📄 যাকাতে সম্পদ বাড়ে
যাকাত আসে অব্যবহৃত সম্পদের ওপর। যেমন: ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অলস পড়ে থাকা টাকা। সেখানকার ২.৫% যাকাত হিসেবে দিয়ে দিতে হবে। এর প্রাপক হতে পারে দরিদ্র বা ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি।
অব্যবহৃত সম্পদ বিলি করে দেওয়া ইসলামের আদেশ। এটি কুক্ষিগত করে রাখা চলবে না।
ধরুন আপনি একজন সফল মুসলিম উদ্যোক্তা। নিজের সম্পদ ব্যবহার করে কোনো কোম্পানি দাঁড় করানোর বা অপর উদ্যোক্তাকে ধার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন আপনি। এভাবে আপনি টাকাকে কাজে লাগাচ্ছেন। অলসভাবে ফেলে রাখছেন না। তাই এই টাকার ওপর যাকাতও আসবে না। দারুণ না? অর্থাৎ, মুক্তবাজারে ইসলামী মূলনীতি মেনেই কাজ করে একেকটি উদ্যোগ।
এবার মনে করুন, আপনি ১ লাখ টাকা ব্যাংকে রাখলেন। অথবা বিছানার চাদরের তলায়! এই সঞ্চয়ের ওপর যাকাত দিতে দিতে ২৫ বছরে প্রায় ৪৬০০০ টাকা খরচ হয়ে যাবে। মানে গোটা সঞ্চয়ের অর্ধেকই উধাও!
এটা কি কোনোভাবে এড়ানো সম্ভব? অবশ্যই। টাকাকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে। সে টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করুন। অথবা অন্য কারও ব্যবসায় বিনিয়োগ করুন সেটা।
এই ইসলামী মূলনীতি যারা অনুসরণ করে না, তারা উদ্যোগের ময়দানে পিছিয়ে পড়বে। বিদ্যমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সম্পদ কুক্ষিগত রাখতে উৎসাহিত করে। অর্থের প্রবাহ স্তবির করে রাখলে পুরস্কৃত করা হয় টাকার মালিককে। এটাই সুদ।
ইসলাম এভাবে টাকা থেকে টাকা জন্ম দেওয়ানো সমর্থন করে না; বরং পুরস্কৃত করে হিসেবি ঝুঁকিগ্রহণকে।
মুসলিম হিসেবে এটি আপনার জন্য সুসংবাদ। নিজের টাকা আর সমাজের উন্নয়ন বাড়ানোর মাধ্যমে আপনি আল্লাহর কথাই মান্য করছেন। দেখলেন তো, ধর্ম কীভাবে ধনী হওয়ার আদেশ দিচ্ছে আপনাকে?