📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 চাকরি কখনও বংশীয় হয় না

📄 চাকরি কখনও বংশীয় হয় না


কেন সন্তানদের জন্য সম্পদ রেখে যাওয়া উচিত? অথবা সন্তানদের সন্তানদের জন্য? সাধারণত আমাদের শেখানো হয় যে, টাকার ভোক্তাশ্রেণি একটিই; আমরা নিজেরা। আপনি নিজে খাটবেন, নিজে কামাবেন, খাবেনও নিজেই। আপনার শ্রম, আপনার ধন, আপনার ফুর্তি। উত্তরাধিকারসূত্রে কেউ সেই কাজ ও ফলাফলের মালিক হবে না।

ধরা যাক, আপনি চাকরিজীবী। বর্তমান যুগে টাকা কামানোর জনপ্রিয়তম মাধ্যম। কিন্তু চাকরি কেউ উত্তরাধিকার সূত্রে পায় না। কেউ বলে না, ‘এতদিন বাবা এই পদে ছিলেন। এখন আমি।’ এমনটা হয় না বাস্তবে। সন্তানকে নিজের থেকে নতুন করে শুরু করতে হয়। এটা সময়ের বিরাট অপচয়। টেকসই সম্পদ গড়ার উপায় হলো প্রজন্মান্তরে সম্পদ রেখে যাওয়া। জনাব জাহুর কুরাইশি এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছেন বলেই লন্ডনে তার উচ্চবেতনের চাকরিটি ছেড়ে দেন। শুরু করেন নিজস্ব ব্যবসা—হবি ক্রাফট।

ব্যবসা তো উত্তরাধিকার সূত্রে দিয়ে যাওয়া যায় বটেই। পাশাপাশি আরেকটি উপায় হলো সন্তানদের দক্ষতা শেখানো। যেমন: দাদারা নাতিদের সাফল্যের মূলনীতি শেখান। ড. ইয়াকুব মির্জা ব্যবসা করতে শিখেছেন এভাবেই। পূর্বপুরুষদের কাছে শিখেছেন দর কষাকষির নিয়ম। এই ব্যবহারিক দক্ষতাগুলো শিখা ও শেখানো সম্ভব। আর শিক্ষণ-শিক্ষার এই ধারার যোগ্যতম দাবিদার নিজ পরিবারের সদস্যরা। শহিদ টা্টাও এভাবে শিখেছেন। একইভাবে শিখেছেন আরও অনেক উদ্যোক্তা, যাদের সাক্ষাৎকার আমি নিয়েছি।

তাই একটি পরম্পরা রেখে যান। এই বইটি সন্তানদের দিন। পরিবার নিয়ে বসে পাঠচক্র করুন এর ওপর। টাকা যেমন খুব দ্রুত আসতে পারে, চলেও যেতে পারে তার চেয়ে দ্রুত। তাই পরিবারের গভীরে স্থায়ী জ্ঞান প্রোথিত করে দিন। ধনী ও সম্পদশালীর মাঝে পার্থক্য আছে। ধনী মানে হতে পারে কোটিপতি। তবু তা ক্ষণস্থায়ী। একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। কিন্তু সম্পদ? সম্পদ উত্তরাধিকারভিত্তিক। সম্পদ মানে কামাই ধরে রাখার জন্য সারাক্ষণ কাজ করার প্রয়োজন না পড়া। টাকা এখানে আর কোনো ব্যাপারই না। তখন আপনি আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারবেন।

তাই টাকা যার-তার জন্য। আর সম্পদ হলো উচ্চাশাবিশিষ্ট মানুষ ও তাদের পরিবারের জন্য। এখন থেকে সম্পদশালী হতে শিখুন। সম্পদশালিতা একটি মানসিকতা। সম্পদধারী পরিবার নিয়ে সব সময় কথা বলে মানুষ। হয়তো তাদের প্রপিতামহ ছিলেন ব্যবসায়ী। সেই ব্যবসায়ীরা নিজেদের টাকা ও দক্ষতা রেখে গেছেন উত্তরপুরুষের জন্য। তারা সেটা ধরে রেখেছে পরিবারে। আসল সম্পদ এভাবেই তৈরি হয়।

