📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 পাথুরে গড়ন

📄 পাথুরে গড়ন


উদ্যোগ শুরু করে আশায় আছেন যে, সফল হবেন। ইতিবাচকতা তুঙ্গে চড়ে আছে। কিন্তু বাধা-বিপত্তি আসতেই পারে। যারা অন্যথা বলে, তারা মিথ্যে বলে। কখনও ক্রেতা ফিরে যায়। আমার দেখা প্রত্যেক সফল উদ্যোক্তার জীবনে এমনটি হয়েছে। প্রত্যেকের!

এসব বাধা-বিপত্তি সামলেই কী করে বিশ্বাস অবিচল রাখা যায়? কীভাবে রাখবেন পাথর-কঠিন আত্মবিশ্বাস?

প্রথমত, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হোন। প্রতিজ্ঞা মানে, 'আমি এটা করেই ছাড়ব!' এক ভদ্রলোককে একবার বলতে শুনেছি, 'হয় সফল হব, নয়তো মারা যাব।' কী অসাধারণ প্রতিজ্ঞা! এই ভদ্রলোক এক যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা থেকে আগত। স্থানান্তরিত হওয়ার পথে হারিয়েছেন নিজেদের সকল সহায়-সম্বল। তারপরও ব্যবসা শুরু করার সময় এ কথা বলার মতো মেরুদণ্ড তার ছিল। অল্পকিছু প্রত্যাখ্যান ও ব্যর্থতা তো আর পৃথিবী ধ্বংস করে দিচ্ছে না। তাই প্রতিজ্ঞা গড়ে তুলুন।

দ্বিতীয়ত, এক মুহূর্তের জন্যও থামা চলবে না। হয়তো বিপত্তি এসেছে। হয়তো আর্থিক অবস্থা ভালো নয় বলে স্ত্রীর সাথে হয়েছে মনোমালিন্য। কিন্তু কাজ চলতে থাকবে। কর্মব্যস্ত থাকা চাই সারাটা সময়। তা যদি বাইরে একটু হাঁটাহাঁটি হয়, তবে তা-ই সই। কিছু একটা করুন! গতিশীল থাকুন।

ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডেও এ কথা প্রযোজ্য। এখন হয়তো প্রতিদিন দুইজনকে কল দেন। এক গিয়ার ওপরে উঠুন। পাঁচজনকে কল করুন। গতিময় থাকুন সব সময়। তাহলেই আর সন্দেহ-সংশয়ের সময় পাবেন না। আলস্যকে আসনই গাড়তে দেবেন না।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 সাফল্যের নীলনকশা

📄 সাফল্যের নীলনকশা


সাফল্যের ইসলামী নকশা নিহিত নবির (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সীরাতে, নিহিত সাহাবা আজমাইনের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) জীবনে।

সীরাত পড়তে গিয়ে দেখতে পাবেন যে, সাফল্যের জন্য কী পরিমাণ অবিচল ঈমান দরকার হয়। যেমন: আব্দুর রহমান ইবনু আউফ হিজরতের সময় নিজের সব সম্পত্তি হারিয়েছেন। মদীনায় আবারও শুরু করেছেন একেবারে শূন্য থেকে। প্রত্যেক মুহাজিরের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল একজন করে আনসার সাহাবি। আব্দুর রহমানের সঙ্গী হন সাদ বিন রাবি। সাদের ছিল দুই স্ত্রী এবং বিপুল সম্পত্তি। তিনি ইবনু আউফকে প্রস্তাব দিলেন তার যেকোনো একজন স্ত্রী আর অর্ধেক সম্পত্তি নিয়ে নিতে। কিন্তু আব্দুর রহমান কিছুই নিলেন না। শুধু বললেন মদীনার বাজারটা চিনিয়ে দিতে। সেখানে গিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। নিজের অন্ন জোগানোর মতো যথেষ্ট উপার্জন হয়ে যায় সন্ধ্যার মাঝেই। কয়েক সপ্তাহের মাঝে হয়ে যান ধনী। এ সবই আপন প্রচেষ্টায়।

