📄 বில்லியன் ডলার ভ্রাতৃত্ব
সাফল্য আর ব্যর্থতার পার্থক্য ফান্ডিং-এ। যে অর্থনীতি দুর্বারবেগে উন্নতি করছে, তার প্রবৃদ্ধির মূলে আছে অর্থের জোগান। আর সেই জোগান মূলত পাচ্ছেন উদ্যোক্তাগণ। ব্যবসায় বিনিয়োগ করা টাকার কোনো যাকাত নেই। এভাবেই ইসলাম উৎসাহ দেয় ব্যবসার মাধ্যমে টাকাকে কাজে লাগাতে। ব্যাংকে টাকাকে অলস ফেলে রেখে সুদের পাহাড় গড়তে নিষেধ করে।
তাহলে যারা ধনী পরিবার থেকে উঠে আসেনি, তাদের ফান্ডিং লাভের উপায়? সহজ! নিজের পরিচিত মানুষদের পরিধি বৃদ্ধি করা। এটাও সহজতর হবে, যদি পরিবারের আস্থা অর্জন করা যায়। হলফ করে বলতে পারি যে, এতে সাফল্য ত্বরান্বিত হয়, কমে যায় ব্যর্থতার সম্ভাবনাও। তবে নিজেকে ন্যায়পরায়ণ হতে হবে। সকল অংশীদারকে দিতে হবে তার প্রাপ্য অংশ।
ইমাম আশরাফ জগলুলের ছোট ভাই হাতিম জগলুল। কানাডায় বিলিয়নাধিক ডলার কোম্পানি WiLAN Inc.-এর সিইও। তার অর্থ জোগানোর কৌশল ছিল পরিবার, বন্ধু ও পরিচিত মহলের কাছে নিজের আইডিয়া তুলে ধরা। সেইসাথে ছিলেন নিজের ব্যাপারে খুবই বিশ্বাসী। ছোঁয়াচে হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সে বিশ্বাস। বিশাল স্বপ্ন মাথায় নিয়ে বাস্তবসম্মতভাবে কাজ করেছেন। পেয়েছেন আশাতীত সাফল্য। তিনি আশা করছিলেন ৩০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যমানের একটি কোম্পানি দাঁড় করানোর। সে জায়গায় এখন মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
তার পদ্ধতি ছিল ‘আগে আসলে বেশি পাবেন’। যে যত আগে ১০,০০০ ডলার বিনিয়োগ করবে, সে লভ্যাংশ পাবে পরবর্তী বিনিয়োগকারীদের চেয়ে বেশি। ব্যাপক সাড়া আসে এর ফলে। পাশাপাশি অর্থ জোগাচ্ছিলেন অন্যান্য উৎস থেকেও। নিজের বাড়ি-গাড়িসহ আরও কিছু সম্পদ বিক্রি করেছেন মূলধন জোগাড় করতে। যতভাবে পেরেছেন, জোগাড় করেছেন। পরিবার থেকে বিপুল সহযোগিতা ছাড়া এতকিছু সম্ভব হতো না। বিশেষত স্ত্রী-সন্তানের পক্ষ থেকে। তাই তাদেরকে স্বপক্ষে নিয়ে আসুন। নিজের স্বপ্নকে এতটা বিশ্বাস করুন, যেন তাদের কাছেও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে যায়।
মূলধন ছাড়া উদ্যোক্তা এক পা-ও সামনে এগোতে পারবে না। আপনার ফান্ডিং আপনার সাফল্যের রকেটের জ্বালানি। লক্ষ্য যদি হয় চাঁদ, তাহলে জ্বালানি কম হলে চলবে? একইভাবে অর্থের জোগান না থাকলে মাঠে মারা পড়বে আপনার কোম্পানিও। একেক উদ্যোগে মূলধনের গুরুত্ব একেকরকম। কিন্তু সাধারণভাবে এর গুরুত্ব সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
সাফল্য আর ব্যর্থতার পার্থক্য ফান্ডিং-এ। যে অর্থনীতি দুর্বারবেগে উন্নতি করছে, তার প্রবৃদ্ধির মূলে আছে অর্থের জোগান। আর সেই জোগান মূলত পাচ্ছেন উদ্যোক্তাগণ। ব্যবসায় বিনিয়োগ করা টাকার কোনো যাকাত নেই। এভাবেই ইসলাম উৎসাহ দেয় ব্যবসার মাধ্যমে টাকাকে কাজে লাগাতে। ব্যাংকে টাকাকে অলস ফেলে রেখে সুদের পাহাড় গড়তে নিষেধ করে।
