📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 জিন্নাদো

📄 জিন্নাদো


ইসলামে আত্মীয়তার বন্ধনকে বলে সিলাতুর রহম। এর ধর্মীয় গুরুত্ব ব্যাপক। রীতিমতো পবিত্র বিষয়।

প্রায় সব সংস্কৃতিতে পারিবারিক বন্ধন সম্মানের বিষয়। এমনকি নবিজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিরুদ্ধে যা বলে অপবাদ দেওয়া হয়েছিল, তা হলো পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করার প্রচেষ্টা। কিন্তু তাঁর উদ্দেশ্য ছিল একেবারেই এর বিপরীত।

ফুলানি সংস্কৃতি দারুণভাবে ইসলামী। তাদের ভাষায় পিতা বা মাতাকে বলা হয় জিন্নাদো। এর আক্ষরিক অর্থ ‘ভালোবাসার জন্য সৃষ্ট’। যেন তাদের অন্তরটা খুলে ঢকঢক করে ঢেলে দেওয়া হয়েছে ভালোবাসা। পিতামাতা মাত্রই সন্তানকে ভালোবাসেন।

তাই রক্তের সম্পর্ক মানেই মহাপবিত্র বস্তু। আত্মীয়কে তার প্রাপ্য অধিকার দিতেই হবে।

এখন, মুসলিম উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার পক্ষে সম্ভব এই বন্ধনগুলোকে বিশেষভাবে কাজে লাগানো। ব্যবসায়িক সম্পর্কগুলো মূলত স্বার্থভিত্তিক। কিন্তু আত্মীয়তার সম্পর্কে স্বার্থের চেয়েও বেশি কিছু থাকে। দীর্ঘস্থায়ী সম্পদের ভিত্তিও হতে হবে টেকসই। আর সকল সামাজিক ভিত্তির মাঝে সবচেয়ে শক্তিশালী হলো রক্তসম্পর্ক।

বিপুল সম্পদের বাসনা থাকলে মনোযোগ দিয়ে শুনুন। ব্যবসায়িক বুদ্ধি, বিশ্বাস, লক্ষ্য, পরিকল্পনা, কোম্পানি স্থাপন সবই হয়েছে। এবার শিখতে হবে এই আত্মীয়তার বন্ধন—অথবা বৃহদার্থে দলবদ্ধতার শক্তিকে কীভাবে ব্যবসায়িক উন্নতির জন্য কাজে লাগানো যায়।

ইসলামে আত্মীয়তার বন্ধনকে বলে সিলাতুর রহম। এর ধর্মীয় গুরুত্ব ব্যাপক। রীতিমতো পবিত্র বিষয়।

প্রায় সব সংস্কৃতিতে পারিবারিক বন্ধন সম্মানের বিষয়। এমনকি নবিজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিরুদ্ধে যা বলে অপবাদ দেওয়া হয়েছিল, তা হলো পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করার প্রচেষ্টা। কিন্তু তাঁর উদ্দেশ্য ছিল একেবারেই এর বিপরীত।

ফুলানি সংস্কৃতি দারুণভাবে ইসলামী। তাদের ভাষায় পিতা বা মাতাকে বলা হয় জিন্নাদো। এর আক্ষরিক অর্থ ‘ভালোবাসার জন্য সৃষ্ট’। যেন তাদের অন্তরটা খুলে ঢকঢক করে ঢেলে দেওয়া হয়েছে ভালোবাসা। পিতামাতা মাত্রই সন্তানকে ভালোবাসেন।

তাই রক্তের সম্পর্ক মানেই মহাপবিত্র বস্তু। আত্মীয়কে তার প্রাপ্য অধিকার দিতেই হবে।

এখন, মুসলিম উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার পক্ষে সম্ভব এই বন্ধনগুলোকে বিশেষভাবে কাজে লাগানো। ব্যবসায়িক সম্পর্কগুলো মূলত স্বার্থভিত্তিক। কিন্তু আত্মীয়তার সম্পর্কে স্বার্থের চেয়েও বেশি কিছু থাকে। দীর্ঘস্থায়ী সম্পদের ভিত্তিও হতে হবে টেকসই। আর সকল সামাজিক ভিত্তির মাঝে সবচেয়ে শক্তিশালী হলো রক্তসম্পর্ক।

