📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 না হলে ভালো, হলে আরও ভালো

📄 না হলে ভালো, হলে আরও ভালো


gratefulness সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত। প্রথমে নিজের অবস্থান যাচাই করুন। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, 'আমি কি আসলেই অত গরিব?' যদি লিখতে-পড়তে জানেন, সেলফোনের মালিক হন, ইন্টারনেট সংযোগ ও ল্যাপটপের অধিকারী হন, তাহলেই আপনি সমাজের সুবিধাভোগী শ্রেণীতে পড়েন। তার ওপর আছে জগতের শ্রেষ্ঠতম সম্পদ 'আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস'। অল্পকিছু সৌভাগ্যবান মানুষের কপালে জোটে এই জিনিস। স্বাস্থ্য যদি গড়পড়তা ভালো হয়, কৃতজ্ঞ হোন। আর কী লাগে? বলুন, 'আলহামদুলিল্লাহ'। প্রত্যেক সালাতে এ কথা বলি আমরা।
আল্লাহর নিয়ামাত স্মরণ রাখার একটি সুন্দর পদ্ধতি আছে। যেকোনো দশটি প্রাপ্তির কথা কাগজে লিখে এমন কোথাও লাগিয়ে রাখুন, যেখানে প্রতিদিন তা চোখে পড়বে। তাহলে নিজের অবস্থার কারণে অন্তরে কৃতজ্ঞতা থাকবে সব সময়। যে চাকরিতে আছেন, তার অনেক বিষয় হয়তো আপনার পছন্দ নয়। তারপরও চাকরি আছে বলে কৃতজ্ঞ হোন। জানি, আপনার ইচ্ছে উদ্যোক্তা হওয়ার। এসব ছাপোষা চাকরি আপনার জন্য নয়। তারপরও আপাতত চাকরি থাকাটাই একটা দুর্দান্ত ব্যাপার। শোকর করুন এর জন্য। লক্ষ লক্ষ মানুষ হন্যে হয়ে চাকরি খুঁজে বেড়াচ্ছে এই মুহূর্তে। আল্লাহর কাছে এবং আপনার চাকরিদাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হোন এই সুযোগটি পেয়েছেন বলে।
বর্তমান অবস্থান যেহেতু জেনে গেলেন, এবার দেখতে হবে গন্তব্য কোথায়। সেটার জন্যও আলহামদুলিল্লাহ বলুন, যেন ইতোমধ্যেই সেখানে পৌঁছে গেছেন। 'কোটিপতি হয়েছি বলে আলহামদুলিল্লাহ', 'আমার অমুক কোম্পানি সফল হয়েছে বলে আলহামদুলিল্লাহ'। যা আছে, তা নিয়ে তো সন্তুষ্ট হলেনই। সামনের আসতে চলা সুযোগগুলোর জন্যও এখন আপনি প্রস্তুত। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার গুরুত্ব এখানেই। তিনি যা দিয়েছেন, তা নিয়ে শোকর করবেন। ফলে নতুন নতুন নিয়ামাত গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুতও হয়ে যাবেন। যত বেশি কৃতজ্ঞতা, তত বেশি সাফল্যের নিশ্চয়তা।
সাফল্যের জন্য কৃতজ্ঞতা আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। নিজের অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলে আসন্ন সুযোগগুলো স্পষ্টভাবে চোখে ধরা পড়ে। 'আরে ধুর, এটা হবে না!' এই চিন্তা আপনাআপনি মাথায় আসবে না। কৃতজ্ঞতার কারণে আপনার নৈরাশ্যবাদী ও প্রত্যাখ্যান-কেন্দ্রিক মানসিকতা দূর হয়ে গেছে। কৃতজ্ঞতা আর গ্রহণশীলতা পরস্পর সম্পর্কিত। যা হাতে আসে, তা-ই ভালো। এভাবে চিন্তা করলে চোখ-কানও খোলা হয়ে যাবে আপনার। চারিদিকে দেখবেন সুযোগ আর সুযোগ। সেগুলো স্রেফ লুফে নিয়ে কাজে লাগানো বাকি।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 সিদ্ধান্ত আপনার

