📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 তোতলানোর ফুরসত নেই

📄 তোতলানোর ফুরসত নেই


যত শব্দ মুখ দিয়ে বলেন, সবই অন্যের কাছে শেখা। বিদ্যালয় থেকে, পিতামাতার কাছ থেকে, ভাইবোনের থেকে। বাচনভঙ্গি, ব্যবহৃত শব্দ-সবকিছু। অ্যামাজন বনের অধিবাসী একদল মানুষের ওপর একটি নৃতাত্ত্বিক গবেষণা হয়। ওই গোত্রের ভাষায় 'তোতলানো' বোঝাতে কোনো শব্দ নেই। তার চেয়ে মজার ব্যাপার কী, জানেন? ওই গোত্রে একজনও তোতলা নেই।

কিছু শব্দকে মাথা থেকে ঝ্যাঁটিয়ে বিদায় করার গুরুত্ব বুঝলেন তো? আপনার মুখের ভাষা আপনার বাস্তবতাকে নির্মাণ করে। তাই ব্যর্থতা ও সন্দেহের শব্দমালা দূর করা প্রয়োজন। 'জীবন অবিচারে ভরা', 'পৃথিবী এমনটা না হয়ে অমন হওয়া উচিত ছিল', 'কী জানি'-জাতীয় কথা আপনার ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর। এর বদলে ব্যবহার করুন প্রত্যয়মূলক কথা: 'আমি নিশ্চিত', 'কিছু চ্যালেঞ্জ এসেছে, তবে আমরা সামলে নেব।'

ইসলাম এখানে আবারও সুবিধা দিচ্ছে উদ্যোক্তাকে। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, প্রতি সকালে দেহের অন্যান্য অংশরা জিহ্বাকে অনুরোধ করে আল্লাহকে ভয় করতে। জিহ্বা লাগামহীন হয়ে গেলে দেহের অন্যান্য অঙ্গেরও একই পরিণতি হয়। নিজের ও আশপাশের মানুষদের ব্যাপারে ভালো ভালো কথা বলার ব্যাপারে এর চেয়ে উত্তম উৎসাহ আর কী হতে পারে?

ম্যালকম এক্স বছরের পর বছর সময় নিয়ে অভিধান আত্মস্থ করেছেন। কারণ তিনি জানতেন যে, নিজের কথাকে নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে না জানলে, বিশেষ কিছু শব্দ জানা না থাকলে অন্যরা সহজে এর ফায়দা লুটে নেয়। প্রায়ই মানুষের কথাকে ঘুরিয়ে-প্যাঁচিয়ে ভিন্ন অর্থ বের করা হয়। যা বলতে চাচ্ছেন, তা প্রকাশ করার মতো শব্দ হয়তো নেই। তাই সঠিকভাবে চিন্তা করাও অসম্ভব হয় এসব ক্ষেত্রে। বাচনদক্ষতা ও 'কী বলতে হবে', তার জ্ঞান তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আমার দেখা খুবই সুবক্তা একজন উদ্যোক্তা জনাব ইয়াকুব মির্জা। প্রচণ্ড বুদ্ধিমান এই মানুষটি ৩.৮ বিলিয়ন মূল্যমানের সম্পদের অধিকারী। একবার নিজের চেয়ে কম অভিজ্ঞ এক ব্যক্তির সাথে দর কষাকষি করছিলেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল একটি ফার্ম ও কিছু যন্ত্রপাতি ক্রয় করা। তিনি শক্তিশালী সব যুক্তি ব্যবহার করে অপর পক্ষকে ধরাশায়ী করে ফেলতে শুরু করেন। একটু পরই টের পান যে, বাচনদক্ষতা দিয়ে তিনি অনেক সুবিধা বাগিয়ে নিচ্ছেন। তাই থেমে যান সেখানেই। এই হলো সত্যিকারের মুসলিম উদ্যোক্তার তাকওয়া। কখন থামতে হবে, তা জানা। বাচনভঙ্গির মতো সব দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সুবিধা হাসিল করতে হবে বটে। কিন্তু সাথে আল্লাহভীতিও থাকতে হবে, যাতে অন্যের প্রতি অন্যায় প্রভাব না খাটানো হয়। সব সময় চেষ্টা করতে হবে যেন উভয়পক্ষই জেতে।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 ৩০ কোটি ডলার মুসলিম চ্যাম্পিয়ন

📄 ৩০ কোটি ডলার মুসলিম চ্যাম্পিয়ন


চোখে দেখা জিনিসই মূলত বিশ্বাস তৈরি করে; যেরকম মানুষ বা কাজকর্ম চোখের সামনে থাকে, সেগুলো। তাই কী দেখছেন, তা ঠিক করতে হবে। লক্ষ্যের দিকে তাকাচ্ছেন তো? মানসিক ও ইন্দ্রিয়গতভাবে? লক্ষ্য কি স্পষ্ট?

