📄 ধনাঢ্য মালয়েশিয়া
নেতিবাচক চিন্তা আপনার সবচেয়ে দামি সম্পদটি কেড়ে নেবে: বিশ্বাস। ধরুন আপনার কাছে অনেকগুলো স্বর্ণের বার আছে। সেগুলোকে রাখলেন শক্তিশালী লকারে কম্বিনেশান লক দিয়ে। এখন বলুন, এই কম্বিনেশান কি আর কাউকে জানাবেন? মানুষের মন এর চেয়েও অনেক দামি সম্পদ।
নেতিবাচক চিন্তা হলো পাহাড়ে চড়ার সময় পিঠে থাকা ভারী বস্তার মতো। যাত্রাকালে আমরা ব্যাগে একটাও অপ্রয়োজনীয় জিনিস রাখি না। সে জায়গায় পাথরভর্তি বস্তা নিয়ে দশ মাইল হেঁটে যাওয়া কত্তবড় বোকামি! অতীতের ভ্রান্তবিশ্বাস আঁকড়ে ধরে রাখা মানুষেরা এরকমই বোকা। তারা ভাবে, 'আগেরবার যেহেতু কাজ হয়নি, এবারও হবে না।'
এগুলো বাস্তবতাকে বোঝার ভুল পদ্ধতি। আগেরবার চেষ্টা করে হয়নি মানে এবার অন্যভাবে চেষ্টা করতে হবে। মুসলিম উদ্যোক্তারা তো এভাবেই সফল হন। নিজের প্রতি সঠিক বিশ্বাস রাখার ওপর অনেককিছুই নির্ভরশীল।
ব্যক্তিপর্যায় ছাড়িয়ে দেশ-জাতি নিয়েও নেতিবাচক চিন্তা করা যায়, যা একইরকম ক্ষতিকর। জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছে। তারপরও নিজেদের দরিদ্র ভাবেনি তারা। মালয়শিয়ানরা তাদের দেশকে বলে 'ধনাঢ্য মালয়শিয়া'! তাই নিজের দেশকে গরিব ভাববেন না। এতে নিজের ব্যর্থতাই ডেকে আনা হয়।
সফল মুসলিম উদ্যোক্তারা নিজ দেশের ব্যাপারে খুবই ইতিবাচক। এমনকি যদি তা ধনবান দেশ না-ও হয়। নিজ দেশকে পরিচ্ছন্ন, দক্ষতর, সুন্দরতর ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করানোর লক্ষ্য নিয়েই কাজ শুরু করেছেন তারা।
📄 জগতে যথেষ্ট আছে
বিশ্বাসটা হওয়া চাই নিজের জন্য উপকারী। কোন কোন বিশ্বাস আপনাকে পেছন থেকে আঁকড়ে ধরে রাখছে, খুঁজে দেখুন। যেমন: সম্পদ সীমিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই বিশ্বাস দিয়ে দারুণভাবে মগজধোলাই করা হয়। কিন্তু সত্য হলো, জগতে যথেষ্ট রয়েছে। তারা বলে বিশ্বে নাকি জনসংখ্যা বেশি হয়ে গেছে। এ বিশ্বাস ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। আল্লাহ আমাদের যথেষ্ট জোগান দিয়েই সৃষ্টি করেছেন।
শুধু অস্ট্রেলিয়াতেই এই পরিমাণ জায়গা আছে, যেখানে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ নিজস্ব একটি বাগানবাড়ি-সহ স্বচ্ছন্দে থাকতে পারে! তাই পৃথিবী দরকারের চেয়ে যথেষ্ট বড়। জোগানও প্রচুর। পাহাড়-মহাসাগরে কত জায়গা পড়ে আছে এখনও অনাবিষ্কৃত।
যদি মনে করেন আপনার বর্ণ, লিঙ্গের কারণে পৃথিবী আপনার প্রতি নির্দয়, তবে কেবল পেছনেই পড়ে থাকবেন। হয়তো বৈষম্যের ব্যাপারটি বাস্তব। কিন্তু কিছুক্ষেত্রে অতিকল্পনাও। সে যা-ই হোক, এই চিন্তাগুলো আপনার কাজে আসবে না। তাই ব্যবহারও করবেন না এগুলো। শুধু এমনসব বিশ্বাস ব্যবহার করুন, যা দিয়ে সম্পদ, সাফল্য ও উন্নতি তৈরি করে নেওয়া যায়।
বর্ণবাদ ও বৈষম্যের শিকার ভাইবোনদের জন্য একটি নসিহত দিয়ে এই অংশ শেষ করছি। সফল উদ্যোক্তারা এসব কুৎসিত বাস্তবতার ব্যাপারে অজ্ঞ নন। তারা শুধু সেগুলো নিয়ে পড়ে থাকার বিরোধী। সাফল্যের চেয়ে ভালো প্রতিশোধ কিছুই হতে পারে না। তাই নিজের সব শক্তি ঢেলে দিন বিজয় অর্জনের পেছনে, অভিযোগ করার পেছনে নয়।
📄 বিশ্বাসের প্রমাণ
বিশ্বাস যেমন অপ্রমাণিত হতে পারে, তেমনই হতে পারে প্রমাণিত এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য। মুসলিম উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার শুরুটা হবে প্রমাণবিহীন বিশ্বাস দিয়ে। উদ্যোগ শুরু করে বিশ্বাস রাখবেন যে, সাফল্য আসবে। ভবিষ্যৎ তো অজানাই। কিন্তু একটা-দুটা করে বিক্রিবাট্টা যখন বাড়তে থাকে, তখন আসে সপ্রমাণ বিশ্বাস।