কেন সন্তানদের জন্য সম্পদ রেখে যাওয়া উচিত? অথবা সন্তানদের সন্তানদের জন্য? সাধারণত আমাদের শেখানো হয় যে, টাকার ভোক্তাশ্রেণি একটিই; আমরা নিজেরা। আপনি নিজে খাটবেন, নিজে কামাবেন, খাবেনও নিজেই। আপনার শ্রম, আপনার ধন, আপনার ফুর্তি। উত্তরাধিকারসূত্রে কেউ সেই কাজ ও ফলাফলের মালিক হবে না।

ধরা যাক, আপনি চাকরিজীবী। বর্তমান যুগে টাকা কামানোর জনপ্রিয়তম মাধ্যম। কিন্তু চাকরি কেউ উত্তরাধিকার সূত্রে পায় না। কেউ বলে না, ‘এতদিন বাবা এই পদে ছিলেন। এখন আমি।’ এমনটা হয় না বাস্তবে। সন্তানকে নিজের থেকে নতুন করে শুরু করতে হয়। এটা সময়ের বিরাট অপচয়। টেকসই সম্পদ গড়ার উপায় হলো প্রজন্মান্তরে সম্পদ রেখে যাওয়া। জনাব জাহুর কুরাইশি এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছেন বলেই লন্ডনে তার উচ্চবেতনের চাকরিটি ছেড়ে দেন। শুরু করেন নিজস্ব ব্যবসা—হবি ক্রাফট।

ব্যবসা তো উত্তরাধিকার সূত্রে দিয়ে যাওয়া যায় বটেই। পাশাপাশি আরেকটি উপায় হলো সন্তানদের দক্ষতা শেখানো। যেমন: দাদারা নাতিদের সাফল্যের মূলনীতি শেখান। ড. ইয়াকুব মির্জা ব্যবসা করতে শিখেছেন এভাবেই। পূর্বপুরুষদের কাছে শিখেছেন দর কষাকষির নিয়ম। এই ব্যবহারিক দক্ষতাগুলো শিখা ও শেখানো সম্ভব। আর শিক্ষণ-শিক্ষার এই ধারার যোগ্যতম দাবিদার নিজ পরিবারের সদস্যরা। শহিদ টা্টাও এভাবে শিখেছেন। একইভাবে শিখেছেন আরও অনেক উদ্যোক্তা, যাদের সাক্ষাৎকার আমি নিয়েছি।

তাই একটি পরম্পরা রেখে যান। এই বইটি সন্তানদের দিন। পরিবার নিয়ে বসে পাঠচক্র করুন এর ওপর। টাকা যেমন খুব দ্রুত আসতে পারে, চলেও যেতে পারে তার চেয়ে দ্রুত। তাই পরিবারের গভীরে স্থায়ী জ্ঞান প্রোথিত করে দিন। ধনী ও সম্পদশালীর মাঝে পার্থক্য আছে। ধনী মানে হতে পারে কোটিপতি। তবু তা ক্ষণস্থায়ী। একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। কিন্তু সম্পদ? সম্পদ উত্তরাধিকারভিত্তিক। সম্পদ মানে কামাই ধরে রাখার জন্য সারাক্ষণ কাজ করার প্রয়োজন না পড়া। টাকা এখানে আর কোনো ব্যাপারই না। তখন আপনি আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারবেন।

তাই টাকা যার-তার জন্য। আর সম্পদ হলো উচ্চাশাবিশিষ্ট মানুষ ও তাদের পরিবারের জন্য। এখন থেকে সম্পদশালী হতে শিখুন। সম্পদশালিতা একটি মানসিকতা। সম্পদধারী পরিবার নিয়ে সব সময় কথা বলে মানুষ। হয়তো তাদের প্রপিতামহ ছিলেন ব্যবসায়ী। সেই ব্যবসায়ীরা নিজেদের টাকা ও দক্ষতা রেখে গেছেন উত্তরপুরুষের জন্য। তারা সেটা ধরে রেখেছে পরিবারে। আসল সম্পদ এভাবেই তৈরি হয়।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 সোনা, রূপা, হীরা