এসকল সাহাবি দুনিয়ার জীবনে যেমন ছিলেন সফল, তেমনি এই সম্পদ ব্যবহার করেছেন আখিরাতে সুন্দর আবাস গড়ে নেওয়ার কাজে।

সম্পদশালিতা চার প্রকার। প্রথমত, যার সম্পদ আছে এবং সে তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করছে। দ্বিতীয়ত, যার সম্পদ নেই কিন্তু প্রথম প্রকারের ব্যক্তির প্রতি ঈর্ষান্বিত। তার মনে খুব ইচ্ছে নিজেও সম্পদের মালিক হয়ে তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করার। তৃতীয়ত, যার সম্পদ আছে এবং তা খরচ করছে মন্দ কাজে। চতুর্থ ও সর্বনিকৃষ্ট প্রকার হলো, যার সম্পদ নেই কিন্তু তৃতীয় প্রকারের প্রতি ঈর্ষান্বিত। তার উদ্দেশ্য, সম্পদ অর্জন করে তা খারাপ কাজে ব্যবহার করা। প্রথম দুই প্রকারের মানুষ উৎকৃষ্ট, পরের দুটি নিকৃষ্ট। আর উৎকৃষ্টদের মাঝেও সেরা হলো আল্লাহর রাস্তায় ব্যয়কারী সম্পদশালী।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 এক দিনে ২০ লাখ ডলার উপার্জন

📄 এক দিনে ২০ লাখ ডলার উপার্জন


এককালে ব্যবসায়ীর ছেলে ব্যবসায়ী হতো। অন্তত বেশিরভাগ সময়। আজকের যুগেও অনেক উদ্যোক্তা উদ্যোক্তা হয়েছে ব্যবসায়ী পরিবারে জন্মের সুবাদে। তার মানে ব্যবসায়ী হতে হলে কিছু না কিছু পূর্বজ্ঞান প্রয়োজন। কারণ ভোক্তা হওয়ার চেয়ে বিক্রেতা হওয়া একেবারেই আলাদা জিনিস।

যেদিন আইফোন বাজারে বের হলো, সেসময়কার কথা। ডিরেক্টলি ডট এমই'র সিইও কোম মির্জা এই সুযোগের যথাযথ সদ্ব্যবহার করেন সেদিন। কিছু ম্যানেজার ভাড়া করেন ক্রয়-বিক্রয় সামলাতে। দুবাইয়ে অবস্থানরত এক বন্ধুর সাথে করে নেন চুক্তি। ফোনের বিরাট চালান মধ্যপ্রাচ্যে পরিবহনের জন্য টাকা দেন তাদের। এভাবে একদিনে আয় করে নেন দুই মিলিয়ন ডলার।

তিনি ভাবেননি, 'যাই, গিয়ে একটা আইফোন কিনি।' ভেবেছেন, 'আইফোন রিলিজের এই সুযোগটাকে মনেটাইজ করা যাক।' স্বপ্ন দেখতে দেখতে হিসেব কষতে হবে। হিসেবি ঝুঁকি গ্রহণ করুন। এর নাম বাণিজ্য। সব সময় মুনাফার চিন্তায় থাকা। ব্যবসায়ীর মন সদা চিন্তাব্যস্ত মন।

এর একটা সহজতম পদ্ধতি হলো অন্য ব্যবসায়ীদের সাথে ঘোরাফেরা করা। এভাবে তাদের অভ্যাসগুলো রপ্ত করে নিতে পারবেন আপনি। সেনেগালে আমার পরিচিত কিছু মানুষ ব্যবসায়ীদের সাথে যথেষ্ট সময় কাটিয়েই নিজেরা ব্যবসায়ী হয়ে গেছে। অন্য সব বিক্রেতা, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তার ক্ষেত্রেও এ কথা সত্য। তারা সব সময় কোনো না কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রি করার তালে থাকে। মুনাফার হার বৃদ্ধিতে সদা সচেষ্ট।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 তোতলানোর ফুরসত নেই

