📄 ভাঙবেন না, গড়ে তুলুন
সমালোচনা বাদ দিয়ে নতুন জ্ঞান যুক্ত করুন। দেখুন, সাফল্য নিয়ে শত-সহস্র বছর ধরে গবেষণা হয়েছে। ইতোমধ্যেই মজুদ আছে তথ্যের এক বিরাট ভাণ্ডার। প্রাচ্যে অনেক আগেই হয়েছে এ সংক্রান্ত কাজ। আবু ইবনু জাফার আদ-দাউদি আজ থেকে এক হাজার বছর আগে লিখেছেন কিতাবুল আমওয়াল (সম্পদ সংক্রান্ত বই)।
পাশ্চাত্য সেটাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে আরও সামনে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে আমেরিকান লেখক নেপোলিয়ন হিল লিখেছেন তার বিখ্যাত বই থিংক অ্যান্ড গ্রো রিচ। সাফল্য, সম্পদ আর উন্নতির আলোচনায় এ বইগুলো একটার থেকে একটা অসাধারণ।
আত্মোন্নয়ন ধাঁচের বই লেখার যে ধারা নেপোলিয়ন হিল চালু করে দিয়ে গেছেন, আজ পর্যন্ত তা তুমুল জনপ্রিয়। তারপরও আমার জানামতে, সম্পদ ও সাফল্যের ব্যাপারে মুসলিম দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নিকট সময়ে তেমন কোনো কাজ হয়নি।
কিন্তু তাই বলে অমুসলিম লেখকদের দিয়ে যাওয়া তথ্যভাণ্ডার কি ১০০% ভুল? না! একদমই না। আমার মতে, এগুলোর বেশিরভাগই সঠিক। তবুও পরের ধাপে কেন যাব না? যা ইতোমধ্যে আছে, সেটাকে ধ্বংস বা সমালোচনা না করে আমরা এর সাথে নতুন জ্ঞান যুক্ত করছি কেবল। এ বইয়ের উদ্দেশ্য শুধু নিজেদের ফায়দা হাসিল করা নয়। এর উদ্দেশ্য সব জায়গার, সকল মানুষের কল্যাণ। কারণ মুসলিম হওয়ার অর্থই এটি।
সম্পদের ব্যাপারে ইসলাম কী বলে, তা জানতে হলে অবশ্যই সফল মুসলিম উদ্যোক্তাদের অধীনে জ্ঞানার্জন করতে হবে। এর মানে হলো সাফল্যের দর্শনকে আরও এক ধাপ ওপরে নিয়ে যাওয়া। গ্রন্থগত বিদ্যে পরিহার করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি আমি এই বইয়ে। চেয়েছি বর্তমান যুগে বাস্তব জীবনে কার্যকর পদ্ধতিগুলো তুলে আনতে। তুলে আনতে। যেগুলো আসলেই সাফল্য এনে দিচ্ছে এত এত অসাধারণ মুসলিম উদ্যোক্তা ও নেতাকে। এসব জ্ঞান শুধু ব্যবসা নয়, অন্যান্য পরিসরেও প্রয়োগ করা সম্ভব।
এই পরিচ্ছেদের শেষে মনে করিয়ে দিই যে, সমালোচনার মাঝে নীচু মানসিকতা নিহিত। যেমন- অন্যদের লেখা হাজার হাজার বইয়ের ঢালাও সমালোচনা করা মোটেও কাজের কথা নয়। অন্যদের থেকে শিখতে তো ক্ষতি নেই। কিন্তু মুসলিম উদ্যোক্তার দায়িত্ব হলো প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও অপ্রয়োজনীয় তথ্যের মাঝে পার্থক্য করতে শেখা। উঁচু মানসিকতাবিশিষ্ট মানুষেরা প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজে নিয়ে সেটাকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করে।
জনাব শাহযাদ সিদ্দিকির সাথে যখন প্রথমবার দেখা হয়, তার বয়স তখন ত্রিশের ঘরে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি লিংকনের জীবনী অধ্যয়ন করছিলেন এই সফল আইনজীবী। একাধিক ব্যবসায় মার খাওয়া ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রপতি হয়ে ওঠার পথে লিংকন কী কী মূলনীতি প্রয়োগ করেছেন, তা খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে বইটি পড়েন তিনি। শাহযাদ নিজেও ইসলামী অর্থনীতির ওপর তিনটি বইয়ের রচয়িতা।