📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 তিনটি ছোট্ট রাজকুমারী

📄 তিনটি ছোট্ট রাজকুমারী


অন্যকে ভালো কিছু শেখালে নিজেও তার সুফল ভোগ করা যায়।

ধরুন, আপনি অনেক মানুষকে ধনী ও সফল বিনিয়োগকারী হওয়ার উপায় শেখালেন। একসময় দেখবেন আপনার চারপাশের অনেক মানুষই ধনী। এখন নিজের প্রয়োজনে একে কাজে কাজে লাগাতে পারবেন আপনি। হয়তো আপনার নিজের কোনো সাহায্য দরকার, অথবা দরকার ব্যবসার অংশীদার। পরিচিত সকলেই যদি হয় দরিদ্র, তবেই সেরেছে! কিন্তু তাদের কিছু অংশও যদি আর্থিকভাবে সফল হয়ে থাকে, এদের কাছ থেকে উপকার পাবেন আপনি। এ তো গেল নগদ লাভের কথা। কিন্তু ইসলামে এর প্রভাব আরও সুদূরপ্রসারী।

অন্যের উপকার করার মাধ্যমে আপনি আখিরাতেও উপকৃত হবেন। প্রতিটি ভালো কাজের দুনিয়াবি ও আখিরাতি প্রতিদান রয়েছে। এই ছোট্ট বিশ্বাসটুকুর ক্ষমতা ব্যাপক। মুসলিম হিসেবে আমরা কল্যাণ ছড়িয়ে দেওয়ায় বিশ্বাসী। কারণ আল্লাহর অনুগ্রহ অসীম। অসীম। অন্যের কল্যাণ করলে নিজের কাছেও একসময় ফিরে আসে তা। আল্লাহ অন্যকে দিয়ে দিলে আমাকে আর দেবেন না-এরকম কোনো দুশ্চিন্তা নেই আমাদের মাথায়।

একটা ভুল ধারণা বেশ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে গেছে যে, সম্পদ নাকি সসীম। তাই সন্তান নেওয়া যাবে না, জনসংখ্যা কমাতে হবে, আরও কত কী! এ হলো অভাবী মনমানসিকতা। আর এর ক্ষতিও নিদারুণ। বিশ্বজুড়ে বিদ্যালয়ে এই ধ্যানধারণা শেখানো হচ্ছে। মনে রাখবেন, আল্লাহ প্রত্যেককে তার রিযক-সহই সৃষ্টি করেন। একদম সঠিক মাত্রায় নির্ধারিত আছে প্রত্যেকের প্রাপ্য রিযক। তাই তিনিই দেবেন মুখের জন্য যথেষ্ট আহার। ফসল দেবেন, বৃষ্টি দেবেন, স্বর্ণ দেবেন। দেবেন সকল মানুষকে সংকুলান করানোর মতো প্রযুক্তি। তাই যোগান সীমিত, ঠিক আছে। কিন্তু স্রষ্টা হিসেবে আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, এটাই সকলের জন্য যথেষ্ট হবে।

অন্যরা বেশি পেয়ে গেল কি না, তা নিয়ে ভাববেন না। দুনিয়ার সব সম্পদ একা খেয়ে ফেলতে পারবে না কেউ। সম্পদ অসীম। মানুষ বাড়লে সম্পদও বাড়ে। অপর ভাইকে সফল ও ধনী হতে শেখালে নিজের কাছ থেকে কিছু কমে যাবে না। রিযক নিয়ে কারও সাথে কোনো প্রতিযোগিতা নেই।

এ বইয়ে উল্লেখিত মূলনীতিগুলো অনুসরণ করে নিজের কাজ করে যান। ধনী হয়েই যাবেন একসময়। অন্যদের ধনী হতে ও উন্নতি করতে শেখালে দিনশেষে আপনিই উপকৃত হবেন।

এখানেই শেষ নয়। অন্যকে শেখালে নিজেরও শেখা হয়। ডক্টরেট গবেষক হিসেবে ক্যারিয়ারে আমার অন্যতম কাজ ছিল শিক্ষকতা। হলফ করে বলছি যে, শিক্ষকতার সৌন্দর্যটা এখানেই। যতই শেখাবেন, ততই শিখবেন।

এক ব্যক্তি একসাথে তিন সন্তানের জনক হন। তিনজনই মেয়ে। স্বভাবতই বর্ধিত পরিবারের জন্য রুটি-রুজির চিন্তা শুরু হয় তার। এসে পরামর্শ চান আমার কাছে। অনলাইন মার্কেটিং বিজনেস শুরু করার পরামর্শ দিই তাকে। শিখিয়ে দিই কীভাবে ক্রেতা বাড়াতে হয়। সেইসাথে আত্মোন্নয়নের অনেক বিষয়ও। নতুন অনেক জিনিস শিখলেন তিনি। শুরু করলেন আবারও স্বপ্ন স্বপ্ন দেখা। পাকাপোক্ত বিশ্বাস গড়ে নিলেন যে, এভাবে তিনি নিজ পরিবার তো বটেই, বাইরের আরও অনেক মানুষকে সাহায্য করতে পারবেন। পরামর্শ দিয়ে উপকার করায় আমাকে ধন্যবাদ দিলেন তিনি। কিন্তু ওই তিনটি রাজকন্যার উসিলায় তাকে যতটা না শিখিয়েছি, নিজে শিখেছি তার দশগুণ। দশগুণ। এজন্যই শিক্ষকতা এত সুন্দর।

জ্ঞান বিতরণ করলে জ্ঞান বাড়ে। তাই সাফল্য শিখুন এবং শেখান। কল্যাণ ছড়িয়ে দিন। এই বইটিই নাহয় দিন কাউকে। উত্তম পরামর্শ চান, উত্তম পরামর্শ দিন। আর দেখুন কীভাবে উন্নতি করে মানুষ। মনে রাখবেন, রবের ভাণ্ডার অসীম!