📄 সোনা, রূপা, হীরা


মুসলিম উদ্যোক্তার জন্য ইসলাম বিশাল সাফল্যের একটি কাঠামো দিয়েছে। যেমন: নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবিদের শিখিয়েছেন সন্তানদের সুন্দর নাম রাখতে। সুন্দর, ইতিবাচক ও অর্থপূর্ণ নাম সন্তানের অধিকার। সাফল্যের সাথে এর সম্পর্ক কী? জীবনে যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশিবার শুনবেন নিজের নাম। পুনরাবৃত্তির ফলে একটা জিনিস অবচেতন মনে বসে যায়। আপনার নামের অর্থ সুন্দর হলে সহজাতভাবেই তা আপনার চরিত্রে বসে যাবে একসময়। হয়ে উঠবেন সেই গুণের মূর্তরূপ। রাসূলুল্লাহর নামানুসারে মুহাম্মাদ বা আহমাদ (প্রশংসনীয়) নাম রাখার প্রথা তাই মুসলিমদের মধ্যে এত জনপ্রিয়। শুধু যে এর অর্থই সুন্দর তা-ই না, এ এক অসাধারণ আদর্শ ব্যক্তির নামও বটে। মানুষ সানন্দে এই নাম রাখে এই আশায় যে, সন্তানও সৎকর্মশীল হবে।

এবার এই মূলনীতির পরবর্তী ধাপ আবিষ্কার করা যাক। উত্তর আমেরিকা আর ইউরোপে থাকতে আমি আত্মোন্নয়ন নিয়ে পড়াশোনা করেছি। দেখা পেয়েছি অবিশ্বাস্যরকমের সফল কিছু মানুষের। এদের মাঝে শুধু মুসলিমই না; খ্রিষ্টান, ইয়াহূদী আর হিন্দুও আছে। খেয়াল করলাম যে, সম্পদশালী অনেক পশ্চিমা ইয়াহূদী পরিবার তাদের নাম পালটে ফেলেছে। তাদের বংশীয় নাম কোনো হিব্রু শব্দ নয়। সেগুলো অ্যাংলিকাইজড করে ফেলেছে। যেমন: গোল্ডম্যান স্যাকস। এককালে আমার এক সহকর্মী ছিল মাইকেল সিলভার নামে। আবার বারক্লেইজ ব্যাংকের সিইওর নাম বব ডায়ামন্ড। গোল্ড, সিলভার, ডায়ামন্ড; সম্পদ-সচেতন সব নাম। নিজেই দেখে নিন, কীভাবে পুরো জাতিটি আর্থিক সাফল্যের জন্য রীতিমতো প্রোগ্রামড হয়ে আছে। নামটা পর্যন্ত সেরকম!

আমরা মুসলিমরা কি এ মূলনীতি প্রয়োগ করি? হ্যাঁ, অবশ্যই! মালয়শিয়ানরা যেমন তাদের দেশকে বলে ‘ধনবান মালয়শিয়া’। আর দেখুন ফলাফল! দ্রুত উন্নয়নরত এই দেশ ভর্তি সফল মুসলিম উদ্যোক্তা। অর্থাৎ, মালয়শিয়ানরা তাদের জাতিকে সুন্নাহ অনুযায়ী সুন্দর নাম দিয়েছে। আপনারও উচিত নিজের জাতি, পরিবার ও সন্তানদের সুন্দর ভাবমূর্তি গড়ে তোলা। পুরো নাম না হোক, অন্তত ডাকনামটা দিন সাফল্যভিত্তিক। সুন্নাহর এই অনুসরণ আপনাকে নিয়ে যাবে উন্নতির দিকে।

মুসলিম উদ্যোক্তার জন্য ইসলাম বিশাল সাফল্যের একটি কাঠামো দিয়েছে। যেমন: নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবিদের শিখিয়েছেন সন্তানদের সুন্দর নাম রাখতে। সুন্দর, ইতিবাচক ও অর্থপূর্ণ নাম সন্তানের অধিকার। সাফল্যের সাথে এর সম্পর্ক কী? জীবনে যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশিবার শুনবেন নিজের নাম। পুনরাবৃত্তির ফলে একটা জিনিস অবচেতন মনে বসে যায়। আপনার নামের অর্থ সুন্দর হলে সহজাতভাবেই তা আপনার চরিত্রে বসে যাবে একসময়। হয়ে উঠবেন সেই গুণের মূর্তরূপ। রাসূলুল্লাহর নামানুসারে মুহাম্মাদ বা আহমাদ (প্রশংসনীয়) নাম রাখার প্রথা তাই মুসলিমদের মধ্যে এত জনপ্রিয়। শুধু যে এর অর্থই সুন্দর তা-ই না, এ এক অসাধারণ আদর্শ ব্যক্তির নামও বটে। মানুষ সানন্দে এই নাম রাখে এই আশায় যে, সন্তানও সৎকর্মশীল হবে।