বিপুল সম্পদের বাসনা থাকলে মনোযোগ দিয়ে শুনুন। ব্যবসায়িক বুদ্ধি, বিশ্বাস, লক্ষ্য, পরিকল্পনা, কোম্পানি স্থাপন সবই হয়েছে। এবার শিখতে হবে এই আত্মীয়তার বন্ধন—অথবা বৃহদার্থে দলবদ্ধতার শক্তিকে কীভাবে ব্যবসায়িক উন্নতির জন্য কাজে লাগানো যায়।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 আপনি কে?

📄 আপনি কে?


আমি বর্ণের কথা বলছি না। ওটা আপনার পরিচয়ের খুবই ক্ষুদ্র একটা অংশ। ‘আপনি কে?’ প্রশ্নটার পরিসর আরও বড়। কেমন মানুষদের মধ্য থেকে এসেছেন আপনি? কী তাদের নাম? তারা কেমন? উত্তর জানা না থাকলে ঘেঁটে দেখুন। যত দূর সম্ভব হয়, যান। এটি আপনার আজকের অনুশীলনী। নিজের বংশলতিকা গবেষণা করুন। পরিবার সম্পর্কে যত দূর পর্যন্ত জানা যায়, তা বের করার পেছনে বিনিয়োগ করুন। কারণ পরিবারই আপনার প্রথম নেটওয়ার্ক। দূরের আত্মীয়রাও এর অন্তর্ভুক্ত।

কিছু বৈশিষ্ট্য যে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়, তা তো বাস্তব। যেমন: আমার স্ত্রী আর্কিটেক্ট। হাতে তৈরি জিনিস বানানোতে দারুণ পারঙ্গম। একদিন জিজ্ঞেস করলাম যে, কাঠ দিয়ে এত সুন্দরভাবে জিনিসপত্র সে কীভাবে বানায়। তাও এত দীর্ঘ বিরতির পর। সে জানালো যে, তাদের পারিবারিক ব্যবসা ছিল কাঠের জিনিস নির্মাণ। তার বাবা, দাদা, পরদাদা সকলে ছিলেন কাঠমিস্ত্রী। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই দক্ষতা রয়ে গেছে তাদের পরিবারে।

এ থেকে কী বোঝা গেল? সহজাতভাবেই কোনো না কোনো কাজ আপনি ভালো পারেন। পারিবারিক এই সুবিধাটা কাজে লাগাতে পারা মানে অনেকদূর এগিয়ে থাকা। যদি শিক্ষক পরিবার থেকে উঠে আসেন, তাহলে শিক্ষকতাই হতে পারে আপনার প্রধান দক্ষতা। উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি শিক্ষকতা-ভিত্তিক পুরো একটা ইন্ডাস্ট্রি দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারবেন। এটাকে বলে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং। উঠতি ব্যবসায়ীদের বিক্রিবাট্টা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া।

স্টিভ জবসকে দেখুন। তিনি জন্মদাতা বাবা-মার সাথে বেড়ে ওঠেননি অবশ্য। তবে দেখার বিষয় হলো তার সিরিয়ান মুসলিম পিতা ছিলেন স্বচেষ্টায় কোটিপতি। জবসের মাঝে সেই উদ্যম ও চেতনাটা রয়ে যায়; রয়ে যায় একে বাস্তবে রূপ দেওয়ার বিশ্বাসটাও।

তাই নিজেকে চিনুন। খুঁজে দেখুন আপনার পরিবারের শক্তির জায়গাগুলো। হয়তো আপনি তাদের চেয়ে আলাদা। তবুও বিরাট সম্ভাবনা আছে যে, বংশীয় কোনো একটা দক্ষতা আপনার মাঝেও এসেছে। উদঘাটন করুন সেগুলো। জোর দিন। উন্নতি করুন। সহজাতভাবেই পারবেন তা।

