📄 শ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত
নবির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চরিত্র অদ্বিতীয় ও অনন্য। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহকে অনেক অমুসলিমও মানব-ইতিহাসের সফলতম ব্যক্তি বলে মানেন। অনাথ অবস্থায় দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে কেটেছে তাঁর শৈশব। অথচ নববি মিশন শুরু করার পর সেই তিনিই হয়ে ওঠেন উন্নত ও শান্তিপূর্ণ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত এক রাষ্ট্রের নেতা। আর ওই রাষ্ট্রটিই পরে একসময় পরিণত হয় বিশ্বের অন্যতম বিশাল এক সাম্রাজ্যে। শুরুর দিকের রাষ্ট্রগুলো দুর্বল ও বিলুপ্ত হয়ে যাবার বহুকাল পরও আরও অনেক রাষ্ট্রের আবির্ভাব হয়েছে, যেগুলো ইসলামী মূলনীতি দিয়ে প্রভাবিত।
আপত্তি আসতে পারে যে, অন্যান্য ধর্মেও তো অনেক ভালো ভালো শিক্ষা রয়েছে। খ্রিষ্টান ধর্ম, ইয়াহুদী ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম ইত্যাদি। হ্যাঁ, কথা সত্য। কিন্তু এমন আরেকজন ধর্মনেতা দেখান তো, যিনি আজকের যুগে প্রয়োগ করার মতো নিখুঁট বিনিয়োগ-নীতিমালা দিয়ে গেছেন। আমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছাড়া আর এমন কাউকে পাইনি। এমনকি বাড়ি বিক্রি করে পাওয়া টাকা দিয়ে কী করতে হবে, তাও শিখিয়ে দিয়ে গেছেন তিনি। আর মুসলিম উদ্যোক্তার জন্য এসব শিক্ষা এক বিরাট প্রাপ্তি।
তাই এই একবিংশ শতাব্দীতেও নামিদামি অনেক মুসলিম ব্যবসায়ী নবিজির নীতি ও দর্শন অনুসরণ করে সফল হচ্ছেন।
📄 সমাজকল্যাণ
মুসলিম উদ্যোক্তার একটি প্রধান লক্ষ্য হবে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা। ন্যায়ের হাত ধরেই আসে শান্তি ও উন্নতি—এ কথা সর্বজনবিদিত।
আমার দেখা উদ্যোক্তাদের যিনি যত সফল, তিনি তত দানশীল। যে সমাজ ও জনপদে তারা বাস করেন, সত্যিকার অর্থেই তাদের সাহায্য ও সেবা করে চলেন তারা।
বিশ্বখ্যাত উদ্যোক্তা আযিম রিযভীর সাথে আমার কথা বলার সুযোগ হয়েছে। কানাডার ওন্টারিও-তে বাস করেন তিনি। সেখানকার সমাজের প্রতি তার অবদান ব্যাপক। পুরো দেশের মাঝে তার শহরটি এখন সবচেয়ে দ্রুত বর্ধমান। একদম শূন্য থেকে শুরু করে দুই কি তিন বছরের মাঝে তিনি দাঁড় করিয়ে ফেলেছেন সেখানকার এক নম্বর ব্রোকারেজ ফার্ম। আরও কয়েকজন সফল মুসলিম উদ্যোক্তা ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় তিনি আরেকটি প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রকল্পটির ফলে সেখানকার স্থানীয় হাসপাতালটির সম্প্রসারণ হবে। রিযভী ও তার মুসলিম সঙ্গীরা এর নাম দিয়েছেন 'দ্য মুসলিম লেগ্যাসি উইং'।
দানশীলতার হাত ধরে উন্নতি চলে আসে, কী আশ্চর্য! এখন পালটা বলতে পারেন যে, কিছু মুসলিম তো অবৈধ আত্মসাৎ ও অসততার মাধ্যমেও উন্নতি করে ফেলছে! এটা খোঁড়া যুক্তি। নিজেকেই প্রশ্ন করুন, 'মুসলিম উদ্যোক্তাগণ জনগণকে কী পরিমাণ সেবা দেন? তাদের উসিলায় কত মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে?' তাহলেই বুঝবেন যে, এই উদ্যোক্তারা সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার মূলনীতি অনুসরণ করছেন। এই ইসলামী মূল্যবোধটির প্রয়োগের কারণেই তারা পাচ্ছেন দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য। অসততার মাধ্যমে এরকম সামষ্টিক উন্নতি আসে না।
ইসলামের অনুশাসন এখানেই শেষ নয়। পূর্ণ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলাম সুদকেও হারাম করেছে। সামাজিক ন্যায়বিচারের এই ব্যাপারটি নিয়ে সামনের অধ্যায়গুলোতে আরও আলোচনা হবে। উদ্যোক্তা হিসেবে এ বিষয়টি আপনার ক্ষেত্রে কীভাবে প্রযোজ্য, তাও দেখব আমরা।