তাহলে যারা ধনী পরিবার থেকে উঠে আসেনি, তাদের ফান্ডিং লাভের উপায়? সহজ! নিজের পরিচিত মানুষদের পরিধি বৃদ্ধি করা। এটাও সহজতর হবে, যদি পরিবারের আস্থা অর্জন করা যায়। হলফ করে বলতে পারি যে, এতে সাফল্য ত্বরান্বিত হয়, কমে যায় ব্যর্থতার সম্ভাবনাও। তবে নিজেকে ন্যায়পরায়ণ হতে হবে। সকল অংশীদারকে দিতে হবে তার প্রাপ্য অংশ।
ইমাম আশরাফ জগলুলের ছোট ভাই হাতিম জগলুল। কানাডায় বিলিয়নাধিক ডলার কোম্পানি WiLAN Inc.-এর সিইও। তার অর্থ জোগানোর কৌশল ছিল পরিবার, বন্ধু ও পরিচিত মহলের কাছে নিজের আইডিয়া তুলে ধরা। সেইসাথে ছিলেন নিজের ব্যাপারে খুবই বিশ্বাসী। ছোঁয়াচে হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সে বিশ্বাস। বিশাল স্বপ্ন মাথায় নিয়ে বাস্তবসম্মতভাবে কাজ করেছেন। পেয়েছেন আশাতীত সাফল্য। তিনি আশা করছিলেন ৩০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যমানের একটি কোম্পানি দাঁড় করানোর। সে জায়গায় এখন মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
তার পদ্ধতি ছিল ‘আগে আসলে বেশি পাবেন’। যে যত আগে ১০,০০০ ডলার বিনিয়োগ করবে, সে লভ্যাংশ পাবে পরবর্তী বিনিয়োগকারীদের চেয়ে বেশি। ব্যাপক সাড়া আসে এর ফলে। পাশাপাশি অর্থ জোগাচ্ছিলেন অন্যান্য উৎস থেকেও। নিজের বাড়ি-গাড়িসহ আরও কিছু সম্পদ বিক্রি করেছেন মূলধন জোগাড় করতে। যতভাবে পেরেছেন, জোগাড় করেছেন। পরিবার থেকে বিপুল সহযোগিতা ছাড়া এতকিছু সম্ভব হতো না। বিশেষত স্ত্রী-সন্তানের পক্ষ থেকে। তাই তাদেরকে স্বপক্ষে নিয়ে আসুন। নিজের স্বপ্নকে এতটা বিশ্বাস করুন, যেন তাদের কাছেও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে যায়।
মূলধন ছাড়া উদ্যোক্তা এক পা-ও সামনে এগোতে পারবে না। আপনার ফান্ডিং আপনার সাফল্যের রকেটের জ্বালানি। লক্ষ্য যদি হয় চাঁদ, তাহলে জ্বালানি কম হলে চলবে? একইভাবে অর্থের জোগান না থাকলে মাঠে মারা পড়বে আপনার কোম্পানিও। একেক উদ্যোগে মূলধনের গুরুত্ব একেকরকম। কিন্তু সাধারণভাবে এর গুরুত্ব সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
📄 ধরার মতো হাত
এরপর জোগাড় করুন পরামর্শদাতা। পথপ্রদর্শক, উপদেষ্টা, প্রশিক্ষক। এতে সময় বাঁচবে, অর্থ বাঁচবে, শ্রম বাঁচবে। কারণ আপনি যেখানে যেতে চান, তারা সেখানে ইতোমধ্যে আছেন। তাদের কাছে আছে আপনার আকাঙ্ক্ষিত বস্তু। তাই খেয়াল করে খুঁজে নিন তাদের। খুঁজতে গিয়ে মাথায় রাখবেন কয়েকটি বিষয়: আপনার কাঙ্ক্ষিত চরিত্র কি তার আছে? তারা কি আপনাকে উৎসাহিত-উদ্দীপিত করে? দরকারি সরঞ্জামাদি দেখিয়ে দেয়? নিজের কাজ সম্পর্কে ধারণা আছে কি তাদের? আপনার নির্বাচিত ক্ষেত্রে কি তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আছে?
