📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 ১১. শহীদ আনওয়ার টাটা

📄 ১১. শহীদ আনওয়ার টাটা


পাকিস্তানের শাহিদ টাটা সুবৃহৎ এক পোশাক ব্যবসার পরিচালক, যার নাম টাটা কর্পোরেশান। তার সাফল্যের রহস্য 'উদ্ভাবনী-চিন্তা' করা।

“টাটা গ্রুপের মালিক শহিদ আনওয়ার। পারিবারিক ব্যবসাকে ঐক্যবদ্ধ রাখার দায়িত্ব তখন তার ঘাড়ে। গৎবাঁধা চিন্তার বিরুদ্ধে গেলেন তিনি। তার পোশাক কারখানা তখন চলছিল পুরনো আমলের রাশিয়ান মেশিনারি দিয়ে। মানুষ ভেবেছিল আর টিকবে না এ কোম্পানি। নিজের লক্ষ্যের সাথে পুরো কোম্পানির ব্যবস্থাপনাকে এক কাতারে নিয়ে আসেন শহিদ টাটা। এক দশকের মধ্যে সম্পূর্ণ আধুনিকায়িত কোম্পানিটি পুনরায় লাভজনক হয়ে ওঠে। সুদৃঢ় লক্ষ্যের ফলাফল এমনই। সব বাধা-বিপত্তি ভেঙেচুড়ে যায়।”

এটাই উদ্যোক্তা হওয়ার সুফল। মনে রাখবেন, উত্তরাধিকারসূত্রে আপনি কোন চাকরি পাবেন না, তবে ব্যবসা পাবেন। চাকরি শেষে আপনাকে অবসর নিতে হবে। কিন্তু ব্যবসায় ব্যাপারটা এমনটা নয়। আপনার গড়ে তোলা ব্যবসা এগিয়ে নিয়ে যাবে আপনার সন্তান। পাকিস্তানের শহীদ টা্টাও এভাবে শিখেছেন। শিখেছেন আরও অনেক উদ্যোক্তা।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 ১২. ড. আইক আহমেদ

📄 ১২. ড. আইক আহমেদ


ড. আইক আহমেদ কানাডায় একটি বড় চক্ষুনিরাময় কেন্দ্র চালান। তিনি একজন বিশ্বখ্যাত গ্লুকোমা-বিশেষজ্ঞ। দিনে ছয়শ রোগী দেখেন! সৎ ও সোজাসাপ্টা আচরণের মাধ্যমে রোগীদের আস্থা গড়ে তোলাই তার ব্যবসায়িক হাতিয়ার। যদি সার্জারির প্রয়োজন না হয়, তিনি সেটা সরাসরি জানিয়ে দেন। অযথা টাকা শুষে নেন না রোগীদের কাছ থেকে।

মাত্র ত্রিশের ঘরে বয়স হলেও গ্লুকোমা চিকিৎসার ময়দানে তিনি নেতৃত্বস্থানীয়। ক্ষেত্রটা খুবই সংকীর্ণ, কিন্তু এ থেকেই তার বার্ষিক আয় ছয় বিলিয়ন ডলার। হাজার হোক, গ্লুকোমা সারা বিশ্বে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ। ড. আইক আবিষ্কার করেছেন যে, বহুল প্রচলিত চোখের ড্রপ ও সার্জারি চিকিৎসা হিসেবে যথেষ্ট নয়।

লোকে তাকে ডাকে, 'চক্ষুবিজ্ঞানের রকস্টার!' এটা মোটেও রসিকতা নয়। যদি কখনো তার অপরেশনের ভিডিওগুলো দেখেন, তাহলে বুঝবেন, কেন তাকে দুনিয়ার সেরা চক্ষু সার্জনদের একজন বিবেচনা করা হয়।

