📄 সেরা অস্ত্র
দুআয় ফল মেলে। এবং যথেষ্ট দ্রুত!
সাহাবিগণ প্রত্যেকটা জিনিস আল্লাহর কাছে চাইতেন। জুতার ফিতা থেকে শুরু করে জিহাদের বিজয় পর্যন্ত সবকিছু।
আল্লাহ বলেন, 'আমার বান্দারা আপনাকে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে। নিশ্চই আমি নিকটে। দুআকারী যখন দুআ করে, তার দুআ আমি শুনি।' [৩]
তাই দুআ আপনার শ্রেষ্ঠ অস্ত্র। দেখবেন যে, দুআ করলে নিজের ওপর থেকে চাপ কমে যায়। সাফল্য অনুসন্ধানের পথে বাধা তো আসবেই। কী করবেন তখন?
কুরআন আপনাকে-আমাকে আদেশ করেছে সর্বাত্মক চেষ্টা করার। তারপরও যদি মনে করেন যে, সাফল্য ১০০% আপনার একার ওপরই নির্ভরশীল, তাহলে যেকোনো অসফলতাকে বোঝা মনে হবে।
ধরুন একজন কর্মচারী বরখাস্ত হয়েছে। এবার সে দুই রকম মানসিকতা অবলম্বন করতে পারে।
১. 'সব অমুকের দোষ!' এমনটা ভাবলে সব সময় দোষ চাপানোর জন্য কোনো না কোনো নন্দ ঘোষকে পেয়ে যাবে সে। হয় তার বস, নাহয় কোম্পানি, নাহয় স্ত্রী, আর নয়তো সে নিজে।
২. 'আমার নিজেরও চেষ্টা করে যেতে হবে। কিন্তু ফলাফল আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে।' এই মানসিকতাই মুসলিমকে সর্বাত্মক চেষ্টায় লেগে থাকতে সাহায্য করে। যেন অলৌকিকভাবে চাপ কমে যায়!
টিকাঃ
[৩] সূরা আল-বাকারাহ ২:১৮৬
📄 সম্পদের মাধ্যমে ইবাদাত
এখন বুঝলাম যে, সাফল্যের জন্য দুআ বিরাট হাতিয়ার। কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা করলে এই কথা প্রযোজ্য। এবার কাজে নেমে পড়া যাক।
পরিশ্রম উন্নতির চাবিকাঠি, তা তো চোখে দেখা বাস্তবতা। কর্ম ইবাদাত। কর্ম করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। ফসল পেতে হলে বীজ বপন করাই লাগবে।
কুরআনে বারবার বলা হয়েছে এই স্বাভাবিক নিয়মটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে। চাষিকে দেখুন। সে আগে বীজ রোপণ করে। তারপর ফসল ফলার জন্য অপেক্ষা করে বৃষ্টির।
আপনার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আগে কাজ করুন। তারপর অপেক্ষা করুন আল্লাহর কাছ থেকে ফলাফল পেতে।
ফসল আশা করতে হলে বীজ লাগবেই। মুসলিম উদ্যোক্তা হিসেবে আপনিও এই রোপণের কাজটুকু করবেন। তারপর আশা করবেন ফসলের। সহজ হিসেব! বৃষ্টি নামানো বা বীজ ফেড়ে চারা বের করে আনা আপনার কাজ নয়। সেগুলো আল্লাহর কাছে ছেড়ে দিন।
ফলাফলের কথা স্রেফ ভুলে গিয়ে ভালো ভালো বীজ বপন করতে থাকুন।
📄 কন্ট্রোল সুইচ
মুসলিম উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি বিশ্বাস করেন যে, 'সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার ব্যবসার কাটতি বাড়বে। ক্রেতা আমি পেয়েই যাব।' বিশ্বাস না করে উপায় নেই আপনার।
ভবিষ্যতে যা যা হবে, সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে লিখে ফেলার জন্য আল্লাহ কলম সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ সময়ের সীমায় আবদ্ধ নন।
আল্লাহ জানেন ভবিষ্যতে কী হবে। সিদ্ধান্ত নেব আমরাই। কিন্তু শেষমেশ যা হবে, ভালোই হবে—এই আস্থাই তাকদীরের নির্যাস। নিজের সেরাটুকু দিয়ে চেষ্টা করে যাওয়াই যথেষ্ট।
আর্ট উইলিয়ামস বলেছেন, 'যা করতে পারি, তা-ই করতে পারি। আর যা করতে পারি, তা-ই যথেষ্ট।'
সর্বাত্মক চেষ্টা করুন। বাকি সবকিছুর ব্যবস্থা হয়ে যাবে। পুঁজিবাজার ও ব্যবসা-বাণিজ্যে এই ভরসাতেই এত ঝুঁকি নিতে পারে মানুষ।
📄 দোজাহানের বিজয়
জীবন স্রেফ ছুটে চলা কিছু মুহূর্তের সমষ্টি। বেশিরভাগ মানুষ একশ বছরও বাঁচবে না। তাই চিরস্থায়ী পরকাল অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাই বলে কি ইহকাল একেবারেই ফেলনা?
না। এটি পরীক্ষাক্ষেত্র। কে সবচেয়ে উত্তম কাজ করে, তা দেখা যাবে এখানে। তাই উদ্যোক্তার মানে হওয়া চাই মানবজীবনের উন্নয়ন ও সমস্যার সমাধান।
আর এর সাওয়াবও হবে বিশাল। প্রতিটা মানুষই যে একেকজন সম্ভাব্য উদ্যোক্তা, তা নিয়ে পরে আলোচনা করব।
আপাতত এতটুকু বোঝা গেল যে, সমাজের প্রতি আপনার সেবার মাপকাঠি সম্পদ। মানুষের জীবনকে যত দাম দেবেন, তত বেশি বাড়বে আপনার পুরস্কার।
ইসলামে সালাত-সিয়ামের মতো ইবাদাতগুলো ধনী-গরিব সবার জন্য অনুরূপ। তাই উদ্যোক্তার সুযোগ রয়েছে সম্পদের সদ্ব্যবহার করে আখিরাতের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার।
যাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি, তারা আমার দেখা সবচেয়ে দানশীল কিছু ব্যক্তি। সময়, অর্থ ও জ্ঞান-সবগুলোর ক্ষেত্রেই দানশীল তারা। তাই আমাদের সাথে ভাগাভাগি করেছেন নিজেদের সাফল্যের রহস্যও।