আমিও এমন অনেক প্রশিক্ষকের নিয়ামাত পেয়েছি, যারা বিপুলভাবে বাড়িয়ে দিয়েছেন আমার আত্মবিশ্বাস। তারা আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন ব্যবসাভিযান চালিয়ে যাওয়ার এবং এ বইটি লিখার। নিজের চেষ্টায় বিলিয়নেয়ার এবং The 8th Grade Millionaire বইয়ের রচয়িতা এড মারসার আমাকে বলেছেন, ‘যুবক, তুমি একদিন কোটিপতি হবে।’ কথাটি আমাকে বিশাল আত্মবিশ্বাস জোগায়। সাফল্য নিয়ে নিজের দর্শনও তার সাথে আলোচনা করেছি বিশদভাবে।
পরামর্শদাতাকে অনুসরণ করলে আপনিও সাফল্য পাবেন। এটিই আসল জিনিস। তিনি নিজে কতটা মেধাবী বা ধনী, সেটা বিবেচ্য নয়। পরামর্শ শুনে সামনে এগোনোর বিরাট উদ্যোগ নিন। যদি সাফল্যের ক্ষুধা থাকে, তাহলে পেয়েই যাবেন একসময়। এটাই সূত্র। আপনি সাফল্যের সূত্র অনুসরণ করছেন মাত্র। তথ্য শুনলেন অথচ প্রয়োগ করলেন না, তাহলে তো আর লাভ নেই। ব্যবসা শুরু করে ধরা খাওয়ার একটা উদাহরণ হলো ক্রেতাশূন্য স্থানে দোকান স্থাপন। নিজের ঘরবাড়ি বন্ধক রাখলেও এই ব্যবসায় সবুজ বাতি জ্বলবে না। এইসব ভুল মানুষ করে পরামর্শদাতা জোগাড় না করেই ব্যবসা শুরু করে দিলে। তাই উপদেশ-পরামর্শ চাইতে সংকোচ করবেন না।
সফল মুসলিম উদ্যোক্তা সব সময় চাইতে থাকে। আল্লাহর কাছে, পরামর্শদাতার কাছে, উপদেষ্টার কাছে। যে জানে, তাকে খুঁজে বের করে জেনে নিন আপনার যা জানার। সেরকম কেউ হয়তো আছে আপনার পরিবারেই। এরাই শ্রেষ্ঠ পরামর্শদাতা। কারণ আপনার শক্তি-দুর্বলতা তাদের জানা আছে। ঘনিষ্ঠতার কারণে এদের কাছে পাওয়াও সহজ। আবার কাছের লোক বলে তাদের সাফল্যও আপনার হাতের নাগালে বলে মনে হবে। হাতের কাছে এমন সম্পদ পেলে অবহেলা করবেন না।
জনাব সালিম সিদ্দিকি পেয়েছেন এমনই প্রশিক্ষক, তার নিজের বাবা। জানিয়েছেন যে, বাবাকে নিজের পথপ্রদর্শক ও আদর্শ হিসেবে পেয়ে তিনি কতটা উচ্ছ্বসিত। দেশভাগের সময় ভারত থেকে পাকিস্তানে চলে এসেছিলেন তিনি। তারপর শূন্য থেকে শুরু করেন ব্যবসা। একসময় হয়ে ওঠেন দেশের প্রথম সারির প্রকৌশলী। বাবার ব্যাপারে সালিম সিদ্দিকির সবচেয়ে পুরোনো স্মৃতি হলো তাহাজ্জুদ সালাত পড়ে আল্লাহর সাহায্য চাইতে দেখা। আজ সেই প্রকৌশলীর সন্তান নিজেও দুর্দান্ত সফল এবং ৫ মিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক। ইতিবাচকতা এভাবে সংক্রমিত হয়। সালিম সাহেবের বাবা হাল ছেড়ে দিলে বর্তমান চিত্র কেমন হতো, বলুন তো! তার পরিবার শিখত কীভাবে ব্যর্থ হতে হয়। আমার প্রশিক্ষক একটি কথা বলেছেন, ‘সাফল্য এক ধরনের অভ্যাস। ব্যর্থতাও তা-ই।’
ইসলামে নিজের পাপ প্রচার করার নিষেধাজ্ঞার এটিও একটি কারণ। মানুষ সেসব গুনাহ সম্পর্কে জেনে নিজেরাও পুনরাবৃত্তি করতে যায়। যদি জানতেই না পারত এ সম্পর্কে, তাহলে সে পাপ সংঘটনের সম্ভাবনাও কমে যেত অনেকাংশে। উদ্যোগের ক্ষেত্রেও যদি সাফল্য ছাড়া আর কিছুর ব্যাপারে না-ই জানেন, তাহলে সাফল্যই হয়ে যাবে সহজাত। আপনার চাওয়াও তা-ই। ধনী হওয়াও তখন আর কঠিন থাকবে না। নিজেও পাবেন আর দান করবেন, ব্যস।
এরপর জোগাড় করুন পরামর্শদাতা। পথপ্রদর্শক, উপদেষ্টা, প্রশিক্ষক। এতে সময় বাঁচবে, অর্থ বাঁচবে, শ্রম বাঁচবে। কারণ আপনি যেখানে যেতে চান, তারা সেখানে ইতোমধ্যে আছেন। তাদের কাছে আছে আপনার আকাঙ্ক্ষিত বস্তু। তাই খেয়াল করে খুঁজে নিন তাদের। খুঁজতে গিয়ে মাথায় রাখবেন কয়েকটি বিষয়: আপনার কাঙ্ক্ষিত চরিত্র কি তার আছে? তারা কি আপনাকে উৎসাহিত-উদ্দীপিত করে? দরকারি সরঞ্জামাদি দেখিয়ে দেয়? নিজের কাজ সম্পর্কে ধারণা আছে কি তাদের? আপনার নির্বাচিত ক্ষেত্রে কি তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আছে?
