📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 বিশেষ সম্পর্ক

📄 বিশেষ সম্পর্ক


মুসলিম উদ্যোক্তার প্রথম পরিচয় সে আল্লাহর দাস। আধ্যাত্মিক মর্যাদার সর্বোচ্চ স্তর এই দাসত্ব। এমনকি রাসূলগণের ক্ষেত্রেও। কেন?

উদ্যোক্তা হিসেবে আল্লাহর বান্দা হওয়া মানে প্রাকৃতিক নিয়মের অনুসরণ। আল্লাহ এ জগতে যে নিয়ম সৃষ্টি করে দিয়েছেন, তা-ই প্রাকৃতিক নিয়ম। অর্থাৎ, আল্লাহ দেন, আমরা নিই। পাখি যেভাবে রিযকের জন্য আল্লাহর প্রতি ভরসা করে, আপনিও তা-ই করবেন।

পাখিরা সকালে ক্ষুধার্ত অবস্থায় জেগে ওঠে। আর সন্ধ্যায় নীড়ে ফেরে ভরাপেটে। অথচ কী দুর্ভাগ্য! আমরা অনেকেই এখন মনে করি যে, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজন পূরণের জন্য আমরা সরকার বা অন্য কোনো মাখলুকের ওপর নির্ভরশীল। এই ভুল ধারণা আমাদের মাঝে তৈরি করে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা। এটি প্রাকৃতিক নিয়ম নয়।

নগণ্য পরিমাণ সম্পদের অধিকারী কিছু মানুষ কী শান্তিতে জীবন কাটায়! এই ব্যাপারটি সব সময় বিস্মিত করে এসেছে আমাকে। এর চেয়েও বেশি বিস্মিত হয়েছি কী দেখে, জানেন? বিরাট বড় ধনকুবের, কিন্তু সে সম্পদ হারিয়ে ফেলার পরও একটুও চিন্তিত নন। যেমন: REDCO এর সিইও জনাব মুজীবুর রহমান। মিথ্যে অভিযোগে একবার জেল খাটতে হয়েছিল তাকে। সেসময় তিনি হারিয়ে বসেন কোটি ডলারের নির্মাণকাজের ব্যবসা। কিন্তু তিনি তা নিয়ে উদ্ভ্রান্ত হয়ে যাননি। এজন্যই শূন্য থেকে শুরু করে আবারও গড়ে তুলতে পেরেছেন হারানো সম্পদ।

ড. ইয়াকুব মির্জাকে এরকমই আরেকজন মহান উদ্যোক্তা বলে মনে করি আমি। তিনি আমানাহ মিউচুয়াল ফান্ডস ইন নর্থ আমেরিকার পরিচালক। প্রথম যেদিন তার সাথে দেখা করি, সেদিন তার প্রশান্ত চেহারা আর কণ্ঠ আমাকে অবাক করে দেয়। তিন বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব তার ঘাড়ে। এই দায়িত্বের বোঝা বয়েও এরকম প্রশান্তি ধরে রেখেছেন তিনি।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 আপনার পক্ষের লিখন কে পারে খণ্ডাতে?

📄 আপনার পক্ষের লিখন কে পারে খণ্ডাতে?


অনেকে ভাবে তাকদীর মানে স্রেফ কপালের লিখন। এটি ভুল ধারণা। তাকদীরকে যে ঠিকমতো বুঝেছে, সে জানে উদ্যোগ আর তাকদীর পরস্পর অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আমাদের স্রষ্টা সবকিছুর নিয়ন্ত্রক। আর তিনি আমাদের দিয়েছেন সাফল্য অর্জনের যথেষ্ট সামর্থ্য। এই বিশ্বাস স্বাভাবিকভাবেই আপনার মাঝে গড়ে তুলবে একটি শান্ত-সুস্থির মানসিকতা।