তুর্কি স্থপতি জনাবা সেলভা গুরদোগানের কাছ থেকে যেসব গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছি, তার একটি হলো নিজের ব্যবসাকে ভালো করে জানা। বিশ্বাসের স্বপক্ষে প্রমাণ পেতে হলে কাজের ভেতর-বাহির খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানতে হবে। স্থাপত্য প্রকৌশলের কয়েকটি শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন তিনি। বর্তমানে নগর পরিকল্পনার কিছু ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্বকে। তার একটি বিখ্যাত প্রকল্প ইস্তাম্বুলে বাইসাইকেলের জন্য পরিসর নির্মাণ করা। আরেকটি হলো এই মেগাসিটির পঁচিশ লক্ষেরও বেশি গাড়ির স্থান সংকুলানের ব্যবস্থা। নিজের সামর্থ্যের ব্যাপারে বিশ্বাস থাকলে কোনোকিছুই মুসলিম উদ্যোক্তাকে থামাতে পারবে না।
হয় ১০০% বিশ্বাস থাকতে হবে, আর নয়তো ভয়। ৯৯% বিশ্বাস বলে কোনো জিনিস নেই।
📄 হয় সংশয়, নয় বিশ্বাস
ব্যবসার প্রথম বছরগুলো সাধারণত হয়ে থাকে সবচেয়ে কঠিন। উদ্যোগের এখনও কোমর সোজা হয়নি। এখনও নেই কোনো ফলাফল। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে টিকিয়ে রাখবেন বিশ্বাসকে?
ভবিষ্যতের ব্যাপারে আশাবাদের মাধ্যমে। সজাগ না থাকলে সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকবে। যেকোনো ব্যবসার জন্য এ জিনিস বড়ই ধ্বংসাত্মক।
sন্দেহ-সংশয় আসে পরিবেশ থেকে, আশপাশের মানুষের কাছ থেকে। অপর্যাপ্ত প্রস্তুতিও হতে পারে এর কারণ। শুরুতেই গুরু হয়ে যেতে হবে না। কিন্তু প্রক্রিয়াটা আরম্ভ করার জন্য চাই নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রস্তুতি। নাহলে সহজেই শঙ্কা এসে হানা দেয়। একবার তা আক্রমণ করে বসলে ফলাফল হয় মারাত্মক।
শাইখ সাইয়্যিদ রিগাইহ ইমাম হয়েছেন, কারণ কোনো একজন তাকে বলেছিলেন, 'আমি জানি তুমি একদিন ইমাম হবে।' নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখার এমনই প্রভাব! ওই সময়টায় তার মাওলানা হওয়ার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। তিনি পড়াশোনা করছিলেন ডাক্তারি লাইনে। কিন্তু যেদিন থেকে মিম্বরে আরোহণ করলেন, মানুষ বুঝে গেল এটাই তার যোগ্য স্থান। বর্তমানে প্রখ্যাত ইমাম হওয়ার পাশাপাশি তিনি একটি অনুপ্রেরণামূলক টিভি চ্যানেলের মালিক। প্রথম খুতবা দেওয়ার সময় যারা সংশয়ের চোখে তাকাচ্ছিল, তাদের ভ্রুকুঞ্চনকে পাত্তা দিলে কি আজ তিনি এ অবস্থায় আসতেন? পারতেন আজকের মতো হাজার হাজার মানুষের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে?
পরপর কয়েকবার ব্যর্থ হলেও সংশয় দানা বাঁধে। কিন্তু এই ব্যর্থতাগুলোই আপনার সাফল্যের সিঁড়ি।
sন্দেহ মানে সিদ্ধান্তহীনতা। যত সফল মানুষের দেখা পেয়েছি, সবাই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে খুব অবিচল। একবার কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা আঁকড়ে ধরে রাখেন তারা। এজন্যই তারা আজকের অবস্থায়। সাফল্যের জন্য প্রস্তুতির নিয়্যাত করলে সিদ্ধান্তে অটুট থাকুন। জেনে রাখুন যে, আপনি সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। এগুচ্ছেন সঠিক বুদ্ধি নিয়ে। নিঃসংশয়ে এগিয়ে চলুন সেসব সাথে করে।