আমিও এমন অনেক প্রশিক্ষকের নিয়ামাত পেয়েছি, যারা বিপুলভাবে বাড়িয়ে দিয়েছেন আমার আত্মবিশ্বাস। তারা আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন ব্যবসাভিযান চালিয়ে যাওয়ার এবং এ বইটি লিখার। নিজের চেষ্টায় বিলিয়নেয়ার এবং The 8th Grade Millionaire বইয়ের রচয়িতা এড মারসার আমাকে বলেছেন, ‘যুবক, তুমি একদিন কোটিপতি হবে।’ কথাটি আমাকে বিশাল আত্মবিশ্বাস জোগায়। সাফল্য নিয়ে নিজের দর্শনও তার সাথে আলোচনা করেছি বিশদভাবে।
পরামর্শদাতাকে অনুসরণ করলে আপনিও সাফল্য পাবেন। এটিই আসল জিনিস। তিনি নিজে কতটা মেধাবী বা ধনী, সেটা বিবেচ্য নয়। পরামর্শ শুনে সামনে এগোনোর বিরাট উদ্যোগ নিন। যদি সাফল্যের ক্ষুধা থাকে, তাহলে পেয়েই যাবেন একসময়। এটাই সূত্র। আপনি সাফল্যের সূত্র অনুসরণ করছেন মাত্র। তথ্য শুনলেন অথচ প্রয়োগ করলেন না, তাহলে তো আর লাভ নেই। ব্যবসা শুরু করে ধরা খাওয়ার একটা উদাহরণ হলো ক্রেতাশূন্য স্থানে দোকান স্থাপন। নিজের ঘরবাড়ি বন্ধক রাখলেও এই ব্যবসায় সবুজ বাতি জ্বলবে না। এইসব ভুল মানুষ করে পরামর্শদাতা জোগাড় না করেই ব্যবসা শুরু করে দিলে। তাই উপদেশ-পরামর্শ চাইতে সংকোচ করবেন না।
সফল মুসলিম উদ্যোক্তা সব সময় চাইতে থাকে। আল্লাহর কাছে, পরামর্শদাতার কাছে, উপদেষ্টার কাছে। যে জানে, তাকে খুঁজে বের করে জেনে নিন আপনার যা জানার। সেরকম কেউ হয়তো আছে আপনার পরিবারেই। এরাই শ্রেষ্ঠ পরামর্শদাতা। কারণ আপনার শক্তি-দুর্বলতা তাদের জানা আছে। ঘনিষ্ঠতার কারণে এদের কাছে পাওয়াও সহজ। আবার কাছের লোক বলে তাদের সাফল্যও আপনার হাতের নাগালে বলে মনে হবে। হাতের কাছে এমন সম্পদ পেলে অবহেলা করবেন না।
জনাব সালিম সিদ্দিকি পেয়েছেন এমনই প্রশিক্ষক, তার নিজের বাবা। জানিয়েছেন যে, বাবাকে নিজের পথপ্রদর্শক ও আদর্শ হিসেবে পেয়ে তিনি কতটা উচ্ছ্বসিত। দেশভাগের সময় ভারত থেকে পাকিস্তানে চলে এসেছিলেন তিনি। তারপর শূন্য থেকে শুরু করেন ব্যবসা। একসময় হয়ে ওঠেন দেশের প্রথম সারির প্রকৌশলী। বাবার ব্যাপারে সালিম সিদ্দিকির সবচেয়ে পুরোনো স্মৃতি হলো তাহাজ্জুদ সালাত পড়ে আল্লাহর সাহায্য চাইতে দেখা। আজ সেই প্রকৌশলীর সন্তান নিজেও দুর্দান্ত সফল এবং ৫ মিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক। ইতিবাচকতা এভাবে সংক্রমিত হয়। সালিম সাহেবের বাবা হাল ছেড়ে দিলে বর্তমান চিত্র কেমন হতো, বলুন তো! তার পরিবার শিখত কীভাবে ব্যর্থ হতে হয়। আমার প্রশিক্ষক একটি কথা বলেছেন, ‘সাফল্য এক ধরনের অভ্যাস। ব্যর্থতাও তা-ই।’
