্যবাসী জনাব আনওয়ার পারভেজ। ব্র্যাডফোর্ডে একসময় বাসচালক ছিলেন তিনি। এখন আর নন। বেস্টওয়ে গ্রুপের সভাপতি হিসেবে তিনি এখন বিলিয়নেয়ার। বাসচালক থাকাকালে মাসিক আয় ছিল কর্মঘণ্টা অনুযায়ী নির্ধারিত। ঘণ্টায় ২০ ইউরো করে আয় ও সপ্তাহে একশ ঘণ্টা কাজ করলে মাসিক আয় দাঁড়াত সর্বোচ্চ ৮০০০ ইউরো। নাকে-মুখে কাজ করলেও চাকরিজীবীরা সময়ের বাঁধনে বন্দি।

উদ্যোক্তার সেই বন্দিত্ব নেই। তাই তিনি বিলিয়নেয়ার। তাকে ঘণ্টায় বিশ ইউরো করে পাঁচ কোটি ঘণ্টা কাজ করতে হয়নি। তিনি যা করেছেন, তা হলো কোনো সংস্থা বা কোম্পানি স্থাপন। তার সাথে জড়িত অংশীদার, সরবরাহকারী, কর্মচারী, কর্মকর্তা সবাই এই প্রক্রিয়া ধনী হয়েছে। নিজেও ব্যবস্থা করেছেন পরিবারের অন্নের। অথচ পাকিস্তান থেকে যুক্তরাজ্যে আসা এই ব্যক্তিটি হাইস্কুলের পর আর পড়াশোনা করেননি। আপনিও পারেন চাকরির বদলে ব্যবসা করে বিলিয়নেয়ার হতে। চাকরি যত ভালোই হোক, আপনি চাকরই। ওই পথে সম্পদশালী হতে পারবেন না, যদি না বিনিয়োগের মতো কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00