📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 রঙিন পানি

📄 রঙিন পানি


আপনার চিন্তাচেতনা আপনার অবস্থান ও প্রাপ্য ফলাফলকে প্রভাবিত করবে। হোক তা স্বাস্থ্য, সম্পদ, সম্পর্ক বা আল্লাহর নৈকট্যের ক্ষেত্রে। কাজের ওপর চিন্তার প্রভাব আছে। যদি নিজেকে অসুস্থ ভাবেন, তবেই আপনি অসুস্থ। যদি মনে করেন খারাপ কিছু হতে চলেছে, সম্ভবত তা হয়েই ছাড়বে। নেতিবাচক মানসিক শক্তি বাস্তবের চাক্ষুস জগতকে আসলেই প্রভাবিত করে।
বছর তিনেক আগে এক বন্ধুকে চিনতাম। সে যথেষ্ট খোলামেলা ও মিশুক। তবুও দিন যত এগোলো, খেয়াল করলাম সে কোনো তর্কে হারে না। সব কথায় তারটাই ঠিক। আপনার পরিচিতদের মধ্যেও এরকম কেউ আছে হয়তো। আরও খেয়াল করলাম সে গীবত করতে খুব ভালোবাসে। আস্তে আস্তে সরে আসতে থাকলাম তার কাছ থেকে। কেন এ ঘটনা বলছি, জানেন? কারণ লোকটা তালাকপ্রাপ্ত, অর্থকষ্ট আর শারীরিক সমস্যায় জর্জরিত। উপলব্ধি করলাম যে, তার চিন্তাচেতনা তার বাস্তব অবস্থায় প্রভাব ফেলেছে।
বলছি না যে, ইতিবাচক মানসিকতা থাকলে জীবনে কোনো চ্যালেঞ্জ আসবেই না। আইয়ূব (আলাইহিসসালাম) নবি হয়েও মারাত্মক অসুস্থতা, দারিদ্র্য, সন্তান হারানোর মতো পরীক্ষায় পড়েছেন সুদীর্ঘকাল যাবৎ। পার্থক্য হলো, তিনি ধৈর্য হারা হননি। বহু বছর কষ্ট ভোগ করার পর আল্লাহকে কষ্টের কথা বলেছেন শুধু। মেডিক্যাল সায়েন্সের সাথে জড়িত প্রতিটা মানুষ জানে যে, সব মেডিসিনের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই আসলে প্লাসেবো। সান্ত্বনা ঔষধ। ডাক্তার হয়তো রোগীকে এক শিশি রঙিন পানীয় পান করতে দেন। রোগী ভাবে, না জানি কত ভালো মেডিসিন! আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, ওই রঙিন পানি খেয়েই রোগী সুস্থ হয়ে যায়। স্রেফ বিশ্বাসের কারণে।
বুঝতেই পারছেন মুসলিম উদ্যোক্তার জন্য ইতিবাচক মানসিকতা কতটা জরুরি। তাই কথিত 'দুর্ভাগ্য' ডাকিয়ে আনবেন না। 'ভাগ্য'র সাথে 'দুঃ' যুক্ত হয় কেবল আমাদের নেতিবাচক চিন্তার প্রভাবে। চিন্তার ইতিবাচকতা আমাদের মহান দ্বীনেরও অংশ। এক হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেছেন, 'বান্দা আমাকে যেমন ভাবে, আমি তেমনই। সে যখন আমাকে স্মরণ করে, আমি তার সাথে থাকি। সে আমাকে স্মরণ করলে আমিও স্মরণ করি তাকে।' তবে ভয়-ভীতিরও প্রকারভেদ আছে। আর সঠিক প্রকারের ভীতি প্রয়োজনীয়ও বটে। প্রখ্যাত চিকিৎসাবিদ ড. আমিনা কক্সন বলেন, 'ভয় আমাকে উৎসাহ জোগায়। আমাকে তো নিজেরটা নিজে করতে হবে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার জন্য কেউ টাকা দেবে না আমাকে।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00