📄 পারিবারিক ঋণ
উদ্যোক্তা হিসেবে আমরা খুবই ঝুঁকিপ্রেমী। যথাযথ সুযোগ সামনে পেলেই আমরা চেষ্টা করি সবার আগে নিজের অর্থকড়ি বাজি ধরে সর্বোচ্চ মুনাফা হাতিয়ে নিতে। উলটোদিকে ব্যাংক একেবারেই ঝুঁকিভীরু। একবার ব্যবসা শুরু করে দেখলেই বুঝবেন। ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে খুব একটা আগ্রহী না। এর একটা কারণ হলো উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন অনেক বড়। তাই আপনার প্রথম আশ্রয়স্থল হবেন আপনি নিজেই। তারপর আপনার পরিবার। হতে পারে স্ত্রী/স্বামী, নিকটাত্মীয়, ভাই, বোন, দূরের আত্মীয় ইত্যাদি।
যাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি, তাদের অনেকেই উদ্যোগ শুরু করেছেন এভাবে। জনাব শাহজাদ সিদ্দিকি তার ল ফার্ম শুরু করেছেন শ্যালকের থেকে নেওয়া ১০,০০০ ডলার ঋণের টাকা দিয়ে। সুদবিহীন এই ঋণ এক বছরের মাথায় শোধ করতে সমর্থ হন তিনি। এমনকি আফ্রিকার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি জনাব দাঙ্গোতে কাজ শুরু করেছিলেন চাচার কাছ থেকে ১ লক্ষ নাইরাস (১০ লক্ষ মার্কিন ডলার) ধার নিয়ে। তিনিও পেরেছেন এক বছরের মধ্যে এই সুদবিহীন ঋণ শোধ করতে। তখন তার বয়স মাত্র ২১, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য গ্র্যাজুয়েট। স্কুলে পড়া অবস্থায়ই তিনি মিষ্টির কার্টন কেনা-বেচা করে টাকা রোজগার করতেন।
বুঝতেই পারছেন যে, স্বগোত্র আপনার সম্পদ। বয়স যা-ই হোক, দুর্দান্ত একটি সূচনার সুযোগ করে দেবে তারাই। তাই আত্মীয়তার বন্ধন দৃঢ় করুন। পরিবারকে ভাবুন নিজের প্রধানতম নিরাপত্তাজাল। সবাই যখন চলে যায়, সাধারণত পরিবারই পাশে থাকে। কেবলই ভালোবাসার টানে। কোম্পানি যদি বিপদে থাকে বা টাকার প্রয়োজন হয়, পরিবারের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার জানালা খোলা রাখুন। বেশিরভাগ কোম্পানি এক থেকে পাঁচ বছরের মাঝে ব্যর্থ হয় অর্থের অভাবে। তাই এই সমস্যা যথাসম্ভব দ্রুত সমাধান করে ফেলতে হবে। আর এর জন্য সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে বিদ্যমান আত্মীয়তার বন্ধন।
উদ্যোক্তা হিসেবে আমরা খুবই ঝুঁকিপ্রেমী। যথাযথ সুযোগ সামনে পেলেই আমরা চেষ্টা করি সবার আগে নিজের অর্থকড়ি বাজি ধরে সর্বোচ্চ মুনাফা হাতিয়ে নিতে। উলটোদিকে ব্যাংক একেবারেই ঝুঁকিভীরু। একবার ব্যবসা শুরু করে দেখলেই বুঝবেন। ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে খুব একটা আগ্রহী না। এর একটা কারণ হলো উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন অনেক বড়। তাই আপনার প্রথম আশ্রয়স্থল হবেন আপনি নিজেই। তারপর আপনার পরিবার। হতে পারে স্ত্রী/স্বামী, নিকটাত্মীয়, ভাই, বোন, দূরের আত্মীয় ইত্যাদি।
যাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি, তাদের অনেকেই উদ্যোগ শুরু করেছেন এভাবে। জনাব শাহজাদ সিদ্দিকি তার ল ফার্ম শুরু করেছেন শ্যালকের থেকে নেওয়া ১০,০০০ ডলার ঋণের টাকা দিয়ে। সুদবিহীন এই ঋণ এক বছরের মাথায় শোধ করতে সমর্থ হন তিনি। এমনকি আফ্রিকার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি জনাব দাঙ্গোতে কাজ শুরু করেছিলেন চাচার কাছ থেকে ১ লক্ষ নাইরাস (১০ লক্ষ মার্কিন ডলার) ধার নিয়ে। তিনিও পেরেছেন এক বছরের মধ্যে এই সুদবিহীন ঋণ শোধ করতে। তখন তার বয়স মাত্র ২১, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য গ্র্যাজুয়েট। স্কুলে পড়া অবস্থায়ই তিনি মিষ্টির কার্টন কেনা-বেচা করে টাকা রোজগার করতেন।
বুঝতেই পারছেন যে, স্বগোত্র আপনার সম্পদ। বয়স যা-ই হোক, দুর্দান্ত একটি সূচনার সুযোগ করে দেবে তারাই। তাই আত্মীয়তার বন্ধন দৃঢ় করুন। পরিবারকে ভাবুন নিজের প্রধানতম নিরাপত্তাজাল। সবাই যখন চলে যায়, সাধারণত পরিবারই পাশে থাকে। কেবলই ভালোবাসার টানে। কোম্পানি যদি বিপদে থাকে বা টাকার প্রয়োজন হয়, পরিবারের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার জানালা খোলা রাখুন। বেশিরভাগ কোম্পানি এক থেকে পাঁচ বছরের মাঝে ব্যর্থ হয় অর্থের অভাবে। তাই এই সমস্যা যথাসম্ভব দ্রুত সমাধান করে ফেলতে হবে। আর এর জন্য সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে বিদ্যমান আত্মীয়তার বন্ধন।
📄 বংশীয় গুণ
বংশে বিদ্যমান সাফল্যের নকশা গবেষণার মাধ্যমে কাজ শুরু করতে হবে, তা আগেও উল্লেখ করেছি। এখন বিস্তারিত আলোচনা আসবে এ ব্যাপারে। বংশের শক্তির জায়গা কোথায়? কোথায় দুর্বলতা? পরিবারের কোন দক্ষতাটি নিজের কাজে ব্যবহার করা সম্ভব? তার একটি ছক কষে ফেলুন।
জনাব হামদি উলুকায়া ঠিক এ কাজটিই করেছেন। তিনি আমেরিকায় এসেছেন বেশ বয়সকালে। ইংরেজি শিখেছেন দেশান্তরিত হওয়ার পর। ছোট একটি কুর্দি গ্রামের গড়পড়তা তুর্কি হিসেবে তার পরিবারের ছিল দইয়ের ব্যবসা। কিছু গবাদি পশু ছিল, যার দুধ বেচে কিছু আয় হতো। সরল পরিবার, সরল ব্যবসা। যুক্তরাষ্ট্রে এসেও তিনি একটি খামারে শিক্ষানবিস কর্মী হিসেবে কাজ করতে থাকেন। একদিন আমেরিকায় ছেলেকে দেখতে আসেন তার বাবা। নতুন এই খামারের দই মুখে দিয়ে দেখেন তিনি। স্বাদ চেখে একেবারেই অসন্তুষ্ট। তুরস্কের ওই খামারের দইয়ের ধারেকাছেও নেই! ছেলেকে পরামর্শ দেন নিজস্ব ব্যবসা শুরু করার। জনাব উলুকায়া তা-ই করেন। দুই বছরের মধ্যে স্থাপন করে ফেললেন দরকারি সরঞ্জাম-সহ নিজস্ব দই উৎপাদন কারখানা। মোটামুটি সাফল্য আসে এখান থেকে। একসময় একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কারখানা