দেখবেন যে, কিছু গোত্র আলিম তৈরি করার জন্য বিখ্যাত। অন্যান্য জাতির চেয়ে তাদের সন্তানেরা সহজে কুরআন হিফয করতে পারে। তাদের স্মৃতিশক্তি যে জেনেটিক কারণে প্রখর, তা না। তারা এমন পরিবেশে বড় হয়েছে, যেখানে চারপাশে সকলে কুরআন হিফযে মগ্ন। ফলে বিষয়টি সহজ হয়ে যায় তাদের কাছে। আশপাশের মানুষদের একটা কাজ করতে দেখে বড় হলে শিশুর মাঝেও বিশ্বাস গড়ে ওঠে যে, সে সেটা পারবে। ধরুন আপনার দশজন জ্ঞাতি ভাইবোন হাফিয। আপনার কাছে এমনিতেই তখন তা সহজ মনে হবে। ব্যবসার বিষয়টাও একইরকম। ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তানের পক্ষেও ব্যবসায়ী হওয়া সহজ।

তাই বংশ-পরিবারের খবরাখবর নিন। নিজেকে মনে করুন একটি গাছ। শেকড় যত গভীরে প্রোথিত করতে পারবেন, শিখর ততই উঁচু করা সম্ভব হবে। বাঁশগাছ বেশ কিছু বছর ধরে চারা বের করে না। ওই পুরো সময়টা ব্যয় করে মাটিতে শেকড় গাড়তে। চারা না দেখে কৃষক ধরেই নিতে পারে, গাছটি বুঝি মৃত। কিন্তু হঠাৎ করেই একদিন মাটি ফেড়ে বেরিয়ে এসে নব্বই দিনে নয় ফুট উঁচু হয়ে যায় সেই গাছ। তাই পরিবারের গভীরে বিস্তৃত করুন শেকড়। যত দূর সম্ভব, শক্তি অর্জন করে নিন।

আমি বর্ণের কথা বলছি না। ওটা আপনার পরিচয়ের খুবই ক্ষুদ্র একটা অংশ। ‘আপনি কে?’ প্রশ্নটার পরিসর আরও বড়। কেমন মানুষদের মধ্য থেকে এসেছেন আপনি? কী তাদের নাম? তারা কেমন? উত্তর জানা না থাকলে ঘেঁটে দেখুন। যত দূর সম্ভব হয়, যান। এটি আপনার আজকের অনুশীলনী। নিজের বংশলতিকা গবেষণা করুন। পরিবার সম্পর্কে যত দূর পর্যন্ত জানা যায়, তা বের করার পেছনে বিনিয়োগ করুন। কারণ পরিবারই আপনার প্রথম নেটওয়ার্ক। দূরের আত্মীয়রাও এর অন্তর্ভুক্ত।

কিছু বৈশিষ্ট্য যে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়, তা তো বাস্তব। যেমন: আমার স্ত্রী আর্কিটেক্ট। হাতে তৈরি জিনিস বানানোতে দারুণ পারঙ্গম। একদিন জিজ্ঞেস করলাম যে, কাঠ দিয়ে এত সুন্দরভাবে জিনিসপত্র সে কীভাবে বানায়। তাও এত দীর্ঘ বিরতির পর। সে জানালো যে, তাদের পারিবারিক ব্যবসা ছিল কাঠের জিনিস নির্মাণ। তার বাবা, দাদা, পরদাদা সকলে ছিলেন কাঠমিস্ত্রী। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই দক্ষতা রয়ে গেছে তাদের পরিবারে।

এ থেকে কী বোঝা গেল? সহজাতভাবেই কোনো না কোনো কাজ আপনি ভালো পারেন। পারিবারিক এই সুবিধাটা কাজে লাগাতে পারা মানে অনেকদূর এগিয়ে থাকা। যদি শিক্ষক পরিবার থেকে উঠে আসেন, তাহলে শিক্ষকতাই হতে পারে আপনার প্রধান দক্ষতা। উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি শিক্ষকতা-ভিত্তিক পুরো একটা ইন্ডাস্ট্রি দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারবেন। এটাকে বলে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং। উঠতি ব্যবসায়ীদের বিক্রিবাট্টা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া।

