📄 ৭. ড. হানি
ড. হানি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম দাতব্য সংস্থা "ইসলামিক রিলিফে"র নেপথ্যের ব্যক্তি। তিনি মনে করেন, মানুষের জন্য খরচ করলে সম্পদ কমে না, বরং বাড়ে। তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি— "একটি গাছ কাটার আগে আরেকটি রোপণ করে নিন।"
📄 ৮. শাহজাদ সিদ্দিকি
"জনাব শাহযাদ সিদ্দিকির সাথে যখন প্রথমবার দেখা হয়, তার বয়স তখন ত্রিশের ঘরে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি লিংকনের জীবনী অধ্যয়ন করছিলেন এই সফল আইনজীবী। একাধিক ব্যবসায় মার খাওয়া ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রপতি হয়ে ওঠার পথে লিংকন কী কী মূলনীতি প্রয়োগ করেছেন, তা খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে বইটি পড়েন তিনি। শাহযাদ নিজেও ইসলামি অর্থনীতির ওপর তিনটি বইয়ের রচয়িতা।"
📄 ৯. মিসেস উম্মু এনডিয়াই
তিনি সেনেগাল-ভিত্তিক একটি সফটওয়্যার ডেভেলাপমেন্ট কোম্পানির মালিক। বিভিন্ন কাস্টমস কোম্পানি ও সরকারের জন্য সফটওয়্যার নির্মাণ করে কোম্পানিটি। জন্ম ও বেড়ে ওঠা সেনেগালেই। তারপর ফ্রান্সে গিয়ে পড়াশোনা করেন ফলিত গণিত বিষয়ের ওপর। দেশে ফিরে এসে শুরু করেন ব্যবসা। দেখলেন যে, তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা সকলে হয় ইউরোপের, আর নয়তো উত্তর আমেরিকার বাঘা বাঘা সব কোম্পানি। নিজেকে বললেন, “এরা যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে, আমিও পড়েছি সেখানেই। কিন্তু আফ্রিকার প্রেক্ষাপট আমি ভালো জানি বিদেশী কোম্পানিগুলোর চেয়ে। আমার বিশ্বাস, আমি পারব।” দামে আর মানে প্রতিযোগীদের হারিয়ে নিজের প্রথম বড় চুক্তিটি বাগিয়ে নেন তিনি। বাকিটা ইতিহাস। আজ তিনি আফ্রিকার একাধিক দেশের সাথে ব্যবসায় নিয়োজিত। পরিকল্পনা করছেন ইউরোপ ও এশিয়ার মার্কেটেও হানা দেওয়ার।
📄 ১০. আমিনা ক্সন
লন্ডনের হার্লি স্ট্রিটে বসবাসকারী এক সফল ফিজিশিয়ান ড. আমিনা কক্সন। তিনি একজন সফল নিউরোলজিস্ট। সফলতা মানুষকে যেভাবে ধোঁকা দেয়, আমিনার ব্যাপারে তেমনটা ঘটেনি। বরং তিনি বিনয়ী হতে শিখেছেন। তিনি বলেন, 'একেকজন রোগী মানে একেকটা নাটকীয় পরিস্থিতি। রোগীদের সাহস দেখে আপনি বিনয়ী হবেন, আর নিজের অপারগতার কথা ভেবে বিনয়ী হবেন। আপনি ডাক্তার হয়েও খুব বেশি কিছু করতে পারেন না। একজন সার্জনের জন্য একটা ব্যর্থ অপারেশন মানে দুনিয়া ভেঙে পড়া। কারণ আপনি বুঝতে পারবেন, আপনি না পারলেও একজন সার্জন ঠিকই এই রোগীকে সাহায্য করতে পারতো। আরো ভালো কিছু করা যেত— এই চিন্তা থেকে আপনি মুক্তি পাবেন না। আপনাকে নিজের সেরাটা দিতে হবে, এরপর আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে। এজন্যই আমি সব সময় বিসমিল্লাহ বলি। নিজের ভুলের কারণে রোগীর ক্ষতি করতে চাই না। তাই আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই।'
এই ইতিবাচক মানসিকতাই তাকে দিয়েছে সাফল্য। আমিনা কক্সের জীবনে অনেক নাটকীয় ঘটনা আছে। এগার বছর বয়সে দুইবার কিডন্যাপিং এর অভিজ্ঞতা পেয়েছেন তিনি। একই রকম ঘটনা ঘটেছিল দুইবার। পাঁচ বছরের বড় ভাইয়ের সাথে ট্যাক্সিতে ছিলেন। 'হঠাৎ ড্রাইভার ভুল পথে গাড়ি চলতে শুরু করলো। আমি আর আমার ভাই বুঝে গেলাম, ঘটনা খারাপ। চলন্ত গাড়ি থেকে কিভাবে নেমে পড়বো সেই সুযোগ খুঁজছিলাম। আমি চিৎকার করছিলাম। যেন সিনেমার দৃশ্য এটা!'