কিনে নেন, যা চক্রবৃদ্ধিহারে বড় হতে থাকে। চোবানি ইয়োগার্ট নামের এই ব্র্যান্ড এখন কয়েক বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা। এত বিখ্যাত যে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালে এটা খুঁজে পেতে আমাকে একেবারেই বেগ পেতে হয়নি। এ থেকেই বোঝা যায় যে, পারিবারিক শক্তির কত গুরুত্ব। এই ঘটনায় যেমন ছিল দুধের ব্যবহার ও তা থেকে দই বানানোর বিদ্যে। দই-বিশেষজ্ঞ উলুকায়া কোনো সফটওয়্যার কোম্পানি চালু করার উদ্যোগ নেননি। তিনি যা জানতেন, তা-ই করেছেন শুধু।
আপনিও করতে পারেন একই কাজ। পারিবারিক সামর্থ্য যদি তেমন আহামরি কিছু না-ও হয়, তবুও তা থেকে তুলে আনা সম্ভব বিপুল সাফল্য।
বংশে বিদ্যমান সাফল্যের নকশা গবেষণার মাধ্যমে কাজ শুরু করতে হবে, তা আগেও উল্লেখ করেছি। এখন বিস্তারিত আলোচনা আসবে এ ব্যাপারে। বংশের শক্তির জায়গা কোথায়? কোথায় দুর্বলতা? পরিবারের কোন দক্ষতাটি নিজের কাজে ব্যবহার করা সম্ভব? তার একটি ছক কষে ফেলুন।
জনাব হামদি উলুকায়া ঠিক এ কাজটিই করেছেন। তিনি আমেরিকায় এসেছেন বেশ বয়সকালে। ইংরেজি শিখেছেন দেশান্তরিত হওয়ার পর। ছোট একটি কুর্দি গ্রামের গড়পড়তা তুর্কি হিসেবে তার পরিবারের ছিল দইয়ের ব্যবসা। কিছু গবাদি পশু ছিল, যার দুধ বেচে কিছু আয় হতো। সরল পরিবার, সরল ব্যবসা। যুক্তরাষ্ট্রে এসেও তিনি একটি খামারে শিক্ষানবিস কর্মী হিসেবে কাজ করতে থাকেন। একদিন আমেরিকায় ছেলেকে দেখতে আসেন তার বাবা। নতুন এই খামারের দই মুখে দিয়ে দেখেন তিনি। স্বাদ চেখে একেবারেই অসন্তুষ্ট। তুরস্কের ওই খামারের দইয়ের ধারেকাছেও নেই! ছেলেকে পরামর্শ দেন নিজস্ব ব্যবসা শুরু করার। জনাব উলুকায়া তা-ই করেন। দুই বছরের মধ্যে স্থাপন করে ফেললেন দরকারি সরঞ্জাম-সহ নিজস্ব দই উৎপাদন কারখানা। মোটামুটি সাফল্য আসে এখান থেকে। একসময় একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কারখানা কিনে নেন, যা চক্রবৃদ্ধিহারে বড় হতে থাকে। চোবানি ইয়োগার্ট নামের এই ব্র্যান্ড এখন কয়েক বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা। এত বিখ্যাত যে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালে এটা খুঁজে পেতে আমাকে একেবারেই বেগ পেতে হয়নি। এ থেকেই বোঝা যায় যে, পারিবারিক শক্তির কত গুরুত্ব। এই ঘটনায় যেমন ছিল দুধের ব্যবহার ও তা থেকে দই বানানোর বিদ্যে। দই-বিশেষজ্ঞ উলুকায়া কোনো সফটওয়্যার কোম্পানি চালু করার উদ্যোগ নেননি। তিনি যা জানতেন, তা-ই করেছেন শুধু।
আপনিও করতে পারেন একই কাজ। পারিবারিক সামর্থ্য যদি তেমন আহামরি কিছু না-ও হয়, তবুও তা থেকে তুলে আনা সম্ভব বিপুল সাফল্য।