ইসলামে নিজের পাপ প্রচার করার নিষেধাজ্ঞার এটিও একটি কারণ। মানুষ সেসব গুনাহ সম্পর্কে জেনে নিজেরাও পুনরাবৃত্তি করতে যায়। যদি জানতেই না পারত এ সম্পর্কে, তাহলে সে পাপ সংঘটনের সম্ভাবনাও কমে যেত অনেকাংশে। উদ্যোগের ক্ষেত্রেও যদি সাফল্য ছাড়া আর কিছুর ব্যাপারে না-ই জানেন, তাহলে সাফল্যই হয়ে যাবে সহজাত। আপনার চাওয়াও তা-ই। ধনী হওয়াও তখন আর কঠিন থাকবে না। নিজেও পাবেন আর দান করবেন, ব্যস।
📄 ইসলামের স্বপ্ন
ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় কারণ অনৈক্য; হৃদয়ের অনৈক্য। তাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন, জামাআতবদ্ধ থাকুন। ঐক্যের আদেশই একমাত্র আদেশ, যা কুরআনে দুইবার বলা হয়েছে, ‘ঐক্যবদ্ধভাবে আল্লাহর রজ্জু শক্ত করে ধরে রাখো। বিচ্ছিন্ন হয়ো না। [১২]’ এতেই বোঝা যায় ঐক্যের গুরুত্ব।
ব্যর্থতার দ্বিতীয় কারণ সাফল্যের খোলস। এই খোলস আসতে পারে ভালো পদে চাকরি বা খ্যাতির রূপ ধরে। একটা কথা বলি। জনপ্রিয়তা দিয়ে বিল পরিশোধ হয় না। গাড়ি কেনা যায় না। হয় না বাড়িভাড়া। এসবের জন্য চাই টাকা। তাই আসল সাফল্য চাইলে সাফল্যের খোলসের পেছনে ছুটবেন না। আসল সাফল্য হলো এ বইয়ে বর্ণিত মূলনীতিগুলোর অনুসরণ। ‘ধনী হতে হলে অমুক কোম্পানিতে বা তমুক দেশে চাকরি করতে হবে।’—এসব কথা নিতান্ত গালগল্প। অনেক মানুষ এসব গল্পের পেছনে জীবন নষ্ট করেছে।
জনাব লুকমান আলি এসব গল্প পেছনে ফেলে এসেছেন। খাইয়াল থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা লুকমান আলি খুবই উঁচু দরের পরিচালক। তার সাথে ‘আমেরিকান ড্রিম’ নিয়ে বেশ কিছু আলাপ হলো। সফট পাওয়ার বলে একটা কথা আছে। কিছু দেশ এর ব্যবহারও করে চৌকসভাবে। আমেরিকা তার সফট পাওয়ারের সবচেয়ে সফল ব্যবহারের জন্য খ্যাত। মুভি, পপ কালচার, মিউজিক ইত্যাদির মাধ্যমে। আমেরিকার সফট পাওয়ার নিহিত তার গল্পের মাঝে। তারা একটা গল্প তৈরি করতে পেরেছে। আমেরিকার শূন্য থেকে শিখরে চড়ার গল্প। এটিই আমেরিকান ড্রিমের পেছনে মূল ধারণা।
জনাব আলির মতে, মুসলিম দেশগুলোর মাঝে এমন একটি স্বপ্নকেন্দ্রিক বয়ান তৈরি করার দৃষ্টান্ত বিরল। এ কারণেই ‘আমেরিকান ড্রিম’ শব্দদ্বয় এত শক্তিশালী। দিনে দিনে এর আকর্ষণও বেড়েছে। তরুণ মুসলিমদের নিয়ে তিনি একটা পরীক্ষা করেন। জিজ্ঞেস করেন, ‘ইসলামের স্বপ্ন কী? কে কে জানেন?’ বেশিরভাগ তরুণ ধরতেই পারেনি তিনি কোন প্রসঙ্গ থেকে কথাটা এনেছেন। তারা একেকজন একেকভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে। কিন্তু একক কোনো ধারণা হাজির করতে পারে না। এই একই বাচ্চাগুলোকে আমেরিকান ড্রিম নিয়ে জিজ্ঞেস করুন, গড়গড় করে সবাই একই আইডিয়া ও কালচারাল রেফারেন্স তুলে আনবে। আলির প্রশ্ন, ইসলাম যদি আমাদের কাছে এতই গুরুত্বপূর্ণ হয়, ইসলামকেন্দ্রিক কোনো স্বপ্ন আমাদের নেই কেন? কারণ স্বপ্নের গুরুত্বই বুঝে উঠতে পারিনি আমরা। তারপর তিনি ইসলামের স্বপ্ন ব্যাখ্যা করে বোঝান।