এবার এই মূলনীতির পরবর্তী ধাপ আবিষ্কার করা যাক। উত্তর আমেরিকা আর ইউরোপে থাকতে আমি আত্মোন্নয়ন নিয়ে পড়াশোনা করেছি। দেখা পেয়েছি অবিশ্বাস্যরকমের সফল কিছু মানুষের। এদের মাঝে শুধু মুসলিমই না; খ্রিষ্টান, ইয়াহূদী আর হিন্দুও আছে। খেয়াল করলাম যে, সম্পদশালী অনেক পশ্চিমা ইয়াহূদী পরিবার তাদের নাম পালটে ফেলেছে। তাদের বংশীয় নাম কোনো হিব্রু শব্দ নয়। সেগুলো অ্যাংলিকাইজড করে ফেলেছে। যেমন: গোল্ডম্যান স্যাকস। এককালে আমার এক সহকর্মী ছিল মাইকেল সিলভার নামে। আবার বারক্লেইজ ব্যাংকের সিইওর নাম বব ডায়ামন্ড। গোল্ড, সিলভার, ডায়ামন্ড; সম্পদ-সচেতন সব নাম। নিজেই দেখে নিন, কীভাবে পুরো জাতিটি আর্থিক সাফল্যের জন্য রীতিমতো প্রোগ্রামড হয়ে আছে। নামটা পর্যন্ত সেরকম!

আমরা মুসলিমরা কি এ মূলনীতি প্রয়োগ করি? হ্যাঁ, অবশ্যই! মালয়শিয়ানরা যেমন তাদের দেশকে বলে ‘ধনবান মালয়শিয়া’। আর দেখুন ফলাফল! দ্রুত উন্নয়নরত এই দেশ ভর্তি সফল মুসলিম উদ্যোক্তা। অর্থাৎ, মালয়শিয়ানরা তাদের জাতিকে সুন্নাহ অনুযায়ী সুন্দর নাম দিয়েছে। আপনারও উচিত নিজের জাতি, পরিবার ও সন্তানদের সুন্দর ভাবমূর্তি গড়ে তোলা। পুরো নাম না হোক, অন্তত ডাকনামটা দিন সাফল্যভিত্তিক। সুন্নাহর এই অনুসরণ আপনাকে নিয়ে যাবে উন্নতির দিকে।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 বিয়ে

📄 বিয়ে


বিয়ে সাধারণভাবে প্রতিটি মুসলিমের ওপর আবশ্যক। আল্লাহর কাছে এটি খুবই পছন্দনীয়। মিযানে এর সাওয়াবও ভারী। নিজের ক্ষেত্রে দেখি যে, বিয়ের পর আমার আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে। বিশেষত সঠিক সঙ্গী বেছে নিতে পারলে কাজে মনোযোগ অনেক বাড়ে। তাই সঠিক মানুষটিকে বিয়ে করার জন্য শোকর আদায় করুন। বিবাহিত উদ্যোক্তারা বেশি মনোযোগী কেন, জানেন? বিয়ে করার সাথে সাথেই আসে সন্তানগ্রহণের ইচ্ছে। এতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি ‘কেন’ পাওয়া যায়। সন্তানের জন্ম হলে মানুষ দীর্ঘ পরিসরে চিন্তা করে, শুধু নিজেকে নিয়ে না। বড় হলে ওদের কী হবে? ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাথায় রেখে কাজ করছেন আপনি।

এজন্যই ইবরাহীম (আলাইহিসসালাম) এমন বংশধরের দুআ করেছেন, যারা মানুষকে কল্যাণের শিক্ষা দেবে। মন্দ থেকে পবিত্র করবে তাদের। আরও চেয়েছেন সেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রিযক। দুআ করেছেন যেন তারা সম্পদের প্রাচুর্য লাভ করে। আজ পর্যন্ত মক্কায় কোনো ক্ষুধা নেই। হাজ্জের মাধ্যমে তাদের কাছে স্রোতের মতো অর্থ আসে। এমনকি মহানবির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাতে ইসলাম পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেও এমনটিই হয়ে এসেছে।

