📄 বিশ্বাসের প্রমাণ
বিশ্বাস যেমন অপ্রমাণিত হতে পারে, তেমনই হতে পারে প্রমাণিত এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য। মুসলিম উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার শুরুটা হবে প্রমাণবিহীন বিশ্বাস দিয়ে। উদ্যোগ শুরু করে বিশ্বাস রাখবেন যে, সাফল্য আসবে। ভবিষ্যৎ তো অজানাই। কিন্তু একটা-দুটা করে বিক্রিবাট্টা যখন বাড়তে থাকে, তখন আসে সপ্রমাণ বিশ্বাস।
তুর্কি স্থপতি জনাবা সেলভা গুরদোগানের কাছ থেকে যেসব গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছি, তার একটি হলো নিজের ব্যবসাকে ভালো করে জানা। বিশ্বাসের স্বপক্ষে প্রমাণ পেতে হলে কাজের ভেতর-বাহির খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানতে হবে। স্থাপত্য প্রকৌশলের কয়েকটি শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন তিনি। বর্তমানে নগর পরিকল্পনার কিছু ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্বকে। তার একটি বিখ্যাত প্রকল্প ইস্তাম্বুলে বাইসাইকেলের জন্য পরিসর নির্মাণ করা। আরেকটি হলো এই মেগাসিটির পঁচিশ লক্ষেরও বেশি গাড়ির স্থান সংকুলানের ব্যবস্থা। নিজের সামর্থ্যের ব্যাপারে বিশ্বাস থাকলে কোনোকিছুই মুসলিম উদ্যোক্তাকে থামাতে পারবে না।
হয় ১০০% বিশ্বাস থাকতে হবে, আর নয়তো ভয়। ৯৯% বিশ্বাস বলে কোনো জিনিস নেই।
📄 হয় সংশয়, নয় বিশ্বাস
ব্যবসার প্রথম বছরগুলো সাধারণত হয়ে থাকে সবচেয়ে কঠিন। উদ্যোগের এখনও কোমর সোজা হয়নি। এখনও নেই কোনো ফলাফল। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে টিকিয়ে রাখবেন বিশ্বাসকে?
ভবিষ্যতের ব্যাপারে আশাবাদের মাধ্যমে। সজাগ না থাকলে সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকবে। যেকোনো ব্যবসার জন্য এ জিনিস বড়ই ধ্বংসাত্মক।
sন্দেহ-সংশয় আসে পরিবেশ থেকে, আশপাশের মানুষের কাছ থেকে। অপর্যাপ্ত প্রস্তুতিও হতে পারে এর কারণ। শুরুতেই গুরু হয়ে যেতে হবে না। কিন্তু প্রক্রিয়াটা আরম্ভ করার জন্য চাই নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রস্তুতি। নাহলে সহজেই শঙ্কা এসে হানা দেয়। একবার তা আক্রমণ করে বসলে ফলাফল হয় মারাত্মক।
শাইখ সাইয়্যিদ রিগাইহ ইমাম হয়েছেন, কারণ কোনো একজন তাকে বলেছিলেন, 'আমি জানি তুমি একদিন ইমাম হবে।' নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখার এমনই প্রভাব! ওই সময়টায় তার মাওলানা হওয়ার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। তিনি পড়াশোনা করছিলেন ডাক্তারি লাইনে। কিন্তু যেদিন থেকে মিম্বরে আরোহণ করলেন, মানুষ বুঝে গেল এটাই তার যোগ্য স্থান। বর্তমানে প্রখ্যাত ইমাম হওয়ার পাশাপাশি তিনি একটি অনুপ্রেরণামূলক টিভি চ্যানেলের মালিক। প্রথম খুতবা দেওয়ার সময় যারা সংশয়ের চোখে তাকাচ্ছিল, তাদের ভ্রুকুঞ্চনকে পাত্তা দিলে কি আজ তিনি এ অবস্থায় আসতেন? পারতেন আজকের মতো হাজার হাজার মানুষের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে?
পরপর কয়েকবার ব্যর্থ হলেও সংশয় দানা বাঁধে। কিন্তু এই ব্যর্থতাগুলোই আপনার সাফল্যের সিঁড়ি।
sন্দেহ মানে সিদ্ধান্তহীনতা। যত সফল মানুষের দেখা পেয়েছি, সবাই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে খুব অবিচল। একবার কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা আঁকড়ে ধরে রাখেন তারা। এজন্যই তারা আজকের অবস্থায়। সাফল্যের জন্য প্রস্তুতির নিয়্যাত করলে সিদ্ধান্তে অটুট থাকুন। জেনে রাখুন যে, আপনি সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। এগুচ্ছেন সঠিক বুদ্ধি নিয়ে। নিঃসংশয়ে এগিয়ে চলুন সেসব সাথে করে।