📄 সিদ্ধান্ত আপনার


নিজের সাফল্যের জন্য যেহেতু চেষ্টা-সাধনা করছেন, এখন আপনি একজন দায়িত্ববান ব্যবসায়িক নেতা। নিজের কাজের জন্য অন্য কাউকে দায়ী করছেন না। উদ্দেশ্য সাধন করার দিকে আপনার পূর্ণ মনোযোগ। তাই পরবর্তী ধাপ হলো আত্মনির্ভরশীলতা। আপন সাফল্যের জন্য স্বাবলম্বিতা।
আপনাকে সফল করা আরেকজনের কাজ নয়। না আপনার ব্যাংকের, না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের, না সার্টিফিকেটের, না পিতামাতার বা বন্ধুদের। মহত্ত্বের সিঁড়িতে পদার্পণ করে সাফল্য ছিনিয়ে আনার দায়িত্ব আপনার একার।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 রঙিন পানি

📄 রঙিন পানি


আপনার চিন্তাচেতনা আপনার অবস্থান ও প্রাপ্য ফলাফলকে প্রভাবিত করবে। হোক তা স্বাস্থ্য, সম্পদ, সম্পর্ক বা আল্লাহর নৈকট্যের ক্ষেত্রে। কাজের ওপর চিন্তার প্রভাব আছে। যদি নিজেকে অসুস্থ ভাবেন, তবেই আপনি অসুস্থ। যদি মনে করেন খারাপ কিছু হতে চলেছে, সম্ভবত তা হয়েই ছাড়বে। নেতিবাচক মানসিক শক্তি বাস্তবের চাক্ষুস জগতকে আসলেই প্রভাবিত করে।
বছর তিনেক আগে এক বন্ধুকে চিনতাম। সে যথেষ্ট খোলামেলা ও মিশুক। তবুও দিন যত এগোলো, খেয়াল করলাম সে কোনো তর্কে হারে না। সব কথায় তারটাই ঠিক। আপনার পরিচিতদের মধ্যেও এরকম কেউ আছে হয়তো। আরও খেয়াল করলাম সে গীবত করতে খুব ভালোবাসে। আস্তে আস্তে সরে আসতে থাকলাম তার কাছ থেকে। কেন এ ঘটনা বলছি, জানেন? কারণ লোকটা তালাকপ্রাপ্ত, অর্থকষ্ট আর শারীরিক সমস্যায় জর্জরিত। উপলব্ধি করলাম যে, তার চিন্তাচেতনা তার বাস্তব অবস্থায় প্রভাব ফেলেছে।
বলছি না যে, ইতিবাচক মানসিকতা থাকলে জীবনে কোনো চ্যালেঞ্জ আসবেই না। আইয়ূব (আলাইহিসসালাম) নবি হয়েও মারাত্মক অসুস্থতা, দারিদ্র্য, সন্তান হারানোর মতো পরীক্ষায় পড়েছেন সুদীর্ঘকাল যাবৎ। পার্থক্য হলো, তিনি ধৈর্য হারা হননি। বহু বছর কষ্ট ভোগ করার পর আল্লাহকে কষ্টের কথা বলেছেন শুধু। মেডিক্যাল সায়েন্সের সাথে জড়িত প্রতিটা মানুষ জানে যে, সব মেডিসিনের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই আসলে প্লাসেবো। সান্ত্বনা ঔষধ। ডাক্তার হয়তো রোগীকে এক শিশি রঙিন পানীয় পান করতে দেন। রোগী ভাবে, না জানি কত ভালো মেডিসিন! আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, ওই রঙিন পানি খেয়েই রোগী সুস্থ হয়ে যায়। স্রেফ বিশ্বাসের কারণে।
বুঝতেই পারছেন মুসলিম উদ্যোক্তার জন্য ইতিবাচক মানসিকতা কতটা জরুরি। তাই কথিত 'দুর্ভাগ্য' ডাকিয়ে আনবেন না। 'ভাগ্য'র সাথে 'দুঃ' যুক্ত হয় কেবল আমাদের নেতিবাচক চিন্তার প্রভাবে। চিন্তার ইতিবাচকতা আমাদের মহান দ্বীনেরও অংশ। এক হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেছেন, 'বান্দা আমাকে যেমন ভাবে, আমি তেমনই। সে যখন আমাকে স্মরণ করে, আমি তার সাথে থাকি। সে আমাকে স্মরণ করলে আমিও স্মরণ করি তাকে।' তবে ভয়-ভীতিরও প্রকারভেদ আছে। আর সঠিক প্রকারের ভীতি প্রয়োজনীয়ও বটে। প্রখ্যাত চিকিৎসাবিদ ড. আমিনা কক্সন বলেন, 'ভয় আমাকে উৎসাহ জোগায়। আমাকে তো নিজেরটা নিজে করতে হবে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার জন্য কেউ টাকা দেবে না আমাকে।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00