সদ্য কলোনিয়ালমুক্ত মিসরে বাস করতেন তিনি। মিশরের লোকজন ব্রিটিশদের খুব ঘৃণা করতো। তিনি বললেন, 'একবার আমাদের স্কুল বাস থামানো হলো। খুবই বাজে একটি ঘটনা ঘটেছিল। আমরা দেখলাম একটি (ইংরেজ) বাচ্চার সারা গায়ে মানুষের কামড়ের দাগ! বাচ্চাটা বাঁচেনি!' মিশরীয়রা সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশদের এতটাই ঘৃণা করতো। 'এসব কারণে কখনোই মুসলিমদেরকে আমার খুব ভালো মানুষ মনে হয়নি। যদিও আমি তাদেরকে ঠিক মুসলিম মনে করতাম না, তাদেরকে মিশরীয় ভাবাটাই বেশি যুক্তিযুক্ত মনে হতো।'
মিশরে থাকাকালীন এসব অভিজ্ঞতার কারণে তিনি কখনোই ইসলামের প্রতি খুব একটা আগ্রহী হননি। কিন্তু অবচেতন মনে কী যেন একটা ছিল! 'বিপদের সময় মুসলিমরা যেভাবে তাদের বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে, এটা দেখে আমি মুগ্ধ হতাম। একবার এক বৃদ্ধা মহিলা এলো। একটু পরেই তার অপারেশন হবে। মহিলার সাথে তার মেয়েও এসেছিল। আমি মেয়েটার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখলাম, তার ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়েছে। যদিও এটা প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল। আমি তাকে বুঝিয়ে বললাম, এটা খুবই মারাত্মক অসুখ। আরো বললাম বাড়ির সবাইকে অবশ্যই জানাবে। পরদিন দেখলাম, ওর পরিবারের লোকেরা হাসি তামাশা করছে! আমি খেপে গেলাম মেয়েটার প্রতি। ওকে বললাম, তুমি কি ওদের জানাওনি তুমি খুবই অসুস্থ? কিন্তু দেখা গেল, বাড়িতে ও ঠিকই জানিয়েছে। কিন্তু এই খবরে ওরা কেউই ভেঙে পড়েনি। মেয়েটি সারারাত আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছে। কারণ প্রাথমিক পর্যায়েই ওর ক্যান্সার শনাক্ত হয়েছে। তার ঈমানের শক্তি দেখে আমি অবাক হলাম।'
আমিনা বলেন, 'অসুস্থতার মধ্যেও রহমত থাকে। এতে জীবনের বাস্তবতা বুঝতে পারবেন। তখন দুনিয়া টাকা পয়সা কোন কাজে লাগে না। আল্লাহর রহমত ছাড়া সবকিছুই অর্থহীন।'
আমিনা কক্সের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারটা বেশ নাটকীয়। এক রাতে তিনি স্বপ্নে দেখলেন, লন্ডনের রাস্তায় একা গাড়ি চালাচ্ছেন। আশেপাশের বাড়িগুলোতে সব আগুন জ্বলছে, আর রাস্তার দুই পাশ থেকে বড় বড় পাথর এসে তার গাড়ির ওপর পড়ছে! এরপর তিনি একটি ব্রীজের ওপর বাঁক নিলেন, আর যেন একটা মরুভূমির দিকে চলে গেলেন! সেখানে একটি রহস্যময় আলো দেখতে পেলেন। সেই আলোর মাঝে আল্লাহর নাম লেখা! স্বপ্নের মধ্যে একটা আলো তাকে পথ দেখিয়ে এখানে নিয়ে এল! আমিনা বলেন, 'মনে হলো ইসলাম গ্রহণের জন্য আমাকে মেসেজ দেওয়া হল!' এর দুই বছর পর ১৯৯০ সালে তিনি মুসলিম হন।