তাই সত্যিকার অর্থেই বিয়ে সকল সাফল্যের সূচনা। যত উদ্যোক্তার সাক্ষাৎকার নিয়েছি, তাদের প্রায় ৯৫% বিবাহিত। এতে আক্ষরিক অর্থেই সম্পদ গুণোত্তর হারে বাড়ে। চর্মচক্ষে মনে হয় যেন, সন্তান বাড়লে সম্পদ ভাগ হয়ে আরও কমে যাবে। কিন্তু আল্লাহ আপনার রিযকদাতা। তাই সংকীর্ণতার বদলে তিনি দেন প্রাচুর্য।

উদ্যোক্তা হিসেবে পরিবারের অধিকারী হওয়ার আরেকটি অনুপ্রেরণা হলো নিজের একটি ছোট্ট জামাআত তৈরি করা। এমন একটি দল, যাকে সাফল্যের সাথে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আপনি। এতে নেতৃত্বগুণ তৈরি হয়। না হলে এক লক্ষ বা দশ লক্ষ কর্মচারীবিশিষ্ট একটা কোম্পানিকে নেতৃত্ব দেবেন কীভাবে? আপন গৃহের চার দেয়ালে ছোট ওই জামাআতকে নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমেই শুরু হয় তার প্রশিক্ষণ। তাই যারা বিয়ে করেননি, করে ফেলুন!

জুলাইবীব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর ঘটনা মনে আছে নিশ্চয়ই? তাঁর পরিবার ছিল অজ্ঞাত, ছিল না সহযোগিতা করার মতো কোনো গোত্র। তার ওপর ছিল শারীরিক কদর্যতা। তাঁর দিকে তাকানো খুব একটা সুখকর ছিল না। কমবয়সি, খাটো, কুঁজো পিঠ, গোত্রহীন। কিন্তু মুসলিম হিসেবে ছিলেন সবচেয়ে শক্তিশালীদেঁর একজন। দয়ার নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাথে প্রচুর সময় কাটাতেন; হাসি-মজা করতেন তাঁর সাথে। একদিন নবিজি জিজ্ঞেস করলেন, ‘জুলাইবীব, বিয়ে করবে?’ তরুণটি জবাব দিলেন, ‘করতে তো চাই। কিন্তু কে করবে আমাকে বিয়ে?’ নবিজি অপরূপা এক নারীর কাছে নিজ সাহাবির বিয়ের প্রস্তাব পেশ করেন। মেয়ের বাবা-মা তো ঘরের দরজায় নবিকে দেখে মহাখুশি! ভেবেছিলেন তিনি নিজের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন। কিন্তু জুলাইবীবের কথা শুনে পিলে চমকে যায় তাদের, ‘এর সাথে জীবনেও না!’ ভাবলেন তারা। কিন্তু সেই মুত্তাকি নারী বাবা-মাকে বলেন যে, নবিজি যদি জুলাইবীবকে তার জন্য বেছে নিয়ে থাকেন, তাহলে এতেই কল্যাণ রয়েছে। সে অনুযায়ী বিয়ে হয়। কপর্দকহীন জুলাইবীব কিছুকালের মধ্যেই হয়ে ওঠেন শহরের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের একজন।

এই ঘটনা শোনানোর কারণ কী? কারণ, আমরা যেন উপলব্ধি করি যে, আল্লাহই রিযকদাতা (আর-রায্যাক)। তিনিই দেন, তিনিই বঞ্চিত করেন। আরও প্রমাণিত হলো যে, বিয়ে সচ্ছলতার মাধ্যম। প্রিয় একজন মানুষের সাথে সুখী দাম্পত্য সম্পর্ক মুসলিম উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত। সেক্যুলার গবেষণা থেকেও দেখা যায় যে, বিবাহিত দম্পতিরা অবিবাহিতদের তুলনায় অকল্পনীয় রকমের সম্পদশালী হয়ে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে এর পরিমাণ তিন গুণ। তাদের গড় আয়ুও বেশি। চিন্তার খোরাক আছে এতে।