স্টিভ জবসকে দেখুন। তিনি জন্মদাতা বাবা-মার সাথে বেড়ে ওঠেননি অবশ্য। তবে দেখার বিষয় হলো তার সিরিয়ান মুসলিম পিতা ছিলেন স্বচেষ্টায় কোটিপতি। জবসের মাঝে সেই উদ্যম ও চেতনাটা রয়ে যায়; রয়ে যায় একে বাস্তবে রূপ দেওয়ার বিশ্বাসটাও।

তাই নিজেকে চিনুন। খুঁজে দেখুন আপনার পরিবারের শক্তির জায়গাগুলো। হয়তো আপনি তাদের চেয়ে আলাদা। তবুও বিরাট সম্ভাবনা আছে যে, বংশীয় কোনো একটা দক্ষতা আপনার মাঝেও এসেছে। উদঘাটন করুন সেগুলো। জোর দিন। উন্নতি করুন। সহজাতভাবেই পারবেন তা।

দেখবেন যে, কিছু গোত্র আলিম তৈরি করার জন্য বিখ্যাত। অন্যান্য জাতির চেয়ে তাদের সন্তানেরা সহজে কুরআন হিফয করতে পারে। তাদের স্মৃতিশক্তি যে জেনেটিক কারণে প্রখর, তা না। তারা এমন পরিবেশে বড় হয়েছে, যেখানে চারপাশে সকলে কুরআন হিফযে মগ্ন। ফলে বিষয়টি সহজ হয়ে যায় তাদের কাছে। আশপাশের মানুষদের একটা কাজ করতে দেখে বড় হলে শিশুর মাঝেও বিশ্বাস গড়ে ওঠে যে, সে সেটা পারবে। ধরুন আপনার দশজন জ্ঞাতি ভাইবোন হাফিয। আপনার কাছে এমনিতেই তখন তা সহজ মনে হবে। ব্যবসার বিষয়টাও একইরকম। ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তানের পক্ষেও ব্যবসায়ী হওয়া সহজ।

তাই বংশ-পরিবারের খবরাখবর নিন। নিজেকে মনে করুন একটি গাছ। শেকড় যত গভীরে প্রোথিত করতে পারবেন, শিখর ততই উঁচু করা সম্ভব হবে। বাঁশগাছ বেশ কিছু বছর ধরে চারা বের করে না। ওই পুরো সময়টা ব্যয় করে মাটিতে শেকড় গাড়তে। চারা না দেখে কৃষক ধরেই নিতে পারে, গাছটি বুঝি মৃত। কিন্তু হঠাৎ করেই একদিন মাটি ফেড়ে বেরিয়ে এসে নব্বই দিনে নয় ফুট উঁচু হয়ে যায় সেই গাছ। তাই পরিবারের গভীরে বিস্তৃত করুন শেকড়। যত দূর সম্ভব, শক্তি অর্জন করে নিন।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 গোত্রীয় শক্তি

📄 গোত্রীয় শক্তি


আমি জানি, এই কথাটি আজকাল তেমন একটা ইতিবাচক দ্যোতনা বহন করে না। কিন্তু ‘গোত্র’ বলতে মূলত বোঝাচ্ছি আপনার চারপাশের মানুষদের। সর্বপ্রথম, আপনার পরিবার। আপনার জাতি। স্বজাতির কাছ থেকে উপকার নিন। দেখবেন নিজের একার সামর্থ্যকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। স্বগোত্র থেকে নিজে যেমন সাহায্য পাচ্ছেন, বিনিময়ে ঘুরাতে পারছেন তাদেরও ভাগ্যের চাকা।

