📄 সম্পদের মাধ্যমে ইবাদাত
এখন বুঝলাম যে, সাফল্যের জন্য দুআ বিরাট হাতিয়ার। কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা করলে এই কথা প্রযোজ্য। এবার কাজে নেমে পড়া যাক।
পরিশ্রম উন্নতির চাবিকাঠি, তা তো চোখে দেখা বাস্তবতা। কর্ম ইবাদাত। কর্ম করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। ফসল পেতে হলে বীজ বপন করাই লাগবে।
কুরআনে বারবার বলা হয়েছে এই স্বাভাবিক নিয়মটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে। চাষিকে দেখুন। সে আগে বীজ রোপণ করে। তারপর ফসল ফলার জন্য অপেক্ষা করে বৃষ্টির।
আপনার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আগে কাজ করুন। তারপর অপেক্ষা করুন আল্লাহর কাছ থেকে ফলাফল পেতে।
ফসল আশা করতে হলে বীজ লাগবেই। মুসলিম উদ্যোক্তা হিসেবে আপনিও এই রোপণের কাজটুকু করবেন। তারপর আশা করবেন ফসলের। সহজ হিসেব! বৃষ্টি নামানো বা বীজ ফেড়ে চারা বের করে আনা আপনার কাজ নয়। সেগুলো আল্লাহর কাছে ছেড়ে দিন।
ফলাফলের কথা স্রেফ ভুলে গিয়ে ভালো ভালো বীজ বপন করতে থাকুন।
📄 কন্ট্রোল সুইচ
মুসলিম উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি বিশ্বাস করেন যে, 'সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার ব্যবসার কাটতি বাড়বে। ক্রেতা আমি পেয়েই যাব।' বিশ্বাস না করে উপায় নেই আপনার।
ভবিষ্যতে যা যা হবে, সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে লিখে ফেলার জন্য আল্লাহ কলম সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ সময়ের সীমায় আবদ্ধ নন।
আল্লাহ জানেন ভবিষ্যতে কী হবে। সিদ্ধান্ত নেব আমরাই। কিন্তু শেষমেশ যা হবে, ভালোই হবে—এই আস্থাই তাকদীরের নির্যাস। নিজের সেরাটুকু দিয়ে চেষ্টা করে যাওয়াই যথেষ্ট।
আর্ট উইলিয়ামস বলেছেন, 'যা করতে পারি, তা-ই করতে পারি। আর যা করতে পারি, তা-ই যথেষ্ট।'
সর্বাত্মক চেষ্টা করুন। বাকি সবকিছুর ব্যবস্থা হয়ে যাবে। পুঁজিবাজার ও ব্যবসা-বাণিজ্যে এই ভরসাতেই এত ঝুঁকি নিতে পারে মানুষ।
📄 দোজাহানের বিজয়
জীবন স্রেফ ছুটে চলা কিছু মুহূর্তের সমষ্টি। বেশিরভাগ মানুষ একশ বছরও বাঁচবে না। তাই চিরস্থায়ী পরকাল অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাই বলে কি ইহকাল একেবারেই ফেলনা?
না। এটি পরীক্ষাক্ষেত্র। কে সবচেয়ে উত্তম কাজ করে, তা দেখা যাবে এখানে। তাই উদ্যোক্তার মানে হওয়া চাই মানবজীবনের উন্নয়ন ও সমস্যার সমাধান।
আর এর সাওয়াবও হবে বিশাল। প্রতিটা মানুষই যে একেকজন সম্ভাব্য উদ্যোক্তা, তা নিয়ে পরে আলোচনা করব।
আপাতত এতটুকু বোঝা গেল যে, সমাজের প্রতি আপনার সেবার মাপকাঠি সম্পদ। মানুষের জীবনকে যত দাম দেবেন, তত বেশি বাড়বে আপনার পুরস্কার।
ইসলামে সালাত-সিয়ামের মতো ইবাদাতগুলো ধনী-গরিব সবার জন্য অনুরূপ। তাই উদ্যোক্তার সুযোগ রয়েছে সম্পদের সদ্ব্যবহার করে আখিরাতের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার।
যাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি, তারা আমার দেখা সবচেয়ে দানশীল কিছু ব্যক্তি। সময়, অর্থ ও জ্ঞান-সবগুলোর ক্ষেত্রেই দানশীল তারা। তাই আমাদের সাথে ভাগাভাগি করেছেন নিজেদের সাফল্যের রহস্যও।
📄 যাকাতে সম্পদ বাড়ে
যাকাত আসে অব্যবহৃত সম্পদের ওপর। যেমন: ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অলস পড়ে থাকা টাকা। সেখানকার ২.৫% যাকাত হিসেবে দিয়ে দিতে হবে। এর প্রাপক হতে পারে দরিদ্র বা ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি।
অব্যবহৃত সম্পদ বিলি করে দেওয়া ইসলামের আদেশ। এটি কুক্ষিগত করে রাখা চলবে না।
ধরুন আপনি একজন সফল মুসলিম উদ্যোক্তা। নিজের সম্পদ ব্যবহার করে কোনো কোম্পানি দাঁড় করানোর বা অপর উদ্যোক্তাকে ধার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন আপনি। এভাবে আপনি টাকাকে কাজে লাগাচ্ছেন। অলসভাবে ফেলে রাখছেন না। তাই এই টাকার ওপর যাকাতও আসবে না। দারুণ না? অর্থাৎ, মুক্তবাজারে ইসলামী মূলনীতি মেনেই কাজ করে একেকটি উদ্যোগ।
এবার মনে করুন, আপনি ১ লাখ টাকা ব্যাংকে রাখলেন। অথবা বিছানার চাদরের তলায়! এই সঞ্চয়ের ওপর যাকাত দিতে দিতে ২৫ বছরে প্রায় ৪৬০০০ টাকা খরচ হয়ে যাবে। মানে গোটা সঞ্চয়ের অর্ধেকই উধাও!
এটা কি কোনোভাবে এড়ানো সম্ভব? অবশ্যই। টাকাকে কাজে লাগানোর মাধ্যমে। সে টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করুন। অথবা অন্য কারও ব্যবসায় বিনিয়োগ করুন সেটা।
এই ইসলামী মূলনীতি যারা অনুসরণ করে না, তারা উদ্যোগের ময়দানে পিছিয়ে পড়বে। বিদ্যমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সম্পদ কুক্ষিগত রাখতে উৎসাহিত করে। অর্থের প্রবাহ স্তবির করে রাখলে পুরস্কৃত করা হয় টাকার মালিককে। এটাই সুদ।
ইসলাম এভাবে টাকা থেকে টাকা জন্ম দেওয়ানো সমর্থন করে না; বরং পুরস্কৃত করে হিসেবি ঝুঁকিগ্রহণকে।
মুসলিম হিসেবে এটি আপনার জন্য সুসংবাদ। নিজের টাকা আর সমাজের উন্নয়ন বাড়ানোর মাধ্যমে আপনি আল্লাহর কথাই মান্য করছেন। দেখলেন তো, ধর্ম কীভাবে ধনী হওয়ার আদেশ দিচ্ছে আপনাকে?