বিয়ে সাধারণভাবে প্রতিটি মুসলিমের ওপর আবশ্যক। আল্লাহর কাছে এটি খুবই পছন্দনীয়। মিযানে এর সাওয়াবও ভারী। নিজের ক্ষেত্রে দেখি যে, বিয়ের পর আমার আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে। বিশেষত সঠিক সঙ্গী বেছে নিতে পারলে কাজে মনোযোগ অনেক বাড়ে। তাই সঠিক মানুষটিকে বিয়ে করার জন্য শোকর আদায় করুন। বিবাহিত উদ্যোক্তারা বেশি মনোযোগী কেন, জানেন? বিয়ে করার সাথে সাথেই আসে সন্তানগ্রহণের ইচ্ছে। এতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি ‘কেন’ পাওয়া যায়। সন্তানের জন্ম হলে মানুষ দীর্ঘ পরিসরে চিন্তা করে, শুধু নিজেকে নিয়ে না। বড় হলে ওদের কী হবে? ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাথায় রেখে কাজ করছেন আপনি।

এজন্যই ইবরাহীম (আলাইহিসসালাম) এমন বংশধরের দুআ করেছেন, যারা মানুষকে কল্যাণের শিক্ষা দেবে। মন্দ থেকে পবিত্র করবে তাদের। আরও চেয়েছেন সেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রিযক। দুআ করেছেন যেন তারা সম্পদের প্রাচুর্য লাভ করে। আজ পর্যন্ত মক্কায় কোনো ক্ষুধা নেই। হাজ্জের মাধ্যমে তাদের কাছে স্রোতের মতো অর্থ আসে। এমনকি মহানবির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাতে ইসলাম পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেও এমনটিই হয়ে এসেছে।

তাই সত্যিকার অর্থেই বিয়ে সকল সাফল্যের সূচনা। যত উদ্যোক্তার সাক্ষাৎকার নিয়েছি, তাদের প্রায় ৯৫% বিবাহিত। এতে আক্ষরিক অর্থেই সম্পদ গুণোত্তর হারে বাড়ে। চর্মচক্ষে মনে হয় যেন, সন্তান বাড়লে সম্পদ ভাগ হয়ে আরও কমে যাবে। কিন্তু আল্লাহ আপনার রিযকদাতা। তাই সংকীর্ণতার বদলে তিনি দেন প্রাচুর্য।

উদ্যোক্তা হিসেবে পরিবারের অধিকারী হওয়ার আরেকটি অনুপ্রেরণা হলো নিজের একটি ছোট্ট জামাআত তৈরি করা। এমন একটি দল, যাকে সাফল্যের সাথে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আপনি। এতে নেতৃত্বগুণ তৈরি হয়। না হলে এক লক্ষ বা দশ লক্ষ কর্মচারীবিশিষ্ট একটা কোম্পানিকে নেতৃত্ব দেবেন কীভাবে? আপন গৃহের চার দেয়ালে ছোট ওই জামাআতকে নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমেই শুরু হয় তার প্রশিক্ষণ। তাই যারা বিয়ে করেননি, করে ফেলুন!

জুলাইবীব (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-এর ঘটনা মনে আছে নিশ্চয়ই? তাঁর পরিবার ছিল অজ্ঞাত, ছিল না সহযোগিতা করার মতো কোনো গোত্র। তার ওপর ছিল শারীরিক কদর্যতা। তাঁর দিকে তাকানো খুব একটা সুখকর ছিল না। কমবয়সি, খাটো, কুঁজো পিঠ, গোত্রহীন। কিন্তু মুসলিম হিসেবে ছিলেন সবচেয়ে শক্তিশালীদেঁর একজন। দয়ার নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাথে প্রচুর সময় কাটাতেন; হাসি-মজা করতেন তাঁর সাথে। একদিন নবিজি জিজ্ঞেস করলেন, ‘জুলাইবীব, বিয়ে করবে?’ তরুণটি জবাব দিলেন, ‘করতে তো চাই। কিন্তু কে করবে আমাকে বিয়ে?’ নবিজি অপরূপা এক নারীর কাছে নিজ সাহাবির বিয়ের প্রস্তাব পেশ করেন। মেয়ের বাবা-মা তো ঘরের দরজায় নবিকে দেখে মহাখুশি! ভেবেছিলেন তিনি নিজের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন। কিন্তু জুলাইবীবের কথা শুনে পিলে চমকে যায় তাদের, ‘এর সাথে জীবনেও না!’ ভাবলেন তারা। কিন্তু সেই মুত্তাকি নারী বাবা-মাকে বলেন যে, নবিজি যদি জুলাইবীবকে তার জন্য বেছে নিয়ে থাকেন, তাহলে এতেই কল্যাণ রয়েছে। সে অনুযায়ী বিয়ে হয়। কপর্দকহীন জুলাইবীব কিছুকালের মধ্যেই হয়ে ওঠেন শহরের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের একজন।

