📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 ১৫-১৬. জগলুল ব্রাদার্স

📄 ১৫-১৬. জগলুল ব্রাদার্স


এনটিজি ক্ল্যারিটি নেটওয়ার্ক ইনক. এর প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আশরাফের মতে, উপার্জনের ১০% দান করতে থাকলে আর কখনওই ব্যবসায় মন্দা দেখা দেবে না। তাই দানশীল হোন। আপনার সম্পদেও গরীবের হক আছে, একথা ভুলবেন না।

আশরাফের জগলুলের ছোট ভাই হাতিম জগলুল কানাডায় এসেছিলেন ১৯৮৩ সালে। তখন কখনো ভাবেননি, মাত্র ছয় বছরের মাথায়, তিনি ও তার সহকর্মীরা এমন একটি প্রযুক্তি আবিষ্কার করবেন, যা আধুনিক বিশ্বের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে রাতারাতি বদলে দেবে। মিস্টার জগলুলকে ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির আবিষ্কারকদের একজন হিসেবে ধরা হয়। কারণ তার নামে 'WOFDM' প্রযুক্তি পেটেন্ট করা আছে। এই প্রযুক্তির ভিত্তিতেই পরবর্তীতে ওয়াইফাই আবিষ্কৃত হয়েছিল।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 ১৭. ড. নূর মুহাম্মাদ খান

📄 ১৭. ড. নূর মুহাম্মাদ খান


সৌদি আরবের হারফ আল-বাতিনে অবস্থিত নূর খান হাসপাতালের সিইও ড. নূরের সাথে কথা হচ্ছিল। জিজ্ঞেস করলাম, "সফল হওয়ার জন্য কী নিয়ে পড়াশোনা করেন?" তিনি জবাব দিলেন, কুরআন পাঠ ও সুন্নাহর অনুকরণ। বিদেশীরা সৌদি নাগরিকত্ব তেমন একটা পায় না। কিন্তু ড. নূরের জন্য সম্মানসূচক সৌদি নাগরিকত্ব ঘোষণা করেছেন স্বয়ং সৌদি রাজা। এটি ঐ দেশের স্বাস্থ্যখাতে তার দৃষ্টান্তসূচক অবদানের স্বীকৃতি। এই ৮০ বছর বয়সে এসেও ব্যবসা বাড়িয়ে চলেছেন তিনি। কাজে যান প্রতিটি দিন। কুরআনও পড়েন রোজ রোজ। সত্যিকারের উদ্যোক্তাকে আসলে থামানো যায় না। তাই ভালো অভ্যাস গড়ার ইচ্ছে থাকলে সুন্নাহ অনুসরণ করুন।

ড. নূর বলেন, 'আমার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল একটি সরকারি পলিক্লিনিকের ডাক্তার হিসেবে। বলতে গেলে আমাকে একাই সবকিছু দেখতে হতো। রিসোর্স ছিল খুবই সামান্য। এরপর ১৯৯৫ সালে আমি একটি প্রাইভেট ক্লিনিক খুলি। এলাকাবাসীর জন্য একটি বিশ্বমানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আমার সবসময়ই ছিল। এরপর আল্লাহর সাহায্যে আমার স্বপ্ন পূরণ হয়, ২০০১ সালে এই হাসপাতালটি যাত্রা শুরু করে।'

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 ১৮. ড. আব্দুল্লাহ ইদরিস আলি

📄 ১৮. ড. আব্দুল্লাহ ইদরিস আলি


সুদানীজ বংশোদ্ভূত ড. আব্দুল্লাহ ইদরিস আলি এক ঝানু ব্যবসায়ী। অনেকগুলো যৌথ ব্যবসা চালানোর পাশাপাশি একটি বিদ্যালয়েরও পরিচালক। এত ব্যস্ততার পরও মুখে লেগে থাকে হাসি। তিনি কানাডার বৃহত্তম মুসলিম সংস্থা ইসনা'র প্রেসিডেন্ট। ইসনা'র মাধ্যমে মুসলিম সমাজের সাধারণ জনগণ, কর্তাব্যক্তি ও বিনিয়োগকারীদের সাথে যোগাযোগ করেন তিনি।

