📄 তাহাজ্জুদগুজার কোটিপতি
দুআর শক্তি নিয়ে আমরা অনেক ওয়াজ-নসিহত শুনেছি। দুআ কিন্তু শুধু মনের চিন্তা নয়, মুখের কথাও বটে। এ যেন মুখ ব্যবহার করে কিছু সৃষ্টি করা। তবে অবশ্যই আল্লাহর অনুমতিক্রমে সংঘটিত হয় তা।
আমরা জানি, গীবত করা মানে মৃত ভাইয়ের মাংস খাওয়া। আমরা চোখে দেখতে না পেলেও বাস্তবেই ঘটছে এই ভক্ষণ। আবার ভালো ভালো কথা বলা বা আল্লাহর কাছে বিভিন্ন নিয়ামাতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে সত্যি সত্যিই নানারকম কল্যাণ এসে ধরা দিতে থাকে। দুআ মানে সেসব ইতিবাচক জিনিসের অনবরত পুনরাবৃত্তিও বটে। পাশাপাশি সেগুলোর জন্য আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়।
একই কথা যিকরের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বারবার সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ বলতে থাকা মানে অবিরাম আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আদায়। ফলে আপনি হয়ে ওঠেন আরও বেশি নিয়ামাত লাভের যোগ্য। তাই যা চান, তা বারবার বলতে থাকুন। কোটিপতি হওয়ার ইচ্ছে থাকলে বারবার বলুন, 'আল্লাহ আমাকে কোটিপতি বানিয়েছেন বলে আমি সত্যিই আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।' ফলে ইতিবাচক মন-মেজাজ তৈরি হবে। দুবাইভিত্তিক ইন্টারনেট উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী আরিফ মির্জার ভাষায়, 'আমি প্রতি রাতে তাহাজ্জুদ পড়ি। যা চাওয়ার, তা চাই আল্লাহর কাছে। কোনো মানুষ বা রাজা-বাদশাহর কাছে না। এসময় আল্লাহ প্রথম আসমানে আসেন। কার কী চাওয়ার আছে, চাওয়ার আদেশ করেন। আমি চাই সেইসব সৌভাগ্যবানদের একজন হতে।'
📄 আকর্ষণের সূত্র
আকর্ষণের সূত্রানুযায়ী, আমরা নিজেরা যেরকম, সেরকম বস্তুকেই আকর্ষণ করি। আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ও সুচিন্তার অধিকারী হলে কল্যাণকে আকর্ষণ করবেন। কুচিন্তার অধিকারী হলে টেনে আনবেন অকল্যাণ। আকর্ষণীয় চিন্তা আকর্ষণ করে আকর্ষণীয় মানুষ ও আকর্ষণীয় সুযোগকে।
চিন্তার প্রভাবে এই জিনিসগুলো ছুটে আসে কীভাবে? আল্লাহ এগুলো প্রেরণ করেন, তাই। এখান থেকেই আকর্ষণের সূত্রের উৎপত্তি। ইসলামে এই ধারণাটি আগে থেকেই আছে, নামটি এসেছে পরে। আমরা বিশ্বাস করি, সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর তাঁর দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তন।
তবে একটি সতর্কবার্তা: কিছু পশ্চিমা দার্শনিকের মতে, আমরা আক্ষরিক অর্থেই দৃঢ় ইচ্ছেশক্তির মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য নিজেরা তৈরি করি। এই মনমানসিকতা থাকার দারুণ সাফল্য অর্জিত হয়, এরকম দাবি করেছেন তারা। তবে এটি ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সাংঘর্ষিক। এটা বরং জাদুটোনার সাথে বেশি মেলে। আল্লাহই ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রক।
এখন আমরা এই সূত্রকে ব্যবহার করব কীভাবে? আগে যা বলা হলো, তা-ই। ইতিবাচক মানসিকতা গড়ার মাধ্যমে। তার চেয়ে বড় কথা, নিজের চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করুন। যা হওয়ার কামনা করেন, সেটা নিয়ে ভাবুন শুধু। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন যে, আপনার চিন্তাগুলো মানুষের সামনে বলার যোগ্য কি না? সেটা এতই উৎসাহব্যঞ্জক কি না, যে টিভি-রেডিওতে প্রচার করা সম্ভব? উত্তর যদি 'না' হয়, তাহলে এক্ষুনি সে চিন্তা থামান। সেগুলোকে প্রতিস্থাপিত করুন ভালো ভালো ও উৎসাহমূলক ভাবনা দিয়ে। শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে আশ্রয় চান আল্লাহর কাছে।
কোনো জায়গায় প্রত্যাখ্যাত হলে আমরা নিজেদের ওপর বড় অত্যাচার করে বসি। এসময় নিজেকে গালি দিয়ে আমরা যা কিছু বলি, এসব কথা অন্যদের বললে কোনো বন্ধুই থাকত না আর। তাহলে নিজের ওপর কেন এত কঠোরতা? নিজের প্রতি সদয় হোন। ব্যবসায় যদি আপাতত সাফল্য না আসে, তাহলে সমস্যা নেই। সব ঠিক আছে, সব ঠিক হয়ে যাবে। আপনি জিতবেন। কারণ আপনি বিজয়ী। এটাই মুসলিমের চেতনা। কুরআন বলে, 'মুমিনরা ইতোমধ্যে সফল হয়ে গেছে!' সঠিকভাবে ভাবুন, তাহলে সঠিক লোক ও সঠিক সুযোগের দেখা পাবেন। কারণ এগুলো সব আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে।
তবে বলছি না যে, খারাপ কিছু কখনোই ঘটবে না। ঘটতেই পারে সেসব। তাও প্রচুর পরিমাণে। কিন্তু তাতেও থাকতে পারে লুক্কায়িত কল্যাণ। নবি (সা) বলেন, 'মুমিনের ব্যাপারটা বিস্ময়কর। ভালো কিছু ঘটলে সে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ হয়। আর খারাপ কিছু ঘটলে ধৈর্য ধরে। উভয় ক্ষেত্রেই পুরস্কৃত হয় সে।' ফলাফল আমরা নিজেরা তৈরি করি না। এগুলো আসে আল্লাহর কাছ থেকে। আমরা যা করতে পারি, তা হলো ইতিবাচক আচরণের মাধ্যমে ইতিবাচক ফল লাভের জন্য প্রস্তুত হওয়া।