📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 মুসলিমগণ, ধনী হোন

📄 মুসলিমগণ, ধনী হোন


প্রতিটি মানুষের ওপরই রয়েছে স্রষ্টাপ্রদত্ত একটি দায়িত্ব। গোটা মানবজাতির মাঝে মুসলিমদের আবার আছে বিশেষ স্থান। কারণ সে পৃথিবীতে জাগতিক ও আধ্যাত্মিক উভয় ধরনের প্রয়োজন মেটাতে অনুসরণ করে ঐশী মূলনীতি।

মুসলিমরা শুধুই আত্মার জন্য বা শুধুই দেহের জন্য বাঁচে না। বরং উভয়ের মাঝে সমন্বয় করে। যেমন: বিয়ে করার মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার নৈকট্য অর্জন করা যায়। অথচ এটি দৈহিক চাহিদা মেটানোর একটি মাধ্যম। এটিই ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যমপন্থা। ভারসাম্যের দ্বীন হিসেবে ইসলাম চায় আপনি জাগতিক জিনিসের অধিকারী হোন, কিন্তু তা হবেন আল্লাহর স্তুতি করার উদ্দেশ্যে।

তাই সম্পদের প্রয়োজন রয়েছে। তারপরও মানুষ প্রশ্ন করে, 'জাগতিক সম্পদের জন্য এত চেষ্টা কেন করব?'

আমার উত্তর সহজ: ভালো খাবার খাওয়া, স্বাস্থ্যকর পানি পান করা, সুন্দর একটি স্থানে বসবাস করা এবং বই ও ভ্রমণের মাধ্যমে নিজের আত্মার পরিচর্যা করার জন্য। টাকা থাকলেই কেবল এসব সম্ভব।

ধনী হওয়ার আরেকটি কারণ হলো দান করার সামর্থ্য অর্জন। কুরআনে কতবার সদকার কথা এসেছে, দেখুন। যদি নিজেরই না থাকে, তাহলে অন্যকে দেবেন কীভাবে? নেককার হওয়ার পাশাপাশি ধনী ও শক্তিশালী সাহাবিদের অনন্য মর্যাদা নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরিষ্কার করে দিয়েছেন একটি বিখ্যাত ঘটনায়।

মক্কায় চরম নির্যাতনের শিকার মুসলিমদের জন্য প্রবাসনকেন্দ্র ছিল মদীনা। ঈমান রক্ষার জন্য নিজেদের সহায়-সম্পত্তি ত্যাগ করে এসেছেন তারা। আসহাবুস সুফফা হিসেবে পরিচিত কিছু অতিদরিদ্র সাহাবি মাসজিদেই থাকতেন ও ঘুমোতেন। আবার অপর কিছু সাহাবি ছিলেন খুবই ধনী ও অতিশয় দানশীল। আসহাবে সুফফা কিন্তু সেটা পারেননি।

দরিদ্র সাহাবিগণ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) এসে নবিজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে এ অবস্থা নিয়ে অনুযোগ করলেন, 'বড়লোকরা আমাদের মতোই সালাত আদায় করে, জিহাদে যায়। কিন্তু আরেকটি সুবিধা পায় তারা, যা আমাদের নেই। তারা দান করে।'

দান করতে চেয়েও সামর্থ্যের অভাবে পারেননি, এমন মুহূর্ত নিজের জীবনেও খুঁজে পাবেন।

ঘটনায় ফেরত যাই। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুফফার অধিবাসীদের কিছু যিকর শিখিয়ে দিলেন, যেন সাওয়াবে ধনীদের সমান হতে পারেন তারা। কিন্তু ধনী সাহাবিরাও (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) একসময় জেনে গেলেন সেসব যিকরের খবর। তারাও করতে শুরু করলেন সেগুলো। সুফফাবাসীগণ এসে ফের অনুযোগ করলেন। এবার নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন যে, এটি আসলে আল্লাহর অনুগ্রহ। তিনি কিছু মানুষকে অন্যদের চেয়ে বেশি দান করেন।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 এই খেলার নিয়ম

📄 এই খেলার নিয়ম


সাফল্য বড় ছলনাময় জিনিস। হয়তো কিছু একটা পাওয়ার জন্য কঠোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রতিবার একটুর জন্য ফসকে যায়। লক্ষ্য আপনার সুস্থির। কিন্তু কিছুতেই যেন ধরা দিচ্ছে না।

কেন জানেন?