উদ্যোক্তা হতে হলে সব লড়াই একাই করতে হবে, এ কথা স্রেফ কুসংস্কার। ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।’—এর কিছুটা সত্যতা আছে বটে। কিন্তু গোটা সাফল্য এভাবে আসে না। টেকসই সাফল্য আসে মজুত ভিত্তি গড়ার মাধ্যমে। নিঃসঙ্গ যোদ্ধার ওই শক্তিশালী শেকড়টা থাকে না। তাই সফল হওয়াও তার জন্য কঠিন। আজকাল বিভিন্ন কোম্পানি বলে বেড়ায়, ‘আমাদের সিইও হঠাৎ একদিন ঘুমো থেকে উঠে এই আইডিয়াটা পেলেন। তারপর আচমকা বিলিয়নেয়ার হয়ে গেলেন।’ কিন্তু এটা আসলে কাহিনির ছোট একটা অংশ মাত্র।

সাফল্য রাতারাতি আসে না। আপনাদের সিইওর মাথায় কোনো আইডিয়া এসেছে? নিশ্চিত থাকুন যে, অন্য কারও মাথাতেও এসেছিল সেই একই বুদ্ধি। তবু একজনের কার্যোদ্ধার হয়েছে, আরেকজনের হয়নি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পার্থক্যটা গড়ে দেয় স্বগোত্র। সফল ব্যক্তিটি উদ্যোগ শুরু করার টাকা পেল কোত্থেকে? গোত্র থেকে? টাকা না দিতে পারলেও গোত্র কোনো না কোনোভাবে সাহায্য করেছিল কি না? এখানে গোত্র মানে হতে পারে স্রেফ তার বাবা-মা অথবা আত্মীয় অথবা শিক্ষক বা বন্ধুবান্ধব। গোত্রের অভ্যন্তরেই এমন কিছু ছিল, যা কথিত নিঃসঙ্গ যোদ্ধাকে সঙ্গ দিয়েছে।

তলিয়ে দেখলেই বুঝবেন যে, সফল নিঃসঙ্গ যোদ্ধা বলে কিছু নেই। পর্দার আড়ালে পুরো একটা গোত্র একসাথে কাজ করছে। ব্যবসা শুরু করার পর প্রথম যারা সাহায্যে এগিয়ে আসবে, তারা আপনার গোত্র, স্বজাতি। এমনকি পরিবার যদি ঠিক ব্যবসার কাজে সহযোগিতা না-ও করে থাকে, অন্তত ছোট বয়স থেকে সংগ্রাম ও আত্মসম্মানের এমন কোনো শিক্ষা অবশ্যই দিয়েছে যা ব্যবসায়ীর জন্য জরুরি। তা ছাড়া আপনার প্রতি সবচেয়ে বেশি আস্থাশীল হবেও এই মানুষগুলোই। কারণ আপনাকে তারা খুব ভালো করে চেনে। তবে সাবধান। একই কারণে তারা আপনার প্রতি সবচেয়ে অনাস্থাবানও হতে পারে। মোটকথা, প্রচণ্ড রকমের সফল হতে হলে আগে সামলাতে হবে রক্তের এই বন্ধনগুলোকে। অর্জন করতে হবে এই কাছের মানুষগুলোর অনড় আস্থা। আর্থিক সাহায্য না পেলে নেই। কিন্তু অন্তত তাদের সাথে একটি আত্মিক সমঝোতা গড়ে তুলুন। তাদের কাছে যান। নিজের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলুন। কারণ এটা সাধারণ কোনো লক্ষ্য নয়। চাকরি বা ছোটখাটো ব্যবসার বদলে আপনার লক্ষ্য যদি হয় কোটিপতি হওয়া, তাহলে যাত্রা সহজ হবে না। এই যাত্রায় সাহায্য প্রয়োজন। আর এই সাহায্যের প্রথম ধাপ আপনার স্বজাতি বা স্বগোত্র।