আমরা চাই সেই স্বপ্নকে আবারও প্রজ্জ্বলিত করতে। আপনার কাছে ইসলামের স্বপ্নের মানে কী? পাঁচ মিনিট সময় নিয়ে চিন্তা করুন। মুসলিম উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার যাত্রায় সাহায্য করবে এটি।
টিকাঃ
[১২] সূরা আলে ইমরান ৩:১০৩
ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় কারণ অনৈক্য; হৃদয়ের অনৈক্য। তাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন, জামাআতবদ্ধ থাকুন। ঐক্যের আদেশই একমাত্র আদেশ, যা কুরআনে দুইবার বলা হয়েছে, ‘ঐক্যবদ্ধভাবে আল্লাহর রজ্জু শক্ত করে ধরে রাখো। বিচ্ছিন্ন হয়ো না। [১২]’ এতেই বোঝা যায় ঐক্যের গুরুত্ব।
ব্যর্থতার দ্বিতীয় কারণ সাফল্যের খোলস। এই খোলস আসতে পারে ভালো পদে চাকরি বা খ্যাতির রূপ ধরে। একটা কথা বলি। জনপ্রিয়তা দিয়ে বিল পরিশোধ হয় না। গাড়ি কেনা যায় না। হয় না বাড়িভাড়া। এসবের জন্য চাই টাকা। তাই আসল সাফল্য চাইলে সাফল্যের খোলসের পেছনে ছুটবেন না। আসল সাফল্য হলো এ বইয়ে বর্ণিত মূলনীতিগুলোর অনুসরণ। ‘ধনী হতে হলে অমুক কোম্পানিতে বা তমুক দেশে চাকরি করতে হবে।’—এসব কথা নিতান্ত গালগল্প। অনেক মানুষ এসব গল্পের পেছনে জীবন নষ্ট করেছে।
জনাব লুকমান আলি এসব গল্প পেছনে ফেলে এসেছেন। খাইয়াল থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা লুকমান আলি খুবই উঁচু দরের পরিচালক। তার সাথে ‘আমেরিকান ড্রিম’ নিয়ে বেশ কিছু আলাপ হলো। সফট পাওয়ার বলে একটা কথা আছে। কিছু দেশ এর ব্যবহারও করে চৌকসভাবে। আমেরিকা তার সফট পাওয়ারের সবচেয়ে সফল ব্যবহারের জন্য খ্যাত। মুভি, পপ কালচার, মিউজিক ইত্যাদির মাধ্যমে। আমেরিকার সফট পাওয়ার নিহিত তার গল্পের মাঝে। তারা একটা গল্প তৈরি করতে পেরেছে। আমেরিকার শূন্য থেকে শিখরে চড়ার গল্প। এটিই আমেরিকান ড্রিমের পেছনে মূল ধারণা।
জনাব আলির মতে, মুসলিম দেশগুলোর মাঝে এমন একটি স্বপ্নকেন্দ্রিক বয়ান তৈরি করার দৃষ্টান্ত বিরল। এ কারণেই ‘আমেরিকান ড্রিম’ শব্দদ্বয় এত শক্তিশালী। দিনে দিনে এর আকর্ষণও বেড়েছে। তরুণ মুসলিমদের নিয়ে তিনি একটা পরীক্ষা করেন। জিজ্ঞেস করেন, ‘ইসলামের স্বপ্ন কী? কে কে জানেন?’ বেশিরভাগ তরুণ ধরতেই পারেনি তিনি কোন প্রসঙ্গ থেকে কথাটা এনেছেন। তারা একেকজন একেকভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে। কিন্তু একক কোনো ধারণা হাজির করতে পারে না। এই একই বাচ্চাগুলোকে আমেরিকান ড্রিম নিয়ে জিজ্ঞেস করুন, গড়গড় করে সবাই একই আইডিয়া ও কালচারাল রেফারেন্স তুলে আনবে। আলির প্রশ্ন, ইসলাম যদি আমাদের কাছে এতই গুরুত্বপূর্ণ হয়, ইসলামকেন্দ্রিক কোনো স্বপ্ন আমাদের নেই কেন? কারণ স্বপ্নের গুরুত্বই বুঝে উঠতে পারিনি আমরা। তারপর তিনি ইসলামের স্বপ্ন ব্যাখ্যা করে বোঝান।