এর কারণ প্রস্তুতি। আপনার কাঙ্ক্ষিত কল্যাণ যেকোনো সময় চলে আসতে পারে। কিন্তু আপনি হয়তো সেটা গ্রহণের জন্য তৈরি নন। সাফল্য আসবে, কিন্তু সঠিক সময়ে। আগেও না, পরেও না; যথাসময়ে।

সঠিক সময়ের আগেই ধনী হয়ে বসে থাকলে প্রবল সম্ভাবনা আছে যে, এই সম্পদ খুব শীঘ্রই হারিয়ে ফেলবেন। শত চেষ্টা সত্ত্বেও পুনরুদ্ধার করা যাবে না তা আর।

এমনটা প্রায়ই ঘটে। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ লটারি বিজয়ীরা। জুয়া খেলে কামানো লাখ লাখ টাকা খুইয়ে বসতে পাঁচ বছরও লাগে না এদের। দুর্নীতির মাধ্যমে আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি দেখা যায়।

তাই সাফল্য ও সম্পদ অর্জনের পথে ব্যর্থতার সম্মুখীন হলে হতাশ হবেন না। বুঝে নেবেন যে, আপনি এখনও তৈরি নন সেটার জন্য। আত্মোন্নয়ন করতে থাকুন। সাফল্য যখন আসবে, তখন যেন তার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারেন।

নিজের সেরাটা বাস্তবায়নের দ্বিতীয় প্রভাবক হলো সঠিক জায়গায় নিজেকে স্থাপিত করা।

এভাবে চিন্তা করুন: সফল উদ্যোক্তা হয়ে আর্থিক সাফল্য অর্জন করতে হলে কী করতে হবে? ব্যবসা শুরু করতে হবে। একদম জানা কথা। কিন্তু সম্ভাবনাময় অনেক উদ্যোক্তা ভুলটা করে এখানেই। এই শুরু করাটাই আর হয়ে ওঠে না তাদের।

মানুষকে সাফল্যবঞ্চিত করা সর্বশেষ প্রভাবক হলো জ্ঞানের অভাব। কী করছেন, কোথায় যাচ্ছেন—এটাই যদি না জানেন, তাহলে লক্ষ্যে পৌঁছানো দুষ্কর। অনেকে তো কী যে জানে না, তা-ই জানে না। জানলে ঠিকই দ্রুত উদ্দেশ্য হাসিল হতো।

তাই বুদ্ধিমানের কাজ হলো অভিজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ। এই বইয়েই সেরকম কিছু মানুষের দেখা পাবেন। জানবেন যে, এই বিরাট সাফল্য অর্জন করতে ঠিক কী করেছেন তারা।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 অর্থনৈতিক জ্বালানি

📄 অর্থনৈতিক জ্বালানি


যাকাত প্রদান ফরয। এটি ইসলামের পাঁচটি রুকনের একটি। আর প্রথম রুকন ঈমানের সাক্ষ্য। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যাপারে সঠিক বিশ্বাস পোষণ। এই সঠিক আকিদাই আপনাকে এনে দেবে সত্যিকারের সত্যিকারের স্থায়ী সাফল্য। কারণ আপনি এখন সত্যিকারের আর-রাযযাক (রিযকদাতা) আল-খালিকের (সবকিছুর স্রষ্টা) প্রতি নির্ভর করছেন। আপনার এখন ইয়াকীন আছে যে, আপনার রিযক আপনার কাছে আসবেই। পাশাপাশি জীবনে অনুসরণ করবেন নবিজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দৃষ্টান্ত।

দ্বিতীয় রুকন সালাত। এ হলো স্রষ্টা ও রিযকদাতা আল্লাহর সাথে এক আত্মিক যোগাযোগ। দিনে পাঁচবার করা হয় তা। উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার যা কিছু দরকার, তাও আল্লাহই আপনাকে দেবেন।

তারপর আসে যাকাত। নিজের যে অতিরিক্ত সম্পদ আপনি কোনো উৎপাদনশীল কাজে ব্যয় করছেন না, তা অভাবী-দরিদ্রদের দিয়ে দেওয়ার নামই যাকাত। যেমন : কারও যদি এমনি এমনি পড়ে থাকা কোনো সঞ্চয় থাকে, তাহলে সেখান থেকে ২.৫% দিয়ে দিতে হবে এর সত্যিকার প্রয়োজনধারীদের। ফকির, মিসকীন, অভাবী মুসাফির-সহ আরও বেশ কিছু খাত রয়েছে এর। যাকাত নিয়ে ফিকহশাস্ত্রে রয়েছে ব্যাপক পরিমাণ আলোচনা। সালাতের পরই এই মহান ইবাদাতের মর্যাদা। কুরআনে এর উল্লেখও রয়েছে সালাতের প্রায় সমান সংখ্যকবার।