এমনকি বিনিয়োগকর্তারাও আপনার পারিবারিক শক্তি খতিয়ে দেখতে পারে। তারা দেখতে চাইবে যে, আপনার পৃষ্ঠপোষকতা কতটা নির্ভরযোগ্য। পরিবারের সহযোগিতা আছে দেখলে তারাও আশ্বস্ত হবে। কারণ, অন্য সবার চেয়ে আপনাকে ভালো করে চেনে পরিবার। একবার এ সাহায্য পেয়ে গেলে তা চক্রবৃদ্ধি হারে ব্যবহার করা সম্ভব। ভাবুন যে আপনি একা নন। আপনার সাথে কাজ করছে অনেকগুলো মানুষ। তাদের চিন্তাশক্তি, বুদ্ধি, দক্ষতা, সাহস, অর্থ আপনার কাজে আসছে।

আমি জানি, এই কথাটি আজকাল তেমন একটা ইতিবাচক দ্যোতনা বহন করে না। কিন্তু ‘গোত্র’ বলতে মূলত বোঝাচ্ছি আপনার চারপাশের মানুষদের। সর্বপ্রথম, আপনার পরিবার। আপনার জাতি। স্বজাতির কাছ থেকে উপকার নিন। দেখবেন নিজের একার সামর্থ্যকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। স্বগোত্র থেকে নিজে যেমন সাহায্য পাচ্ছেন, বিনিময়ে ঘুরাতে পারছেন তাদেরও ভাগ্যের চাকা।

উদ্যোক্তা হতে হলে সব লড়াই একাই করতে হবে, এ কথা স্রেফ কুসংস্কার। ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।’—এর কিছুটা সত্যতা আছে বটে। কিন্তু গোটা সাফল্য এভাবে আসে না। টেকসই সাফল্য আসে মজুত ভিত্তি গড়ার মাধ্যমে। নিঃসঙ্গ যোদ্ধার ওই শক্তিশালী শেকড়টা থাকে না। তাই সফল হওয়াও তার জন্য কঠিন। আজকাল বিভিন্ন কোম্পানি বলে বেড়ায়, ‘আমাদের সিইও হঠাৎ একদিন ঘুমো থেকে উঠে এই আইডিয়াটা পেলেন। তারপর আচমকা বিলিয়নেয়ার হয়ে গেলেন।’ কিন্তু এটা আসলে কাহিনির ছোট একটা অংশ মাত্র।

সাফল্য রাতারাতি আসে না। আপনাদের সিইওর মাথায় কোনো আইডিয়া এসেছে? নিশ্চিত থাকুন যে, অন্য কারও মাথাতেও এসেছিল সেই একই বুদ্ধি। তবু একজনের কার্যোদ্ধার হয়েছে, আরেকজনের হয়নি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পার্থক্যটা গড়ে দেয় স্বগোত্র। সফল ব্যক্তিটি উদ্যোগ শুরু করার টাকা পেল কোত্থেকে? গোত্র থেকে? টাকা না দিতে পারলেও গোত্র কোনো না কোনোভাবে সাহায্য করেছিল কি না? এখানে গোত্র মানে হতে পারে স্রেফ তার বাবা-মা অথবা আত্মীয় অথবা শিক্ষক বা বন্ধুবান্ধব। গোত্রের অভ্যন্তরেই এমন কিছু ছিল, যা কথিত নিঃসঙ্গ যোদ্ধাকে সঙ্গ দিয়েছে।