আমরা চাই সেই স্বপ্নকে আবারও প্রজ্জ্বলিত করতে। আপনার কাছে ইসলামের স্বপ্নের মানে কী? পাঁচ মিনিট সময় নিয়ে চিন্তা করুন। মুসলিম উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার যাত্রায় সাহায্য করবে এটি।
টিকাঃ
[১২] সূরা আলে ইমরান ৩:১০৩
📄 ভাগের ভাগাভাগি
দলবদ্ধ থাকার উপায় হলো সকলের জন্য একক একটি লক্ষ্য তৈরি করা। এভাবে দলের সবাই ছুটে চলতে পারে একই দিকপানে। রোধ করা যায় দলের ভাঙন। একক লক্ষ্য তৈরি করার পরের কাজ হলো একসাথে চলা। নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে সবার মত না-ও মিলতে পারে, কিন্তু সার্বিকভাবে সবাই থাকবে একটি দল হয়ে। দলগতভাবে শেষমেশ যে সিদ্ধান্ত আসবে, মেনে নিন সেটা। কারণ ব্যক্তির চেয়ে দল সব সময়ই শক্তিশালী। শুরুতে ভুল মনে হলেও পথ চলতে চলতে হয়তো প্রয়োজনীয় সংশোধনী চলে আসবে তাতে। একাকী চললে তো ভুল ধরিয়ে দেওয়ারও কেউ থাকত না। প্রতিযোগীদের ধাক্কায় আগেই ছিটকে পড়তেন।
টাটা গ্রুপের মালিক শহিদ টাটা। পারিবারিক ব্যবসাকে ঐক্যবদ্ধ রাখার দায়িত্ব তখন তার ঘাড়ে। গৎবাঁধা চিন্তার বিরুদ্ধে গেলেন তিনি। তার পোশাক কারখানা তখন চলছিল পুরোনো আমলের রাশিয়ান মেশিনারি দিয়ে। মানুষ ভেবেছিল আর টিকবে না এ কোম্পানি। নিজের লক্ষ্যের সাথে পুরো কোম্পানির ব্যবস্থাপনাকে এক কাতারে নিয়ে আসেন শহিদ টাটা। এক দশকের মধ্যে সম্পূর্ণ আধুনিকায়িত কোম্পানিটি পুনরায় লাভজনক হয়ে ওঠে। সুদৃঢ় লক্ষ্যের ফলাফল এমনই। সব বাধা-বিপত্তি ভেঙেচুরে যায়।
এরপর যে বিষয়টি মনে রাখতে হবে, তা হলো সকলেই আইডিয়াবাজ। ইমাম আশরাফের দেওয়া আরেকটি শিক্ষা এটি। আপনিও এমন মানুষ দেখে থাকবেন, যারা সারাক্ষণ নতুন নতুন বুদ্ধি বের করছে। কিন্তু জীবনেও বাস্তবায়িত করতে পারে না সেসব। কী হতাশাজনক! এই দুষ্টচক্র থেকে বের হবেন কীভাবে? দলবদ্ধ হয়ে। নিজের বুদ্ধি অন্যদের সাথে ভাগাভাগি করুন। লুকিয়ে রাখবেন না। খুঁজে নিন উত্তম অংশীদার। আগেও এক আইডিয়াবাজ উদ্যোক্তার কথা বলা হয়েছে, যে ইমাম আশরাফের কাছে এসে নিজের ব্যবসায়িক আইডিয়ার কথা জানায়। কিন্তু পরামর্শ-শ্রম-সময়-অর্থ সবকিছুর বিনিময়ে লভ্যাংশ দিতে চাচ্ছিল মাত্র ৫%। কারণ নিজের আইডিয়ার ফলাফল নিজের পকেটেই রাখতে চায় সে। স্বভাবতই অভিজ্ঞ ও সফল ব্যবসায়ী ইমাম আশরাফ তাতে আগ্রহ পাননি। তরুণ উদ্যোক্তা তারপরও বলতে থাকে যে, ওটা নাকি দারুণ আইডিয়া, এতটুকু কষ্ট করাই যায়। ইমামের জবাব, ‘আইডিয়া সবার মাথাতেই থাকে।’