বক্সার মাইক টাইসনের জীবনী পড়ছিলাম সেদিন। জানেনই তো যে, তিনি মুসলিম। তার ঘটনাবহুল জীবনে ছিল প্রচুর দুঃসময়। তারপরও অসাধারণভাবে তিনি সফল হন। মাদক ও অপরাধে ভরা ব্রুকলিন থেকে বের করে তাকে নেওয়া হয় পরিচ্ছন্ন আরেকটি স্কুলে। সেখানে বক্সিং প্রশিক্ষণ শুরু করেন তিনি। আর মাত্র বিশ বছর বয়সে হয়ে যান বিশ্বের নবীনতম হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন। আয় করেন তিনশ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এ সবকিছুর শুরু পরিবেশ পরিবর্তনের মাধ্যমে। এভাবেই জেতে মানুষ।

বিশ্বাস অর্জনের আরেকটি পদ্ধতি মানুষের সাথে কথা বলা। সঠিক মানুষদের সাথে কথা বলছেন তো? হয়তো হতে চান ইন্টারনেট মার্কেটার। ভালো কথা। ওরকম কারও সাথে কথা বলুন তাহলে। কিছু কোটিপতির সাথে বসে দেখুন তারা কী করেন। হয়তো বিশ্বমানের আলোকচিত্রী হতে চান। যান গিয়ে পিটার স্যান্ডার্সের সাথে কথা বলুন। এ ছাড়া আর উপায় নেই। কথা বলুন সঠিক মানুষদের সাথে।

আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে নিজের কাজকর্মের পরিবর্তন। একবার এসব জিনিস ঠিকঠাকমতো করতে পারলে সঠিক বিশ্বাসের অধিকারী হয়ে যাবেন। আমার কিছু বন্ধু বলত, 'তুই এত সহজে কারাতে করিস কীভাবে রে?' সব সময় জবাব দিয়েছি, 'অনেকদিন ধরে করছি তো; সেই পাঁচ বছর বয়স থেকে। শখের মতো হয়ে গেছে। এজন্যই সহজ লাগে।'

দিনরাত বা সপ্তাহে-সপ্তাহে কিছু একটা করতে থাকলে অভ্যাস হয়ে যায়। ব্যবসার ক্ষেত্রেও এমনই ঘটে। তাই বিশ্বাস তৈরি হয় তিন ধাপে: সঠিক পরিবেশ অর্জন, সঠিক কথোপকথন এবং বেঠিক পরিস্থিতি দূরীকরণ।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 প্রভাবশালিতার শিল্প

📄 প্রভাবশালিতার শিল্প


প্রভাব মানে স্রেফ বিশ্বাসের স্থানান্তর। বলা হয় যে, সাফল্যের রহস্য হলো নিজের বিশ্বাস উঁচু করা। নিজেকে মেলে ধরুন সাগ্রহে। মানুষ যখন দেখতে আসবে, তাদের মাঝেও উদ্দীপ্ত করুন আগ্রহ।

তাহলে মানুষকে প্রভাবিত করবেন কীভাবে? আগে আয়নায় নিজের সাথে কথা বলুন। কথা বলে দেখুন যে, নিজে নিজের স্বপ্নকে বিশ্বাস করেন কি না।

ড. ইয়াকুব মির্জাকে জিজ্ঞেস করলাম যে, মুসলিমদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে গবেষণা করতে হলে কী কী বই পড়ব। তিনি বললেন, 'আমার বইগুলো পড়েন!' এমনই হয় সফল উদ্যোক্তাদের আত্মবিশ্বাস। এরকম আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলুন। এখনই না থাকলে সমস্যা নেই। এতে সময় লাগে। কিন্তু একটা সময় পারতেই হবে।

আত্মপ্রচারের মনমানসিকতা থাকতে হবে। নিজের ব্যবসার প্রচার করুন। প্রচার করুন নিজের কাজের। সফল হবেন এভাবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00