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 ভাঙবেন না, গড়ে তুলুন

📄 ভাঙবেন না, গড়ে তুলুন


সমালোচনা বাদ দিয়ে নতুন জ্ঞান যুক্ত করুন। দেখুন, সাফল্য নিয়ে শত-সহস্র বছর ধরে গবেষণা হয়েছে। ইতোমধ্যেই মজুদ আছে তথ্যের এক বিরাট ভাণ্ডার। প্রাচ্যে অনেক আগেই হয়েছে এ সংক্রান্ত কাজ। আবু ইবনু জাফার আদ-দাউদি আজ থেকে এক হাজার বছর আগে লিখেছেন কিতাবুল আমওয়াল (সম্পদ সংক্রান্ত বই)।

পাশ্চাত্য সেটাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে আরও সামনে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে আমেরিকান লেখক নেপোলিয়ন হিল লিখেছেন তার বিখ্যাত বই থিংক অ্যান্ড গ্রো রিচ। সাফল্য, সম্পদ আর উন্নতির আলোচনায় এ বইগুলো একটার থেকে একটা অসাধারণ।

আত্মোন্নয়ন ধাঁচের বই লেখার যে ধারা নেপোলিয়ন হিল চালু করে দিয়ে গেছেন, আজ পর্যন্ত তা তুমুল জনপ্রিয়। তারপরও আমার জানামতে, সম্পদ ও সাফল্যের ব্যাপারে মুসলিম দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নিকট সময়ে তেমন কোনো কাজ হয়নি।

কিন্তু তাই বলে অমুসলিম লেখকদের দিয়ে যাওয়া তথ্যভাণ্ডার কি ১০০% ভুল? না! একদমই না। আমার মতে, এগুলোর বেশিরভাগই সঠিক। তবুও পরের ধাপে কেন যাব না? যা ইতোমধ্যে আছে, সেটাকে ধ্বংস বা সমালোচনা না করে আমরা এর সাথে নতুন জ্ঞান যুক্ত করছি কেবল। এ বইয়ের উদ্দেশ্য শুধু নিজেদের ফায়দা হাসিল করা নয়। এর উদ্দেশ্য সব জায়গার, সকল মানুষের কল্যাণ। কারণ মুসলিম হওয়ার অর্থই এটি।

সম্পদের ব্যাপারে ইসলাম কী বলে, তা জানতে হলে অবশ্যই সফল মুসলিম উদ্যোক্তাদের অধীনে জ্ঞানার্জন করতে হবে। এর মানে হলো সাফল্যের দর্শনকে আরও এক ধাপ ওপরে নিয়ে যাওয়া। গ্রন্থগত বিদ্যে পরিহার করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি আমি এই বইয়ে। চেয়েছি বর্তমান যুগে বাস্তব জীবনে কার্যকর পদ্ধতিগুলো তুলে আনতে। তুলে আনতে। যেগুলো আসলেই সাফল্য এনে দিচ্ছে এত এত অসাধারণ মুসলিম উদ্যোক্তা ও নেতাকে। এসব জ্ঞান শুধু ব্যবসা নয়, অন্যান্য পরিসরেও প্রয়োগ করা সম্ভব।

এই পরিচ্ছেদের শেষে মনে করিয়ে দিই যে, সমালোচনার মাঝে নীচু মানসিকতা নিহিত। যেমন- অন্যদের লেখা হাজার হাজার বইয়ের ঢালাও সমালোচনা করা মোটেও কাজের কথা নয়। অন্যদের থেকে শিখতে তো ক্ষতি নেই। কিন্তু মুসলিম উদ্যোক্তার দায়িত্ব হলো প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও অপ্রয়োজনীয় তথ্যের মাঝে পার্থক্য করতে শেখা। উঁচু মানসিকতাবিশিষ্ট মানুষেরা প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজে নিয়ে সেটাকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করে।

জনাব শাহযাদ সিদ্দিকির সাথে যখন প্রথমবার দেখা হয়, তার বয়স তখন ত্রিশের ঘরে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি লিংকনের জীবনী অধ্যয়ন করছিলেন এই সফল আইনজীবী। একাধিক ব্যবসায় মার খাওয়া ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রপতি হয়ে ওঠার পথে লিংকন কী কী মূলনীতি প্রয়োগ করেছেন, তা খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে বইটি পড়েন তিনি। শাহযাদ নিজেও ইসলামী অর্থনীতির ওপর তিনটি বইয়ের রচয়িতা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00