তলিয়ে দেখলেই বুঝবেন যে, সফল নিঃসঙ্গ যোদ্ধা বলে কিছু নেই। পর্দার আড়ালে পুরো একটা গোত্র একসাথে কাজ করছে। ব্যবসা শুরু করার পর প্রথম যারা সাহায্যে এগিয়ে আসবে, তারা আপনার গোত্র, স্বজাতি। এমনকি পরিবার যদি ঠিক ব্যবসার কাজে সহযোগিতা না-ও করে থাকে, অন্তত ছোট বয়স থেকে সংগ্রাম ও আত্মসম্মানের এমন কোনো শিক্ষা অবশ্যই দিয়েছে যা ব্যবসায়ীর জন্য জরুরি। তা ছাড়া আপনার প্রতি সবচেয়ে বেশি আস্থাশীল হবেও এই মানুষগুলোই। কারণ আপনাকে তারা খুব ভালো করে চেনে। তবে সাবধান। একই কারণে তারা আপনার প্রতি সবচেয়ে অনাস্থাবানও হতে পারে। মোটকথা, প্রচণ্ড রকমের সফল হতে হলে আগে সামলাতে হবে রক্তের এই বন্ধনগুলোকে। অর্জন করতে হবে এই কাছের মানুষগুলোর অনড় আস্থা। আর্থিক সাহায্য না পেলে নেই। কিন্তু অন্তত তাদের সাথে একটি আত্মিক সমঝোতা গড়ে তুলুন। তাদের কাছে যান। নিজের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলুন। কারণ এটা সাধারণ কোনো লক্ষ্য নয়। চাকরি বা ছোটখাটো ব্যবসার বদলে আপনার লক্ষ্য যদি হয় কোটিপতি হওয়া, তাহলে যাত্রা সহজ হবে না। এই যাত্রায় সাহায্য প্রয়োজন। আর এই সাহায্যের প্রথম ধাপ আপনার স্বজাতি বা স্বগোত্র।

এমনকি বিনিয়োগকর্তারাও আপনার পারিবারিক শক্তি খতিয়ে দেখতে পারে। তারা দেখতে চাইবে যে, আপনার পৃষ্ঠপোষকতা কতটা নির্ভরযোগ্য। পরিবারের সহযোগিতা আছে দেখলে তারাও আশ্বস্ত হবে। কারণ, অন্য সবার চেয়ে আপনাকে ভালো করে চেনে পরিবার। একবার এ সাহায্য পেয়ে গেলে তা চক্রবৃদ্ধি হারে ব্যবহার করা সম্ভব। ভাবুন যে আপনি একা নন। আপনার সাথে কাজ করছে অনেকগুলো মানুষ। তাদের চিন্তাশক্তি, বুদ্ধি, দক্ষতা, সাহস, অর্থ আপনার কাজে আসছে।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 পারিবারিক ঋণ

📄 পারিবারিক ঋণ


উদ্যোক্তা হিসেবে আমরা খুবই ঝুঁকিপ্রেমী। যথাযথ সুযোগ সামনে পেলেই আমরা চেষ্টা করি সবার আগে নিজের অর্থকড়ি বাজি ধরে সর্বোচ্চ মুনাফা হাতিয়ে নিতে। উলটোদিকে ব্যাংক একেবারেই ঝুঁকিভীরু। একবার ব্যবসা শুরু করে দেখলেই বুঝবেন। ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে খুব একটা আগ্রহী না। এর একটা কারণ হলো উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন অনেক বড়। তাই আপনার প্রথম আশ্রয়স্থল হবেন আপনি নিজেই। তারপর আপনার পরিবার। হতে পারে স্ত্রী/স্বামী, নিকটাত্মীয়, ভাই, বোন, দূরের আত্মীয় ইত্যাদি।

যাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি, তাদের অনেকেই উদ্যোগ শুরু করেছেন এভাবে। জনাব শাহজাদ সিদ্দিকি তার ল ফার্ম শুরু করেছেন শ্যালকের থেকে নেওয়া ১০,০০০ ডলার ঋণের টাকা দিয়ে। সুদবিহীন এই ঋণ এক বছরের মাথায় শোধ করতে সমর্থ হন তিনি। এমনকি আফ্রিকার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি জনাব দাঙ্গোতে কাজ শুরু করেছিলেন চাচার কাছ থেকে ১ লক্ষ নাইরাস (১০ লক্ষ মার্কিন ডলার) ধার নিয়ে। তিনিও পেরেছেন এক বছরের মধ্যে এই সুদবিহীন ঋণ শোধ করতে। তখন তার বয়স মাত্র ২১, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য গ্র্যাজুয়েট। স্কুলে পড়া অবস্থায়ই তিনি মিষ্টির কার্টন কেনা-বেচা করে টাকা রোজগার করতেন।