📄 তোতলানোর ফুরসত নেই


যত শব্দ মুখ দিয়ে বলেন, সবই অন্যের কাছে শেখা। বিদ্যালয় থেকে, পিতামাতার কাছ থেকে, ভাইবোনের থেকে। বাচনভঙ্গি, ব্যবহৃত শব্দ-সবকিছু। অ্যামাজন বনের অধিবাসী একদল মানুষের ওপর একটি নৃতাত্ত্বিক গবেষণা হয়। ওই গোত্রের ভাষায় 'তোতলানো' বোঝাতে কোনো শব্দ নেই। তার চেয়ে মজার ব্যাপার কী, জানেন? ওই গোত্রে একজনও তোতলা নেই।

কিছু শব্দকে মাথা থেকে ঝ্যাঁটিয়ে বিদায় করার গুরুত্ব বুঝলেন তো? আপনার মুখের ভাষা আপনার বাস্তবতাকে নির্মাণ করে। তাই ব্যর্থতা ও সন্দেহের শব্দমালা দূর করা প্রয়োজন। 'জীবন অবিচারে ভরা', 'পৃথিবী এমনটা না হয়ে অমন হওয়া উচিত ছিল', 'কী জানি'-জাতীয় কথা আপনার ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর। এর বদলে ব্যবহার করুন প্রত্যয়মূলক কথা: 'আমি নিশ্চিত', 'কিছু চ্যালেঞ্জ এসেছে, তবে আমরা সামলে নেব।'

ইসলাম এখানে আবারও সুবিধা দিচ্ছে উদ্যোক্তাকে। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন যে, প্রতি সকালে দেহের অন্যান্য অংশরা জিহ্বাকে অনুরোধ করে আল্লাহকে ভয় করতে। জিহ্বা লাগামহীন হয়ে গেলে দেহের অন্যান্য অঙ্গেরও একই পরিণতি হয়। নিজের ও আশপাশের মানুষদের ব্যাপারে ভালো ভালো কথা বলার ব্যাপারে এর চেয়ে উত্তম উৎসাহ আর কী হতে পারে?

ম্যালকম এক্স বছরের পর বছর সময় নিয়ে অভিধান আত্মস্থ করেছেন। কারণ তিনি জানতেন যে, নিজের কথাকে নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে না জানলে, বিশেষ কিছু শব্দ জানা না থাকলে অন্যরা সহজে এর ফায়দা লুটে নেয়। প্রায়ই মানুষের কথাকে ঘুরিয়ে-প্যাঁচিয়ে ভিন্ন অর্থ বের করা হয়। যা বলতে চাচ্ছেন, তা প্রকাশ করার মতো শব্দ হয়তো নেই। তাই সঠিকভাবে চিন্তা করাও অসম্ভব হয় এসব ক্ষেত্রে। বাচনদক্ষতা ও 'কী বলতে হবে', তার জ্ঞান তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আমার দেখা খুবই সুবক্তা একজন উদ্যোক্তা জনাব ইয়াকুব মির্জা। প্রচণ্ড বুদ্ধিমান এই মানুষটি ৩.৮ বিলিয়ন মূল্যমানের সম্পদের অধিকারী। একবার নিজের চেয়ে কম অভিজ্ঞ এক ব্যক্তির সাথে দর কষাকষি করছিলেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল একটি ফার্ম ও কিছু যন্ত্রপাতি ক্রয় করা। তিনি শক্তিশালী সব যুক্তি ব্যবহার করে অপর পক্ষকে ধরাশায়ী করে ফেলতে শুরু করেন। একটু পরই টের পান যে, বাচনদক্ষতা দিয়ে তিনি অনেক সুবিধা বাগিয়ে নিচ্ছেন। তাই থেমে যান সেখানেই। এই হলো সত্যিকারের মুসলিম উদ্যোক্তার তাকওয়া। কখন থামতে হবে, তা জানা। বাচনভঙ্গির মতো সব দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সুবিধা হাসিল করতে হবে বটে। কিন্তু সাথে আল্লাহভীতিও থাকতে হবে, যাতে অন্যের প্রতি অন্যায় প্রভাব না খাটানো হয়। সব সময় চেষ্টা করতে হবে যেন উভয়পক্ষই জেতে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00