📄 ১৩. ডক্টর ফারুক এল বায
আজ থেকে প্রায় অর্ধ শতাব্দী আগের কথা। এইমাত্র ঈগল নামের 'লুনার মডিউল' অবতরণ করেছে চাঁদের পৃষ্ঠে। টেক্সাসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসে রুদ্ধশ্বাস দৃশ্যটি দেখছেন কয়েকজন বিজ্ঞানী ও মহাকাশ বিশেষজ্ঞ। সাথে দেখছে সারা দুনিয়ার মানুষ। চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করলেন এডউইন অলড্রিন ও নীল আর্মস্ট্রং। আর মাইকেল কলিন্স ছিলেন স্পেস ক্রাফটে। টেক্সাসের হিউস্টন গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে পুরো বিষয়টি তদারক করছিলেন একদল দক্ষ ক্রু। এটাই সেই বিখ্যাত অ্যাপোলো-১১ প্রজেক্ট। যাতে কাজ করছেন কয়েকজন বাঘা-বাঘা বিজ্ঞানী। তাদের মাঝেই একজন একত্রিশ বছর বয়সী মিশরীয় বিজ্ঞানী ফারুক আল-বায। চন্দ্রপৃষ্ঠের কোথায় স্পেস ক্রাফট অবতরণ করবে, এই দায়িত্বে নিয়োজিত কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন তিনি।
সুবিখ্যাত চন্দ্রাভিযান প্রোগ্রামে কাজ করেছেন মিশরীয় বিজ্ঞানী ড. ফারুক এল বায। তার সাথে কথা বলেছি আমি। তার "কেন" হলো তার দুই কন্যা। ওদের মুখে খাবার জোগানো লাগবে। এই ইচ্ছার কারণেই অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা সামলাতে পেরেছেন তিনি। বাগিয়ে নিয়েছেন প্রথম চন্দ্রাভিযান প্রকল্পে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদোন্নতি। এবার বলুন, আপনার "কেন"টা কী?
📄 ১৪. শাহজাদ আজগর
লক্ষ্য পুনর্নিধারণকে অভ্যাসে পরিণত করা উচিত। একটা লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে? ভালো কথা, আনন্দ করুন! এরপর নতুন লক্ষ্য বানান। আগে এক কোটি ছিল? এবার হবে দশ কোটি, বিশ কোটি। পাঁচ হাজার মানুষকে আর্থিক মুক্তি দিয়েছেন? এবার তাহলে দশ হাজার জনের কর্মসংস্থান করুন। ঠিক জনাব শাহজাদ আজগরের মতো। পাকিস্তানে তিনি নিজস্ব পোশাক কারখানার মালিক। দশ হাজার মানুষের বেতনের দায়িত্ব তার হাতে। এ এক অসাধারণ অর্জন! আপনি কি বর্তমানে একশ জন মানুষের কর্মসংস্থানকারী? লক্ষ্য উচু করুন, এক হাজার! এখন দশ কোটি কামাই করছেন? এক বিলিয়নের জন্য তৈরি হোন! অসুবিধে কী? আল্লাহর ভাণ্ডার নিঃসীম।
তাই সফলতা পেতে হলে, হতে পারেন জনাব শাহজাদ আজগরের মতো। স্টাইল টেক্সটাইল প্রাইভেট লিমিটেড শুধুমাত্র পাকিস্তানের সর্ববৃহৎ টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি নয়, এটি সারা দুনিয়ার শীর্ষস্থানীয় পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। এর প্রতিষ্ঠাতার ১৯৯২ সালে লাহোরে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও বিশ্বমানের জ্ঞানের সমন্বয়ে মাত্র তিরিশ বছরের মাথায় প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পোশাক প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোকে নিজেদের ক্লায়েন্ট হিসেবে পেতে শুরু করে। অ্যাডিডাস, যারা, রিবক, গ্যাপ, কেলভিন ক্লেইন, টমি হিলফিগার সবাই আছে তাদের ক্লায়েন্টের তালিকায়। শুধুমাত্র ২০১৯ সালেই প্রতিষ্ঠান রপ্তানিকৃত পণ্যের মূল্য ছিল ২৯৪ মিলিয়ন ডলার।
📄 ১৫-১৬. জগলুল ব্রাদার্স
এনটিজি ক্ল্যারিটি নেটওয়ার্ক ইনক. এর প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আশরাফের মতে, উপার্জনের ১০% দান করতে থাকলে আর কখনওই ব্যবসায় মন্দা দেখা দেবে না। তাই দানশীল হোন। আপনার সম্পদেও গরীবের হক আছে, একথা ভুলবেন না।
আশরাফের জগলুলের ছোট ভাই হাতিম জগলুল কানাডায় এসেছিলেন ১৯৮৩ সালে। তখন কখনো ভাবেননি, মাত্র ছয় বছরের মাথায়, তিনি ও তার সহকর্মীরা এমন একটি প্রযুক্তি আবিষ্কার করবেন, যা আধুনিক বিশ্বের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে রাতারাতি বদলে দেবে। মিস্টার জগলুলকে ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির আবিষ্কারকদের একজন হিসেবে ধরা হয়। কারণ তার নামে 'WOFDM' প্রযুক্তি পেটেন্ট করা আছে। এই প্রযুক্তির ভিত্তিতেই পরবর্তীতে ওয়াইফাই আবিষ্কৃত হয়েছিল।
📄 ১৭. ড. নূর মুহাম্মাদ খান
সৌদি আরবের হারফ আল-বাতিনে অবস্থিত নূর খান হাসপাতালের সিইও ড. নূরের সাথে কথা হচ্ছিল। জিজ্ঞেস করলাম, "সফল হওয়ার জন্য কী নিয়ে পড়াশোনা করেন?" তিনি জবাব দিলেন, কুরআন পাঠ ও সুন্নাহর অনুকরণ। বিদেশীরা সৌদি নাগরিকত্ব তেমন একটা পায় না। কিন্তু ড. নূরের জন্য সম্মানসূচক সৌদি নাগরিকত্ব ঘোষণা করেছেন স্বয়ং সৌদি রাজা। এটি ঐ দেশের স্বাস্থ্যখাতে তার দৃষ্টান্তসূচক অবদানের স্বীকৃতি। এই ৮০ বছর বয়সে এসেও ব্যবসা বাড়িয়ে চলেছেন তিনি। কাজে যান প্রতিটি দিন। কুরআনও পড়েন রোজ রোজ। সত্যিকারের উদ্যোক্তাকে আসলে থামানো যায় না। তাই ভালো অভ্যাস গড়ার ইচ্ছে থাকলে সুন্নাহ অনুসরণ করুন।
ড. নূর বলেন, 'আমার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল একটি সরকারি পলিক্লিনিকের ডাক্তার হিসেবে। বলতে গেলে আমাকে একাই সবকিছু দেখতে হতো। রিসোর্স ছিল খুবই সামান্য। এরপর ১৯৯৫ সালে আমি একটি প্রাইভেট ক্লিনিক খুলি। এলাকাবাসীর জন্য একটি বিশ্বমানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আমার সবসময়ই ছিল। এরপর আল্লাহর সাহায্যে আমার স্বপ্ন পূরণ হয়, ২০০১ সালে এই হাসপাতালটি যাত্রা শুরু করে।'