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 ১৩. ডক্টর ফারুক এল বায

📄 ১৩. ডক্টর ফারুক এল বায


আজ থেকে প্রায় অর্ধ শতাব্দী আগের কথা। এইমাত্র ঈগল নামের 'লুনার মডিউল' অবতরণ করেছে চাঁদের পৃষ্ঠে। টেক্সাসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসে রুদ্ধশ্বাস দৃশ্যটি দেখছেন কয়েকজন বিজ্ঞানী ও মহাকাশ বিশেষজ্ঞ। সাথে দেখছে সারা দুনিয়ার মানুষ। চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করলেন এডউইন অলড্রিন ও নীল আর্মস্ট্রং। আর মাইকেল কলিন্স ছিলেন স্পেস ক্রাফটে। টেক্সাসের হিউস্টন গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে পুরো বিষয়টি তদারক করছিলেন একদল দক্ষ ক্রু। এটাই সেই বিখ্যাত অ্যাপোলো-১১ প্রজেক্ট। যাতে কাজ করছেন কয়েকজন বাঘা-বাঘা বিজ্ঞানী। তাদের মাঝেই একজন একত্রিশ বছর বয়সী মিশরীয় বিজ্ঞানী ফারুক আল-বায। চন্দ্রপৃষ্ঠের কোথায় স্পেস ক্রাফট অবতরণ করবে, এই দায়িত্বে নিয়োজিত কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন তিনি।

সুবিখ্যাত চন্দ্রাভিযান প্রোগ্রামে কাজ করেছেন মিশরীয় বিজ্ঞানী ড. ফারুক এল বায। তার সাথে কথা বলেছি আমি। তার "কেন" হলো তার দুই কন্যা। ওদের মুখে খাবার জোগানো লাগবে। এই ইচ্ছার কারণেই অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা সামলাতে পেরেছেন তিনি। বাগিয়ে নিয়েছেন প্রথম চন্দ্রাভিযান প্রকল্পে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদোন্নতি। এবার বলুন, আপনার "কেন"টা কী?

📘 সম্পদ গড়ার কৌশল > 📄 ১৪. শাহজাদ আজগর

📄 ১৪. শাহজাদ আজগর


লক্ষ্য পুনর্নিধারণকে অভ্যাসে পরিণত করা উচিত। একটা লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে? ভালো কথা, আনন্দ করুন! এরপর নতুন লক্ষ্য বানান। আগে এক কোটি ছিল? এবার হবে দশ কোটি, বিশ কোটি। পাঁচ হাজার মানুষকে আর্থিক মুক্তি দিয়েছেন? এবার তাহলে দশ হাজার জনের কর্মসংস্থান করুন। ঠিক জনাব শাহজাদ আজগরের মতো। পাকিস্তানে তিনি নিজস্ব পোশাক কারখানার মালিক। দশ হাজার মানুষের বেতনের দায়িত্ব তার হাতে। এ এক অসাধারণ অর্জন! আপনি কি বর্তমানে একশ জন মানুষের কর্মসংস্থানকারী? লক্ষ্য উচু করুন, এক হাজার! এখন দশ কোটি কামাই করছেন? এক বিলিয়নের জন্য তৈরি হোন! অসুবিধে কী? আল্লাহর ভাণ্ডার নিঃসীম।

তাই সফলতা পেতে হলে, হতে পারেন জনাব শাহজাদ আজগরের মতো। স্টাইল টেক্সটাইল প্রাইভেট লিমিটেড শুধুমাত্র পাকিস্তানের সর্ববৃহৎ টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি নয়, এটি সারা দুনিয়ার শীর্ষস্থানীয় পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। এর প্রতিষ্ঠাতার ১৯৯২ সালে লাহোরে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও বিশ্বমানের জ্ঞানের সমন্বয়ে মাত্র তিরিশ বছরের মাথায় প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পোশাক প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোকে নিজেদের ক্লায়েন্ট হিসেবে পেতে শুরু করে। অ্যাডিডাস, যারা, রিবক, গ্যাপ, কেলভিন ক্লেইন, টমি হিলফিগার সবাই আছে তাদের ক্লায়েন্টের তালিকায়। শুধুমাত্র ২০১৯ সালেই প্রতিষ্ঠান রপ্তানিকৃত পণ্যের মূল্য ছিল ২৯৪ মিলিয়ন ডলার।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00