এই ঘটনা শোনানোর কারণ কী? কারণ, আমরা যেন উপলব্ধি করি যে, আল্লাহই রিযকদাতা (আর-রায্যাক)। তিনিই দেন, তিনিই বঞ্চিত করেন। আরও প্রমাণিত হলো যে, বিয়ে সচ্ছলতার মাধ্যম। প্রিয় একজন মানুষের সাথে সুখী দাম্পত্য সম্পর্ক মুসলিম উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত। সেক্যুলার গবেষণা থেকেও দেখা যায় যে, বিবাহিত দম্পতিরা অবিবাহিতদের তুলনায় অকল্পনীয় রকমের সম্পদশালী হয়ে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে এর পরিমাণ তিন গুণ। তাদের গড় আয়ুও বেশি। চিন্তার খোরাক আছে এতে।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 পারিবারিক অংশীদারত্ব

📄 পারিবারিক অংশীদারত্ব


ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে বের করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। কে হতে পারে সেরা পার্টনার? একক কোনো উত্তর নেই এর। কখনও কখনও পরিবারের সদস্যদের মাঝে ব্যবসায়িক বনিবনা হয়ে ওঠে না। বিশেষত যদি চরিত্রের পার্থক্য থাকে। কিন্তু সাধারণত একসাথে বেড়ে ওঠা মানুষদের চিন্তাচেতনা একইরকম হয়। একসাথে কাজও করতে পারে তারা ভালোমতো। আমার নেওয়া সাক্ষাৎকারে আমি এরকম উদাহরণ পেয়েছি। যেমন: জগলুল ভ্রাতৃদ্বয় ও মির্জা ভ্রাতৃদ্বয়। চল্লিশ বছরের বেশি বয়সি যেসকল উদ্যোক্তার সাথে কথা বলেছি, তাদের অন্তত ৩০% সাফল্য পেয়েছেন পারিবারিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে।

এসব সম্পর্কের ব্যাপারে আশার পারদ ঠিক রাখতে হবে। অতিরিক্ত কথা দিয়ে বসবেন না। তবে ব্যবসা যদি ভালোমতো চলে, তাহলে পারিবারিক অংশীদারি রাখা যায় এতে। পরস্পরকে সাহায্য করার পাশাপাশি সকলেই যেন ভাগাভাগি করে নিতে পারে ফলাফল। জগলুল ভ্রাতৃদ্বয়ের মতো কিছু পরিবারে বড় ভাই ছোট ভাইকে পথ দেখান। অনুজকে তিনি শিখিয়েছেন পুঁজিবাজারের নানা দিক এবং কোম্পানি দাঁড় করানোর নিয়ম। তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় তারপর উপকৃত হয়েছে পুরো পরিবার।

মনে রাখবেন, কোনোকিছুই ত্রুটিহীন নয়। কিন্তু ইহসান সহকারে চেষ্টা করে তা থেকে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ফলাফল তুলে আনা সম্ভব। তাই পারিবারিক অংশীদারিকে সফল করার আরেকটি উপায় হলো সন্তানদের ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে প্রশিক্ষিত করে তোলা। সন্তান লালনের আলোচনা চলে আসে এখানে। নিজে কীভাবে পরিবারের মাঝে বেড়ে উঠেছেন, তা দেখুন। ভাইবোনদের সাথে মিলমিশ ও সহযোগিতার পরিবেশ ছিল কি? এ শিক্ষা কিন্তু একদম ছোট বয়স থেকেই দিতে হয়। কখনও কি মনে হয়েছে যে, একজনের ওপর অবিচার করে আরেকজনকে বেশি দেওয়া হচ্ছে? কখনও কি নিজেকে বঞ্চিত মনে হয়েছে অন্যদের তুলনায়? যদি হয়ে থাকে, তাহলে নিজের সন্তানদের ক্ষেত্রে আর এই ভুলের পুনরাবৃত্তি করবেন না। দায়িত্বশীল পিতামাতা ইসলামের নির্দেশানুযায়ী ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সব সন্তানকে সমান আদর-যত্ন দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। কন্যাসন্তানের প্রতি ন্যায়পরায়ণ, দয়ালু ও ভারসাম্যপূর্ণ হওয়ার সাওয়াব তো আরও বেশি। সন্তানের প্রতি ভারসাম্যপূর্ণ আচরণই হবে ভবিষ্যৎ পারিবারিক অংশীদারি গড়ে তোলার ভিত্তি।

ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে বের করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। কে হতে পারে সেরা পার্টনার? একক কোনো উত্তর নেই এর। কখনও কখনও পরিবারের সদস্যদের মাঝে ব্যবসায়িক বনিবনা হয়ে ওঠে না। বিশেষত যদি চরিত্রের পার্থক্য থাকে। কিন্তু সাধারণত একসাথে বেড়ে ওঠা মানুষদের চিন্তাচেতনা একইরকম হয়। একসাথে কাজও করতে পারে তারা ভালোমতো। আমার নেওয়া সাক্ষাৎকারে আমি এরকম উদাহরণ পেয়েছি। যেমন: জগলুল ভ্রাতৃদ্বয় ও মির্জা ভ্রাতৃদ্বয়। চল্লিশ বছরের বেশি বয়সি যেসকল উদ্যোক্তার সাথে কথা বলেছি, তাদের অন্তত ৩০% সাফল্য পেয়েছেন পারিবারিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে।

এসব সম্পর্কের ব্যাপারে আশার পারদ ঠিক রাখতে হবে। অতিরিক্ত কথা দিয়ে বসবেন না। তবে ব্যবসা যদি ভালোমতো চলে, তাহলে পারিবারিক অংশীদারি রাখা যায় এতে। পরস্পরকে সাহায্য করার পাশাপাশি সকলেই যেন ভাগাভাগি করে নিতে পারে ফলাফল। জগলুল ভ্রাতৃদ্বয়ের মতো কিছু পরিবারে বড় ভাই ছোট ভাইকে পথ দেখান। অনুজকে তিনি শিখিয়েছেন পুঁজিবাজারের নানা দিক এবং কোম্পানি দাঁড় করানোর নিয়ম। তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় তারপর উপকৃত হয়েছে পুরো পরিবার।

মনে রাখবেন, কোনোকিছুই ত্রুটিহীন নয়। কিন্তু ইহসান সহকারে চেষ্টা করে তা থেকে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ফলাফল তুলে আনা সম্ভব। তাই পারিবারিক অংশীদারিকে সফল করার আরেকটি উপায় হলো সন্তানদের ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে প্রশিক্ষিত করে তোলা। সন্তান লালনের আলোচনা চলে আসে এখানে। নিজে কীভাবে পরিবারের মাঝে বেড়ে উঠেছেন, তা দেখুন। ভাইবোনদের সাথে মিলমিশ ও সহযোগিতার পরিবেশ ছিল কি? এ শিক্ষা কিন্তু একদম ছোট বয়স থেকেই দিতে হয়। কখনও কি মনে হয়েছে যে, একজনের ওপর অবিচার করে আরেকজনকে বেশি দেওয়া হচ্ছে? কখনও কি নিজেকে বঞ্চিত মনে হয়েছে অন্যদের তুলনায়? যদি হয়ে থাকে, তাহলে নিজের সন্তানদের ক্ষেত্রে আর এই ভুলের পুনরাবৃত্তি করবেন না। দায়িত্বশীল পিতামাতা ইসলামের নির্দেশানুযায়ী ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সব সন্তানকে সমান আদর-যত্ন দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। কন্যাসন্তানের প্রতি ন্যায়পরায়ণ, দয়ালু ও ভারসাম্যপূর্ণ হওয়ার সাওয়াব তো আরও বেশি। সন্তানের প্রতি ভারসাম্যপূর্ণ আচরণই হবে ভবিষ্যৎ পারিবারিক অংশীদারি গড়ে তোলার ভিত্তি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00