📄 ১০০ কোটির ১%
আপনার চিন্তাই আপনাকে আজকের অবস্থানে এনেছে। যদি সর্বোত্তম চিন্তা করেও অপছন্দনীয় ফলাফল পান, তাহলে বদলে ফেলুন চিন্তার পুরো দর্শন। দেখুন নতুন ফলাফল আসে কি না। কী যে জানেন না, সেটাই এখনও জানেন না হয়তো। অতীতে বেশ কয়েকটি ব্যবসা চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছি আমি। অথচ প্রত্যেকটা শুরু করার আগ থেকেই যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে, কাজ হয়ে যাবে। কিন্তু যতই এগিয়েছি, ততই মনে হয়েছে, 'ইশ্! অমুক অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছ থেকে এই এই বিষয় জেনে নিলে আরও ভালো হোতো।' যেকোনো উদ্যোগের ক্ষেত্রে এই কথা সত্য। লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে না মানে সে সম্পর্কে আপনার জানার ঘাটতি আছে। সেগুলো জানা থাকলে বেশ সহজ হয়ে যেত সাফল্য। অন্য কথায়, ধনীদের মতো চিন্তা করতে জানলে সাফল্যের সম্ভাবনা বেড়ে যেত।
এনটিজি ক্ল্যারিটির সিইও ইমাম আশরাফ। তার সাথে একবার আলোচনা করছিলাম যে, অনেক উদ্যোক্তাই একটা ঘোরের মধ্যে বাস করে। মনে করে তার নতুন ব্যবসায়িক বুদ্ধিটি এত্ত দামি যে, সবার কাছ থেকে যেকোনো মূল্যে লুকিয়ে রাখতে হবে তা। এটা ধনী উদ্যোক্তাদের চিন্তাপদ্ধতি নয়। সাধারণত ইমাম আশরাফ কোনো ব্যবসায় হাত দিলে সে কাজের যোগ্যতম ব্যক্তিটিকে খুঁজে নিয়ে নিয়োগ দেন। এভাবে সাফল্যের সাথে বাজারে তুলে আনেন উদ্যোগটিকে। তিনি খুঁজে দেখেন সম্ভাব্য দ্রুততম ও সবচেয়ে কার্যকর পথ। পক্ষান্তরে বিফল উদ্যোক্তারা থাকে লুকোচুরিতে ব্যস্ত। তাই তাদের ব্যবসাও আর বাড়ে না।
একবার এক শখের উদ্যোক্তা এল তার ব্যবসায়িক বুদ্ধি নিয়ে। চাচ্ছিল, ইমাম আশরাফ সে ব্যবসায়ে অংশীদার হোন। কিন্তু একটা সমস্যা ছিল সেখানে। সে চাচ্ছিল ইমাম আশরাফ তার সময় ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি টাকা দিয়েও শরিক হবেন। বিনিময়ে পাবেন লভ্যাংশের মাত্র ৫%। আশরাফ যে আগ্রহ পাননি, তা বলাই বাহুল্য। ওই লোকের চিন্তাপদ্ধতিই আসলে ঠিক ছিল না। একটা বিলিয়ন ডলার কোম্পানির ১% মালিকানা পেলেও আপনি কোটিপতি। পক্ষান্তরে ঋণে জর্জরিত কোনো কোম্পানির ১০০% মালিকানা মানে পুরোটাই লস। এভাবে চিন্তা করতে পারা খুবই উঁচু পর্যায়ের দক্ষতা। অংশীদারি ব্যবসা শুরু করার আগে তাই এভাবে ভেবে দেখুন। এভাবেই স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যেতে হয়।