এমন কোনো বাচ্চা দেখেছেন, যে সারাক্ষণ হতাশ ও গোমড়ামুখো হয়ে বসে থাকে? বাচ্চা মানেই সুবিশাল স্বপ্নের অধিকারী একটা মানুষ; যেকোনো বাচ্চা। কারণ, মানুষ জন্মই নেয় ভালো কাজ করা ও আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখার একটি স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য (ফিতরাত) নিয়ে। যত রকমের ভয় আছে, সেগুলো আমাদের মনে বাসা বাঁধে বড় হওয়ার পর। আমি নিজে এই অভিজ্ঞতার সাক্ষী। আমি এমনিতে হাসিখুশি মানুষ। কিন্তু গোমড়া, নেতিবাচক চিন্তার অধিকারী নৈরাশ্যবাদীদের সাথে কিছুক্ষণ থাকলে আমার মাঝেও কী যেন একটা হয়ে যায়!

আগামীকাল কী খাব, এটা নিয়ে একটা বাচ্চা মোটেও দুশ্চিন্তা করে না। সে শুধু বর্তমানকে প্রাণভরে উপভোগ করে।

আমরা বড়রাও এমনটি করতে সক্ষম। বিশ্বাস করে নিন যে, ব্যবসার মাধ্যমে আপনার রিযকের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। দেখবেন সব ঠিক হয়ে গেছে।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 পড়ো!

📄 পড়ো!


মুসলিমদের প্রতি প্রথম ঐশী আদেশ পড়া ও জ্ঞানার্জন করার। আল্লাহ বলেন, 'পড়ো তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন' [২]।

সাফল্যকামীর জন্য জ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই। ইসলাম সত্যিকার অর্থেই জ্ঞানার্জনের ধর্ম। একটি উদাহরণ দেখুন। একটা সময় মুসলিমরা উত্তরাধিকারের সম্পদ বণ্টন নিয়ে সমস্যায় পড়ে। বিশেষত মৃতের পরিবার যদি হয় বড়। কুরআনে প্রত্যেকের প্রাপ্য অংশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিতে অসংখ্য বৈচিত্র্য। এই সমস্যা সমাধানে কিছু মুসলিম উদ্ভাবিত করেন এমন এক শাস্ত্র, যাকে আজ আমরা বীজগাণিতিক সূত্র নামে চিনি।

কাজেই, লক্ষ্য বা লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথই যদি না জানেন, তাহলে সেখানে পৌঁছাবেন কী করে?

সঠিক তথ্য জেনে সঠিক পথে চিন্তা করলে ব্যবসায় সাফল্য আসবেই। এই বই পড়ার মাধ্যমে আপনি শিখতে পারছেন সফল মুসলিম উদ্যোক্তাদের গৃহীত মূলনীতি ও প্রযুক্ত কর্মনীতি। এই নীতিমালা নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে পারাটাই আসল সুসংবাদ।

এসকল উদ্যোক্তার অনেকেই সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা শিখে নিয়েছেন তরুণ বয়সে থাকতেই। কেউ আবার শিখেছেন শিক্ষক ছাড়া একদমই নিজ প্রচেষ্টায়, গড়ে তুলেছেন নিজের সাম্রাজ্য। আপনার ক্ষেত্রে কোনটা কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা বোঝার জন্য এ বইটি হবে আপনার সহায়ক।

আনন্দের ব্যাপার হলো, বর্তমানে বেশিরভাগ তথ্য প্রত্যেকের হাতের নাগালে। বলা চলে সবার সামনে সমান সুযোগ। আপনাকে খালি দেখতে হবে প্রয়োজনীয় জ্ঞান কোথায় আছে এবং তা প্রয়োগের পদ্ধতি কী। এ বইটি শেষ হতে হতে দুটোই জেনে যাবেন।

টিকাঃ
[২] সূরা আল-আলাক ৯৬:১

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 সম্পদ ছড়িয়ে দিন

📄 সম্পদ ছড়িয়ে দিন


শেষ থেকে শুরু করা যাক। মনে করুন, আপনি সফল ব্যবসায়ী। তারপর কী হবে? এত টাকা দিয়ে কী করবেন এখন?

উত্তর সহজ: সম্পদ ছড়িয়ে দিন। ছড়িয়ে দিন আপনার চারপাশের নিয়ামাতগুলো। এই মুখগুলোতে হাসি ফোটানোর কথা একবার ভেবেই দেখুন। অপর মুসলিমের মুখে হাসি ফোটানোর পুরস্কার জান্নাত, জানেন তো?