নিজের সুমহান মর্যাদা ও কঠিন দায়িত্ব সত্ত্বেও নবি (সা) ছিলেন ছেলে-বুড়ো নির্বিশেষে সবার কাছের মানুষ। নবিজির এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আব্দুল্লাহ ইদরিসের অনুপ্রেরণা। মানুষের সাথে আচার-আচরণের এই দক্ষতা শিখতে হবে আপনাকেও। কারণ দিনশেষে ব্যবসা মানেই তো মানুষের সাথে কাজ করা। আর নবী (সা) বলেছেন, 'মুসলিম ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে কথা বলাও সাদাকা।'

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 ১৯. আনওয়ার পারভেজ

📄 ১৯. আনওয়ার পারভেজ


'স্যার' আনওয়ার পারভেজ একসময় ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ডে এক 'সামান্য' বাসচালক ছিলেন। পরে একসময় ব্যবসা শুরু করেন সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে। আজ তিনি বিলিয়নেয়ার। সংসারের বিল পরিশোধ নিয়ে তাকে আর কোন দুশ্চিন্তা নেই তার। বাসচালক থেকে বিলিয়নিয়ার কীভাবে হলেন, এক সাক্ষাতকারে জানতে চাওয়া হয়েছিল সেই গল্প।

আনোয়ার পারভেজ বললেন, 'সেই দিনগুলোর দিকে ফিরে তাকাতে ভালোই লাগে। এখনো মাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখি, আমি ব্র্যাডফোর্ডে বাস চালাচ্ছি! না, এটা কোন দুঃস্বপ্ন নয়, সুখময় স্মৃতিচারণা। আমার জীবন নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।'

সাধারণ ইমিগ্র্যান্ট বাসচালক আনোয়ার পারভেজ এখন ব্রিটিশ সরকার থেকে 'স্যার' উপাধিপ্রাপ্ত ধনকুবের ব্যবসায়ী। ইউকের বিখ্যাত বেস্টওয়ে গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। মাত্র একুশ বছর বয়সে পাকিস্তান ছেড়েছিলেন তিনি। 'পাকিস্তানে আমার কিছুই ছিল না। তখন সবে মেট্রিক পাশ করেছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার মতো টাকাপয়সা ছিল না। মাসে ৯৬ রুপির বিনিময়ে একজন টেলিফোন অপারেটরের কাজ করতাম। বেতনের প্রায় পুরোটাই চলে যেত ম্যালেরিয়ার ওষুধপত্র কিনতে। জীবন কত কঠিন ছিল তখন!'

সেই ১৯৫০ সালে ইউকে' এসেছেন তিনি। বাস কন্ডাক্টর ও বাস ড্রাইভার হিসেবে নতুন পেশা শুরু করেন। পাঁচ বছর দিন-রাত পরিশ্রম করলেন। পাঁচ বছরে যা টাকা জমালেন তা দিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের ইউকে নিয়ে এলেন। ষাটের দশকের শুরুতে পরিবারের অনেককেই নিয়ে এলেন এখানে। এরপর ভাবলেন, এবার সবাই মিলে একটা ব্যবসা শুরু করা যাক! হলোও তাই। ১৯৬৩ সালে একটি মুদি দোকান দিলেন রাস্তার পাশে। হালাল গোশত আর মশলা বিক্রি করতেন তিনি। তিনি বলেন, 'এতে সপ্তাহে ছয়শো রুপি আয় হতো আমার। একদিন বড় রাস্তায় গিয়ে অন্যান্য দোকানগুলো দেখলাম। তখন বুঝলাম, আমি শুধু এক পারসেন্ট ক্রেতাকে সেবা দিচ্ছি।' এই চিন্তা থেকেই তিনি পাইকারি ব্যবসা শুরু করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আজ তিনি বিলিয়ন-বিলিয়ন পাউণ্ডের মালিক। তার কোম্পানি বর্তমানে ইউকের পাইকারি বাজারের ১৮% মার্কেট শেয়ারের মালিক। কর্মচারীর সংখ্যা সাড়ে চার হাজার। নানামুখী খাতে ব্যবসা চালাচ্ছেন তিনি। এর মাঝে আছে সিমেন্ট, ফার্মেসি ও ব্যাংকিং। ইউকের শীর্ষ পাঁচ এশিয়ান ধনীর একজন তিনি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00