কিন্তু এটাও বুঝতে হবে যে, অতিরিক্ত সম্পদ না থাকলে যাকাতের প্রশ্নও আসবে না। আপনার সব টাকাই যদি মৌলিক চাহিদা ও বিল পরিশোধে কাজে লাগে, তাহলে এই টাকার ওপর কোনো যাকাত প্রযোজ্য নয়।

সম্পদের অধিকারী হতে উৎসাহিত করা হয়েছে, যেন আপনার অতিরিক্ত সম্পদ থেকে গরীব-দুঃখীদের প্রয়োজন মেটে। তাই যাকাত নির্ভর করে অতিরিক্ত সম্পদ, উৎপাদন ও উপকরণের ওপর।

পার্থিব ও অর্থনৈতিক সাফল্য তাই এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, এটি আপনাকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাতটি করার যোগ্য করে তুলবে। চাকরিজীবীর চেয়ে ব্যবসায়ীর পক্ষে এই সুযোগ লাভ করা সহজতর। এ এক বিস্ময়কর বাস্তবতা। যাকাতের বিধান আছে মানেই আপনাকে ধনী হতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 ১০-৩৩% সূত্র

📄 ১০-৩৩% সূত্র


উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের সাফল্যের সম্ভাবনা তুমুলভাবে বাড়িয়ে তোলার কিছু সূত্র আছে।

এরকম সোজাসাপটা একটি সূত্র: 'বেশি দিন, বেশি পান।'

যদি আপনার পিতামাতা এখনও জীবিত থাকে, তাহলে আপনার সামনে স্বর্ণালি সুযোগের হাতছানি! তাদেরকে খুশি রাখুন। দেখবেন এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আপনার সাফল্যের ওপর। নিজের উপার্জনের একটি অংশ পিতামাতার জন্য একেবারে নির্ধারিত করে ফেলুন। আর যদি তারা বেঁচে না থাকেন, তবুও বিভিন্ন আমল করুন তাদের পক্ষ থেকে। যেমন: বদলি হাজ্জ।

এ ছাড়া নিজের সাফল্য সুনিশ্চিত করার আরেকটি দারুণ উপায় সদকা। এনটিজি ক্ল্যারিটি নেটওয়ার্ক ইনক. এর প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আশরাফের মতে, উপার্জনের ১০% দান করতে থাকলে আর কখনোই ব্যবসায় মন্দা দেখা দেখা দেবে না। কেমন লাগল? আর বিপদ-আপদের সময় এ কথা আরও বেশি প্রযোজ্য।

বলতে পারেন, 'কিন্তু উমার ভাই, আমি তো এখনও ব্যবসা শুরুই করিনি। মন্দা না হওয়াটাই যথেষ্ট নয়। আমার দরকার দ্রুত মুনাফা, প্রচুর মুনাফা।'

এর সমাধানও দানশীলতা। বর্তমান উপার্জনের ৩৩% সদকায় খরচ করুন। চিরতরে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে যাবে অর্থযোগ।

আবার কিছু জিনিস পরিহারও করতে হবে।

ভালো কাজ করতে থাকলে স্বভাবতই খারাপ কাজ পরিত্যক্ত হয়ে যায়। তবে মনের ভুলে হারাম জিনিসেও পতিত হতে পারে উদ্যোক্তা।

এমন কিছু জিনিস উল্লেখ করছি, যেগুলো পরিহার করা সফল মুসলিম উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

তালিকায় সবার আগে আছে রিবা, যার সর্বাধিক প্রচলিত রূপের নাম সুদ। 'সম্পদ গড়ার কৌশল' অধ্যায়ে আমরা দেখব কীভাবে মুসলিম উদ্যোক্তাগণ সুদের শরণাপন্ন না হয়েই বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করতে পারেন।

দ্বিতীয় পরিহার্য বিষয় বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক। এগুলো সমাজে ব্যাধি, অবিশ্বাস ও দারিদ্র্য ছড়ানোর পেছনে দায়ী। 'ঐক্যের শক্তি' অধ্যায়ে এর সমাধান আলোচিত হবে। সঠিক মানুষটির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া সাফল্যের পথে এক বড় নিয়ামক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00