কত মানুষ আপনার জন্য দুআ করবে, ভেবেছেন কখনও? বদলে যাবে কত মানুষের গোটা জীবন। এই মানুষগুলোর দুআ ও কৃতজ্ঞতা আপনার সম্পদে বারাকাহ নিয়ে আসবে।

ফারুক শেখ একজন মুসলিম উদ্যোক্তা। বেশ কয়েকটি কোটি ডলার উদ্যোগের হর্তাকর্তা তিনি। কেনিয়ায় জন্মগ্রহণকারী এই ব্যক্তি প্রথমে আমদানি-রপ্তানি খাতে কাজ শুরু করেন। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর এখন তার কর্মক্ষেত্র ছড়িয়ে আছে প্রযুক্তি থেকে আবাসন হয়ে বিনিয়োগ পর্যন্ত নানা খাতে।

জনাব ফারুকের একটি ব্যবসায়িক নীতি হলো যথাসাধ্য সামাজিক প্রভাব তৈরি করা। একবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওহায়োতে একটি আবাসিক এলাকার উন্নয়ন করছিলেন। একেবারে ভেঙে পড়েছিল এলাকাটি। এখানে দেয়াল ধসে পড়েছে তো ওখানে জানালা নেই, এরকম অবস্থা। তিনি তাই শুধু নিজের মালিকানাধীন অংশের না, পুরো এলাকার সংস্কার করে দেন। এমনকি রাস্তার ধারের বেড়া মেরামত করে গাছের চারা রোপণ করেন সেখানে। এতে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসে। সেখানকার মানুষজন এখন নিজ নিজ সম্পদের যত্ন-আত্তির ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। ফলত পুরো এলাকাটির বাজারদর বেড়ে যায়।

মুনাফাই যার একমাত্র লক্ষ্য, তার কাছে জনাব ফারুকের কাজগুলো স্রেফ অপচয় মনে হবে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তিনিই বড় লাভবান। কারণ এতে করে তার নিজের সম্পত্তির বাজারদরও বেড়েছে। সাথে পেয়েছেন প্রতিবেশীদের ভালোবাসা। সকলে স্বাগত জানায় তার অবদানকে। লাভের ওপর লাভ।

এই না হলে মুসলিম উদ্যোক্তা! মানুষের মুখ উজ্জ্বল করা, তাদের জীবন পালটে দেওয়া এবং এরই পাশাপাশি অর্জন করে নেওয়া বিপুল মুনাফা।

মনে রাখবেন, নিজের অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হবে মানুষের কল্যাণে। দেখবেন সম্পদ তাতে কমছে না। যা দেবেন, তা অবশ্যই ফেরত আসবে।

যে দেশেই থাকুন না কেন, আশপাশের মানুষদের জন্য কাজ করুন।

ড. হানি আল-বান্না বলেছেন, 'একটি গাছ কাটতে হলে আরেকটি রোপণ করে নিন।'

ড. হানি হলেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দাতব্য সংস্থা 'ইসলামিক রিলিফ'-এর নেপথ্যের ব্যক্তি।

ওপরে যেসব সুবিধার কথা বলা হলো, সেসব তো আছেই। এছাড়াও দানশীলতার একটি অনন্য মানসিক প্রশান্তি রয়েছে। নিছক মুনাফা এই অন্তরের শান্তি এনে দিতে অক্ষম।

আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করুন। সিংহ হরিণ শিকার করে খায়। কিন্তু সেই সিংহ মারা যাওয়ার পর মিশে যায় মাটির সাথে। সে মাটিতে গজায় ঘাস। সেই ঘাস খায় অন্য আরেক হরিণ। তেমনিভাবে স্রষ্টা আমাদের অনুমতি দিয়েছেন ব্যবসা করে বিশাল মুনাফা অর্জনের। লভ্যাংশ অর্জিত হয়ে যাওয়ার পর দান করাটাই নিয়ম। এর ফলে সমাজ চলে সাবলীলভাবে, বজায় থাকে ভারসাম্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00