📄 হারানোর ভয়
নেতিবাচক চিন্তাচেতনার একটি উদাহরণ হলো ভয়। ভয়ের আছে নানা রূপ। যেমন: হারানোর ভয়। এক মহিলা একবার রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে হাতঘড়ি ফেলে আসে। ঘড়িটার দাম মোটে ৭ ডলার। বাসায় গিয়ে যখন টের পায়, তখন প্রায় ২ ঘণ্টা সময় ও ৪০ ডলার গাড়িভাড়া খরচ করে ফেরত আসে ঘড়ি উদ্ধার করতে। উদ্ধার তো হয়েছে ঠিকই; কিন্তু এত কষ্ট না করে স্থানীয় সুপারমার্কেটে গিয়েই সেই একইরকম আরেকটা ঘড়ি কিনতে পারত। এত টাকা, সময় আর শক্তি সে খরচ করেছে হারানোর ভয়ের কারণে। আচ্ছা, ভালো কথা। এই ব্যাপারটা কাজে লাগিয়ে কিন্তু আপনি পণ্যের ক্রেতা বাড়াতে পারেন। জাদুর মতো কাজ হয় এতে। হারানো জিনিস উদ্ধার না করে আপনার কাছ থেকে নতুন করে কিনবে লোকজন।
আরেকটি ভয় হলো বার্ধক্যের ভয়। 'এখন আর ব্যবসা শুরু করার বয়স নেই।', 'আমি বুড়িয়ে গেলে ব্যবসা কে দেখবে?', 'এরচেয়ে চাকরিই করি, যাতে অবসরজীবনে আরাম করা যায়।' এরকম চিন্তার ফলে গড়িমসি ভাব চলে আসে। সারাক্ষণ বার্ধক্য নিয়ে ভাবলে দেখবেন যে, সত্যি সত্যিই তাড়াতাড়ি বুড়িয়ে যাচ্ছেন! এমনটা নিশ্চয়ই চান না আপনি? আরেক ধরনের নেতিবাচকতা হলো সন্দেহ ও দুশ্চিন্তা। বিশেষত দুশ্চিন্তা ব্যাপকভাবে শক্তি ক্ষয় করায়। উদ্যোক্তা হিসেবে আপনাকে হতে হবে দায়িত্ব নেওয়ার মতো উদ্দমী। ভয় আর দুশ্চিন্তা আপনার ব্যবসাকে বছরের পর বছর ধরে আটকে রাখবে।
📄 মহাকাশযাত্রা
কোটিপতিকে কখনও অপরাধপ্রবণ, অনিরাপদ, ঘিঞ্জি এলাকায় বাস করতে দেখেছেন? মনে হয় না। কোনো গরীবকে দেখেছেন উন্নত এলাকায় গিয়ে মৌজ-মাস্তি করতে? সেটাও না। বলতে পারেন যে, তাদের তো ওসব জায়গায় যাওয়ার টাকাই নেই। তারপরও সমুদ্রসৈকতে যাওয়ার যত খরচ, এক বেলা একটা ভালো ক্যাফেতে বসার খরচ তো তত নয়। অথচ দারিদ্র্য ও নেতিবাচকতা হাতে হাত ধরে চলে। কথায় আছে, সঙ্গদোষে লোহা ভাসে। অর্থাৎ, পারিপার্শ্বিকতাই সব। আমরা আমাদের পরিবারের দ্বারা প্রভাবিত হই। কীভাবে বড় হয়েছি, সেটা দিয়ে প্রভাবিত হই। এমনকি কথা বলার ভঙ্গিও আলাদা হয় এগুলোর প্রভাবে। যে এলাকায় সাফল্য মানেই মাদকব্যবসা, সেখানকার বাচ্চারা ওই বিশ্বাস নিয়েই বড় হবে। আর আশপাশের পরিবেশ যদি বলে সাফল্য মানে মহাকাশভ্রমণ বা রোগীদের সেবা, তাহলে নভোচারী বা নিউরোসার্জন হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে উঠবে বাচ্চারা। পরিবেশের এমনই গুরুত্ব।
আবাসন প্রকল্পের উদ্যোক্তা জনাব আযিম রিজভী এভাবেই চিন্তা করেছেন। একমাত্র সন্তানকে পাঠিয়েছেন নভোচারী প্রশিক্ষণকেন্দ্রে। পরিপূর্ণ ইসলাম পালনকারী সন্তানটি এই ১৩ বছর বয়সেই অংশ নেয় ভার্জিন গ্যালাক্টিক কোম্পানি আয়োজিত মহাকাশযাত্রা প্রশিক্ষণ কর্মশালায়। আযিম চান তার সন্তান এমন এক দৃষ্টিকোণ থেকে পৃথিবীকে দেখুক, যা তাকে বড় পরিসরে অবাধ চিন্তা করতে শেখাবে। কথাবার্তা যতটুকু বলেছি, বুঝলাম সন্তানও বাবার মতোই স্বপ্নবাজ।
এ থেকে আলোচনা আবারও ফিরে আসে সঙ্গী নির্বাচন প্রসঙ্গে। সঙ্গগুণ অধ্যায়ে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা আসবে। আপাতত কথা হলো, ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে হলে ইতিবাচক মানুষ দিয়ে চারপাশকে সাজাতে হবে। সফল মানুষদের মাঝে এই বিষয়টা দেখলাম যে, সঙ্গী নির্বাচনে তারা বেশ সতর্ক। এমন সৎকর্মশীল বন্ধু বেছে নেন, যারা আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পাশাপাশি সাহায্য করে লক্ষ্য অর্জনে। অন্তত যাদের আচরণ উৎসাহব্যঞ্জক। এরা হয়তো বড়লোক না। কিন্তু অন্যকে টেনে নিচে নামানোর মতো ছোটলোকও না। সাফল্যযাত্রায় এ বিষয়টি মাথায় রাখা খুবই দরকারি।