বুঝতেই পারছেন যে, স্বগোত্র আপনার সম্পদ। বয়স যা-ই হোক, দুর্দান্ত একটি সূচনার সুযোগ করে দেবে তারাই। তাই আত্মীয়তার বন্ধন দৃঢ় করুন। পরিবারকে ভাবুন নিজের প্রধানতম নিরাপত্তাজাল। সবাই যখন চলে যায়, সাধারণত পরিবারই পাশে থাকে। কেবলই ভালোবাসার টানে। কোম্পানি যদি বিপদে থাকে বা টাকার প্রয়োজন হয়, পরিবারের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার জানালা খোলা রাখুন। বেশিরভাগ কোম্পানি এক থেকে পাঁচ বছরের মাঝে ব্যর্থ হয় অর্থের অভাবে। তাই এই সমস্যা যথাসম্ভব দ্রুত সমাধান করে ফেলতে হবে। আর এর জন্য সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে বিদ্যমান আত্মীয়তার বন্ধন।

উদ্যোক্তা হিসেবে আমরা খুবই ঝুঁকিপ্রেমী। যথাযথ সুযোগ সামনে পেলেই আমরা চেষ্টা করি সবার আগে নিজের অর্থকড়ি বাজি ধরে সর্বোচ্চ মুনাফা হাতিয়ে নিতে। উলটোদিকে ব্যাংক একেবারেই ঝুঁকিভীরু। একবার ব্যবসা শুরু করে দেখলেই বুঝবেন। ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে খুব একটা আগ্রহী না। এর একটা কারণ হলো উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন অনেক বড়। তাই আপনার প্রথম আশ্রয়স্থল হবেন আপনি নিজেই। তারপর আপনার পরিবার। হতে পারে স্ত্রী/স্বামী, নিকটাত্মীয়, ভাই, বোন, দূরের আত্মীয় ইত্যাদি।

যাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি, তাদের অনেকেই উদ্যোগ শুরু করেছেন এভাবে। জনাব শাহজাদ সিদ্দিকি তার ল ফার্ম শুরু করেছেন শ্যালকের থেকে নেওয়া ১০,০০০ ডলার ঋণের টাকা দিয়ে। সুদবিহীন এই ঋণ এক বছরের মাথায় শোধ করতে সমর্থ হন তিনি। এমনকি আফ্রিকার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি জনাব দাঙ্গোতে কাজ শুরু করেছিলেন চাচার কাছ থেকে ১ লক্ষ নাইরাস (১০ লক্ষ মার্কিন ডলার) ধার নিয়ে। তিনিও পেরেছেন এক বছরের মধ্যে এই সুদবিহীন ঋণ শোধ করতে। তখন তার বয়স মাত্র ২১, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য গ্র্যাজুয়েট। স্কুলে পড়া অবস্থায়ই তিনি মিষ্টির কার্টন কেনা-বেচা করে টাকা রোজগার করতেন।

বুঝতেই পারছেন যে, স্বগোত্র আপনার সম্পদ। বয়স যা-ই হোক, দুর্দান্ত একটি সূচনার সুযোগ করে দেবে তারাই। তাই আত্মীয়তার বন্ধন দৃঢ় করুন। পরিবারকে ভাবুন নিজের প্রধানতম নিরাপত্তাজাল। সবাই যখন চলে যায়, সাধারণত পরিবারই পাশে থাকে। কেবলই ভালোবাসার টানে। কোম্পানি যদি বিপদে থাকে বা টাকার প্রয়োজন হয়, পরিবারের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার জানালা খোলা রাখুন। বেশিরভাগ কোম্পানি এক থেকে পাঁচ বছরের মাঝে ব্যর্থ হয় অর্থের অভাবে। তাই এই সমস্যা যথাসম্ভব দ্রুত সমাধান করে ফেলতে হবে। আর এর জন্য সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে বিদ্যমান আত্মীয়তার বন্ধন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00