এখান থেকে শিক্ষা হলো বিনিয়োগকারীর ব্যাপারে অবাস্তব আশা পোষণ না করা। বাস্তবসম্মতভাবে স্বপ্নের দিকে এগোনো। কীভাবে? অভিজ্ঞ ও দক্ষ পরামর্শদাতা খুঁজুন। আর তাদেরকে দিন তাদের যথাযোগ্য প্রাপ্য অংশ। দিনশেষে আপনারই লাভ হবে। কমবে না তা থেকে কিছু।
দলবদ্ধ থাকার উপায় হলো সকলের জন্য একক একটি লক্ষ্য তৈরি করা। এভাবে দলের সবাই ছুটে চলতে পারে একই দিকপানে। রোধ করা যায় দলের ভাঙন। একক লক্ষ্য তৈরি করার পরের কাজ হলো একসাথে চলা। নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে সবার মত না-ও মিলতে পারে, কিন্তু সার্বিকভাবে সবাই থাকবে একটি দল হয়ে। দলগতভাবে শেষমেশ যে সিদ্ধান্ত আসবে, মেনে নিন সেটা। কারণ ব্যক্তির চেয়ে দল সব সময়ই শক্তিশালী। শুরুতে ভুল মনে হলেও পথ চলতে চলতে হয়তো প্রয়োজনীয় সংশোধনী চলে আসবে তাতে। একাকী চললে তো ভুল ধরিয়ে দেওয়ারও কেউ থাকত না। প্রতিযোগীদের ধাক্কায় আগেই ছিটকে পড়তেন।
টাটা গ্রুপের মালিক শহিদ টাটা। পারিবারিক ব্যবসাকে ঐক্যবদ্ধ রাখার দায়িত্ব তখন তার ঘাড়ে। গৎবাঁধা চিন্তার বিরুদ্ধে গেলেন তিনি। তার পোশাক কারখানা তখন চলছিল পুরোনো আমলের রাশিয়ান মেশিনারি দিয়ে। মানুষ ভেবেছিল আর টিকবে না এ কোম্পানি। নিজের লক্ষ্যের সাথে পুরো কোম্পানির ব্যবস্থাপনাকে এক কাতারে নিয়ে আসেন শহিদ টাটা। এক দশকের মধ্যে সম্পূর্ণ আধুনিকায়িত কোম্পানিটি পুনরায় লাভজনক হয়ে ওঠে। সুদৃঢ় লক্ষ্যের ফলাফল এমনই। সব বাধা-বিপত্তি ভেঙেচুরে যায়।
এরপর যে বিষয়টি মনে রাখতে হবে, তা হলো সকলেই আইডিয়াবাজ। ইমাম আশরাফের দেওয়া আরেকটি শিক্ষা এটি। আপনিও এমন মানুষ দেখে থাকবেন, যারা সারাক্ষণ নতুন নতুন বুদ্ধি বের করছে। কিন্তু জীবনেও বাস্তবায়িত করতে পারে না সেসব। কী হতাশাজনক! এই দুষ্টচক্র থেকে বের হবেন কীভাবে? দলবদ্ধ হয়ে। নিজের বুদ্ধি অন্যদের সাথে ভাগাভাগি করুন। লুকিয়ে রাখবেন না। খুঁজে নিন উত্তম অংশীদার। আগেও এক আইডিয়াবাজ উদ্যোক্তার কথা বলা হয়েছে, যে ইমাম আশরাফের কাছে এসে নিজের ব্যবসায়িক আইডিয়ার কথা জানায়। কিন্তু পরামর্শ-শ্রম-সময়-অর্থ সবকিছুর বিনিময়ে লভ্যাংশ দিতে চাচ্ছিল মাত্র ৫%। কারণ নিজের আইডিয়ার ফলাফল নিজের পকেটেই রাখতে চায় সে। স্বভাবতই অভিজ্ঞ ও সফল ব্যবসায়ী ইমাম আশরাফ তাতে আগ্রহ পাননি। তরুণ উদ্যোক্তা তারপরও বলতে থাকে যে, ওটা নাকি দারুণ আইডিয়া, এতটুকু কষ্ট করাই যায়। ইমামের জবাব, ‘আইডিয়া সবার মাথাতেই থাকে।’
এখান থেকে শিক্ষা হলো বিনিয়োগকারীর ব্যাপারে অবাস্তব আশা পোষণ না করা। বাস্তবসম্মতভাবে স্বপ্নের দিকে এগোনো। কীভাবে? অভিজ্ঞ ও দক্ষ পরামর্শদাতা খুঁজুন। আর তাদেরকে দিন তাদের যথাযোগ্য প্রাপ্য অংশ। দিনশেষে আপনারই লাভ হবে। কমবে না তা থেকে কিছু।